শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩

ড্রেনেজ ছাড়াই সড়ক নির্মাণ, জলবায়ু প্রকল্পে নেই জলবায়ু পরিকল্পনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ
ড্রেনেজ ছাড়াই সড়ক নির্মাণ, জলবায়ু প্রকল্পে নেই জলবায়ু পরিকল্পনা

আসাদুজ্জামান সরদার: বহুল প্রতীক্ষিত সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হলেও তা নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে স্বস্তির বদলে হতাশার জন্ম দিয়েছে। কারণ জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছাড়াই নির্মাণ করা হচ্ছে সড়কটি। স্থানীয়রা বলছেন, এই উন্নয়নকাজ টেকসই হবে না। বরং কয়েক মাসের মধ্যেই বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হয়ে যাবে সড়কটি। জলে যাবে প্রকল্পের তিন কোটি টাকার বেশি।

জলবায়ু সহনশীল প্রকল্পে নেই জলবায়ু পরিকল্পনা

সাতক্ষীরার পোস্ট অফিস মোড় থেকে হাটখোলা মোড় পর্যন্ত ১ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় আছে। সড়ক দিয়ে দিনে হাজারো শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করতে হয়। অবশেষে জলবায়ু অর্থায়নের আওতায় নির্মাণ শুরু হলেও মূল সমস্যা উপেক্ষিত থাকছে। অল্প বৃষ্টিতেই সরকারি কলেজ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে যায়। সম্প্রতি বৃষ্টিতেই কলেজ ক্যাম্পাসসহ শহরের বড় অংশ প্লাবিত হয়েছিল। সড়কটি নতুন করে তৈরি করা হলেও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে না। জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের প্রকল্পে যদি জলবায়ুর পরিবর্তিত বৃষ্টিপাতের ধরন ও নগরীর পানি প্রবাহের চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় না নেয়, তবে তাকে জলবায়ু সহনশীল বলা যায় না।

প্রকল্পের কাজ নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন জেলা জলবায়ু পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী। তিনি  বলেন, ‘বছরের ছয়-সাত পানিতে ডুবে থেকে এই এলাকার অধিক রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর। তারপরও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ছাড়া সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এই সড়ক কোনোভাবেই টিকবে না।’

 

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন

সাতক্ষীরা পৌরসভা প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ‘ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার মেইনস্ট্রিমিং প্রজেক্টের’ আওতায় সাতক্ষীরা পৌরসভা উন্নয়ন প্রকল্প ২০২৪-২০২৫-এর অধীনে পোস্ট অফিস মোড় থেকে পুরাতন সাতক্ষীরা হাটখোলা মোড় পর্যন্ত সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হয়। সড়কের প্রস্থ দুই পাশে তিন মিটার করে থেকে ছয় মিটার বাড়ানো হয়েছে। ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ২০ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় তিন কোটি আট লাখ ৬৮ হাজার ৭৫৭ টাকা।

‘ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার মেইনস্ট্রিমিং’ বলতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার জন্য অবকাঠামোগত পরিকল্পনা এবং নির্মাণে স্থিতিস্থাপক নকশা ও কৌশল অন্তর্ভুক্ত করাকে বোঝায়। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো জলবায়ু-সংক্রান্ত ঝুঁকি, যেমন—চরম আবহাওয়া, বন্যা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি—থেকে অবকাঠামোকে রক্ষা করা, যা দীর্ঘমেয়াদে জীবন ও সম্পদের ক্ষতি কমায় এবং টেকসই উন্নয়নে সহায়তা করে। এটি মূলত একটি সামগ্রিক প্রক্রিয়া, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন-জনিত ঝুঁকিগুলো ভবিষ্যতের অবকাঠামো প্রকল্পগুলোতে মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পোস্ট অফিস মোড় থেকে পুরাতন হাটখোলা পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য ১ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার। সর্বশেষ ২০১১-১২ অর্থবছরে পৌরসভার তৎকালীন মেয়র আব্দুল জলিলের মেয়াদকালে এটি শেষবারের মতো পিচ ঢালাই করা হয়। এরপর চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লে ২০২৩ সালে ২০ লাখ টাকায় সংস্কার করা হয়। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হয়ে যায়। ২০২৪ সালে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে পুনরায় সংস্কার করা হলেও বৃষ্টির পানি জমে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বেশিরভাগ সময় থাকে জলাবদ্ধ

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ রোডটি জেলার প্রাণ হিসেবে পরিচিত। এই রোড সংলগ্ন এলাকায় জেলা প্রশাসক ও জেলা জজের বাসভবন। এ ছাড়া একই এলাকায় রয়েছে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ, গোয়েন্দা সংস্থার কার্যালয়, প্রধান ডাকঘর, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর, জেলা সমবায় কার্যালয়, বিটিসিএল কার্যালয়, সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, সমাজসেবা কার্যালয়, জাতীয় মহিলা সংস্থা, মোসলেমা আদর্শ একাডেমি, পল্লীমঙ্গল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, হোস্টেল, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কোচিং সেন্টার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দফতর। গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বছরের বেশিরভাগ সময় সড়কটি জলাবদ্ধ থাকায় চলাচলে সবাইকে ভোগান্তি পোহাতে হয়।

নির্মাণকাজ শুরু পর হতাশা

নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় প্রাথমিকভাবে আশার আলো দেখলেও পরে কাজের ধরন দেখে হতাশ হয়েছেন স্থানীয় লোকজন। মূল সমস্যা হলো ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি না করা হয়। বারবার সংস্কার করা হলেও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা এখনও তৈরি করা হয়নি। বিশেষ করে সরকারি কলেজ মাঠ এবং মোসলেমা আদর্শ একাডেমির সামনের অংশে সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুসমান পানি জমে যায়। একটু বৃষ্টি হলেই সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসসহ শহরের বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে যায়। যা পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করেছে। পানি চলাচলের জায়গা না থাকায় দিনের পর দিন জলাবদ্ধ থাকে। তার ওপর দিয়ে চলাচল করতে হয় স্থানীয়দের। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে নির্মাণ করা সড়কটি ছয় মাসও টিকবে না বলে জানান এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের ক্ষোভ

শহরের রাজারবাগান এলাকার বাসিন্দা ও তরুণ লেখক মুতাছিম বিল্লাহ সুমন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সড়কের দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে কংক্রিটের ড্রেন নির্মাণ খুবই জরুরি ছিল। কারণ বর্ষায় সড়কটি ডুবে যায়। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় ২০ ফুট চওড়া হওয়ার কথা থাকলেও সব স্থানে সমান প্রশস্ত হচ্ছে না। এ ছাড়া সড়কটির ভেতর থেকে গাছ, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি সরানো হয়নি।

নতুন সড়কটি ছয় মাসও টিকবে না বলে জানালেন সরকারি কলেজ সড়কের বাসিন্দা ও জেলা উদীচীর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‌‘পানি চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধ অবস্থা থাকে বেশিরভাগ সময়। ফলে যতবারই সংস্কার করা হয়, ততবারই সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে সড়কের দুই পাশে ছয় ফুট বাড়ানো হয়েছে। তবু ড্রেনেজের জন্য জায়গা রাখা হয়নি। অবৈধ স্থাপনা দিয়ে সড়কের অনেক জায়গা দখল করা হয়েছে, সেগুলো সরানো হয়নি। বিশেষ করে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সড়ক টিকবে না।’

প্রকল্পে ড্রেন নির্মাণের কথা নেই

সড়ক নির্মাণের ঠিকাদারি কাজের দায়িত্ব পেয়েছেন পটুয়াখালীর কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ ও মিজানুর আলম (জেভি)। ঠিকারদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. শিহাব বলেন, ‘আমরা শুধুমাত্র সড়কের কাজের দায়িত্ব পেয়েছি। প্রকল্পে ড্রেন নির্মাণের কোনও কথা উল্লেখ নেই। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে আমরা দ্রুত কাজ করছি। তবে বিদেশি প্রকল্প হওয়ায় প্রতিটি ধাপে পরীক্ষা ও অনুমোদন নিয়ে অগ্রসর হতে হচ্ছে। এজন্য সময় বেশি লাগছে। এ ছাড়া জনবহুল এলাকা হওয়ায় একসঙ্গে অনেক শ্রমিক দিয়ে কাজ করাতে পারছি না। সড়কে নির্মাণসামগ্রী রাখলে চলাচলে অসুবিধা হয়, তাই কাজ দ্রুত করা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ।’

ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছাড়া সড়ক করা মানেই অর্থ অপচয়

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক আজাদ হোসেন বেলাল বলেন, ‘এই সড়কে যে খোয়া ফেলা হয়েছে, তার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে আমাদের। জলবায়ু প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে, অথচ টেকসই কোনও সমাধান হচ্ছে না। ড্রেন ছাড়া সড়ক সংস্কার মানেই অর্থের অপচয়।’

সড়ক নির্মাণের এক বছর পর শুরু হবে ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ

প্রকল্পের কনসালট্যান্ট প্রকৌশলী মিরাজ আহম্মেদ বলেন, ‘জলবায়ু সহনশীল প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করছে জার্মান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড এবং বাংলাদেশ সরকার। এটি শুধুমাত্র সড়ক নির্মাণের জন্য। এতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার কোনও কাজ অন্তর্ভুক্ত নেই। তবে আলাদা ‘ড্রেন প্যাকেজ’ রয়েছে, যা প্রায় এক বছর পরে শুরু হবে। সেখানে ৩৫-৪০টি ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা আছে। তবে জায়গা সংকটের কারণে সব স্থানে করা সম্ভব হবে না। অনেক সরকারি জায়গা স্থানীয় লোকজন দখল করে রেখেছেন, তাই প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। কাজ সম্পন্ন হলে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা অনেকাংশে সমাধান হবে।’

সরকারি কলেজ মোড় থেকে মোসলেমা একাডেমি পর্যন্ত সড়কটি পানিতে তলিয়ে থাকে উল্লেখ করে প্রকল্পের কনসালট্যান্ট প্রকৌশলী আরও বলেন, ‘আর্থিক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা এই দৃশ্য দেখে সড়কটিতে আরসিসি ঢালাইয়ের প্রস্তাব করেছেন। আমরা সেই প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি এবং অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।’

যা বলছেন পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা

সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘প্রকল্পে ড্রেনেজ ব্যবস্থা আছে কিনা, তা আমার জানা নেই। শহরের ভেতর দিয়ে ১০টি ড্রেনেজ প্রকল্প চলমান আছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে ওই সড়কও থাকতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘১ দশমিক ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে পোস্ট অফিস থেকে ৮৫০ মিটার কার্পেটিংয়ের কাজ আগামী এক মাসের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করছি। বাকি অংশটুক আমরা চেষ্টা করছি আরসিসি ঢালাই দেওয়ার জন্য। এটা অবশ্যই কিছুটা দেরিতে হবে। আরসিসি ঢালাইয়ের জন্য আলোচনা করছি।’

Ads small one

ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত উপসাগরীয় ঘাঁটি ইসরায়েলে সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ণ
ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত উপসাগরীয় ঘাঁটি ইসরায়েলে সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের কিছু সামরিক ঘাঁটি ইসরায়েলে সরিয়ে নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরান-মার্কিন চুক্তির ১ সপ্তাহ: সুফল পাচ্ছে কারাইরান-মার্কিন চুক্তির ১ সপ্তাহ: সুফল পাচ্ছে কারা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বাহরাইনে অবস্থিত তাদের সামরিক ঘাঁটি পুনর্গঠন এবং কুয়েত ও সৌদি আরবে তাদের উপস্থিতি কমিয়ে আনার কথা ভাবছে। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত দুজন কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, মার্কিন প্রশাসন তাদের কিছু ঘাঁটি ইসরায়েলে স্থানান্তর করতে পারে।

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৫৮৯ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৫৮৯
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার পর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা আঘাত হানে ইরান। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকে জুন মাস পর্যন্ত বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটিটি বারবার হামলার শিকার হয়েছে। এতে ঘাঁটিটির কমান্ড হেডকোয়ার্টার্স এবং অন্তত এক ডজন অন্যান্য ভবনসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে পেন্টাগন এখনও এই ধ্বংসযজ্ঞের প্রকৃত মাত্রা বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।

এদিকে, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ইরান যুদ্ধের বিষয়ে মার্কিন জনগণের মনোভাবে তীব্র পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। এই চুক্তির আওতায় যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের শর্তাবলি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনা করার সময়ে আগামী ৬০ দিনের জন্য সব ধরনের শত্রুতা ও লড়াই বন্ধ থাকবে।

কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির একটি জাতীয় জরিপ অনুযায়ী, ৬০ শতাংশ মার্কিন ভোটার মনে করেন ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযান ‘যৌক্তিক ছিল না’।

তৃণমূল ছাড়া বিধায়করা বিদ্রোহী নয়, গাদ্দার: মহুয়া মৈত্রতৃণমূল ছাড়া বিধায়করা বিদ্রোহী নয়, গাদ্দার: মহুয়া মৈত্র
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সঙ্গে নিয়ে ‘ইরানি শাসকগোষ্ঠীর আসন্ন হুমকি দূর করতে’ ইরানের বিরুদ্ধে এই যৌথ যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করাই ছিল তাদের ঘোষিত প্রাথমিক লক্ষ্যগুলোর অন্যতম।

চিকিৎসায় যুগান্তকারী আবিষ্কার হচ্ছে, কিন্তু রোগীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না কেনচিকিৎসায় যুগান্তকারী আবিষ্কার হচ্ছে, কিন্তু রোগীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না কেন
তবে নতুন জরিপটি দেখাচ্ছে, পরবর্তী সময়ে হওয়া এই চুক্তিটি প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতার প্রতি জনমানুষের ধারণাকে দুর্বল করে দিয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬১ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন যে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করার সম্ভাবনা এখনও রয়ে গেছে। এ বিষয়ে ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান শিবিরের মধ্যেই তেমন কোনও মতভেদ নেই। দুই রাজনৈতিক দলেরই অধিকাংশ সমর্থক বিশ্বাস করেন, ইরানের পক্ষে এখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করার সম্ভাবনা ‘খুব বেশি’ অথবা ‘কিছুটা’ রয়ে গেছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

আর্জেন্টিনার জার্সিতে ‘১৮৯৩’ লেখার রহস্য কী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ
আর্জেন্টিনার জার্সিতে ‘১৮৯৩’ লেখার রহস্য কী

বিশ্বফুটবলের পরাশক্তি আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সিতে লক্ষ্য করলে একটি বিশেষ সংখ্যা চোখে পড়ে ‘১৮৯৩’। ফুটবল বিশ্বকাপের যাত্রা যেখানে শুরু হয়েছিল ১৯৩০ সালে, সেখানে বিশ্বকাপ শুরুরও ৩৭ বছর আগের এই সালটি জার্সিতে থাকার কারণ নিয়ে অনেকের মনেই কৌতুহল রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, বিশ্বকাপেরও বহু বছর আগের এই সালটির গুরুত্ব কী?

আসলে জার্সিতে থাকা ‘১৮৯৩’ কোনো রহস্যময় সংখ্যা নয়; এটি আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার প্রতিষ্ঠাবর্ষ। দেশের ফুটবল ঐতিহ্য, শেকড় এবং দীর্ঘ ইতিহাসকে সম্মান জানাতেই জার্সিতে এই সালটি ব্যবহার করা হয়।

উনিশ শতকের শেষভাগে আর্জেন্টিনায় ফুটবল ছিল একেবারেই নতুন একটি খেলা। ব্রিটিশ অভিবাসী, ব্যবসায়ী ও রেলওয়ে কর্মীদের হাত ধরে দেশটিতে ফুটবলের প্রচলন শুরু হয়।

সেই সময় স্কটল্যান্ডের শিক্ষক আলেকজান্ডার ওয়াটসন হাটন আর্জেন্টিনায় এসে খেলাটির প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শিক্ষা ও খেলাধুলাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া এই শিক্ষক স্কুলপর্যায়ে ফুটবল চালু করেন এবং তরুণদের মধ্যে খেলাটির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করেন।

তারই উদ্যোগে ১৮৯৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয় আর্জেন্টাইন অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল লীগ। পরবর্তীতে এই সংস্থাই রূপ নেয় বর্তমানের আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)-এ। দক্ষিণ আমেরিকার ইতিহাসে এটিই ছিল প্রথম জাতীয় ফুটবল সংস্থা।

আজকের দিনে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ফুটবল দেশ হিসেবে পরিচিত আর্জেন্টিনার সংগঠিত ফুটবল যাত্রার আনুষ্ঠানিক শুরু হয়েছিল সেই বছরেই। এই কারণেই ‘১৮৯৩’ সালটি আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ মর্যাদা পায়।

দেশের ফুটবল ঐতিহ্য, শিকড় ও দীর্ঘ পথচলার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জাতীয় দলের জার্সিতে এই সংখ্যাটি ব্যবহার করা হয়। জার্সি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসও বিভিন্ন সংস্করণের জার্সিতে ‘১৮৯৩’ যুক্ত করে সেই ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারকে তুলে ধরেছে।

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রাচীন সংগঠন হিসেবেও এএফএর আলাদা পরিচিতি রয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশের ফুটবল ফেডারেশন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেই আর্জেন্টিনা সংগঠিত ফুটবল কাঠামো গড়ে তুলেছিল। ফলে ‘১৮৯৩’ শুধু একটি সাল নয়, এটি দেশটির দীর্ঘ ফুটবল ঐতিহ্যের প্রতীক।

মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগে প্রয়োজন ত্যাগের মানসিকতা: প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগে প্রয়োজন ত্যাগের মানসিকতা: প্রতিমন্ত্রী

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগে প্রয়োজন ত্যাগের মানসিকতা। কীভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হয়, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত লায়ন্স ক্লাব।
তিনি আজ (শুক্রবার) খুলনা লায়ন্স আই হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো কাজ সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে হলে দৃঢ় অঙ্গীকার অপরিহার্য। আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা গেলে সেবাগ্রহীতার কখনো অভাব হবে না। তিনি চক্ষু সেবার পাশাপাশি লায়ন্স ক্লাবের মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা এবং অটিজম বিষয়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। মানবতার সেবা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে তিনি সবসময় পাশে থাকবেন বলেও আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা, লায়ন্স এ কে এম গোলাম ফারুক, সাবিনা সিদ্দিকা ও ডা. মো: বোরহান উদ্দিন। এতে সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র লায়ন্স ড. রনঞ্জিত কুমার নাথ। স্বাগত বক্তৃতা করেন লায়ন্স ডা. মনোজ কুমার দাস। তথ্যবিবরণী