শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

‘মানবতা ফাউন্ডেশন’ লেখা গেঞ্জি পরে সুন্দরবনে ৩৯ জেলেকে অপহরণ করলো বনদস্যুরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ১:১১ অপরাহ্ণ
‘মানবতা ফাউন্ডেশন’ লেখা গেঞ্জি পরে সুন্দরবনে ৩৯ জেলেকে অপহরণ করলো বনদস্যুরা

পত্রদূত ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরের সুন্দরবনের কটকা ও কেওড়াতলা এলাকা থেকে মঙ্গলবার ও বুধবার (২০ মে) রাতে ১১টি মাছ ধরার ট্রলার থেকে ৩৯ জন জেলেকে অপহরণ করেছে জলদস্যুরা। এসময় প্রাণ বাঁচাতে কয়েকজন জেলে নদী ও খালে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন।

 

প্রত্যক্ষদর্শী জেলেরা জানান, ২৫ থেকে ৩০ সদস্যের একটি সশস্ত্র জলদস্যু দল অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে ট্রলারগুলোতে গুলি ছুড়ে হামলা চালায়। এই দস্যু দলটি ‘জাহাঙ্গীর বাহিনী’ বা ‘কাটুন বাহিনী’ নামে পরিচিত। তারা ট্রলারগুলো থেকে মাছ ধরার জাল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম লুটে নেওয়ার পাশাপাশি জেলেদের বন্দি করে নিয়ে যায়।

 

দস্যুদের পরনে ছিল কালো রঙের পোশাক, যার সামনের অংশে ‘মানবতা ফাউন্ডেশন’ এবং পেছনে সৌজন্যে ‘জাহাঙ্গীর ভাই’ লেখা ছিল। তবে পোশাকের গায়ে মানবতা লেখা থাকলেও তাদের কর্মকান্ডকে পুরোপুরি মানবতাবিরোধী বলেই অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জেলেরা।

 

অপহৃত জেলেদের বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন ও ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। তাদের মধ্যে পাথরঘাটার ট্রলার মালিক মাসুমসহ ইব্রাহিম, ইয়াসিন, হোসেন, তাওহিদ, সেলিম, জাকির মুন্সি, হানিফা, হৃদয় ও সুমনের নাম জানা গেছে।

 

এছাড়া রাজাপুর উপজেলার আলম হাওলাদার, ইউসুফ খান ও ফোরকানসহ আরও ২৫ জন জেলে অপহৃত হয়েছেন। দস্যুদের কবল থেকে পালিয়ে আসা ট্রলার মালিক কালাম মিয়া জানান, অপহৃত প্রত্যেক জেলের মুক্তির জন্য দেড় লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করছে জলদস্যুরা।

 

এদিকে ঘটনার দুই দিন পার হয়ে গেলেও অপহৃত জেলেদের এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

 

কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া সেল জানিয়েছে, ঘটনাস্থলটি কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন মোংলার আওতাধীন হওয়ায় তাদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে দুটি দল অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে।

 

পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক জানান, এ বিষয়ে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি তিনি, তবে অপহরণের সংবাদ পেয়ে জেলেদের খোঁজখবর ও তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

 

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস পাল জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট সুন্দরবনে জোরদার অভিযান পরিচালনা করছে। দ্রুতই জেলেদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

Ads small one

না-এ কোনও ইতিহাস নয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১:১৫ পূর্বাহ্ণ
না-এ কোনও ইতিহাস নয়

মারিয়া নূর
কয়েক মিলিয়ন কষ্টের বরাদ্দ নেওয়া ছিলো
আগেই, অনেক আগেই।
এখন আর বাড়তি দেনার দায় নেই ভাগ্যলিপিতে।
সুখেরা তো বরাবরই মুখচোরা
তাই আর ঘাঁটাতে চাইনি ওদের নতুন করে।

ফিরে যাওয়া বসন্তের আক্ষেপ পত্রে
অভিযোগ ছিলো – অপয়া মুখদর্শনের।
এখন দফায় দফায় হাজিরা চলে
জজকোর্ট থেকে হাইকোর্টের বারান্দায়।

সানগ্লাসটা ছোট হতে হতে
এখন মোটা ফ্রেমের চশমায় পরিনত।
চোখের নিচে বয়সের পাটিগণিত।
নামতা ভুলে গেছি সেই কবে;
উপপাদ্য বা সম্পাদ্য যাই বলো
সকল সুত্রের কারসাজিতে এখন
চোখ রাঙানি দেখি ভীষণ রকম।

যারা একসময় স্বপ্নের পরিচয়ে
চোখের সমুদ্রে খেলতো গোল্লাছুট;
বৃদ্ধ বটের নুয়ে পড়া তর্জনী আঁকড়ে
ওরাও ঝুলে থাকে অলস দুপুরে।

এখন আর দিবাকরের হৃদপি-ে কামড় দিয়ে
রোদ চুরি করে না কেউ।

না – এ কোনও ইতিহাস নয়;
রবীঠাকুরের ছোট গল্প? না তাও না।
এ হলো সেই চমকপ্রদ উপন্যাস
যার বিশেষ ক’টা পৃষ্ঠা অলক্ষেই অন্তর্ধান।

নবান্ন ও চন্দ্রাহত একজন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
নবান্ন ও চন্দ্রাহত একজন

বাবুল চৌধুরী
খোলা চুলে বাইরে এসো না এই ঘোর পূর্ণিমা-রাতে
সনাতন চাঁদ আকাশে সওয়ার চাঁদের জোয়ার, তাই
জোছনায় আহত হতে পারো আমিও চন্দ্রগ্রস্থ বলে
এক শ’ বছর পেছনে তাকাই অথবা তারও বেশি
সময়ের উল্টো স্রোতে, তোমার মুখে দেখি দীঘল
ফসলের মাঠ, চুলে খরতর নদী, ও শাড়ির জমিনে
জড়ানো স্থির অথবা অনেক উড়ন্ত ফিঙের ডানা,
আঁচলে আদরে আগলে রেখেছ নাকি ধান স্বর্ণালী!
আরেক মানবীর মতো তখন তুমি, যে মুখ বহু বছর
আগে দেখেছি – সে ছন্দে নাচে, উঠোনে হেসে যায়

এখনি ঢেঁকির শব্দ উঠবে, ঢেঁকিতে পড়ছে তার পা
স্বপ্নের ভেতর তার ছন্দিত পা দেখি, ধান ভাঙা হলে
এখনই দেবে সে নবান্নের ডাক, এখন চাঁদের মতো
সব থালা ভরবে নতুন খাদ্য-কণায়, নিরন্ন লোকালয়

নবান্নের সাড়া পেয়ে যায়, আকাশে চাঁদের জোয়ার –
এ নবান্নে নিমগ্ন আমি – খোলাচুলে বাইরে এসো না

সুখের দিনে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১:১১ পূর্বাহ্ণ
সুখের দিনে

ফাহিম শাহরিয়ার রুমি
সুখের দিনে কেন এ হৃদয়
নিভৃতে কাঁদিতে চায়?
হাসির আড়ালে কার যেন বেদনা
নীরবে ভাসিয়া যায়।

রৌদ্রঝলমল প্রভাত-আকাশে
স্বর্ণরেখা খেলে যায়,
তবু মোর চিত্তে অকারণ ছায়া
নিভৃত ব্যথা বুনে যায়।

সবাই যখন গাহে আনন্দগান,
মিলন-সুরে মাতে প্রাণ,
আমি কেন শুনি বিরহের বীণা
অশ্রুর মৃদু তান?

ফুলে ভরা এ জীবনের বাগান,
গন্ধে ভরে চারিধার,
তবু কেন যেন মলিন হইয়া
ঝরে পড়ে অন্তর-হার।

হায়, সুখের মাঝে লুকায়ে থাকে
দুঃখের অচেনা রূপ,
মানব-হৃদয় তাই চিরদিন
বিরোধে গাঁথা এক সুরূপ।