রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দুর্যোগ সচেতনতায় তালায় ঐতিহ্যবাহী পটগান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ
দুর্যোগ সচেতনতায় তালায় ঐতিহ্যবাহী পটগান

তালা প্রতিনিধি: দুর্যোগ প্রস্তুতি ও ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ে গ্রামীণ জনপদের মানুষকে সচেতন করতে সাতক্ষীরার তালায় ৪টি ঐতিহ্যবাহী ‘পটগান’ পরিবেশন করা হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড কনসার্নের আয়োজনে উপজেলার খলিলনগর ও তালা সদর ইউনিয়নে এই সচেতনতামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
উন্নয়ন সংস্থা ‘সুশীলন’-এর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ উজির হোসেনের পরিচালনায় ১৪ থেকে ২০ মে পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে গোনালী এফবিসিবি চার্চ, আটারই হোপ চার্চ, মুড়াকলিয়া এমকে হাইস্কুল মাঠ এবং মাছিয়াড়া গ্রামের দাসপাড়ায় এই পটগানগুলো অনুষ্ঠিত হয়। খুলনার সুশীলন সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর শিল্পী লিজা পারভীন, সাথী বিশ্বাস, লাবনী রায়, শেখর বৈরাগী ও পবিত্র রায়সহ অন্যান্যরা এই পরিবেশনায় অংশ নেন।

Ads small one

আইলার ১৬ বছর: লোনা পানি আর স্বজন হারানোর ক্ষত আজও শুকায়নি উপকূলে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
আইলার ১৬ বছর: লোনা পানি আর স্বজন হারানোর ক্ষত আজও শুকায়নি উপকূলে

নাজমুল শাহাদাৎ (জাকির): আজ ভয়াল ২৫ মে। ২০০৯ সালের এই দিনে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে আঘাত হেনেছিল শতাব্দীর অন্যতম প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’। দেখতে দেখতে দীর্ঘ ১৬টি বছর পার হয়ে গেলেও সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনির জীর্ণ বেড়িবাঁধ আর লোনা পানির গ্রাসে থাকা লাখো মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনি। লোনা পানির আগ্রাসন, সুপেয় পানির তীব্র সংকট আর স্বজন হারানোর ক্ষত নিয়ে এখনো মানবেতর জীবনযাপন করছেন উপকূলীয় এই জনপদের বাসিন্দারা।

২০০৯ সালের ২৫ মে আইলার প্রভাবে ১৪-১৫ ফুট উচ্চতার আকস্মিক জলোচ্ছ্বাসে মুহূর্তেই ল-ভ- হয়ে গিয়েছিল সাতক্ষীরার উপকূল। ভেসে গিয়েছিল মানুষ, গবাদিপশু আর ঘরবাড়ি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সে সময় সাতক্ষীরায় ৭৩ জন নিহত, দুই শতাধিক আহত এবং প্রায় ৬ লাখ মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছিল। ১৬ বছর পর সরকারি নথির সেই পরিসংখ্যানের হিসাব মিললেও, উপকূলের মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের বাস্তব চিত্রটা বদলায়নি একটুও।

শ্যামনগরের দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার ৯ নম্বর সোরা গ্রামের মাজেদ শেখের পরিবারের কাছে আইলার স্মৃতি আজও এক জীবন্ত নরক। জলোচ্ছ্বাসের তোড়ে নৌকাডুবিতে তিনি তিন মেয়ে ও গর্ভবতী পুত্রবধূসহ পরিবারের ছয়জনকে হারান। চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, দুজনের খোঁজ আর কোনোদিন মেলেনি। স্বজন হারানোর সেই ধাক্কা আজও কাটিয়ে উঠতে পারেননি মাজেদ শেখ ও তাঁর স্ত্রী আমেনা খাতুন। একটি জীর্ণ খড়ের কুঁড়েঘরে কাটছে তাঁদের জীবন। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরের ভেতর পানি জমে কাদার সৃষ্টি হয়। পুনর্বাসন আর স্বাস্থ্যকর স্যানিটেশনের সরকারি-বেসরকারি শত প্রতিশ্রুতি থমকে গেছে তাঁদের মাত্র এক ফুট উঁচু, তালপাতার বেড়া দিয়ে তৈরি ব্যবহারের একমাত্র টয়লেটের কাছেই।

একই এলাকার সালমা খাতুনের গল্পটি আরও মর্মস্পর্শী। জলোচ্ছ্বাস শুরু হলে পরিবারের ১৯ জনকে নিয়ে নৌকায় উঠেছিলেন তাঁরা। কিন্তু মাঝনদীতে প্রচ- স্রোতে নৌকাটি উল্টে গেলে মুহূর্তেই প্রাণ হারান পরিবারের ১১ জন। প্রচ- স্রোতের মধ্যে পিঠে বড় মেয়ে আর কোলে দুধের শিশুকে নিয়ে টানা তিন ঘণ্টা পানিতে ভেসেছিলেন সালমা। বড় মেয়েকে বাঁচাতে পারলেও তাঁর চোখের সামনে লোনা পানি আর ঠান্ডায় নিথর হয়ে যায় কোলের শিশুটি। ১৬ বছর পরও মে মাস এলেই সেই নদী, স্রোত আর সন্তানের শেষ মুহূর্তের আকুতি তাড়া করে ফেরে সালমাকে।

আইলা-পরবর্তী দিনগুলোর স্মৃতি আজও এই জনপদের মানুষকে শিউরে তোলে। চারিদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল লাশ। অনেকের শরীর এতটাই পচে গিয়েছিল যে শেষ গোসলটুকু পর্যন্ত করানো সম্ভব হয়নি। বস্তায় ভরে, বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে কাদার ভেতরেই দাফন করা হয়েছিল অনেককে।

১৬ বছর পার হলেও এই জনপদের মানুষ পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। স্থানীয় সংকটের পাশাপাশি এখন বড় হয়ে উঠেছে জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব। লবণপানির দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতিতে নষ্ট হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, কমেছে কর্মসংস্থান এবং তীব্র আকার ধারণ করেছে সুপেয় পানির সংকট।

প্রতি বছরই টেকসই বাঁধের নামে কোটি কোটি টাকার বাজেট ও বরাদ্দ থাকলেও উপকূলের মানুষের ভাগ্য বদলানোর মতো স্থায়ী কোনো সমাধান এখনো মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান হয়নি। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, উপকূলজুড়ে জলবায়ু সহনশীল ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম জানান, দীর্ঘ সময় পর এবার গাবুরাতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ মাঠপর্যায়ে চলমান রয়েছে। তবে বছরের পর বছর ধরে চলা এই ধীরগতির উন্নয়ন উপকূলের মানুষের লোনা পানির আতঙ্ক পুরোপুরি দূর করতে পারছে না। আইলার দীর্ঘ ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও মাজেদ শেখের নিখোঁজ সন্তানদের শেষ দাফনটুকু করতে না পারার আফসোস কিংবা সালমা খাতুনদের বুকের ভেতর জমে থাকা দীর্ঘশ্বাস আজও মুছতে পারেনি কোনো উদ্যোগ। উপকূলাবাসীর একটাই দাবি—ত্রাণ বা অনুদান নয়, তাঁরা বাঁচতে চান একটি স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধের নিরাপত্তা নিয়ে।

আশাশুনি সদরে ভিজিএফের চাল বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনি সদরে ভিজিএফের চাল বিতরণ

 

আশাশুনি প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাতক্ষীরার আশাশুনি সদর ইউনিয়নে অসহায় পরিবারের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়েছে। আজ রবিবার সকাল ১১টায় ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এই চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার দাশ এবং সদর ইউপি চেয়ারম্যান এস এম হোসেনুজ্জামান হোসেনের উপস্থিতিতে ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের তালিকাভুক্ত ৬৯৪ জন সুবিধাভোগীর মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে পৃথক পৃথক স্থানে মোট ৬ মেট্রিক টন ৯৪০ কেজি চাল বিতরণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: আইলা দিবস ও উপকূলের টিকে থাকার সংগ্রাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: আইলা দিবস ও উপকূলের টিকে থাকার সংগ্রাম

২০০৯ সালের ২৫ মে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে আঘাত হেনেছিল শতাব্দীর অন্যতম প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’। আজ সেই ভয়াল ২৫ মে। দেখতে দেখতে ১৭টি বছর পার হয়ে গেলেও সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাটের জীর্ণ বেড়িবাঁধ আর লোনা পানির গ্রাসে থাকা লাখো মানুষের ভাগ্যের কোনো টেকসই পরিবর্তন ঘটেনি। আইলার পর বুলবুল, আম্পান, ইয়াস এবং রেমালের মতো উপর্যুপরি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন উপকূলীয় জনপদের বাসিন্দারা। জলবায়ু পরিবর্তনের এই চরম বাস্তবতায় যখন উপকূলের মানুষের অস্তিত্বই সংকটে, তখন জাতীয় বাজেটে জলবায়ু খাতের হিস্যা ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
পরিবেশবাদীরা উপকূলের সুরক্ষায় আসন্ন জাতীয় বাজেটে সুনির্দিষ্ট ও বিশেষ বরাদ্দের যে যৌক্তিক দাবি তুলেছেন, তা নীতিনির্ধারকদের গভীরভাবে ভাবা উচিত। বৈশ্বিক বিভিন্ন সূচক বলছে, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ খাদের কিনারে অবস্থান করছে। পরিবেশবিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ কৃষিজমি হারিয়ে যাবে এবং শতকের শেষে দেশের একটি বড় অংশ সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে ১ কোটিরও বেশি মানুষ জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হতে পারে।
এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান কেবল সংখ্যার হিসাবে সীমাবদ্ধ নয়; এর পেছনে রয়েছে মানুষের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, কর্মসংস্থান হারানো, সুপেয় পানির তীব্র সংকট এবং নারী ও শিশুদের পুষ্টিহীনতার মতো গভীর মানবিক বিপর্যয়। উপকূলের মানুষের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষার প্রধান ঢাল হলো টেকসই বেড়িবাঁধ। অথচ সরকারি তথ্যমতেই বর্তমানে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সামান্য জোয়ারের পানিতেই বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে, লোনা পানি ঢুকে ধ্বংস হচ্ছে ফসলি জমি ও সুপেয় পানির উৎস।
দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, উপকূলের এই ত্রাহি অবস্থার বিপরীতে জাতীয় বাজেটে বরাদ্দের চিত্রটি প্রতি বছরই হতাশাজনক হচ্ছে। গত এক দশকের বাজেট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দেশের মোট বাজেটের আকার প্রতি বছর বাড়লেও শতকরা হারের দিক থেকে জলবায়ু খাতের বরাদ্দ ক্রমাগত কমছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে যেখানে মোট বাজেটের ৮.২১ শতাংশ জলবায়ু খাতে বরাদ্দ ছিল, সেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৪.৮৬ শতাংশে। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা ৫.১৭ শতাংশ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে তা মাত্র ৫.২১ শতাংশ।
এই বরাদ্দ যে কেবল অপর্যাপ্ত তা-ই নয়, এর একটি বড় অংশই খরচ হয় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত প্রশাসনিক কাজে। ফলে উপকূলের অভিযোজন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্থায়ী সুরক্ষাকবচ তৈরির জন্য আলাদা কোনো বিশেষ তহবিল এখনো দৃশ্যমান নয়। আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের রক্ষাকবচ হলো বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন, যা যুগে যুগে সব বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিজের বুকে পেতে নিয়ে দেশকে রক্ষা করে আসছে। সুন্দরবনের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল প্রায় ৫০ লাখ মানুষের জীবিকা। সুন্দরবনের পরিবেশ ও উপকূলীয় সুরক্ষাবলয় ভেঙে পড়লে তা পুরো জাতীয় অর্থনীতির ওপর মারাত্মক আঘাত হানবে।
ত্রাণ বা সাময়িক অনুদান উপকূলের মানুষের স্থায়ী মুক্তি দিতে পারে না। লোনা পানির আগ্রাসন রোধে এবং এই জনপদকে টিকিয়ে রাখতে আসন্ন জাতীয় বাজেটে একটি ‘বিশেষ উপকূলীয় তহবিল’ গঠন এখন সময়ের দাবি। নীতিনির্ধারকদের মনে রাখতে হবে, উপকূল রক্ষা না পেলে দেশের সামগ্রিক টেকসই উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়। আইলা দিবসের এই দিনে উপকূলবাসীর একটাই প্রত্যাশাÑআসন্ন বাজেটে যেন তাদের টিকে থাকার লড়াইয়ের প্রতিফলন ঘটে।