সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রাকৃতিক চাকের মধু বিক্রি করে মৌয়াল বারিকের জীবন জীবিকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১২:২২ অপরাহ্ণ
প্রাকৃতিক চাকের মধু বিক্রি করে মৌয়াল বারিকের জীবন জীবিকা

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): পাইকগাছার মৌয়াল বারিক স্থানীয় গাছ ও বাসা-বাড়ি থেকে মৌমাছির চাক কেটে সরাসরি ক্রেতার সামনে মধু বিক্রি করেন। এটি খাঁটি মধু পাওয়ার সবচেয়ে বিশ্বস্ত উপায়। প্রাকৃতিক মৌমাছির চাক থেকে মধু আহরণ ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন মৌয়াল আব্দুল বারিক। এলাকায় তিনি মধু বারিক নামে পরিচিত।

 

সবাই খাটি ভালো মধু চায়। ভেজাল মুক্ত মধু পেতে ক্রেতার বিড়ম্বানার শেষ নেই। তাই ভেজাল মুক্ত খাটি মধু পেতে সবাই বারিকের উপর আস্থা রেখেছে। বারিক চাক কেটে বাগানে বসে ক্রেতাকে মধু দিচ্ছে। কেহ চাইলে চাক সহ মধু নিতে পারে। তাই খাটি মধু পেতে বারিকের উপর ভরসা।

 

খুলনা জেলার পাইকগাছার মটবাটি গ্রামে আব্দুল বারিকের বাড়ি। তিনি এলাকার বিভিন্ন গাছ বা বাসা বাড়িতে মৌমাছির চাক কেটে মধু সংগ্রহ করেন। সেই মধু বিক্রি করে যে অর্থ আয় করেন তাই দিয়েই চলে তার সংসার। মধু আহরণের পাশাপাশি সংসার চালাতে বিভিন্ন কাজ করেন।

 

গ্রামের কোথাও মৌচাকের সন্ধান পেলেই মৌয়াল বারিককে ডাকা হয়। অত্যন্ত যত্নসহকারে মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করেন। বারিক মৌচাক থেকে কীভাবে মধু সংগ্রহ করেতে হয় তার কৌশল আয়ত্ত করেছেন । মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহের পেশাদার মৌয়াল হয়ে ওঠেছেন তিনি। কয়েক বছর সুন্দরবনের মধু আহরণে মৌয়ালদের সাথে মধু আহরণ করেছেন। সুন্দরবনের পার্শবর্তি উপকূল এলাকায় বড় বা দাশ মৌমাছির চাক বেশী পাওয়া যায়।

 

মৌয়াল বারিক বলেন, আমি প্রায় ২০ -২৫ বছর যাবৎ মৌমাছির চাক থেকে মধু সংগ্রহ করি। মৌচাক কেটে মালিকদের অর্ধেক আমি অর্ধেক নিয়ে থাকি। মৌমাছির চাকের প্রতি কেজি মধু এক হাজার টাকা থেকে ১২শত টাকা দরে বিক্রি করি। চাক থেকে মধু সংগ্রহের আগে কয়েকটি ধাপ রয়েছে। শুরুতে মৌয়াল বা মধু সংগ্রহকারীরা বেশ কিছু খড় জড়ো করে শুকনা কাচা পাতা পেচিয়ে মশালের মতন তৈরি করা হয়। একে কোনো কোনো এলাকায় বোলেন বা বুন্দা বলা হয়। এ মশাল জ্বালিয়ে ধোয়া তৈরি করে মূলত মৌমাছি তাড়ানো হয়। আগুনে সৃষ্ট ধোঁয়া একেবারে কাছাকাছিতে নিয়ে গেলে মৌমাছিগুলো চাক ছেড়ে আশপাশে উড়তে থাকে। এ সময় চাকের কিছু অংশ রেখে মৌয়াল দা বা কাঁচি দিয়ে চাক কেটে বালতিতে রাখেন। এরপর সে চাক থেকে মধু হাত দিয়ে চিপে আলাদা করা হয়। চাক কাটা হয়ে গেলে কিছুক্ষণ পর মৌমাছি আবার চাক বানাতে তৈরি শুরু করে ।

 

মৌয়াল বারিক আরও জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গ্রামে-গ্রামে ঘুরে মধু সংগ্রহ করতে হয়। জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণ ও তাপমাত্রা বেশী হওয়ায় চাকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। অতিরিক্ত তাপে অনেক চাক নষ্ট হয়ে ছিড়ে পড়ছে। তাছাড়া এ বছর এই অঞ্চলে সে রকম বৃষ্টি হয়নি। বৃষ্টি না হওয়ায় ফুল শুকিয়ে ঝরে যায়, তাই মধু জমে কম। বর্তমানে পর্যাপ্ত মৌচাক না পাওয়ার কারণে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফাল্গুন মাস থেকে আষাড় মাস পর্যন্ত চাকে মধু বেশী পাওয়া যায়। এসময় প্রায় সকল গাছে ফুল ফোটে। আর বাকী মাস গুলোতে চাকে তেমন মধু পাওয়া যায় না।

 

আব্দুল বারিক পাইকগাছা এলাকার একজন সুপরিচিত পেশাদার মৌচাক সংগ্রহকারী। তিনি এলাকার বিভিন্ন বাড়ি বা গাছের প্রাকৃতিক চাক থেকে সরাসরি মধু সংগ্রহ করেন। তিনি কোনো ভেজাল বা কৃত্রিম উপাদান ছাড়াই ক্রেতাদের সামনে সরাসরি চাক থেকে মধু চিপে বা কেটে বিক্রি করেন, যার ফলে মধু শতভাগ খাঁটি থাকে।

Ads small one

প্রভাতের আলোয় একঝাঁক পায়রা এই স্লোগানে “আবাবিল” সংগঠনের আত্মপ্রকাশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ২:২১ অপরাহ্ণ
প্রভাতের আলোয় একঝাঁক পায়রা এই স্লোগানে “আবাবিল” সংগঠনের আত্মপ্রকাশ

নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রভাতের আলোয় একঝাঁক পায়রা” এই স্লোগানে “আবাবিল” নামক একটি অরাজনৈতিক এবং সেচ্ছাসেবী সংগঠনের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হয়েছে। গত ২৯ মে-২০২৬ শুক্রবার সমাজের গুণিজনকে সম্মাননা স্মারক প্রদানের মাধ্যমে “আবাবিল” এর কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়।

 

সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর আত্ম সামাজিক মান উন্নয়নে পাশে দাঁড়ানো, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, বৃক্ষরোপন কর্মসূচি এবং গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা নিশ্চিতকরণ লক্ষ্যে সংগঠনটি যাত্রা শুরু করলো।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ ওসমান গনি বাবলার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব আবুল হাসান, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক আল ফিরদাউস আলফা, ৫নং দেবহাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল মতিন বকুল, ক্রীড়াবিদ শিক্ষক মোঃ আফসার আলী, দেবহাটা রিপোটার্স ক্লাবের সভাপতি আর কে বাপ্পা, সাংবাদিক মোঃ ফারুক হোসেন, শিক্ষাবিদ প্রফেসর মোঃ রবিউল ইসলাম ও মোঃ আবুল হাসান, জনপ্রতিনিধি কামাল হোসেন, মোঃ শরিফুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রভাষক আলমগীর হোসেনের সঞ্চালনায় “আবাবিল” পরিবারের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আশরাফুল আলম সুমনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আরও উপস্থিত ছিলেন মোঃ শরিফুল ইসলাম, মোঃ কবির হোসেন, মোঃ খায়রুল ইসলাম,মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ আবুল হোসেন প্রমুখ।

 

এসময় হাফেজে, বীর মুক্তিযোদ্ধা, হাজী, কবি ও সাহিত্যিক, ক্রিয়াবিদ, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক আলোকিত পিতামাতা, কৃত শিক্ষার্থী, ও গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।

‘ঢাকা ১২০৫’ চলচ্চিত্রে গাইলেন কনক দত্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ২:০২ অপরাহ্ণ
‘ঢাকা ১২০৫’ চলচ্চিত্রে গাইলেন কনক দত্ত

প্রথমবারের মতো চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করলেন কনক দত্ত। ওয়ালিদ আহমেদ পরিচালিত ‘ঢাকা ১২০৫’ চলচ্চিত্রের গানে তার এই অভিষেক হয়। ওয়ালিদ আহমেদের লেখা ও সুরে এবং রুবেল ফ্লাইং কাইটস এর সংগীত পরিচালনায় “হৃদয়ের জমিনে” শিরোনামের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে সঙ্গীতশিল্পী কনক দত্ত বলেন, সংগীত আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অনেক বছর ধরে গান করছি, তবে চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করার সুযোগ এবারই প্রথম পেলাম। প্রতিটি শিল্পীর স্বপ্ন থাকে প্লেব্যাক করার। ‘ঢাকা ১২০৫’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেই স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে। নির্মাতা আমার কন্ঠে আস্থা রেখেছেন তাই আমি কৃতজ্ঞ।

সংগীত পরিচালক রুবেল ফ্লাইংকাইটস বলেন, “হৃদয়ের জমিনে” গানটি একদম মনে দাগ কাটার মতে। গানটি শোনার সময় শ্রোতারা শুধু মিউজিক না পাশাপাশি এমন অনুভব করবেন যেন পুরো গানটা তারা শুনেই ভিজ্যুয়ালাইজ করতে পারছেন। কন্ঠশিল্পী কনক দত্ত একজন বিনয়ী গুণীশিল্পী। তার ব্যতিক্রম কন্ঠ ও চ্যালেঞ্জ নেবার দক্ষতা আমায় মুগ্ধ করেছে।

‘ঢাকা ১২০৫’ চলচ্চিত্রের পরিচালক ওয়ালিদ আহমেদ বলেন, “হৃদয়ের জমিনে” গানটির জন্য আমরা এমন একজন শিল্পী খুঁজছিলাম, যিনি সুরের পাশাপাশি গানের আবেগটিও সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারবেন। কনক দত্ত সেই কাজটি সফলভাবে করেছেন। ‘ঢাকা ১২০৫’ চলচ্চিত্রের এই গানের আবহের সঙ্গে তাঁর কণ্ঠ খুব সুন্দরভাবে মিশে গেছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই গানটি দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেবে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, লোকসংগীত, ধ্রুপদী ও আধুনিক গানের চর্চার মাধ্যমে কনক দত্ত সংগীতপ্রেমীদের কাছে একজন পরিচিত মুখ। এরই ধারাবাহিকতায় চলচ্চিত্রে প্লেব্যাকের মাধ্যমে কনক দত্তের এই যাত্রা তাঁর ক্যারিয়ারে একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত করলেন। অডিও গান ও মঞ্চ পরিবেশনার বাইরে এবার বড় পর্দার দর্শকদের কাছেও তাঁর কণ্ঠ পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হলো।

প্রসঙ্গত, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সাদামাটা এন্টারটেইনমেন্টের ব্যানারে নির্মিতব্য ‘ঢাকা ১২০৫’ চলচ্চিত্রের মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা ও অভিনেতা রাকিব হোসাইন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১:১৬ অপরাহ্ণ
পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (১ জুন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তিনি তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। প্রধানমন্ত্রী তার পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন আজ গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাওয়ার পেছনে মূলত শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, অসুস্থতাজনিত কারণে মন্ত্রণালয়ের রুটিন ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

উল্লেখ্য, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং দেশের সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েন। নির্বাচন-পরবর্তী গত ১৭ ফেব্রুয়ারি গঠিত নতুন সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের সাড়ে তিন মাসের মাথায় শারীরিক অসুস্থতার কারণে আজ পদত্যাগ করলেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ।