ধান ফলায় কৃষক, লাভ লুটছে বাজার: সাতক্ষীরায় বোরোর মৌসুমে কান্নার আওয়াজ
পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার মাঠজুড়ে এখন সোনালি ধানের সমারোহ। তবে সেই সোনালি রঙে হাসি নেই কৃষকের মুখে। শ্রমিক সংকট, আকাশছোঁয়া মজুরি আর প্রকৃতির খামখেয়ালিপনার মধ্যে বাজারে ধানের দাম পড়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন জেলার হাজারো বোরো চাষি। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, হাড়ভাঙা খাটুনি আর পুঁজি বিনিয়োগ করে এখন লোকসানের হিসাব কষছেন তারা।
মাঠে ধান পেকে গেলেও কাটার মানুষ পাওয়া যাচ্ছে না। এই সুযোগে শ্রমিকের মজুরি এখন আকাশছোঁয়া। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শাল্যে গ্রামের কৃষক আব্দুল হালিম আক্ষেপ করে বলেন, “ধান ফলাই আমরা, কিন্তু লাভ নেয় অন্যরা। ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা মজুরি না দিলে শ্রমিক মিলছে না। কামলা (শ্রমিক) খরচ দিয়ে ধান ঘরে তোলা এখন সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। আমরা টিকব কীভাবে?”
শ্রমিক সংকটের সঙ্গে যোগ হয়েছে বৈরী আবহাওয়া। কালবৈশাখীর আশঙ্কায় পাকা ধান দ্রুত ঘরে তুলতে গিয়ে দিশেহারা কৃষকেরা। অনেক জায়গায় হঠাৎ বৃষ্টিতে কাটা ধান ভিজে নষ্ট হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই অসম লড়াইয়ে প্রকৃতি যেন কৃষকের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছে। কৃষকের মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে ধানের বাজারদর। একদিকে উৎপাদন খরচ ও শ্রমিকের মজুরি বাড়ছে, অন্যদিকে বাজারে ধানের দাম কমছে। তালা উপজেলার কৃষক মনিরুল ইসলাম ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “সব জিনিসের দাম বাড়ছে, শুধু আমাদের ধানের দাম কমছে। লোকসান দিয়ে আমরা কি শুধু চাষই করে যাব?”
কৃষকদের অভিযোগ, ধান উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারে বিক্রি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে তারা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের কারণে তারা ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। কৃষকের দাবি, বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর তদারকি না থাকায় এর সুযোগ নিচ্ছে ফড়িয়ারা।
সাতক্ষীরার স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্যমতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কৃষি খাত বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। তাদের ভাষ্য স্পষ্টÑ”কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে।” বর্তমানে যে ‘সর্বনাশের’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা থেকে মুক্তি পেতে সরকারিভাবে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা এবং উৎপাদন ব্যয় কমানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।






