বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

চৈত্রান্তে চড়ক: লোকবিশ্বাস ও সংস্কৃতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ণ
চৈত্রান্তে চড়ক: লোকবিশ্বাস ও সংস্কৃতি

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনচর্চাকে যদি একটি বাক্যে ধরতে হয়, তবে “বারো মাসে তেরো পার্বণ” প্রবাদটি অনিবার্যভাবে সামনে আসে। এই প্রবাদ শুধু উৎসবের প্রাচুর্যকে নির্দেশ করে না; এটি একটি জাতির জীবনদর্শন, অনুভূতি ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতাকে তুলে ধরে। বাঙালির প্রতিটি উৎসবের মধ্যেই রয়েছে কোনো না কোনো সামাজিক, অর্থনৈতিক কিংবা আধ্যাত্মিক তাৎপর্য। এই ধারাবাহিকতার সূচনা হয় পয়লা বৈশাখের নবজাগরণের মধ্য দিয়ে, আর সমাপ্তি ঘটে চৈত্র সংক্রান্তির গাম্ভীরে‌্য।

 

এই শেষ প্রান্তেই দাঁড়িয়ে চড়ক পূজা যেন একদিকে বিদায়ের বেদনা, অন্যদিকে পুনর্জন্মের প্রত্যাশা বহন করে। চড়ক পূজা কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়; এটি বাঙালির লোকজ সংস্কৃতির এমন একটি বহুমাত্রিক উপাদান, যেখানে ধর্ম, সমাজ, অর্থনীতি, শরীরী সাধনা এবং মানসিক বিশ্বাস একসূত্রে গাঁথা। এটি মূলত শিবকেন্দ্রিক গাজন উৎসবের অংশ, যা চৈত্র মাসব্যাপী চলে এবং সংক্রান্তির দিনে চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।

 

গাজনের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন ভক্তি ও তপস্যার প্রকাশ ঘটে, অন্যদিকে এটি হয়ে ওঠে মানুষের সম্মিলিত জীবনযাপনের এক প্রতীকী মঞ্চ। চড়ক পূজার উৎপত্তি নিয়ে নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক তথ্য না থাকলেও এর চারপাশে গড়ে উঠেছে নানা লোককথা ও কিংবদন্তি। রাজা সুন্দরানন্দ ঠাকুরের নাম এই প্রসঙ্গে প্রায়ই উচ্চারিত হয়, তবে ইতিহাসবিদদের মতে, এই উৎসবের শিকড় আরও গভীরে-গ্রামীণ ও কৃষিভিত্তিক সমাজের প্রাচীন বিশ্বাসে।

প্রকৃতির অনুকূলতা লাভ, রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি এবং জীবনের পুনর্জন্মের ধারণা-এই তিনটি উপাদান চড়ক পূজার ভিত গড়ে দিয়েছে। এই উৎসবের মধ্যে যে ভৌতিক শক্তি, ভূতপ্রেত কিংবা অলৌকিক বিশ্বাসের উপস্থিতি দেখা যায়, তা আসলে প্রাচীন মানুষের অজানাকে ব্যাখ্যা করার একটি প্রচেষ্টা। যখন বিজ্ঞান ছিল না, তখন মানুষ প্রকৃতির অদৃশ্য শক্তিকেই দেবত্ব দান করেছিল।

সেই ধারাবাহিকতায় চড়ক পূজা একধরনের লোকধর্মীয় আচার হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। চড়ক পূজার সবচেয়ে আলোচিত দিক নিঃসন্দেহে এর শরীরনির্ভর আচার। আধুনিক সভ্যতার চোখে যা অনেক সময় নিষ্ঠুর বা অমানবিক বলে মনে হয়, তা অংশগ্রহণকারীদের কাছে একধরনের আধ্যাত্মিক সাধনা। শরীরকে কষ্ট দিয়ে আত্মার পরিশুদ্ধি-এই ধারণা বহু প্রাচীন ধর্মীয় প্রথার সঙ্গে সম্পর্কিত।চড়কগাছে সন্ন্যাসীদের বেঁধে ঘোরানো, শরীরে হুক প্রবেশ করানো, জ্বলন্ত অঙ্গারের ওপর হাঁটা, ধারালো বস্তুর ওপর লাফানো-এসব আচার কেবল দেহের সহনশীলতার পরীক্ষা নয়; এগুলো বিশ্বাসের গভীরতার প্রকাশ। যারা এই আচার পালন করেন, তারা মনে করেন-এই কষ্টই তাদের পাপমোচনের পথ, এই যন্ত্রণা তাদের মুক্তির দিশা।

 

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক দিকও রয়েছে। চরম শারীরিক কষ্ট সহ্য করার মাধ্যমে মানুষ একধরনের আত্মিক তৃপ্তি লাভ করে, যা তাকে নিজের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করার অনুভূতি দেয়। এই অভিজ্ঞতা অনেক সময় ধর্মীয় উন্মাদনা বা একধরনের তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থার সৃষ্টি করে, যা তাদের কাছে দেবতার সঙ্গে সংযোগের এক মাধ্যম হয়ে ওঠে। চড়ক পূজার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র। সন্ন্যাসী হিসেবে পূজার সমস্ত আচার সম্পন্ন করেন, এবং এই প্রক্রিয়ায় তারা একধরনের সামাজিক মর্যাদা অর্জন করেন। এই দিকটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চড়ক পূজা একধরনের সামাজিক প্রতিবাদের ভাষা।

 

এটি এমন একটি মঞ্চ, যেখানে সমাজের প্রান্তিক মানুষ নিজের অস্তিত্বকে প্রতিষ্ঠা করে। ধর্মীয় আচারকে কেন্দ্র করে তারা একটি বিকল্প সামাজিক কাঠামো তৈরি করে, যেখানে শ্রেণিবৈষম্য কিছুটা হলেও লঘু হয়। চড়ক পূজাকে ঘিরে যে মেলা বসে, তা গ্রামীণ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই মেলা শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়; এটি একটি সামাজিক মিলনমেলা, যেখানে মানুষ আনন্দ, বিনোদন এবং পারস্পরিক যোগাযোগের সুযোগ পায়। স্থানীয় কৃষিপণ্য, হস্তশিল্প, মাটির তৈরি জিনিস, খেলনা, মিষ্টান্ন-সবকিছুই এই মেলায় স্থান পায়।

 

একই সঙ্গে থাকে লোকসংগীত, যাত্রাপালা, গম্ভীরা, বাউল গান-যা এই উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। ফলে চড়ক পূজা শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; এটি একটি সামগ্রিক গ্রামীণ জীবনযাত্রার প্রতিফলন। বর্তমান সময়ে চড়ক পূজাকে ঘিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে রয়েছে আধুনিক মানবাধিকার ও বিজ্ঞানমনস্কতা, যা শরীরকে আঘাত করে এমন আচারকে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করে। অন্যদিকে রয়েছে ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রশ্ন, যা এই আচারগুলোকে বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে দেখছে।

 

অনেক জায়গায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে চড়ক পূজার ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। হুক দিয়ে ঝোলানো বা শরীরে বাণ বিদ্ধ করার মতো আচার অনেক ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ বা সীমিত করা হয়েছে। তবে তাতে উৎসবের মূল চেতনা হারিয়ে যাচ্ছে কিনা-সেই প্রশ্নও উঠে আসছে। এই দ্বন্দ্ব আসলে একটি বৃহত্তর বাস্তবতার প্রতিফলন-কিভাবে একটি সমাজ তার অতীতকে ধারণ করে বর্তমানের সঙ্গে সামঞ্জস্য স্থাপন করবে। চড়ক পূজা এই প্রশ্নের একটি জীবন্ত উদাহরণ।চৈত্র সংক্রান্তি মূলত একটি সমাপ্তির প্রতীক-পুরোনো বছরের শেষ।

 

আর এই সমাপ্তির মধ্যেই লুকিয়ে থাকে নতুন শুরুর সম্ভাবনা। চড়ক পূজা সেই সম্ভাবনাকেই প্রতীকীভাবে প্রকাশ করে। শরীরের কষ্ট, আগুনের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাওয়া, বেদনার অভিজ্ঞতা-সবকিছু যেন একধরনের শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে নতুন বছরের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা হয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে চড়ক পূজা একটি পুনর্জন্মের আচার। এটি শুধু ধর্মীয় নয়; এটি মানসিক ও সাংস্কৃতিক পুনর্গঠনের একটি প্রতীক। চড়ক পূজা আজও বেঁচে আছে-সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে।

 

হয়তো অনেক আচার বদলেছে, অনেক কিছু হারিয়ে গেছে, আবার নতুন কিছু যুক্ত হয়েছে। কিন্তু এর মূল সুরটি অটুট-মানুষের বিশ্বাস, কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা, এবং নতুন করে শুরু করার আকাক্সক্ষা। চৈত্রের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে এই উৎসব আমাদের মনে করিয়ে দেয়-সংস্কৃতি কখনও স্থির নয়; এটি প্রবাহমান। আর সেই প্রবাহের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে একটি জাতির ইতিহাস, তার সংগ্রাম, তার আনন্দ এবং তার ভবিষ্যতের স্বপ্ন। চড়ক পূজা তাই শুধু একটি উৎসব নয়; এটি বাঙালির আত্মপরিচয়ের এক গভীর প্রতিফলন-যেখানে অতীত ও বর্তমান মিলেমিশে তৈরি করে এক অনন্য সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

 

 

 

Ads small one

সাতক্ষীরায় ডিসির বক্তব্য বিকৃত ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ওলামা দলের মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৬:০৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ডিসির বক্তব্য বিকৃত ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ওলামা দলের মানববন্ধন

২৪ ঘণ্টার মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরাবাসীকে ধর্মান্ধ আখ্যায়িত করার অভিযোগের প্রতিবাদে সাতক্ষীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ১১টায় সাতক্ষীরা নিউ মার্কেট মোড়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দল সাতক্ষীরা জেলা শাখার আয়োজনে সংগঠনের আহ্বায়ক মাওলানা আনিসুর রহমান আজাদীর সভাপতিত্বে উক্ত মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মাসুম বিল্লাহ শাহীন, জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান মুকুল, জেলা জাসাসের আহ্বায়ক শেখ জিল্লুর রহমান, জেলা ওলামা দলের সদস্য সচিব হাফেজ সাইফুল্লাহ আল কাফি, পৌর ওলামা দলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান কামু, সদস্য সচিব একরামুল হোসেন মিলন, পৌর বিএনপি নেতা কাজী মিয়ারাজ, জেলা তাঁতি দলের সভাপতি হাসান শাহরিয়ার রিপন, কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি শাহজালাল, শ্যামনগর উপজেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের প্ররোচনায় জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা করে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসককে আল্টিমেটাম দিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মতো দুঃসাহস দেখিয়েছেন। আমরাও ওই ব্যক্তিকে ২৪ ঘন্টার আলটিমেটাম দিচ্ছি তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে হবে তা নাহলে আমরাও তাদের বিরুদ্ধে কঠিন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ এর বক্তব্য বিকৃত করে সুবিধাবাদী দল তাদের রাজনৈতিক ফাইদা লুটার চেষ্টা করছে।

 

প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তারা আরো বলেন, যারা সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের বক্তব্য বিকৃতি করে অপপ্রচার চালাচ্ছে তাদেরকে দ্রুত তদন্ত পূর্বক গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসককে নিয়ে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার সাতক্ষীরাবাসী কখনও মেনে নেবে না। মানববন্ধনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, জেলা ওলামা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীসহ বিভিন্ন ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

সাতক্ষীরায় সাংবাদিকদের তিন দিনের প্রশিক্ষণের সমাপনীতে গুজব ও অপপ্রচার রুখে দেওয়ার প্রত্যয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৫:৫৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় সাংবাদিকদের তিন দিনের প্রশিক্ষণের সমাপনীতে গুজব ও অপপ্রচার রুখে দেওয়ার প্রত্যয়

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় কর্মরত সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে আয়োজিত ‘মাল্টিমিডিয়া, ফ্যাক্ট চেক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)’ বিষয়ক তিন দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) শেষ হয়েছে। প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) ও তথ্য এবং সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) এই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা ম্যানগ্রোভ সভাঘর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হাবিবুল ইসলাম হাবিব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, “বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির। প্রযুক্তির এই উৎকর্ষের সময়ে সাংবাদিকদের কাজের পরিধি ও চ্যালেঞ্জ দুই-ই বেড়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে ফ্যাক্ট চেকিংয়ের কোনো বিকল্প নেই। বস্তুনিষ্ঠ সাহসী সাহসী সাংবাদিকতার মাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। এই প্রশিক্ষণ সাতক্ষীরার সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে আরও বেশি সমৃদ্ধ করবে।” তিনি বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন এবং জনস্বার্থে প্রচারের আহ্বান জানিয়ে সাংবাদিকদের আধুনিক প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের ওপর জোর দেন।

পিআইবি-এর প্রশিক্ষক সাহানোয়ার সাঈদ শাহীনের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ আবুল কাশেম ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য সাংবাদিক সাইদুর রহমান, জুলহাস কবীরসহ স্থানীয় সংবাদকর্মীরা।

সভাপতির বক্তব্যে সাহানোয়ার সাঈদ শাহীন বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং মাল্টিমিডিয়া এখন বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকতার ধরন বদলে দিচ্ছে। আমাদের দেশের মফস্বল পর্যায়ের সাংবাদিকেরাও যাতে এই বৈশ্বিক দৌড়ে পিছিয়ে না পড়েন, সেই লক্ষ্যেই এই বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন। অপতথ্য শনাক্ত করার কৌশল ও আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকতা আরও গতিশীল হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

এর আগে গত মঙ্গলবার সকালে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন প্রধান অতিথি সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আজিজ।

বক্তারা বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সাংবাদিকতায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে ফ্যাক্ট চেকিং বা তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের কোনো বিকল্প নেই। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় সাংবাদিকেরা আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হতে পেরেছেন, যা তাঁদের পেশাগত দক্ষতা আরও বৃদ্ধি করবে।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব ও জেলার বিভিন্ন উপজেলার মোট ৭০ জন সাংবাদিক এই কর্মশালায় অংশ নেন। তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে সাংবাদিকদের আধুনিক সাংবাদিকতার বিভিন্ন কৌশলের ওপর বাস্তবমুখী ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন।

সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি ও বেসরকারি সমমনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুন দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিসিডিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন। সিসিডিবি’র রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং ম্যানেজার সামিউল আলিম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও শামসুজ্জামান কনক। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদ বিন শফিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।