বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

ফোন চার্জে দিলেই গরম হয়ে যাচ্ছে কেন, সমাধানের উপায় জেনে নিন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৯:২১ পূর্বাহ্ণ
ফোন চার্জে দিলেই গরম হয়ে যাচ্ছে কেন, সমাধানের উপায় জেনে নিন

ফোন চার্জে বসিয়ে কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে যদি দেখেন ডিভাইসটা একেবারে গরম অনেকটা রোদে রেখে দেওয়া লোহার মতো তাহলে চিন্তার কিছুটা কারণ আছে, আবার সবসময় ভয় পাওয়ারও দরকার নেই। ফোন চার্জিংয়ের সময় গরম হওয়া অনেকেরই সাধারণ অভিজ্ঞতা। তবে কখন এটা স্বাভাবিক, আর কখন সতর্ক হওয়া দরকার সেটাই জানা জরুরি।

ফোন চার্জ দিলে গরম হয় কেন

ফোন গরম হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে। বেশিরভাগ সময় একাধিক বিষয় একসঙ্গে মিলে এই সমস্যা তৈরি করে।

দ্রুত চার্জিং খুব সুবিধাজনক হলেও এতে বেশি শক্তি খুব অল্প সময়ে ব্যাটারিতে ঢোকে। এই অতিরিক্ত এনার্জি ব্যবহারের সময় তাপ তৈরি হয়। যত দ্রুত চার্জ, তত বেশি হিট।

ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপের চাপ

আপনি ফোন ব্যবহার না করলেও অনেক অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করে আপডেট, সিঙ্ক, ডাউনলোড ইত্যাদি। চার্জিংয়ের সময় এগুলো প্রসেসরকে ব্যস্ত রাখে, ফলে তাপ বাড়ে।

চার্জার ঠিক না হলে সমস্যা

সব চার্জার একরকম নয়। কম দামের বা নকল চার্জার অনেক সময় সঠিক ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এতে ফোনের চার্জিং সিস্টেম বেশি চাপ নেয় এবং গরম হয়ে যায়।

বিদ্যুৎ উৎসও গুরুত্বপূর্ণ

খারাপ এক্সটেনশন বোর্ড বা অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ প্রবাহ থাকলে ফোনের চার্জিং সার্কিটকে বারবার ভোল্টেজ ঠিক করতে হয়। এতে অতিরিক্ত তাপ তৈরি হয়।

টেকনিক্যাল বিষয়

লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিতে চার্জ দেয়ার সময় স্বাভাবিকভাবেই কিছু তাপ তৈরি হয়। দ্রুত চার্জিং, সিপিইউ ব্যবহারের চাপ এবং ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস একসাথে কাজ করলে ফোনের ভিতরের তাপ দ্রুত বেড়ে যায়। ফোনের পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম তখন সেই চাপ সামলাতে গিয়ে আরও বেশি গরম হয়।

 

 

এটা কি বিপজ্জনক

চার্জ দিলেই ফোন গরম হয়ে যাওয়া মোটেও স্বাভাবিক বিষয় নয়। বিভিন্ন সময় এটা বিপদের কারণ হতে পারে। এছাড়াও এটা ফোনের বিভিন্ন ক্ষতি করতে পারে যেমন:

ব্যাটারির ক্ষতি: বারবার অতিরিক্ত গরম হলে ব্যাটারির ক্ষমতা কমে যায়। ফলে চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে।
পারফরম্যান্স কমে যাওয়া: ফোন বেশি গরম হলে সেটি নিজেকে রক্ষা করতে গতি কমিয়ে দেয়। তাই ল্যাগ বা ধীর কাজ করা শুরু করে।
নিরাপত্তা ঝুঁকি: চরম পরিস্থিতিতে ব্যাটারি ফুলে যাওয়া, লিক করা বা আগুন ধরার ঘটনাও ঘটতে পারে। এটা খুব কম হলেও সতর্ক থাকা জরুরি।
যেভাবে ফোন ঠান্ডা রাখবেন

১. ভালো মানের চার্জার ব্যবহার করুন

অরিজিনাল বা বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডের চার্জার ব্যবহার করুন। ভুল ওয়াটেজও সমস্যা করতে পারে।

২. কভার খুলে দিন

চার্জ দেয়ার সময় মোটা কভার থাকলে তা তাপ আটকে রাখে। সাময়িকভাবে খুলে রাখুন।

৩. চার্জিংয়ের সময় ব্যবহার বন্ধ করুন

ভিডিও দেখা, গেম খেলা বা স্ক্রলিং করলে ফোন আরও বেশি গরম হয়।

৪. অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ করুন

ওয়াইফাই। ব্লুটুথ, জিপিএস বা ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ বন্ধ রাখলে চাপ কমে।

৫. ঠান্ডা জায়গায় রাখুন

বিছানা, বালিশ বা রোদে রেখে চার্জ দেবেন না। এটি তাপ আটকে দেয়।

৬. স্থিতিশীল পাওয়ার সোর্স ব্যবহার করুন

ভালো ওয়াল সকেট বা নির্ভরযোগ্য চার্জিং সোর্স ব্যবহার করলে ঝুঁকি কমে।

ফোন চার্জের সময় হালকা গরম হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু অতিরিক্ত গরম হলে সেটাকে অবহেলা করা ঠিক নয়। ছোট কিছু অভ্যাস বদলালেই ফোনকে দীর্ঘদিন ভালো রাখা সম্ভব।

সূত্র: ব্লুটি পাওয়ার

Ads small one

আওয়ামী লীগের জায়গা আছে, বিএনপি-জামায়াতের যাওয়ার জায়গা নেই: সংসদে ইজ্জত উল্লাহ এমপি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
আওয়ামী লীগের জায়গা আছে, বিএনপি-জামায়াতের যাওয়ার জায়গা নেই: সংসদে ইজ্জত উল্লাহ এমপি

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা-১ আসনের জামায়াতের ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেছেন, জনগণ গণঅভ্যুত্থান করে আওয়ামী লীগকে দেশছাড়া করেছে। বিএনপি জামায়াতকে ভাবতে হবে? আমরা যদি সুশাসন দিতে না পারি, আমরা চান্দাবাজি, ধান্দাবাজি, টেন্ডারবাজি করে যদি দেশ চালাতে চাই, আমাদেরও পরিণতি কী হবে, এটা ভেবে দেখা দরকার। তাদের তো যাওয়ার জায়গা আছে, বিএনপি-জামায়াতের যাওয়ার কিন্তু জায়গা নেই।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৪তম দিন বুধবার (২৪ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেন, অর্থমন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিয়েছেন। ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব পাব, এই টার্গেট ধরা হয়েছে। ঘাটতি বাজেট হল ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু আমরা এ কথা সবাই জানি, আমাদের রাজস্ব প্রাপ্তির যে টার্গেট ধরা হয়, সেটা আমরা অর্জন করতে পারি না। বিগত তিন বছর তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ। সেই হিসেবে ধরলে আমাদের কাছে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট বললে অত্ত্যুক্তি হবে না।
মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে আমরা ৩ লাখ কোটি টাকা নির্ধারণ করেছি। এই টাকা পেলে আমরা আগামী এক বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি সুন্দরভাবে করতে পারবো। এ জন্য ঘাটতি বাজেট করা হলো ৩ লাখ কোটি টাকার মতো। এখানে একটা বিষয় আমাদের জানা দরকার বোঝা দরকার যে, খরচের খাতে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সুদ দিতে হবে। কিন্তু ২০০৯ সালে যখন আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতা গ্রহণ করে তখন কিন্তু আভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক ঋণ ছিল মাত্র ২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৩০ কোটি কোটি টাকা। এখন সেই ঋণ বেড়ে ২০২৬ সালে এসে ৩০ ট্রিলিয়ন অর্থাৎ ৩০ লাখ কোটি টাকায় পরিণত হয়েছে। আর এই ৩০ লাখ কোটি টাকার সুদ আমাদের এ বছর দিতে হবে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। এখন ৩ লাখ কোটি টাকা এ বছর আবার ঋণ আমরা নিতে চাচ্ছি। এভাবে যদি আরও কয়েক বছর যায়, তাহলে এক পর্যায়ে এসে সুদ দিতেই তো আমাদের হিমশিম খেতে হবে। আমরা দেশ চালাবো কীভাবে? ঋণের টাকাটা পাবো কোথায়? সে সল্যুশনটা দেওয়া হয়েছে যে, আমরা ১ লাখ ১২০ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নেব।
মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেন, ২০২৬ সালের মার্চ মাস শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকে কিন্তু খেলাপি ঋণ ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। তো ব্যাংক আমাদের কীভাবে ঋণ দেবে? তখন দেখা যাবে যে, ব্যাংক যদি ঋণ না দিতে পারে তাহলে কিন্তু আমাদের টাকা ছাপানো ছাড়া আর পথ থাকবে না।
মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেন, আমার আগে একটু আগেই ব্যারিস্টার নাজিম মোমেন সাহেব তিনি কিন্তু আজকের পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে বললেন যে, সরকার টাকা ছাপাচ্ছে। আমিও দুই তিন মাস আগেই এটা দেখছিলাম পত্রিকায়। নিজেই দেখছিলাম যে, সরকার টাকা ব্যাংক থেকে টাকা সরকার টাকা ছেপে এটা ব্যাংকে দিচ্ছে। এই যদি হয় অবস্থা, তাহলে তো মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যাবে। তাহলে দেশটা কীভাবে চলবে? ঋণ করে ঘি ভাত খাওয়ার মতন আমাদের অবস্থা। আমরা ঋণ করে তিন লাখ কোটি টাকা উন্নয়ন বাজেট করছি। তো আমাদের কী অবস্থা সৃষ্টি হবে একটা সময় গিয়ে? আওয়ামী লীগ তো ১৫ বছরের মাথায় এসে তারা ৩০ লাখ কোটিতে নিয়ে গেল। আমাদের তো ১৫ বছরের মাথায় গিয়ে ৬০ লাখ কোটি টাকা হয়ে যাবে। তখনআমাদের অবস্থাটা কী সৃষ্টি হবে, কীভাবে আমাদের দেশটা চলবে?
মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের জনগণ কিন্তু কারো ‘খাড়া’র মাছ না। এই জনগণ তারা গণঅভ্যুত্থান করে আওয়ামী লীগকে দেশ ছাড়া করেছে। বিএনপি জামাতকে ভাবতে হবে? আমরা যদি সুশাসন দিতে না পারি, আমরা চান্দাবাজি, ধান্দাবাজি, টেন্ডবাজি করে যদি দেশ চালাতে চাই, আমাদেরও পরিণতি কী হবে, এটা ভেবে দেখা দরকার। তাদের তো যাওয়ার জায়গা আছে, বিএনপি জামাতের যাওয়ার কিন্তু জায়গা নেই। এইজন্য আমি মনে করি যে, আমরা গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সরকারি দল, বিরোধী দল মিলেই একটা সরকার।
মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেন, আমাদের সরকারি বন্ধুরা অসহিষ্ণু হন, প্রায় প্রায় বলেন যে, বিরোধীদলীয় নেতারা এই কথা বলেন, ওই কথা বলেন। বাজেটের ওপরে আলোচনা চলছে, হবে, তারপর সবাই মিলে আমরা একটা বাজেট করব। সেই বাজেটটা সবাই মিলে এটা বাস্তবায়ন করব, এটাই তো হতে হবে। আমরা যা পেশ করাবে, তাই তার শুধু গুণগান গাব? তাহলে তো হলো না।
বিরোধী দল রাজনীতি তো সরকারের একটা পার্ট উল্লেখ করে মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেন, এই সরকারকে সুন্দরভাবে চলতে হবে। দেশের মানুষের চাহিদা মেটাতে হবে, সুশাসন দিতে হবে, দেশের জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে সেই সংগ্রাম আমাদের রাখতে হবে। দেশের মানুষ যেন খেয়ে-পরে বাঁচতে পারে, সে ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে।

প্রসঙ্গ: উপকূলের পানির সংকটে করণীয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
প্রসঙ্গ: উপকূলের পানির সংকটে করণীয়

সম্পাদকীয়

জলবায়ু পরিবর্তনের নানাবিধ অভিঘাতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী জনপদগুলো আজ চরম বিপর্যয়ের মুখোমুখি। এর মধ্যে সবচেয়ে তীব্র ও মানবিক সংকটটি রূপ নিয়েছে নিরাপদ সুপেয় পানির অভাব হিসেবে। সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে সুপেয় পানির বর্তমান চিত্র ও এর ভয়াবহতা যেভাবে উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ভৌগোলিক কারণে এই অঞ্চলে মিষ্টি পানির উৎস এমনিতেই সীমিত, তার ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে লবণাক্ততার আগ্রাসন ভূগর্ভস্থ ও ভূউপরিস্থ পানির সমস্ত উৎসকে গ্রাস করছে।

উপকূলের এই অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে প্রকৃতির সঙ্গে। কিন্তু লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে নদী, খাল ও সাধারণ জলাশয়ের পানি পানের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। শুধু মানুষই নয়, গবাদিপশুও সুপেয় পানির অভাবে নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও ভঙ্গুর করে তুলছে। নিরাপদ পানির জন্য স্থানীয় সব শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে যে তীব্র হতাশা বিরাজ করছে, তা কেবল একটি অঞ্চলের সমস্যা নয়—এটি একটি জাতীয় সংকট। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে নারীদের খাবার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যা তাঁদের শারীরিক ও সামাজিক সুরক্ষাকেও ঝুঁকিতে ফেলছে।

এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য ঐতিহ্যগত বা ক্ষণস্থায়ী কোনো সমাধান আর যথেষ্ট নয়। প্রথমত, সরকারি ও প্রাকৃতিক বড় বড় জলাধারগুলোকে দখল ও দূষণমুক্ত করে পুনঃখনন করতে হবে, যাতে বর্ষা মৌসুমের মিষ্টি পানি দীর্ঘ মেয়াদে ধরে রাখা যায়। দ্বিতীয়ত, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের (রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং) পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রযুক্তিকে আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করতে হবে। তবে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন বিজ্ঞানসম্মত বহুমুখী ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং এই অঞ্চলের জন্য সুপেয় পানি সরবরাহের সবচেয়ে টেকসই পদ্ধতিটি খুঁজে বের করতে ব্যাপক গবেষণা চালানো।

শ্যামনগরের এই সংকট নিরসনে সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর (এনজিও) সমন্বিত উদ্যোগ এবং অর্থায়ন অত্যন্ত জরুরি। উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর এই মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে কালক্ষেপণের আর কোনো সুযোগ নেই। রাষ্ট্রীয় বিশেষ উন্নয়ন মহাপরিকল্পনার আওতায় এনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শ্যামনগরসহ পুরো উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির স্থায়ী ব্যবস্থা করা হবেÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

 

অবহেলার অন্ধকারে সাতক্ষীরার লোকজ অমৃত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
অবহেলার অন্ধকারে সাতক্ষীরার লোকজ অমৃত

আখলাকুর রহমান

বিকেলের ম্লান রোদটুকু যখন বাঁশবাগানের মাথার ওপর এসে থমকে দাঁড়ায়, তখন গ্রামীণ নিস্তব্ধতার বুক চিরে এক তীব্র উদাসীনতার সুর কানে বাজে। রূপসী বাংলার এই নিভৃত কোণে, যেখানে সুন্দরবনের নোনা বাতাস আর পলিমাটির সুবাস মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে, সেই সাতক্ষীরার মেঠোপথের ধারে কতশত অবহেলিত ইতিহাস লুকিয়ে আছে, তার খবর শহরতলির মানুষ কোনোদিন জানতেও পারে না। একসময় আমাদের শৈশবের দিনগুলো জড়িয়ে থাকত গ্রামের ঝোপঝাড়ে, সাপের উপদ্রব উপেক্ষা করে নিবিড় কোনো বাঁশবনের কোণে। সেখানে অযতেœ, অবহেলায় কত বিচিত্র ফলের মেলা বসত। টক-মিষ্টি স্বাদের টুকটুকে লাল বৈঁচি ফল, হলদেটে ডেউয়া, ডালপালার আড়ালে লুকিয়ে থাকা সুমিষ্ট কাউফল কিংবা উঠোনের কোণের সেই জীর্ণ আতা গাছটি—এরা তো কেবল ফল ছিল না, ছিল বাংলার শ্বাশত রূপের একেকটি চিরচেনা অবয়ব।

আজকের নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা ইট-পাথরের খাঁচায় বসে ল্যাপটপের পর্দায় কত কী দেখে, কিন্তু বৈঁচি ফলের সেই অম্ল-মধুর স্বাদ কিংবা কাউফলের গন্ধ তাদের চেনা জগতের অনেক বাইরে রয়ে গেল। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই দেশীয় ফলগুলো ছিল গ্রামীণ মানুষের পুষ্টির এক অফুরন্ত এবং সহজলভ্য উৎস। অথচ বড় বেদনার সাথে লক্ষ্য করতে হয়, প্রকৃতির এই অমূল্য দানগুলোকে পরম যতেœ বাঁচিয়ে রাখার, কিংবা এদের বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করার কোনো সুনির্দিষ্ট সরকারি বা বেসরকারি প্রয়াস আজ চোখে পড়ে না। যেন এক অলিখিত নিয়মে আমরা আমাদের শেকড়কে ভুলে যাওয়ার উৎসবে মেতে উঠেছি।

শুধু কি বুনো ফল? এই জনপদের মানুষের হাতের ছোঁয়ায় কত কী যে অমৃত হয়ে উঠত, তা ভাবলে অবাক হতে হয়। বর্ষার জলে ভেসে আসা সাতক্ষীরার খাল-বিলের আদি খৈলশা কিংবা পারশে মাছের সেই সোঁদা গন্ধযুক্ত শুঁটকি, সুন্দরবনের গহীন অরণ্য থেকে মৌয়ালদের বুকভাঙা পরিশ্রমে সংগৃহীত খাঁটি পদ্মমধু, কিংবা গোয়াল ঘরের গরুর দুধ জ্বাল দিয়ে পরম যতেœ তৈরি করা খাঁটি গাওয়া ঘি—এসবের স্বাদে ও গুণে যে অনাবিল তৃপ্তি ছিল, তা আজকের নামী-দামী সুপারশপের চকচকে মোড়কের খাবারে মেলা ভার। কিন্তু বড় দুঃখ হয় যখন দেখি, সঠিক বিপণন ও আধুনিক ব্র্যান্ডিংয়ের অভাবে এই অসাধারণ পণ্যগুলো দেশের মূল ধারার বাজারে নিজেদের যোগ্য আসনটি আজও ফিরে পেল না। প্রচারের আলো থেকে বহুদূরে, গ্রামীণ হাটের ধুলোবালি আর অবহেলার অন্ধকারে এরা যেন নিজেদের অস্তিত্বের শেষ স্পন্দনটুকু টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে।

ঐতিহ্য হারিয়ে গেলে একটা দেশের প্রাণস্পন্দনও স্তিমিত হয়ে আসে। আমাদের মাটির এই সোঁদা গন্ধ, আমাদের এই নিজস্ব ফল আর লোকজ সম্পদগুলোকে যদি আমরা হারিয়ে যেতে দিই, তবে ভবিষ্যৎ এক চরম রিক্ততার মুখোমুখি দাঁড়াবে। এখনো সময় আছে, গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবং আমাদের এই সুপ্ত গৌরবকে বাঁচিয়ে রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সাতক্ষীরার এই নিজস্ব সম্পদগুলোর গায়ে আধুনিকতার রঙ চড়িয়ে যদি দেশ ও বিদেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, তবেই হয়তো প্রকৃতির এই পরম উপহারের সঠিক মূল্যায়ন হবে। মেঠোপথের ধারের ওই নামহীন কাউফল গাছটি কিংবা অবহেলিত শুঁটকির ডালি যেন ফিসফিসিয়ে আমাদের বিবেককে ডেকে বলছে, তোমরা আধুনিক হও, কিন্তু নিজেদের হারিয়ে ফেলে নয়।