সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পাগলা হাওয়ায় পাতার নাচন ও বৈশাখের সাহিত্য উৎসব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ
পাগলা হাওয়ায় পাতার নাচন ও বৈশাখের সাহিত্য উৎসব

শেখ সিদ্দিকুর রহমান
পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ বাংলা নববর্ষের সেই উজ্জ্বল সকালে, যখন প্রকৃতির বুক জুড়ে বয়ে যায় নতুন দিনের উচ্ছ্বাস, ঠিক তখনই সাহিত্যের আঙিনায় জন্ম নেয় এক রঙিন স্বপ্নÑ ‘পাগলা হাওয়ায় পাতার নাচন’। নামের মধ্যেই যেন আছে বৈশাখের উন্মাদনা, ঝড়ো হাওয়ার দোলা, আর নবজাগরণের এক অনিবার্য স্পন্দন।
এই নান্দনিক ফোল্ডারটির সম্পাদক ছিলেন বরেণ্য ছড়াকার আহমেদ সাব্বির, যার সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি পুরো সংকলনটিকে দিয়েছে এক অনন্য উচ্চতা। সম্পাদনা পর্ষদে ছিলেন সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রাসেল, কবি ও গল্পকার বাবলু ভঞ্জ চৌধুরী এবং সুলতান মাহমুদ রতনÑযাদের সম্মিলিত প্রয়াসে ফোল্ডারটি হয়ে উঠেছে এক সমৃদ্ধ সাহিত্যভা-ার। নামলিপিতে কবি স ম তুহিনের সুনিপুণ ছোঁয়া এবং গ্রাফিক্সে শেখ মোস্তফার শিল্পনৈপুণ্য ফোল্ডারটিকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, প্রচ্ছদে স্থান পেয়েছে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সানজিদা আহমেদ রোদসীর চিত্রকল্পÑযা কেবল একটি অলংকরণ নয়, বরং নবপ্রজন্মের সৃজনশীলতার এক উজ্জ্বল প্রতীক।
ফোল্ডারটির শুরুতেই স্থান পেয়েছে জাতীয় কবি, কবিতার রাজপুত্র শামসুর রাহমানের ‘বৈশাখের গান’ যেন পুরো সংকলনের জন্য এক সুরময় দরজা উন্মোচন। এরপর গদ্যে বাবলু ভঞ্জ চৌধুরীর ‘বৈশাখের শক্তি’ আমাদের নিয়ে যায় চিন্তার গভীরে। রোমেল রহমানের ‘বাঘ’ এবং সুলতান মাহমুদ রতনের ‘লাল দরজা’ গল্পে জীবনের নানা প্রতিচ্ছবি ধরা পড়ে।
ছড়া ও কবিতার পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে বৈশাখের রং, মাটির গন্ধ আর মানুষের আবেগ। সুপদ বিশ্বাস, নাজমুল হাসান ও আবুল হোসেন আজাদের ছড়ায় ফুটে উঠেছে উৎসবের প্রাণচাঞ্চল্য। অন্যদিকে পল্টু বাসার, আমিরুল বাসার, মনিরুজ্জামান মুন্না, শুভ্র আহমেদ, দিলরুবা, সায়েম ফেরদৌস মিতুল, শিরিন সাদী, সৌহার্দ সিরাজ, মো. বাকি বিল্লাহ, প্রাণকৃষ্ণ সরকার, মনিরুল বারী এবং স ম তুহিনের কবিতাগুলো যেন একেকটি আলাদা অনুভবের দরজা খুলে দেয়Ñকখনো প্রেম, কখনো বেদনা, কখনো সমাজচেতনার গভীর অনুরণন।
ফোল্ডারটির আরেকটি আকর্ষণ হলো এর রঙিন তিনটি বিজ্ঞাপন, যা পুরো প্রকাশনাকে দিয়েছে বাড়তি সৌন্দর্য ও পরিপূর্ণতা।
‘একটি গোলপাতা প্রকাশনা’Ñএই প্রকাশনা সংস্থার উদ্যোগে এমন একটি নান্দনিক সাহিত্য ফোল্ডার প্রকাশ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। বর্ষবরণের এই মাহেন্দ্রক্ষণে তাদের এই প্রয়াস কেবল একটি প্রকাশনা নয়, বরং বাংলা সাহিত্যচর্চার ধারাকে আরও বেগবান করার এক আন্তরিক পদক্ষেপ।
বৈশাখ মানেই নতুন করে শুরু, নতুন স্বপ্ন বোনা। সেই স্বপ্নেরই এক রঙিন প্রতিফলন ‘পাগলা হাওয়ায় পাতার নাচন’। নববর্ষের এই আনন্দঘন মুহূর্তে, এমন একটি সাহিত্য ফোল্ডারের প্রকাশ নিঃসন্দেহে আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
বিকেলে সব্যসাচী আবৃত্তি সংসদ ও অধ্যাপক আশুতোষ সরকারের সৌজন্যে আর একটি সাহিত্য সভা অনুষ্ঠিত হয়, যা এই নববর্ষ উদযাপনকে আরও প্রাণবন্ত ও অর্থবহ করে তোলে।
গত ১৪ এপ্রিল ২০২৬, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সাতক্ষীরার কাটিয়া লস্করপাড়ায় সব্যসাচী আবৃত্তি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান ছট্টুর বাসভবন প্রাঙ্গণে এক প্রাণবন্ত সাহিত্য সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সব্যসাচী আবৃত্তি সংসদের আয়োজনে এটি ছিল তাদের ২৭তম সাহিত্য সভা।
কবি শুভ আহমেদের সভাপতিত্বে এবং মনিরুজ্জামান ছট্টুর সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিশিষ্ট কবি, লেখক ও গবেষকদের এক মিলনমেলা বসেছিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, কণ্ঠশিল্পী ও কবি মঞ্জুরুল হক, কবি শহিদুর রহমান, গীতিকার প্রাণকৃষ্ণ সরকার, তৃপ্তি মোহন মল্লিক, কবি কাজী গুলশান আরা, মনিরুজ্জামান মুন্না, লেখক ও গবেষক শেখ সিদ্দিকুর রহমানসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানে লেখক ও কবিরা তাঁদের স্বরচিত লেখা পাঠ করেন এবং সেই পাঠের ওপর গঠনমূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো—অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সংগঠন ও সাহিত্য, কবিতার শৈল্পিক রূপ, স্মৃতিচারণ ও আবেগ এবং লেখকদের মূল্যায়ন।
অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিষয়ে অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ তাঁর বক্তব্যে রবীন্দ্রনাথের নোবেল প্রাপ্তি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করেন। সংগঠন ও সাহিত্য প্রসঙ্গে শেখ সিদ্দিকুর রহমান সব্যসাচী আবৃত্তি সংসদের পথচলা ও এর সাহিত্যিক গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। কবিতার শৈল্পিক রূপে কাজী গুলশান আরার কবিতার সংক্ষিপ্ততা ও গভীর অভিব্যক্তি এবং কবি শহিদুর রহমানের দীর্ঘ কবিতার বিষয়বস্তু ফুটিয়ে তোলার মুন্সিয়ানা প্রশংসিত হয়।
স্মৃতিচারণ ও আবেগের জায়গায় মঞ্জুরুল হকের ‘হারানো সুর’ কবিতায় কৈশোর ও যৌবনের ফেলে আসা দিনগুলোর আকুলতা ফুটে ওঠে। এছাড়া শেখ আমিনুর রহমান কাজল তাঁর লেখায় মনিরুজ্জামান ছট্টুর স্নেহসিক্ত শৈশবের স্মৃতিগুলো প্রাঞ্জল ভাষায় তুলে ধরেন।
লেখকদের মূল্যায়নে সভায় প্রাণকৃষ্ণ সরকার, তৃপ্তি মোহন মল্লিক এবং কবি সাদ্দাম হোসেনকে সফল লেখক হিসেবে অভিহিত করা হয়। পাশাপাশি শিরিন সাদীর ছোটগল্পের বিষয়বস্তু চমৎকার হলেও পাঠশৈলী নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হয়।
সব্যসাচী আবৃত্তি পরিষদের এই আয়োজনটি ছিল সাহিত্যের আড্ডায় নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার এক অনন্য প্রয়াস। দীর্ঘ আলোচনা শেষে রাত সাড়ে নয়টায় আয়োজক মনিরুজ্জামান ছট্টুর সৌজন্যে নৈশভোজের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘটে।
শব্দে, ছড়ায়, গল্পে আর কবিতায়—এভাবেই বৈশাখ বয়ে আনে নতুন প্রাণ, নতুন সম্ভাবনা।
সাহিত্যের এই সম্মিলিত উৎসব আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনাকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে, আর রেখে যায় অনুপ্রেরণার এক অমলিন ছাপ। লেখক: সাবেক ব্যাংকার

Ads small one

শুভেন্দুর দাবী: ৪৮০০ জনকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে, অপেক্ষায় আরও ৮৩৬

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
শুভেন্দুর দাবী: ৪৮০০ জনকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে, অপেক্ষায় আরও ৮৩৬

অনলাইন ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রোববার বলেছেন, রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে স্থাপিত হোল্ডিং সেন্টারগুলো থেকে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ জন তথাকথিত ‘অবৈধ অভিবাসী’কে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া, আরও ৮৩৬ জন বর্তমানে প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় রয়েছেন।

শুভেন্দু অধিকারী এই সংখ্যা জানালেও কবে, কখন এবং কোন সীমান্তে দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে সেই বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি। একই সঙ্গে, এসব ‘অবৈধ অভিবাসী’র পরিচয় কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে সেই বিষয়ে এখনো ভারত সরকার বা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজেপির বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ মোকাবিলা এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষিত করা তার সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জানান, সীমান্তের যে ৫৫৬ কিলোমিটার অংশে এখনো বেড়া নির্মাণ করা বাকি রয়েছে, তার মধ্যে প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকায় বেড়া নির্মাণের জন্য রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে জমি হস্তান্তর করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায় ১০০ কিলোমিটার জমি বিএসএফকে দিয়েছি এবং উত্তরবঙ্গের চিকেনস নেক করিডরকে অগ্রাধিকার দিয়েছি।’

 

সিলিগুড়ি করিডর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে বেশি পরিচিত, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে দেশের বাকি অংশের সংযোগ রক্ষাকারী একটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল অঞ্চল। সরকারের প্রত্যাবাসন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে অধিকারী বলেন, যেসব অবৈধ অভিবাসী নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) আওতায় পড়েন না, তাদের কেন্দ্রীয় সরকারের বিধি অনুসারে সরাসরি বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

 

তিনি অভিযোগ করেন, দেশের অন্যান্য অংশে এ ধরনের বিধান কার্যকর করা হলেও পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকার এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে অবৈধ অভিবাসীরা সরকারি খরচে রাজ্যের বিভিন্ন কেন্দ্রে অবস্থান করার সুযোগ পেয়েছে।

 

এদিকে, গতকাল রোববার পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করা ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে প্রায় ৭০ ঘণ্টা পর নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। সোমবার দিবাগত রাতে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগের পর তাদের ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় সীমান্তের ফ্লাডলাইটও কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সোমবার দিবাগত রাতে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগের পর তাদের ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় সীমান্তের ফ্লাডলাইটও কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

যশোরে যুবলীগের ঝটিকা মিছিল, ১০ জন আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ
যশোরে যুবলীগের ঝটিকা মিছিল, ১০ জন আটক

অনলাইন ডেস্ক: যশোরের ধর্মতলা এলাকায় ফের যুবলীগের ঝটিকা মিছিল হয়েছে। রোববার বিকেলে ২০-২৫ জনের একটি দল যুবলীগের ব্যানার নিয়ে নানা স্লোগান দিয়ে মিছিল শুরু করে। ব্যানারে লেখা ছিলো সার্বিক ব্যবস্থাপনায় হাজী আলমগীর কবীর সুমন। এ সময় পুলিশ ধাওয়া দিলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

 

পরে সেখানে ডিবি পুলিশ, কোতোয়ালি থানা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হয়। সন্দেহজনকভাবে সেখান থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখান থেকে কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে যশোর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে সন্দেহভাজন হিসেবে ১০ জনকে আটক করা হয়। তদন্তের স্বার্থে এখনি নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

 

উল্লেখ্য, এরআগে শহরের বাবলাতলা, গরীবশাহ, পোস্ট অফিসপাড়ায় যুবলীগের ব্যানারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে নানা শ্লোগান দিয়ে মিছিল করা। এসব ঘটনায়ও জড়িতথাকার অভিযোগে অসংখ্য নেতাকর্মীকে আটক করে।

পাইকগাছায় জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ
পাইকগাছায় জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আলোচনা সভা

তালা প্রতিনিধি: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও তীব্র তাপদাহের ফলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও সম্পদ প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই ক্ষতি মোকাবিলা এবং অভিযোজনের জন্য উন্নত ও দায়ী দেশগুলোর কাছ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিবছর ৩১০ থেকে ৩৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ আদায় করে তা ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বন্টন করতে হবে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রোববার (৭ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনার পাইকগাছায় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘প্রকৃতির জন্য অনুপ্রাণিত। জলবায়ুর জন্য। আমাদের ভবিষ্যতের জন্য’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘অ্যাওসেড’ ও ‘পাইকগাছা ক্লাইমেট জাস্টিস ফোরাম’ যৌথভাবে এই সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করে।
পাইকগাছা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন পাইকগাছা ক্লাইমেট জাস্টিস ফোরামের সভাপতি অখিল চন্দ্র ম-ল। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যাওসেড-এর হেড অব প্রোগ্রাম শংকর রঞ্জন সরকার এবং মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সংস্থার নলেজ ম্যানেজমেন্টের টিম লিডার মোসালাউদ্দিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অ্যাওসেড-এর উপ-নির্বাহী পরিচালক হেলেনা খাতুন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিশ্বনাথ ভট্টাচার্য, শ্যামাপদ ম-ল, নুরুন্নাহার পারভীন, শেখ জুলি, সুভাষ চন্দ্র ম-ল, নুর ইসলাম গাজী, মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডা. বাসুদেব রায় ও মানিক ভদ্র। আলোচনা সভা শেষে স্থানীয় শহীদ এম. এ. গফুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে চারটি ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়।