বুধবার, ৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

আশাশুনিতে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব ও ট্যাগ অফিসারসহ ৩ জন অব্যাহতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৯:২০ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব ও ট্যাগ অফিসারসহ ৩ জন অব্যাহতি

বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: পরীক্ষা কেন্দ্রে বিধি বহির্ভূতভাবে বহিরাগতদের প্রবেশ, পরীক্ষার্থীকে অনৈতিক সুবিধা প্রদান এবং ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার দরগাহপুর কেন্দ্রের তিন কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কু-ু তাঁদের এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।

অব্যাহতি পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন— কেন্দ্র সচিব ও দরগাহপুর এস.কে.আর.এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌরপদ ম-ল, ট্যাগ অফিসার ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার ঝংকর ঢালী এবং পরীক্ষা কমিটির সদস্য ও সহকারী শিক্ষক শেখ রাখিদুল ইসলাম।

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, দরগাহপুর-২৫৯ কেন্দ্রে নিয়ম ভেঙে বহিরাগতদের অবাধে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছিল। কেন্দ্র সচিব গৌরপদ ম-লের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সহকারী প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে ওই একই কেন্দ্রে পরীক্ষা দিলেও তিনি পছন্দমতো শিক্ষককে কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব দিয়ে পরীক্ষার্থীকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন।

অন্যদিকে, ট্যাগ অফিসার ঝংকর ঢালীর বিরুদ্ধে পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র কেড়ে নিয়ে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট আটকে রেখে কেন্দ্রে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া পরীক্ষা কমিটির সদস্য রাখিদুল ইসলাম প্রশ্নপত্র বাইরে নিয়ে সমাধান (সলিউশন) করার সময় ভিজিল্যান্স টিমের হাতে ধরা পড়েন এবং পালিয়ে যান।

গত ৫ মে যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রেরিত এক নির্দেশনার প্রেক্ষিতে ৬ মে ইউএনও এক আদেশে উল্লিখিত তিনজনকে পরবর্তী সকল কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন। একই আদেশে সহকারী অধ্যাপক জি এম আনোয়ারুল ইসলামকে কেন্দ্র সচিবের নতুন দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন জানায়, পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতেই এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের শৃঙ্খলা বিঘিœত হয় এমন যেকোনো কর্মকা-ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।

 

Ads small one

পাইকগাছায় নেছার আলী হত্যা: দুই আসামির যাবজ্জীবন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
পাইকগাছায় নেছার আলী হত্যা: দুই আসামির যাবজ্জীবন

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চরমলই গ্রামের আলোচিত নেছার আলী মোড়ল হত্যা মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৬ মে) খুলনার বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) বিচারক মো. মঞ্জুরুল ইমাম এ রায় ঘোষণা করেন।
কারাদ-ের পাশাপাশি উভয় আসামিকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদ- ভোগ করতে হবে।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেনÑসাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার সাহাজাতপুর গ্রামের শহিদুল (রেজোয়ান বিশ্বাসের ছেলে) এবং পাইকগাছা উপজেলার সাধন হাওলাদার (মনোসা বিশ্বাসের ছেলে)। রায় ঘোষণার সময় দ-িত দুই আসামিই পলাতক ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, পাইকগাছা উপজেলার চরমলই গ্রামের বাসিন্দা নেছার আলী মোড়লকে হত্যার দায়ে এই মামলাটি করা হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই রায় প্রদান করেন। আইনজীবীরা জানান, রায়ের কপি সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিরা গ্রেপ্তার হওয়ার দিন থেকে তাঁদের সাজা কার্যকর শুরু হবে।

প্রকৃতির লেখক তারিক ইসলামের জন্মদিনে শুভেচ্ছা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ণ
প্রকৃতির লেখক তারিক ইসলামের জন্মদিনে শুভেচ্ছা

“মানুষ, বৃক্ষের মতো আনত হও, হও সবুজ”Ñ প্রকৃতির প্রতি অকৃত্রিম মমতায় এই স্লোগানটি যিনি হৃদয়ে ধারণ করেন এবং ছড়িয়ে দেন সাতক্ষীরার প্রান্তিক জনপদে, তিনি তারিক ইসলাম। আজ ৭ মে, সাতক্ষীরার এই তরুণ লেখক, গবেষক ও প্রকৃতিপ্রেমীর জন্মদিন।
২০০১ সালের এই দিনে সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলার আজিজপুর গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। পিতা মো. জামসেদ আলী ও মাতা মমতাজ বেগমের সন্তান তারিক শৈশব থেকেই জগত ও জীবনকে এক অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টিতে দেখতে অভ্যস্ত। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার গ-ি ছাপিয়ে তাঁর ধ্যান-জ্ঞান জুড়ে রয়েছে সাহিত্য আর প্রকৃতি।
সাহিত্যের বন্ধুর পথে কবিতার হাত ধরে তারিকের পথচলা শুরু হলেও সময়ের আবর্তে তাতে যুক্ত হয়েছে অনুগল্প, নিবন্ধ ও জীবনবোধের নানা রচনা। তাঁর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দর্শন, বিজ্ঞান, ধর্ম ও সাহিত্য। বিশেষ করে শিশুদের মানসিক বিকাশ ও তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর ভাবনা অত্যন্ত গভীর।
“তারিক ইসলামের বিশ্বাসÑ বই পড়া এবং বাগান করা, এই দুটি অভ্যাসই মানুষকে প্রকৃত অর্থে সুন্দর ও বুদ্ধিমান করে তোলে।”
তারিক ইসলাম কেবল একজন লেখক বা কবিই নন, তিনি প্রকৃতির একনিষ্ঠ সেবক। সাতক্ষীরার স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও দুর্লভ ভেষজ উদ্ভিদ সংরক্ষণে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি’। যখন তিনি লেখার টেবিলে থাকেন না, তখন তাঁকে দেখা যায় নতুন গাছের চারা রোপণ করতে কিংবা কোনো বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদের সন্ধানে প্রকৃতির অলিগলিতে ঘুরে বেড়াতে।
তারিকের স্বপ্নের পৃথিবীটা একটু ভিন্ন। তিনি এমন এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেন যেখানে প্রতিটি শিশু হবে আত্মবিশ্বাসী, সবুজ মনের অধিকারী এবং দেশপ্রেমিক।
আজকের এই বিশেষ দিনে তাঁর গুণমুগ্ধ পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁকে ভালোবাসা ও শুভেচ্ছায় সিক্ত করছেন। শুভ জন্মদিন, তারিক ইসলাম! প্রেসবিজ্ঞপ্তি

 

সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: সুন্দরবনে দস্যুতা এবং আমাদের নিরাপত্তা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: সুন্দরবনে দস্যুতা এবং আমাদের নিরাপত্তা

দীর্ঘদিন শান্ত থাকার পর সুন্দরবন আবারও অশান্ত হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে জলদস্যু ‘আলিম’ ও ‘নানাভাই’ বাহিনীর হাতে অন্তত ২২ জন জেলের অপহরণ এবং মুক্তিপণ দাবির ঘটনা উপকূলীয় জনপদে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। একই সময়ে দাকোপের ইকো রিসোর্টে পর্যটকদের ওপর হামলা এবং সরকারি এক কর্মীকে অপহরণের ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সুন্দরবনের গহিন অরণ্য ও পার্শ্ববর্তী লোকালয়ে দস্যুরা আবারও শক্তিশালী হওয়ার চেষ্টা করছে।
২০১৮ সালে সুন্দরবনকে ‘দস্যুমুক্ত’ ঘোষণা করা হয়েছিল, যা ছিল সরকারের এক অনন্য সাফল্য। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, সেই অর্জন এখন হুমকির মুখে। উদ্বেগের বিষয় হলো, লোকালয় থেকে মাত্র ১০-১২ মিনিটের দূরত্বে থাকা নদী বা খাল থেকেও জেলেদের অনায়াসে তুলে নিয়ে যাচ্ছে দস্যুরা। এটি বন ও লোকালয় সংলগ্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ও সক্রিয়তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে। ফিরে আসা জেলেদের ভাষ্যমতে, বন সংলগ্ন এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর ‘নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ’ নিচ্ছে দস্যুরা। যখন বনজীবীরা বৈধ পাশ (অনুমতিপত্র) নিয়ে বনে গিয়েও জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তখন তা কেবল তাদের জীবিকাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং দেশের সুনীল অর্থনীতির জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
অত্যন্ত আশঙ্কাজনক তথ্য হলো, মুক্তিপণের দাবিতে প্রজনন কর্মীকে অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে আটককৃতদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও রয়েছেন যারা ২০১৭ সালে ‘আত্মসমর্পণকারী’ জলদস্যু। এটি একটি গভীর উদ্বেগের বিষয়। এর অর্থ হলো, পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় হয়তো কোনো ফাঁক রয়ে গেছে অথবা তাদের কর্মকা-ের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি পর্যাপ্ত ছিল না। যদি আত্মসমর্পণকারী দস্যুরা আবারও পুরনো পথে ফিরে আসে, তবে তা সাধারণ বনজীবীদের জন্য আরও ভয়াবহ বার্তা বহন করে।
তবে অন্ধকারের মধ্যেও আশার আলো দেখিয়েছে কোস্ট গার্ড ও পুলিশের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপ। দাকোপে পর্যটকদের ওপর হামলায় জড়িতদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার এবং পুলিশের তৎপরতায় প্রজনন কর্মীর উদ্ধার দস্যুদের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা। কিন্তু কেবল বিচ্ছিন্ন উদ্ধার অভিযানই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন স্থায়ী সমাধান।
সুন্দরবনকে পুনরায় দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ করতে হলে সমন্বিত টহল ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে কদমতলা, কৈখালী ও হরিনগর সংলগ্ন এলাকাগুলোতে কোস্ট গার্ড, পুলিশ ও বন বিভাগের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। একই সাথে, সুন্দরবনের ভেতরে থাকা ছোট ছোট খালগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে যাতে দস্যুরা কোনো স্থায়ী আস্তানা গড়তে না পারে।
উপকূলীয় মানুষের জীবন ও জীবিকা সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। তাদের এই নির্ভীক চলাচল নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরা আশা করি, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বর্তমান পরিস্থিতিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে এবং দস্যুদের শিকড় উৎপাটনে পুনরায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে সুন্দরবনের শান্তি ফিরিয়ে আনবে।