বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

এফডিসিতে কোরবানি নিয়ে যা বললেন পরীমনি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ
এফডিসিতে কোরবানি নিয়ে যা বললেন পরীমনি

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমনি দীর্ঘদিন ধরেই এফডিসির অসচ্ছল সহশিল্পীদের জন্য কোরবানির আয়োজন করে আসছিলেন। তবে গত কয়েক বছর ধরে সেই আয়োজন থেকে দূরে রয়েছেন তিনি। এবারও এফডিসিতে কোরবানি দিচ্ছেন না এই অভিনেত্রী।
তবে নিজের অনুপস্থিতিতেও এফডিসির সহশিল্পীদের ঈদ আনন্দমুখর হোক এমন প্রত্যাশার কথাই জানিয়েছেন পরীমনি।

তিনি বলেন, আমি চাই এফডিসিতেও কোরবানিটা হোক। ২০১৬ সাল থেকে সবসময় কোরবানিটা এফডিসির সঙ্গে করেছি। এবার নিয়ে হয়তো চার বছর হয়ে গেল আমি এফডিসিতে কোরবানি দিচ্ছি না। এর নানা কারণ আছে, সেগুলো এখন পরিষ্কার। তবে আমি চাই আমার সহশিল্পীরা, যাদের অনেকেই দরিদ্র হিসেবে পরিচিত, তারাও যেন উৎসবমুখরভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারেন। আমি থাকি আর না থাকি, তাদের আনন্দটা যেন থাকে।

দীর্ঘদিন পর এবার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করবেন এই অভিনেত্রী। এ সিদ্ধান্তের পেছনে প্রয়াত নানার ইচ্ছার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

পরীমনি বলেন, আমার নানু ভাই সবসময় চাইতেন আমি বাড়ি গিয়ে পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদ করি। নিজের হাতে কোরবানির মাংস সবাইকে বিলিয়ে দিই। প্রায় আট-নয় বছর শুধু এফডিসির জন্য বাড়িতে যাওয়া হয়নি।

তিনি আরও জানান, পরে মনে হয়েছে এফডিসির দায়িত্ব অন্য কেউ সামলাচ্ছেন বলেই তিনি দায়িত্বটি হস্তান্তর করতে পেরেছেন। এরপর থেকেই আবার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে ঈদ পালন শুরু করেন।

সবশেষে ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানান এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, আমি জানি না কতটুকু কীভাবে করতে পারছি, তবে চেষ্টা করছি ঈদটাকে উৎসবমুখর করতে। ঈদ আনন্দ আর খুশির বার্তা নিয়ে আসে। আমি চাই সবার মুখে হাসি থাকুক, সবার অন্তরে আনন্দ থাকুক। আর কিছু চাওয়া নেই।

Ads small one

কুরিয়ার জট ও চড়া ভাড়ার দিন শেষ: সাতক্ষীরার আম মাত্র ৫টাকায় পৌঁছে দিচ্ছে ডাক বিভাগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
কুরিয়ার জট ও চড়া ভাড়ার দিন শেষ: সাতক্ষীরার আম মাত্র ৫টাকায় পৌঁছে দিচ্ছে ডাক বিভাগ

আসাদুজ্জামান সরদার: চলছে মধুমাস জ্যৈষ্ঠের আমেজ। গাছপাকা সুস্বাদু গোবিন্দভোগ, হিমসাগর আর ল্যাংড়া আমের সুবাসে আমোদিত চারপাশ। দেশের গ-ি পেরিয়ে সাতক্ষীরার এই আমের সুখ্যাতি এখন বিশ্বজুড়ে। তবে প্রতি বছরই আমের এই ভরা মৌসুমে দূর-দূরান্তে থাকা প্রিয়জন কিংবা ক্রেতাদের কাছে আম পাঠাতে গিয়ে কুরিয়ার সার্ভিসের চড়া মাশুলের ধাক্কায় হিমশিম খেতে হতো সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের। অনেক সময় আমের দামের চেয়ে কুরিয়ার ভাড়াই হয়ে যেত দ্বিগুণ।
সাধারণ মানুষ আর আম চাষিদের সেই চিরচেনা ভোগান্তি দূর করতে এবার অবিশ্বাস্য সাশ্রয়ী মূল্যে আম পরিবহনের এক দারুণ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। তাদের প্রযুক্তি-নির্ভর ‘স্পিড পোস্ট’ সার্ভিসের মাধ্যমে এখন নামমাত্র মূল্যে সাতক্ষীরার আম পৌঁছে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ডাক বিভাগের এই আধুনিক ও গতিশীল রূপান্তর এখন আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের মুখে চওড়া হাসি ফুটিয়েছে।

সাতক্ষীরা প্রধান ডাকঘর সূত্রে জানা গেছে, এই বিশেষ সার্ভিসে আম বুকিংয়ের ক্ষেত্রে প্রথম কেজি মাত্র ১০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি কেজির জন্য নেওয়া হচ্ছে মাত্র ৫ টাকা। বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসগুলো যেখানে প্রতি কেজিতে ১৩ থেকে ১৫ টাকা বা তারও বেশি চার্জ নিচ্ছে, সেখানে ডাক বিভাগের এই দর আমের বাজারে এক আমূল পরিবর্তন এনেছে। হিসেব অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক ২০ কেজি আম পাঠালে ভ্যাট ও উৎস করসহ তার মোট খরচ পড়ছে মাত্র ১১৬ টাকা।
কম খরচের পাশাপাশি ডাক বিভাগের দ্রুততম ডেলিভারির বিষয়টিও নজর কেড়েছে ব্যবসায়ীদের। সকালে বুকিং করলে ওই দিন সন্ধ্যার মধ্যেই খুলনায় এবং সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা শহরের গ্রাহকের হাতে আম পৌঁছে যাচ্ছে। আর চট্টগ্রাম, সিলেট বা বরিশালের মতো দূরবর্তী জেলাগুলোতে বুকিংয়ের এক থেকে দুই দিনের মধ্যে আম অক্ষত অবস্থায় মিলছে।
সাতক্ষীরা পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার দেবাশীষ কর্মকার বলেন, “বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে আম পাঠানোর সবচেয়ে উপযুক্ত ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম এখন ডাক বিভাগের ‘স্পিড পোস্ট’। আমাদের লক্ষ্য কম খরচে গ্রাহকের দোরগোড়ায় দ্রুত ও নিরাপদ সেবা নিশ্চিত করা।”
ঢাকা শহরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ জিপিও এবং সাব-পোস্ট অফিসের আওতায় এই আম ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে। গুলশান, বনানী, উত্তরা, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, নিউমার্কেট, তেজগাঁও, খিলগাঁও, ওয়ারী, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ও ঢাকা জিপিওসহ প্রধান প্রধান সবগুলো এলাকা রয়েছে এই সেবার আওতায়। বর্তমানে দেশের যেকোনো জেলা সদর এবং জেলা সদরের কাছাকাছি থাকা উপজেলা ডাকঘরগুলো থেকে এই সেবা মিলছে।
সাতক্ষীরা পৌরসভার আলিয়া মাদ্রাসা পাড়ার আম ব্যবসায়ী ইয়াকুব আলী বলেন, “সাতক্ষীরার আম সারদেশের মানুষের কাছে খুব প্রিয়। কিন্তু আগে ক্যারেট আর কুরিয়ার খরচ বেশি হওয়ায় ঢাকার মানুষকে অনেক বেশি দাম দিয়ে কিনে খেতে হতো। ডাক বিভাগের এই কম খরচের সেবার কথা শুনে আজ প্রথম এসেছি। আমাদের মতো ব্যবসায়ীদের জন্য এটি দারুণ এক সুযোগ।”
সাতক্ষীরা পোস্ট অফিসের হিসাবরক্ষক শ্যাম কুমার পাল জানান, আম ঠিকঠাক ও দ্রুত সময়ে পৌঁছানোর কারণে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ডাক বিভাগের এই আধুনিক ও সাশ্রয়ী রূপান্তর মিডল-ম্যান বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাবে এবং চাষি ও ভোক্তাদের সরাসরি যুক্ত করে আমের বাজারে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শ্যামনগরে একটি পরিবারকে দেশান্তর ও প্রাণনাশের হুমকি, থমথমে পরিস্থিতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে একটি পরিবারকে দেশান্তর ও প্রাণনাশের হুমকি, থমথমে পরিস্থিতি

 

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জে একটি পরিবারের সদস্য ও সংবাদকর্মীকে দেশান্তর করার হুমকি, প্রাণনাশ এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ওই যুবকের নাম পরিতোষ কুমার বৈদ্য। উপজেলার সেন্ট্রাল কালিনগর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে মাসুমের বিরুদ্ধে গত এক সপ্তাহ ধরে মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে এই অনবরত হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের আড়পাঙ্গাসিয়া গ্রামের এক প্রতিবন্ধী শিক্ষকের মেয়ের সঙ্গে ‘মাসুম কম্পিউটার অ্যান্ড ফটোস্ট্যাট’ দোকানের মালিক মাসুমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর জের ধরে কিছুদিন আগে গভীর রাতে ওই মেয়েটিকে তুলে নিয়ে আসার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী মাসুমকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। পরদিন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় মুচলেকা নিয়ে মাসুমকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পরিতোষ কুমার বৈদ্য জানান, ভুক্তভোগী পরিবারটি তার আত্মীয় হওয়ায় তিনি মানবিক কারণে তাদের আইনি ও সামাজিক সহযোগিতা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাসুম তার কাছে ৪০ হাজার টাকা ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন দাবি করে। এই অনৈতিক দাবি পূরণ করতে অস্বীকৃতি জানালে মাসুম তাকে দেশছাড়া করার হুমকি দেয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন ভাষায় বার্তা পাঠাতে শুরু করে। নিরাপত্তার স্বার্থে পরিতোষ শ্যামনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলেও মাসুমের হুমকি থামেনি।
অভিযুক্ত মাসুম জানায়Ñ“মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের যেসব স্ক্রিনশট ও রেকর্ডের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো আমার আইডি নয়। আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে অভিযুক্ত মাসুমকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ শ্যামনগর শাখার আহ্বায়ক অনাথ ম-ল। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল মাধ্যমে এভাবে হুমকি ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া সাইবার নিরাপত্তা আইন ও দ-বিধির ফৌজদারি ধারা অনুযায়ী কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদুর রহমান বলেন, “সংবাদকর্মী পরিতোষ বৈদ্যের জিডির পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এরপরও যদি তাকে নতুন করে কোনো হুমকি দেওয়া হয়ে থাকে, তবে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আশাশুনিতে পশু জবাই ও চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ক কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে পশু জবাই ও চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ক কর্মশালা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাতক্ষীরার আশাশুনিতে সঠিক নিয়মে পশু জবাই ও কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার উপজেলা মডেল মসজিদ কমপ্লেক্স হলরুমে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডুর সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান আলোচক ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আ. সালাম। সভায় পবিত্র ঈদে পশুর চামড়া যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য সঠিক নিয়মে চামড়া ছাড়ানো, লবণ দিয়ে সংরক্ষণ, দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার আছাদুল ইসলাম, শোভনালী ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা আবু বক্কর ছিদ্দিক, আশাশুনি প্রেসক্লাবের সভাপতি এস কে হাসানসহ স্থানীয় বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, মাংস ব্যবসায়ী (কসাই) ও পশু ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।