সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

পাগলা হাওয়ায় পাতার নাচন ও বৈশাখের সাহিত্য উৎসব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ
পাগলা হাওয়ায় পাতার নাচন ও বৈশাখের সাহিত্য উৎসব

শেখ সিদ্দিকুর রহমান
পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ বাংলা নববর্ষের সেই উজ্জ্বল সকালে, যখন প্রকৃতির বুক জুড়ে বয়ে যায় নতুন দিনের উচ্ছ্বাস, ঠিক তখনই সাহিত্যের আঙিনায় জন্ম নেয় এক রঙিন স্বপ্নÑ ‘পাগলা হাওয়ায় পাতার নাচন’। নামের মধ্যেই যেন আছে বৈশাখের উন্মাদনা, ঝড়ো হাওয়ার দোলা, আর নবজাগরণের এক অনিবার্য স্পন্দন।
এই নান্দনিক ফোল্ডারটির সম্পাদক ছিলেন বরেণ্য ছড়াকার আহমেদ সাব্বির, যার সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি পুরো সংকলনটিকে দিয়েছে এক অনন্য উচ্চতা। সম্পাদনা পর্ষদে ছিলেন সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রাসেল, কবি ও গল্পকার বাবলু ভঞ্জ চৌধুরী এবং সুলতান মাহমুদ রতনÑযাদের সম্মিলিত প্রয়াসে ফোল্ডারটি হয়ে উঠেছে এক সমৃদ্ধ সাহিত্যভা-ার। নামলিপিতে কবি স ম তুহিনের সুনিপুণ ছোঁয়া এবং গ্রাফিক্সে শেখ মোস্তফার শিল্পনৈপুণ্য ফোল্ডারটিকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, প্রচ্ছদে স্থান পেয়েছে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সানজিদা আহমেদ রোদসীর চিত্রকল্পÑযা কেবল একটি অলংকরণ নয়, বরং নবপ্রজন্মের সৃজনশীলতার এক উজ্জ্বল প্রতীক।
ফোল্ডারটির শুরুতেই স্থান পেয়েছে জাতীয় কবি, কবিতার রাজপুত্র শামসুর রাহমানের ‘বৈশাখের গান’ যেন পুরো সংকলনের জন্য এক সুরময় দরজা উন্মোচন। এরপর গদ্যে বাবলু ভঞ্জ চৌধুরীর ‘বৈশাখের শক্তি’ আমাদের নিয়ে যায় চিন্তার গভীরে। রোমেল রহমানের ‘বাঘ’ এবং সুলতান মাহমুদ রতনের ‘লাল দরজা’ গল্পে জীবনের নানা প্রতিচ্ছবি ধরা পড়ে।
ছড়া ও কবিতার পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে বৈশাখের রং, মাটির গন্ধ আর মানুষের আবেগ। সুপদ বিশ্বাস, নাজমুল হাসান ও আবুল হোসেন আজাদের ছড়ায় ফুটে উঠেছে উৎসবের প্রাণচাঞ্চল্য। অন্যদিকে পল্টু বাসার, আমিরুল বাসার, মনিরুজ্জামান মুন্না, শুভ্র আহমেদ, দিলরুবা, সায়েম ফেরদৌস মিতুল, শিরিন সাদী, সৌহার্দ সিরাজ, মো. বাকি বিল্লাহ, প্রাণকৃষ্ণ সরকার, মনিরুল বারী এবং স ম তুহিনের কবিতাগুলো যেন একেকটি আলাদা অনুভবের দরজা খুলে দেয়Ñকখনো প্রেম, কখনো বেদনা, কখনো সমাজচেতনার গভীর অনুরণন।
ফোল্ডারটির আরেকটি আকর্ষণ হলো এর রঙিন তিনটি বিজ্ঞাপন, যা পুরো প্রকাশনাকে দিয়েছে বাড়তি সৌন্দর্য ও পরিপূর্ণতা।
‘একটি গোলপাতা প্রকাশনা’Ñএই প্রকাশনা সংস্থার উদ্যোগে এমন একটি নান্দনিক সাহিত্য ফোল্ডার প্রকাশ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। বর্ষবরণের এই মাহেন্দ্রক্ষণে তাদের এই প্রয়াস কেবল একটি প্রকাশনা নয়, বরং বাংলা সাহিত্যচর্চার ধারাকে আরও বেগবান করার এক আন্তরিক পদক্ষেপ।
বৈশাখ মানেই নতুন করে শুরু, নতুন স্বপ্ন বোনা। সেই স্বপ্নেরই এক রঙিন প্রতিফলন ‘পাগলা হাওয়ায় পাতার নাচন’। নববর্ষের এই আনন্দঘন মুহূর্তে, এমন একটি সাহিত্য ফোল্ডারের প্রকাশ নিঃসন্দেহে আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
বিকেলে সব্যসাচী আবৃত্তি সংসদ ও অধ্যাপক আশুতোষ সরকারের সৌজন্যে আর একটি সাহিত্য সভা অনুষ্ঠিত হয়, যা এই নববর্ষ উদযাপনকে আরও প্রাণবন্ত ও অর্থবহ করে তোলে।
গত ১৪ এপ্রিল ২০২৬, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সাতক্ষীরার কাটিয়া লস্করপাড়ায় সব্যসাচী আবৃত্তি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান ছট্টুর বাসভবন প্রাঙ্গণে এক প্রাণবন্ত সাহিত্য সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সব্যসাচী আবৃত্তি সংসদের আয়োজনে এটি ছিল তাদের ২৭তম সাহিত্য সভা।
কবি শুভ আহমেদের সভাপতিত্বে এবং মনিরুজ্জামান ছট্টুর সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিশিষ্ট কবি, লেখক ও গবেষকদের এক মিলনমেলা বসেছিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, কণ্ঠশিল্পী ও কবি মঞ্জুরুল হক, কবি শহিদুর রহমান, গীতিকার প্রাণকৃষ্ণ সরকার, তৃপ্তি মোহন মল্লিক, কবি কাজী গুলশান আরা, মনিরুজ্জামান মুন্না, লেখক ও গবেষক শেখ সিদ্দিকুর রহমানসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানে লেখক ও কবিরা তাঁদের স্বরচিত লেখা পাঠ করেন এবং সেই পাঠের ওপর গঠনমূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো—অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সংগঠন ও সাহিত্য, কবিতার শৈল্পিক রূপ, স্মৃতিচারণ ও আবেগ এবং লেখকদের মূল্যায়ন।
অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিষয়ে অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ তাঁর বক্তব্যে রবীন্দ্রনাথের নোবেল প্রাপ্তি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করেন। সংগঠন ও সাহিত্য প্রসঙ্গে শেখ সিদ্দিকুর রহমান সব্যসাচী আবৃত্তি সংসদের পথচলা ও এর সাহিত্যিক গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। কবিতার শৈল্পিক রূপে কাজী গুলশান আরার কবিতার সংক্ষিপ্ততা ও গভীর অভিব্যক্তি এবং কবি শহিদুর রহমানের দীর্ঘ কবিতার বিষয়বস্তু ফুটিয়ে তোলার মুন্সিয়ানা প্রশংসিত হয়।
স্মৃতিচারণ ও আবেগের জায়গায় মঞ্জুরুল হকের ‘হারানো সুর’ কবিতায় কৈশোর ও যৌবনের ফেলে আসা দিনগুলোর আকুলতা ফুটে ওঠে। এছাড়া শেখ আমিনুর রহমান কাজল তাঁর লেখায় মনিরুজ্জামান ছট্টুর স্নেহসিক্ত শৈশবের স্মৃতিগুলো প্রাঞ্জল ভাষায় তুলে ধরেন।
লেখকদের মূল্যায়নে সভায় প্রাণকৃষ্ণ সরকার, তৃপ্তি মোহন মল্লিক এবং কবি সাদ্দাম হোসেনকে সফল লেখক হিসেবে অভিহিত করা হয়। পাশাপাশি শিরিন সাদীর ছোটগল্পের বিষয়বস্তু চমৎকার হলেও পাঠশৈলী নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হয়।
সব্যসাচী আবৃত্তি পরিষদের এই আয়োজনটি ছিল সাহিত্যের আড্ডায় নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার এক অনন্য প্রয়াস। দীর্ঘ আলোচনা শেষে রাত সাড়ে নয়টায় আয়োজক মনিরুজ্জামান ছট্টুর সৌজন্যে নৈশভোজের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘটে।
শব্দে, ছড়ায়, গল্পে আর কবিতায়—এভাবেই বৈশাখ বয়ে আনে নতুন প্রাণ, নতুন সম্ভাবনা।
সাহিত্যের এই সম্মিলিত উৎসব আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনাকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে, আর রেখে যায় অনুপ্রেরণার এক অমলিন ছাপ। লেখক: সাবেক ব্যাংকার

Ads small one

দুস্থদের পাশে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান এমপি ইজ্জত উল্লাহর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ
দুস্থদের পাশে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান এমপি ইজ্জত উল্লাহর

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: সমাজের দুস্থ ও অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবা ও জীবিকায় সাহায্যার্থে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ।
রোববার (২৭ জুলাই) বিকেল ৫টায় তালা উপজেলার মির্জাপুর বাজারে কাদের বক্স ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের নিজস্ব কার্যালয়ে নগদ টাকা ও ছাগল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ডা. আলাউদ্দিন মল্লিকের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মাওলানা জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, “ধনী মানুষের সম্পদের ভেতরে আল্লাহ তাআলা গরিবের হক রেখে দিয়েছেন। আজকের সমাজে যদি জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু থাকত, তাহলে কোনো গরিব খুঁজে পাওয়া যেত না। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে অসহায় মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে।”
অনুষ্ঠানে ১০ জন দুস্থ ও অসহায় মানুষকে ১টি করে ছাগল এবং ১ জনকে চায়ের দোকান দেওয়ার জন্য নগদ ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। ছাগলপ্রাপ্তরা হলেন বারাত গ্রামের মো. আব্দুল মজিদ ও মোসাঃ সাজেদা বেগম, কুমিরার ফাতেমা বেগম, মদনপুরের আছিয়া বেগম, ভাগবা গ্রামের শিরিনা বেগম, সেনপুরের মফিজুর রহমান ও সিদ্দিকুর রহমান, শেখ আব্দুল্লাহ, নোয়াকাটির নিসার আলী এবং জামাল উদ্দিন। এছাড়া চায়ের দোকান করার জন্য হাজরাপাড়ার কামরুল ইসলামকে নগদ ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. মাহমুদুল হক, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি অধ্যাপক গাজী সুজায়েত আলী, ভিডিএফের জেলা সভাপতি ডা. আফতাব উদ্দীন, তালা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মফিদুল্লাহ, সেক্রেটারি অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি নাজমুল হক খান, কুমিরা ইউনিয়ন আমীর মাস্টার বকুল, সেক্রেটারি মাওলানা তরিকুল ইসলাম, মাস্টার মাওলানা মোশাররফ হোসেন, ছাত্রনেতা জুবায়ের, সমাজসেবক আল মামুন, ডা. আবু হোসেন ও মতিউর রহমান।

 

সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির কমিটি থেকে একযোগে ৮ নেতার পদত্যাগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির কমিটি থেকে একযোগে ৮ নেতার পদত্যাগ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির বর্তমান ১৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি প্রত্যাখান করে একযোগে পদত্যাগ করেছেন ৮ জন শীর্ষ নেতা। পদত্যাগকারীরা হলেন কার্যকরী সভাপতি শেখ সাঈদ আহমেদ রঞ্জু, সহ-সভাপতি মো. জিয়ারুল ইসলাম, অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক মো. তৌহিদুজ্জামান বাবলু, এবং কার্যকরী সদস্য যথাক্রমে আব্দুল মোমেন খান চৌধুরী (সান্টু), মো. আবু হাসান, মো. নুরুজ্জামান জামু, শেখ শাহাজাহান আলী ও মো. দেলোয়ার হোসেন সুজন।
রবিবার (২৬ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পদত্যাগপত্রটি সমিতির সাধারণ সম্পাদক বরবোর ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে।
পদত্যাগকারী নেতাদের অভিযোগ, গত ২৯ নভেম্বর সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ১৯ সদস্যের কমিটি অনুমোদিত হলেও পরবর্তীতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিজেদের সুবিধাজনক ব্যক্তিদের নিয়ে ৯ সদস্যের একটি পৃথক কমিটি গঠন করে খুলনা শ্রম অধিদপ্তর থেকে অনুমোদন করিয়ে আনেন। বিষয়টি নিয়ে বারবার আপত্তি জানানো হলেও কোনো সমাধান করা হয়নি। এছাড়া অনুমোদিত কমিটির কয়েকজন কর্মকর্তার নিজস্ব কোনো ট্রাক নেই বলেও অভিযোগ করেন তারা। এসব অসাংগঠনিক কর্মকা-ের প্রতিবাদেই তারা একযোগে পদত্যাগ করেছেন।

সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের পদত্যাগের দাবিতে শ্যামনগরে কুশপুত্তলিকা দাহ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ
সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের পদত্যাগের দাবিতে শ্যামনগরে কুশপুত্তলিকা দাহ

পত্রদূত রিপোর্ট: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শ্যামনগরে আন্দোলন অব্যাহত আছে। সংসদ সদস্য পদ থেকে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে টানা পঞ্চম দিনের মতো শ্যামনগরে রোববার বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ ও কুশপুত্তলিকা দাহ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
বেলা ১১টার দিকে শ্যামনগর উপজেলার সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে বাবলাতলা মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। এটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাব চত্বরে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। এ সময় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঠিকাদার মো. শামসুদ্দোহা। বক্তব্য দেন রবিউল ইসলাম, আবদুস সালাম, মফিজুল ইসলাম, মো. রাসেল প্রমুখ।
মফিজুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের নৈতিক প্রত্যাশা ও সংসদ সদস্যের পদমর্যাদার কথা বিবেচনায় নিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের পদত্যাগ করা উচিত। একই সঙ্গে তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান।
অন্য বক্তরা বলেন, শ্যামনগরের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং জনমতের প্রতি সম্মান জানিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, গাজী নজরুল ইসলামকে ইতিমধ্যে শ্যামনগরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি দ্রুত সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ না করলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। প্রয়োজনে শ্যামনগর অচল কর্মসূচির পাশাপাশি জেলার সব উপজেলায় একযোগে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
গত সোমবার রাতে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। তবে পরদিন গাজী নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে জানান, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। বিষয়টি নিয়ে নানা বিতর্ক ও নির্বাচনী এলাকায় ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলার মধ্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ জরুরি সভায় বসে গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। এর পর থেকে তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না।