জহুরুল হক জুলু
রাতের শেষ প্রহরে
সব শব্দ যখন নিজেদের ভেতর গুটিয়ে নেয়,
তখনও কিছু অদৃশ্য দরজা খোলা থাকে।
আমি খুঁজি এমন এক আলোকবিন্দু,
যার সামনে দাঁড়িয়ে
নিজেকে আর প্রমাণ করতে হয় না।
যেখানে সাহসের পোশাক খুলে রেখে
মানুষ কেবল মানুষ হতে পারে,
অপূর্ণ, ক্লান্ত, এলোমেলো।
দিনভর জমে থাকা
অসংখ্য অব্যক্ত বাক্য
সেখানে গিয়ে ভাষা পায়।
কোনো প্রশ্নপত্র থাকে না,
থাকে না জবাবদিহির টেবিল,
শুধু বোঝাপড়ার এক গভীর নদী।
যার তীরে বসলে
ভেতরের ভাঙাচোরা শব্দগুলো
ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে আসে।
পৃথিবী তখন আর যুদ্ধক্ষেত্র মনে হয় না,
মনে হয় দীর্ঘ যাত্রার শেষে
মিলেছে একটি অনামা উপকূল।
সে কাউকে নিজের বলে দাবি করে না,
তবু তার দিকেই ফিরে যায়
সমস্ত পথভোলা অনুভূতি।
অদ্ভুত এক আকর্ষণ-
যেন ঝড়ের পর সমুদ্র
স্বতঃস্ফূর্তভাবে খুঁজে নেয় চাঁদের আলো।
কিছু সম্পর্ক থাকে
যাদের কোনো সংজ্ঞা নেই,
তবু তারা অভিধানের সব শব্দের চেয়ে সত্য।
তারা ক্ষত গণনা করে না,
পুরোনো ইতিহাসের পাতা ওলটায় না,
বিচারের কাঠগড়াও বানায় না।
শুধু নীরবে উপস্থিত থাকে,
যেন অন্ধকার আকাশে
একটি স্থির নক্ষত্র।
তার আলোয়
অন্তরের ছায়াগুলো ভয় পায় না,
গোপন ক্লান্তিগুলো আশ্রয় খুঁজে পায়।
আর তখন মনে হয়
মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি
হয়তো কোনো সাফল্য নয়,
বরং এমন একটি অস্তিত্ব,
যার কাছে পৌঁছালে
হৃদয় আর নিজেকে লুকিয়ে রাখে না।