বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩

আপনার কম্পিউটার মাউস নোংরা? কয়েক মিনিটেই পরিষ্কার করার সহজ উপায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
আপনার কম্পিউটার মাউস নোংরা? কয়েক মিনিটেই পরিষ্কার করার সহজ উপায়

প্রতিদিনের ব্যবহারে আপনার কম্পিউটার মাউসটি অজান্তেই ধুলো, খাবারের কণা এবং নানা ময়লা জমায়—ঠিক যেন একটি সত্যিকারের ইঁদুরের মতো ঘুরে বেড়ায়। তবে পার্থক্য হলো, আসল ইঁদুর নিজে নিজেই পরিষ্কার হয়ে নেয়, কিন্তু আপনার মাউস তা পারে না। আমরা নিয়মিত কীবোর্ড বা ইয়ারফোন পরিষ্কার করলেও মাউসকে প্রায়ই উপেক্ষা করি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ব্যবহৃত এই ডিভাইসটি পরিষ্কার না রাখলে তা শুধু অস্বাস্থ্যকরই নয়, কাজের পারফরম্যান্সেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই মাউস পরিষ্কার রাখা জরুরি।

কী কী লাগবে?

মাউস পরিষ্কার করতে খুব বেশি কিছু প্রয়োজন নেই। হাতের কাছেই রাখুন— কমপ্রেসড এয়ার, লিন্ট-ফ্রি কাপড়, টুথপিক বা স্পাডজার (পাতলা প্লাস্টিক স্টিক) এবং অ্যালকোহল ওয়াইপ।

অপটিক্যাল/লেজার মাউস পরিষ্কার করার নিয়ম

 

গেমিং মাউস নিয়মিত ব্যবহার করার ফলে এতে ধুলা, ময়লা এবং ক্ষুদ্র কণিকা জমে যেতে পারে। তাই সঠিকভাবে পরিষ্কার রাখা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে মাউসের কার্যক্ষমতা বজায় থাকে।

প্রথমেই নিশ্চিত করুন যে মাউসটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। যদি এটি তারযুক্ত হয়, তাহলে কম্পিউটার থেকে খুলে ফেলুন। আর যদি ব্যাটারি চালিত হয়, তাহলে সাধারণত একটি সুইচ থাকে—সেটি বন্ধ করে দিন।

এরপর একটি কমপ্রেসড এয়ার ক্যান ব্যবহার করে মাউসের LED অংশটি আলতোভাবে পরিষ্কার করুন। যদি ব্যাটারির জন্য আলাদা অংশ থাকে, তাহলে ব্যাটারি খুলে নিয়ে সেখানে কমপ্রেসড এয়ার বা শুকনো, লিন্ট-ফ্রি কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করুন। এই অংশে কখনো ভেজা কিছু ব্যবহার করবেন না।

এরপর একটি টুথপিক বা স্পাডজার ব্যবহার করে মাউসের সব খাঁজ ও ফাঁকফোকর পরিষ্কার করুন। গেমিং মাউসে সাধারণত অতিরিক্ত বোতাম থাকে, তাই প্রতিটি বোতামের চারপাশ ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। স্ক্রল হুইল থাকলে সেটি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পরিষ্কার করুন, যাতে ভেতরের ময়লাও বের হয়ে আসে।

সবশেষে আবার কমপ্রেসড এয়ার ব্যবহার করে বাকি ধুলাবালি উড়িয়ে দিন। এরপর একটি অ্যালকোহল ওয়াইপ বা হালকা ভেজা লিন্ট-ফ্রি কাপড় দিয়ে মাউসের বাইরের অংশ মুছে নিন। যদি ভেজা কাপড় ব্যবহার করেন, তাহলে শেষে একটি শুকনো কাপড় দিয়ে আবার মুছে নিন।

এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে আপনার গেমিং মাউস পরিষ্কার থাকবে এবং দীর্ঘদিন ভালোভাবে কাজ করবে।

ট্র্যাকবল মাউস পরিষ্কার করার নিয়ম

 

এই ধরনের মাউসে ময়লা বেশি জমে। প্রথমেই যদি আপনার ট্র্যাকবল মাউসটি তারযুক্ত হয়, তবে সেটি কম্পিউটার থেকে বিচ্ছিন্ন করুন। আর যদি ব্যাটারি চালিত হয়, তাহলে পরিষ্কার করার আগে ব্যাটারি খুলে নিন।

এরপর ট্র্যাকবলটি মাউসের বডি থেকে আলাদা করুন। কিছু মাউসে বলটি সহজেই ওপরে থেকে বের করা যায়। আবার কিছু মডেলে, বিশেষ করে যেগুলোর ট্র্যাকবল নিচে থাকে, সেগুলোর ক্ষেত্রে হাউজিংটি হালকা ঘুরিয়ে খুলতে হয়। সাধারণত এ কাজে কোনো বিশেষ যন্ত্রের প্রয়োজন হয় না।

বলটি বের করার পর, একটি অ্যালকোহল ওয়াইপ বা হালকা ভেজা লিন্ট-ফ্রি কাপড় দিয়ে ভালোভাবে মুছে নিন। এরপর কমপ্রেসড এয়ার ব্যবহার করে মাউসের ভেতরের অংশ পরিষ্কার করুন এবং কাপড় দিয়ে হালকাভাবে মুছে নিন।

মাউসের কোণ বা ফাঁকফোকরে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে একটি টুথপিক বা স্পাডজার ব্যবহার করতে পারেন। যদি ময়লা শক্তভাবে আটকে থাকে, তবে আবার কমপ্রেসড এয়ার ব্যবহার করে তা ঢিলা করে নিন।

সবশেষে, একটি হালকা ভেজা লিন্ট-ফ্রি কাপড় বা অ্যালকোহল ওয়াইপ দিয়ে পুরো মাউসের বাহিরের অংশ মুছে নিন। তারপর ট্র্যাকবলটি আবার আগের জায়গায় বসিয়ে দিন।

ভার্টিক্যাল (এরগোনমিক)

ভার্টিক্যাল এরগোনমিক মাউস, যেমন লজিটেক লিফ্ট, হাতের কব্জির ব্যথা কমাতে দারুণ কার্যকর। তবে পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে এগুলো কিছুটা ঝামেলার হতে পারে। তাই সঠিক পদ্ধতিতে পরিষ্কার করা জরুরি।

প্রথমেই, অন্যান্য মাউসের মতো এটিকেও বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করুন। যদি আপনার মনে হয় মাউসের ভেতরে খাবারের কণা বা ধুলাবালি ঢুকে গেছে, তাহলে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী মাউসটি খুলে ফেলুন। এরপর কমপ্রেসড এয়ার এবং শুকনো মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে ভেতরের অংশ পরিষ্কার করুন। বাইরের অংশটি হালকা ভেজা মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে মুছে নিন। সব কিছু শুকিয়ে গেলে আবার মাউসটি জোড়া লাগান।

যদি আপনি মাউস খুলতে না চান এবং শুধু বাইরের অংশ পরিষ্কার করাই যথেষ্ট মনে করেন, তাহলে একটি টুথপিক বা স্পাডজার দিয়ে মাউসের সব খাঁজ ও ফাঁক পরিষ্কার করুন। এরপর কমপ্রেসড এয়ার ব্যবহার করে ধুলাবালি উড়িয়ে দিন এবং শেষে একটি হালকা ভেজা মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে পুরো মাউসটি মুছে ফেলুন।

একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—অনলাইনে অনেক ব্যবহারকারী অভিযোগ করেছেন যে এই ধরনের মাউসের কিছু কোটিং সহজেই ময়লা ধরে। এর চেহারা পুরোপুরি আগের মতো ঝকঝকে করা কঠিন হতে পারে। তবে এই পরিষ্কার করার পদ্ধতি অনুসরণ করলে অন্তত এটি পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর থাকবে, যদিও একেবারে নতুনের মতো না-ও দেখাতে পারে।

মনে রাখা ভালো, আপনার মাউস প্রতিদিন আপনার হাতের স্পর্শে থাকে। তাই এটিকে পরিষ্কার রাখা মানে শুধু ডিভাইসের যত্ন নয়, নিজের স্বাস্থ্যও সুরক্ষিত রাখা। মাত্র কয়েক মিনিট সময় দিলেই মাউস থাকবে নতুনের মতো পরিষ্কার। সূত্র: পিসিম্যাগ

Ads small one

সাতক্ষীরা তালতলায় কোহিনুর হত্যা ঘটনায় থানায় মামলা, কারখানার মালিক গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা তালতলায় কোহিনুর হত্যা ঘটনায় থানায় মামলা, কারখানার মালিক গ্রেপ্তার

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা শহরতলীর তালতলা এলাকার বিসমিল্লাহ ফুড্স এর কর্মচারি কোহিনুর খাতুনকে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে নিহতের ভাই সাতক্ষীরা সদরের লাবসা ইউনিয়নের খেলারডাঙী গ্রামের ইমরান হোসেন বাদি হয়ে কারো নাম উল্লেখ করে সদর থানায় এ মামলা দায়ের করেন। পুলিশ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বিসমিল্লাহ ফুডস এর মালিক সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া লস্করপাড়ার আব্দুর রহমানের ছেলে আব্দুস সোবহানকে আটক করেছে।

বুধবার সকালে সরেজমিনে খেলারডাঙা গ্রামে গেলে প্রয়াত মুনসুর রহমানের স্ত্রী রেবেকা খাতুন জানান, ১৭ বছর আগে পাটকেলঘাটার লালচন্দ্রপুর গ্রামের আবু মুছার সাথে তার মেয়ে কোহিনুর খাতুনের বিয়ে দেন। পরবর্তীতে জামাতা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ায় স্ত্রী কোহিনুর ও তাদের একমাত্র সন্তান হাফেজ মোহাম্মদ মুন্নার ভরনপোষণ যোগাড় করতে পারতো না। অভাবকে কেন্দ্র করে সংসারে অশান্তি লেগেই থাকতো। একপর্যায়ে ২০২১ সালের প্রথম দিকে কাহিনুর তার একমাত্র সন্তান মুন্নাকে নিয়ে বাপের বাড়িতে চলে আসে। ছেলে মুন্নাকে বল্লী ইউনিয়নের আমতলা ছিদ্দিকিয়া-বরকতিয়া হেফজোখানা ও এতিমখানায় ভর্তি করা হয়। চলতি বছরে মুন্না ওই প্রতিষ্ঠান থেকে হাফেজ পাস করে। বাপের বাড়িতে আসার পর থেকে কোহিনুর প্রথমে বিনেরপোতার ঢাকা ফুডস ও পরে সাতক্ষীরার একটি বেকারীতে কাজ করতো। তবে আড়াই বছর যাবৎ সে মাসিক আট হাজার টাকা বেতনে কাটিয়া লস্করপাড়ার আব্দুস সোবহানের মালিকানাধীন তালতলার “বিসমিল্লাহ ফুডস” কারখানায় কাজ করতো। তবে ওই কারখানার মালিকের স্ত্রী মঞ্জুয়ারা বেগম তার মেয়ে কোহিনুরের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে গ-গোল করতো।

নিহতের ছেলে মোহাম্মদ মুন্না জানান, বিসমিল্লাহ ফুডস এ কাজ করাকালিন তার মা কোহিনুরকে পাশ^বর্তী আমজাদ হোসেনের স’মিলের এক কর্মচারির সঙ্গে সখ্যতা দেখতে পায়। একপর্যায়ে ওই কর্মচারি তার মায়ের সঙ্গে ছবি তুলে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেন। বর্তমানে তার মায়ের সঙ্গে বিসমিল্লাহ ফুড এর মালিকের স্ত্রী ঋ’শিল্পীর পানির প্লান্টের কর্মী মঞ্জুয়ারা পথিমধ্যে ও কারখানায় যেয়ে বিভিন্ন সময়ে গ-গোল করতো। সোমবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে তার মা কারখানার উদ্দেশ্যে নানার বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। ওইদিন বিকেলে কারখানা মালিকের স্ত্রী মঞ্জুয়ারা বেগম কারখানার মধ্যে ও কারখানার ফটকের সামনে মারপিট করে। মা চলে আসতে চাইলে মালিক তাকে আবার ডেকে কারখানায় নিয়ে যায়। রাতে মা আর বাড়ি ফেরেনি। সোমবার রাত ১১টার দিকে মায়ের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তালতলা এলাকার আব্দুল খালেকের পানিবন্ধি জমি থেকে তার মায়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। তার মাকে কে বা কারা ফোনে বিরক্ত করতো বলে তিনি কয়েকদিন আগে সিম পাল্টান। বিসমিল্লাহ ফুড এর মালিক আব্দুস সোবহানের সঙ্গে তার মায়ের অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ এনে মালিকের স্ত্রী মঞ্জুয়ারা খাতুনের বিরোধকে কেন্দ্র করে তার মাকে সোমবার রাতে কারখানা থেকে বাড়ি ফেরার পথে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে।

কোহিনুরের স্বামী পাটকেলঘাটা থানাধীন লাল চন্দনপুরের আবু মুছা জানান, দীর্ঘ ৫ বছরেরর বেশি সময় ধরে কোহিনুর ও ছেলে মুন্না তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখে না। সাংবাদিকদের কল্যাণে কোহিনুরের মৃত্যু সম্পর্কে তিনি জানতে পেরেছেন।

তালতলা বিসমল্লিাহ ফুডস এর পাশর্^বর্তী বাসিন্দা শফিকুল ইসলামের ছেলে ইজিবাইক চালাক আবু হাসান ও জহিরুল ইসলাম জানান, পাশর্^বর্তী স’মিল মালিক আমজাদ হোসেনের ঘর ভাড়া নিয়ে বিসমিল্লাহ ফুডস এর সাতজন কর্মচারি বসবাস করতো। কুশখালি গ্রামের আবু তালেব তার শ্¦শুর আব্দুস সোবহানের মাধ্যমে গত ৫ বছর ধরে “বিসমিল্লাহ ফুডস’ কারখানাটি পরিচালনা করে আসছেন। এক বছর আগে কারখানার নারী কর্মী কোহিনুরের সাথে কারখানার মুল মিস্ত্রী কালিগঞ্জের চম্পাফুল ঢালীপাড়ার আরিফুল ইসলামের বিরোধকে কেন্দ্র করে দ’ুজনকেই ছাটাই করেন আব্দুস সোবহান। দুই মাস পরে তাদেরকে আবারো কাজে ফিরিয়ে আনা হয়। সম্প্রতি কোহিনুরের সাথে সোবহানের অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রতি রাতে কাজ শেষে কোহিনুরকে নিজের মটর সাইকেলে করে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া ছাড়াও কোহিনুরের সাথে মাঝে মাঝে নিকটবর্তী কোন স্থানে সময় কাটাতেন সোবহান। বিষয়টি জানতে পেরে সোবহানের স্ত্রী মঞ্জুয়ারা বেগম কয়েকবার কারখানায় এসে কোহিনুরকে মারপিট করেছে।

 

সোমবার বিকেল ৫টার দিকে কারখানায় এসে মালিক সোবহানের স্ত্রী মঞ্জুয়ারা বেগম হঠাৎ করে কোহিনুরকে মারপিট করে চলে যায়। রাত আটটায় ডিউটি শেষে কোহিনুরকে ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে চলে যেতে দেখা যায়। সে তাদের কারখানার শ্রমিকদের ভাড়া বাসার পাস দিয়ে যাওয়ার সময় খুন হতে পারে। অধিক রাতে কোহিনুরের লাশ সেখান থেকে আব্দুল খালেকের পানিবন্ধি জমিতে ফেলে দিয়ে আসা হয়েছে বলে মনে করেন তারা। তবে এ হত্যার সঙ্গে আব্দুস সোবহানের স্ত্রী মঞ্জুয়ারা খাতুনের হাত থাকতে পারে বলে তারা আশাঙ্কা করছেন।

বিসমিল্লাহ ফুডস এর মিস্ত্রী আরিফুল ইসলাম জানান, তার এক আত্মীয় পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনায় সোমবার নিজ বাড়ি চম্পাফুলে যান। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে কারখানায় ফিরে কোহিনুরের মৃত্যূর খবর পান। বিকেলে কোহিনুরের লাশ মাটি দেওয়া হবে শুনে তার বাপের বাড়িতে গিয়েছিলেন তিনিসহ কয়েকজন শ্রমিক। তবে ভাই ইমরান থানায় অবস্থান করায় মাটি দিতে দেরী হবে বলে তারা চলে আসেন। তবে রাতে বাপের বাড়ির সামনে কোহিনুরকে কবরস্থ করা হয়।

খেলারডাঙা গ্রামের ইমরান হোসেন বলেন, তার বোন কোহিনুরকে কে বা কারা সোমবার রাত ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে হত্যা করে খালেকের জমিতে ফেলে রেখে গেছে।
কোহিনুরকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আব্দুস সোবহান জানান, তার আদি বাড়ি কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের রঘুনাথপুরে। কয়েক বছর আগে তিনি শহরের কাটিয়া লস্করপাড়ায় জমি কিনে বাড়ি তৈরি করে বসবাস শুরুর পাশাপাশি তালতলায় নিজ প্রতিষ্ঠিত বিসমিল্লাহ ফুডস কারখানা পরিচালনা করেন। কারখানার শ্রমিক কোহিনুরের সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, এ নিয়ে তার স্ত্রী মঞ্জুয়ারা বেগমের সঙ্গে বিরোধ হতো। তবে কোহিনুর ও তার ছেলে মুন্নার পড়াশুনায় তিনি সার্বিক সহায়তা করতেন। মঙ্গলবার বিকেল তিনটার দিকে কারখানা থেকে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাজাসাবাদের জন্য থানায় ডেকে আনে। কোহিনুর হত্যার সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন তিনি।

এ ব্যাপারে মঞ্জুয়ারা খাতুনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের একজন ডাক্তার জানান, কোহিনুরকে শ^াসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাহাবুবর রহমান জানান, কোহিনুরকে শ^াসরোধ করে হত্যার ঘটনায় তার ভাই ইমরান হোসেন বাদি হয়ে কারো নাম উল্লেখ না করে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে থানায় একটি হত্যা মামলা (জিআর-৪১২/২৬, সদর) দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় সন্ধিগ্ধ আসামী হিসেবে বিসমিল্লাহ ফুডস এর মালিক আব্দুস সোবহানকে গ্রেপ্তার করে বুধবার দুপুরে আদালতের মধ্যেমে জেলখানায় পাঠানো হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমা- আবেদন করা হবে। উপপরিদর্শক শাহাদাৎ হোসেনকে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে পুলিশ চেষ্টা অব্যহত রেখেছে।

আশাশুনিতে জেলা পরিষদের পুকুর দখলমুক্ত করেছেন হাবিবুল ইসলাম হাবিব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে জেলা পরিষদের পুকুর দখলমুক্ত করেছেন হাবিবুল ইসলাম হাবিব

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে জেলা পরিষদের পুকুর দখলমুক্ত করেছেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে থানার পাশে দীর্ঘদিন দখলকৃত জেলা পরিষদের পুকুর দখল মুক্ত করা হয়।

পুকুর দখল মুক্ত কালে সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জেলা পরিষদের পুকুরসহ সরকারি যতগুলো অবকাঠামো, জমি, বিভিন্ন স্থাপনা অন্যের দখলে আছে সেগুলো দখল মুক্ত করে সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এসময় জেলা পরিষদ সার্ভেয়ার আলআমিন বলেন, দখলদার আব্দুস সবুর ৫৫ শতক জায়গার এই পুকুরটি দীর্ঘ ২৫ থেকে ৩০ বছর অবৈধ ভাবে দখল করে আসছিলেন। আজ জেলা পরিষদের সমস্ত কাগজপত্র দেখে শুনে স্ব ইচ্ছায় এই পুকুর জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করেছেন।

এসময় সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মাহফুজুর রহমান, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মিঠুন মৈত্র, থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আরিফ, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক স ম হেদায়দুল ইসলাম সহ বিএনপি’র অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

পাইকগাছা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ছাদ ঝুঁকিপূর্ণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
পাইকগাছা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ছাদ ঝুঁকিপূর্ণ

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি; খুলনার পাইকগাছায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জরাজীর্ণ ভবনের পলেস্তারা ও ছাদ ধসে পড়ার ঘটনায় বিচারক, আইনজীবী, পুলিশ ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ না করায় ভবনটি বর্তমানে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে আকস্মিকভাবে কোর্টের সিএসআই অফিস কক্ষের পুরাতন ছাদের একটি বড় অংশ বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে। গভীর রাত হওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি বা হতাহতের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হলেও এ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই দুর্ঘটনাটি যদি দিনের বেলায় আদালত চলাকালীন কিংবা অফিস সময়ে ঘটত, তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ বড় ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হতেন। গত দুই বছর ধরে এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের এজলাস কক্ষের ছাদের নিচে তাবু টানিয়ে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল মামলার নথিপত্র সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

খুলনা জেলা সদর থেকে প্রায় ৬৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পাইকগাছায় তৎকালীন সরকারের উদ্যোগে ১৯৮৩ সালে এই সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও সিনিয়র সহকারী জজ চৌকি আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ চার দশক পেরিয়ে গেলেও ঐতিহ্যবাহী এই ভবনটির প্রয়োজনীয় সংস্কার বা আধুনিকায়ন করা হয়নি। ফলে ভবনটির বিভিন্ন পিলারে ও দেওয়ালে বড় বড় ফাটল ধরেছে এবং ছাদের বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে।

পাইকগাছা কোর্টের সিএসআই মোঃ তরিকুল ইসলাম জানান,গভীর রাতে এই দুর্ঘটনা ঘটায় বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও আদালত প্রাঙ্গণের সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, যেকোনো মুহূর্তে পুরো ভবন ধসে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানির মতো বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে। তাই বিচারক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনজীবী, পুলিশ সদস্য ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনতিবিলম্বে এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি সংস্কার অথবা নতুন আধুনিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।