বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩

আর্সেনিকের থাবায় দুই গ্রাম, দুই দশকে প্রাণ গেল অর্ধশত মানুষের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২৮ অপরাহ্ণ
আর্সেনিকের থাবায় দুই গ্রাম, দুই দশকে প্রাণ গেল অর্ধশত মানুষের

প্রতিদিন বিষপান, তবুও বিকল্প নেই

মিলন বিশ্বাস: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণকাটি ও সংলগ্ন এলাকায় আর্সেনিকের ভয়াবহতা এখন চরম পর্যায়ে। গত ২০ বছরে বিশুদ্ধ পানির অভাবে এবং আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করে এই এলাকায় অন্তত ৫০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। দেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম এই কৃষ্ণকাটি গ্রামেই আর্সেনিক শনাক্ত হয়েছিল, কিন্তু দুই দশক পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি; বরং প্রতিবছরই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এই এলাকার মানুষের শরীরে আর্সেনিকের বিষক্রিয়া স্পষ্ট। হাতে ও পায়ের তালুতে বাদামি ছাপ, বুকে-পিঠে ‘স্পটেড পিগমেনটেশন’ এবং অনেকের শরীরে গুটিগুটি ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। বিষক্রিয়ার ফলে পুরুষেরা রোদে গিয়ে পরিশ্রম করতে পারছেন না, শরীরের ভেতরে জ্বালাপোড়া ও অসহ্য যন্ত্রণা তাদের নিত্যসঙ্গী। দীর্ঘমেয়াদী এই সংক্রমণ অনেকের ক্ষেত্রে ক্যান্সারে রূপ নিচ্ছে। এছাড়া আঙুল বেঁকে যাওয়া, অসাড়তা এবং পচন ধরার মতো ভয়াবহ উপসর্গ নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন অনেকে।

ভুক্তভোগী রুমানা বেগমের করুণ কাহিনী পুরো গ্রামের চিত্র তুলে ধরে। আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে তার স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের সাত সদস্য মারা গেছেন। বর্তমানে সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে তার।
একইভাবে নাজমা বেগম হারিয়েছেন তার স্বামী, ছেলে, দেবর ও শ্বশুরকে। নিজে ২২ বছর ধরে এই মরণব্যাধি বয়ে বেড়াচ্ছেন। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা তো দূরের কথা, ডাক্তারের পরামর্শ দেওয়া পুষ্টিকর খাবার জোগাড় করতেও হিমশিম খাচ্ছেন এই মানুষগুলো।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও বিভিন্ন এনজিওর উদ্যোগে সুপেয় পানির প্ল্যান্ট স্থাপন করা হলেও সেগুলো বছরের পর বছর অকেজো হয়ে পড়ে আছে। নিয়মানুযায়ী প্রতি বছরে দুইবার টিউবওয়েলের পানি পরীক্ষা করার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। সরকারিভাবে সরবরাহকৃত পানির প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার কোনো দেখা মেলেনি। ফলে নিরুপায় হয়ে মানুষ লাল চিহ্নিত টিউবওয়েলের ‘বিষাক্ত’ পানিই পান করছে।

আর্সেনিকের এই ভয়াবহ ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে শিশুদের ওপর। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে অকেজো ওয়াটার প্ল্যান্টগুলো সচল করা এবং সরকারিভাবে পাইপলাইনের মাধ্যমে সুপেয় পানির ব্যবস্থা না করলে এই মৃত্যুমিছিল থামানো সম্ভব হবে না।

স্থানীয় বাসিন্দা জাকির মোড়ল আক্ষেপ করে বলেন, টিউবওয়েলে লাল রঙ দিয়ে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তৃষ্ণা মেটাতে আর কোনো বিকল্প নেই। আমরা জেনেশুনেই প্রতিদিন বিষ পান করছি।

জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. মফিদুল হক লিটু জানান, আমার ইউনিয়নে ব্যাপক আর্সেনিকের প্রভাবে বিশেষ করে কৃষ্ণকাটি ও শ্রীমন্তকাঠি গ্রামের মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। কৃষ্ণকাটি গ্রামের আনসার মোড়লের একই পরিবারের সাত জন মারা গিয়েছে। বিভিন্ন এনজিও কিছু ট্যাংকি বিতরণ করেছিল। সেই ট্যাংকিতে বৃষ্টির পানি ধরে কিছু সংখ্যক মানুষ পান করে। কিন্তু বৃষ্টির পানি দুই তিন মাসের বেশি পান করা যায় না।

 

পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহের একটি প্রকল্প কৃষ্ণকাটি গ্রামে পাস হয়েছে। দীর্ঘদিন আগে প্রকল্পটি পাস হওয়ার পরেও এখনো বাস্তবায়ন হয়নি কেন হচ্ছে না তা আমাদের অজানা। দ্রুত এই প্রকল্পটির কাজ করা হলে এই এলাকার মানুষ আর্সেনিকের প্রকোপ থেকে বাঁচতে পারবে।

 

আর্সেনিকের প্রভাবে যে রোগগুলো দেখা দিয়েছে সরকার স্পেশালভাবে এখানে কোন চিকিৎসা দেয় না। মাঝে মাঝে এনজিও আসে কিছু ঔষুধ পত্রের ব্যবস্থা করে তাছাড়া তেমন কোন ব্যবস্থা বা চিকিৎসা এখানে দেয়া হয় না। বিষয়টি বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, কিন্তু এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। মানুষ এখনো নিরাপদ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

এ সকল বিষয়ে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা: আব্দুস সালাম বলেন, আর্সেনিক খুব মারাত্মক একটি রোগ। আর্সেনিক হলে সাধারণত হাত-পা বাঁকা হয়ে যাওয়া সহ যেটার পরিণতি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণত আর্সেনিক আক্রান্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে ডায়গনোসিস করে বিনামূল্যে সরকারিভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় । তালায় জালালপুর যে অঞ্চলে আক্রান্ত হয়েছে সেখানে পুনরায় খবরাখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Ads small one

যশোর-সাতক্ষীরা সড়কে ট্রাক-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে যুবকের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ণ
যশোর-সাতক্ষীরা সড়কে ট্রাক-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে যুবকের মৃত্যু

কেশবপুর পৌর প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর বুধবার (২৯-০৪-২৬) রাতে বৃষ্টির মধ্যে যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের ফকির রাস্তা বাজার এলাকায় চলন্ত মোটরসাইকেল ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেল চালক কেশবপুর উপজেলার কমলাপুর গ্রামের নজরুল মোড়লের ছেলে নাইম মোড়ল (২৫) ঘটনাস্থলে নিহত হয়।

 

মোটরসাইকেলে থাকা আরও দুইজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কেশবপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কেশবপুর হাসপাতাল থেকে খুলনায় মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শ্যামনগরের গাবুরাতে এক হাজার লিটারের ৭৭টি পানির ট্যাংক বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরের গাবুরাতে এক হাজার লিটারের ৭৭টি পানির ট্যাংক বিতরণ

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ১০টায় ফেইথ ইন এ্যাকশনের মাধ্যমে বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে প্রাথমিক দলের ৭৭ জন নারী পুরুষকে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ১০০০ লিটার পানির ট্যাংক বিতরণ করা হয়েছে।

উক্ত বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১২নং গাবুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জি,এম মাসুদুল আলম। উপস্থিত ছিলেন ১নং ওয়ার্ড এর ইউপি সদস্য মো:হাবিবুল্লাহ, উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিম, অফিসার প্রিন্স মার্ক বিশ্বাস, প্রজেক্ট অফিসার পরিতোষ কুমার বৈদ্য, জেন্ডার অফিসার নওমী বিশ্বাস ও কমিউনিটি ফ্যাসিলিটেরবৃন্দ প্রমূখ।

ট্যাংক বিতরণ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বলেন, গাবুরা ইউনিয়নে সুপেয় পানির সংকট প্রকট। সেখানে মানুষ বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে ৩ থেকে ৪ মাস পানি সংকট নিরসনে ভুমিকা রাখে। কিন্তু পানি সংরক্ষণের জন্য পানির পাত্র প্রয়োজন। ফেইথ ইন এ্যাকশন পানি সংরক্ষণে যে পানির ট্যাংক বিতরণ করছে সেজন্য ফেইথ ইন এ্যাকশনকে ধণ্যবাদ জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, সুযোগ থাকলে ফেইথ ইন এ্যাকশনের নিকট গাবুরা ইউনিয়নে আরও কিছু পানির ট্যাংক বিতরণ করার জন্য দাবী রাখছি।

উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি বলেন, “গাবুরা ইউনিয়নে লবণাক্ততার জন্য সুপেয় পানির সংকট। এখানে নারীরা প্রয়োজনের তুলনার কম পানি পান করে। এই পানি সংকট নিরসনে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থারও এগিয়ে আসা প্রয়োজন। ফেইথ ইন এ্যাকশন পানির ট্যাংক বিতরণের যে উদ্যোগ নিয়েছে সেজন্য ফেইথ ইন এ্যাকশন কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।” তিনি গাবুরা ইউনিয়নের পানির ট্যাংক গ্রহণকারীদের ড্রাম সংরক্ষণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন।

 

পাইকগাছায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কাল বৈশাখী ঝড়বৃষ্টিতে আতঙ্কে কৃষক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:০৭ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কাল বৈশাখী ঝড়বৃষ্টিতে আতঙ্কে কৃষক

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): খুলনার পাইকগাছায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কাল বৈশাখী ঝড় ও ধান কাটা শ্রমিক সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকরা। সম্প্রতি এ অঞ্চলের উপর দিয়ে ৩/৪ বার ঘূর্ণিঝড় বয়ে যাওয়ায় ক্ষেতের ধানগাছ এলামেলো হয়ে পড়লেও ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এলাকার প্রায় সব ক্ষেতের ধান এক সাথে পাকার কারণে ধান কাটা শ্রমিক সংকটে মাঠের ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, বোরো মৌসুমে উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন বিলে ৬ হাজার ১৭ হেক্টর হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বোরো চাষে ডিজেল ও বিদ্যুতের সরবরাহ চাহিদা মত ছিলো না। তারপরও সব মিলিয়ে এ বছর ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।

উপকূলের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝড়-বৃষ্টি মৌসুম এবার আগেভাগেই শুরু হয়েছে। প্রায় প্রতিদিন কমবেশি এর প্রভাব পড়ছে। এলাকার কৃষক আব্দুল মান্নান জানান, এক সপ্তার মধ্যে উপজেলার সর্বত্রই ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হবে। উৎপাদন খরচও গত বারের চেয়ে এ বছর বেশী হয়েছে। এরপরও কৃষি শ্রমিকরা ধান কাটার জন্য মোটা অংকের দাম হাকাচ্ছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি কৃষকরা সীমাহীন ক্ষতির মধ্যে পড়বে। এ বছর ধানের দাম কমের কারণে কষ্টের ধানে শেষ পর্যন্ত উৎপাদন খরচ উঠবে কিনা তা নিয়েও কৃষকরা সংশয়ে রয়েছেন।

উপজেলার হিতামপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর সালাম সানা বলেন, ঝড়বৃষ্টির কারণে ধান কেটে মাঠে পালা দিয়ে পলিথিত দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। এতে ধান ও বিচুলির ক্ষতি হচ্ছে। ধান কাটার শ্রমিক মিলছে না। গ্রামের লোকজন গার্মেন্ট, ইটের ভাটাসহ বিভিন্ন কাজে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে যাচ্ছে। ফলে কৃষি কাজে দিন দিন শ্রমিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। ধান কাটার সময় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চড়া দামে শ্রমিক আনতে হচ্ছে। এক হেক্টর জমির ধান কেটে বাড়ি আনতে তার ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। ফলে ধানের উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে।

পাইকগাছা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন বলেন, উপকূলের এ উপজেলায় বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। আর ৫/৭ দিনের মধ্যে মাঠে ধান পুরাদমে শুরু হবে। চলতি মৌসুমে বোরোর ফলন ভাল হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ও ক্ষেত সঠিক ভাবে পরিচর্যা করায় বোরোর ফলন ভাল হয়েছে। কৃষকরা বিচুলীতে অধিক দাম পাওয়ায় বোরো চাষে তাদের আগ্রহ বেড়েছে।