আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নৈশভোজ চলাকালে গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাতে এই ঘটনার পর সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। আধুনিক কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এমন নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখোমুখি হতে হয়নি।
ওয়াশিংটন সময় শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ওই নৈশভোজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তৃতা দেওয়ার কথা ছিল। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্য এবং কংগ্রেসের আইনপ্রণেতারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। গুলির ঘটনায় প্রেসিডেন্ট নিজেই লক্ষ্যবস্তু ছিলেন কি না, তা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্পের ওপর এর আগের হামলা ও হুমকি
শনিবারের এই ঘটনা ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণার সময় থেকে শুরু হওয়া নিরাপত্তার হুমকির একটি দীর্ঘ ধারাবাহিকতার অংশ। এর আগে ২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারণার সময় ট্রাম্প দুটি হত্যাচেষ্টা থেকে বেঁচে ফিরেছেন। সেই দুটি ঘটনাই সিক্রেট সার্ভিসের ব্যর্থতা সামনে এনেছিল, যা নিয়ে তদন্ত হয়েছে এবং সংস্থার নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এর আগের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ঘটনার মধ্যে রয়েছে:
পেনসিলভানিয়ার বাটলার (২০২৪)
২০ বছর বয়সী থমাস ম্যাথিউ ক্রুকস একটি র্যালিতে এআর-স্টাইল ৫৬৬ রাইফেল দিয়ে গুলি চালান। গুলি ট্রাম্পের ডান কানে আঘাত করে এবং একজন অংশগ্রহণকারী নিহত হন। পরে সিক্রেট সার্ভিসের স্নাইপারের গুলিতে হামলাকারী নিহত হয়।
ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচ (২০২৪)
ট্রাম্প যখন তার গলফ ক্লাবে খেলছিলেন, তখন রায়ান ওয়েসলি রাউথকে রাইফেলসহ দেখা যায়। সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা গুলি চালালে তিনি পালিয়ে যান এবং পরে গ্রেফতার হন। তিনি এখন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
অন্যান্য ঘটনা
২০১৬ সালের জুনে লাস ভেগাসের এক র্যালিতে পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এক ব্রিটিশ নাগরিক। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে নর্থ ডেকোটায় এক ব্যক্তি ফর্কলিফট চুরি করে প্রেসিডেন্টের কনভয়ে হামলার পরিকল্পনা করেন। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে এক ব্যক্তি ট্রাম্পকে প্রাণঘাতী ‘রিসিন’ মেশানো চিঠি পাঠান। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের হয়ে ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে এক পাকিস্তানি নাগরিককে গ্রেফতার ও দণ্ডিত করা হয়।
সর্বশেষ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ট্রাম্প যখন ওয়াশিংটনে ছিলেন, তখন মার-এ-লাগোতে শটগান ও গ্যাসের ক্যানিস্টারসহ আসা ২১ বছর বয়সী এক তরুণকে সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা গুলি করে হত্যা করেন।
এত সব হুমকি সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি জনসমক্ষে তার উপস্থিতি কমানোর কোনও পরিকল্পনা করছেন না।
সূত্র: অ্যাক্সিওস