বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দেবহাটায় তীব্র তাপদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন, নামেনি বৃষ্টি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় তীব্র তাপদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন, নামেনি বৃষ্টি

দেবহাটা প্রতিনিধি: দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় উপকূলীয় উপজেলা দেবহাটায় তীব্র তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রখর রোদ আর গরমের কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষেরা। সখিপুর কামটা এলাকার রাজমিস্ত্রি ও কৃষি শ্রমিকেরা জানান, প্রচ- গরমে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একটু বৃষ্টির জন্য তাঁরা অপেক্ষা করছেন। তীব্র রোদের কারণে রাস্তাঘাটে লোকজনের চলাচলও বেশ কমে গেছে।

স্থানীয় চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত গরমের কারণে হিটস্ট্রোক, ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতাসহ গরমজনিত নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

এদিকে দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। ফলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নলকূপে পর্যাপ্ত পানি না ওঠায় সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁরা বলেন, রোদে কম বের হওয়া, প্রচুর নিরাপদ পানি পান করা এবং শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বাড়তি নজর রাখা জরুরি।

Ads small one

সাতক্ষীরায় চালু হলো ১০০ শয্যার ‘ব্লিস হাসপাতাল’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় চালু হলো ১০০ শয্যার ‘ব্লিস হাসপাতাল’

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা ও আশপাশের অঞ্চলের মানুষের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে শহরে যাত্রা শুরু করেছে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ‘ব্লিস হাসপাতাল’। শহরের পলাশপোলের চৌরঙ্গী মোড়ে মনোরম পরিবেশে হাসপাতালটির কার্যক্রম চালু হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখানে ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবাসহ দেশের খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়মিত পরামর্শের ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় রোগীদের আর ঢাকা বা দূর-দূরান্তে ছুটতে হবে না।

রোগীদের নিবিড় পরিচর্যার জন্য হাসপাতালটিতে আধুনিক আইসিইউ, সিসিইউ ও এনআইসিইউ সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া গাইনি ও চোখের জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য তিনটি সর্বাধুনিক অপারেশন থিয়েটার, কিডনি ডায়ালাইসিস, ফিজিওথেরাপি এবং সার্বক্ষণিক প্রসূতি ও নবজাতক সেবা বিভাগ চালু করা হয়েছে।

সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য হাসপাতালটিতে বিশ্বমানের ডায়াগনস্টিক ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। যেখানে ১.৫ টেসলা এমআরআই, ৩২-স্লাইস সিটি স্ক্যান, ৪ডি আল্ট্রাসনোগ্রাম, ডিজিটাল এক্স-রে ও পিসিআরসহ সব ধরনের আধুনিক পরীক্ষার সুবিধা রয়েছে। অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্টদের মাধ্যমে এই রেডিওলজি ও প্যাথলজি সেবা সার্বক্ষণিক পরিচালনা করা হচ্ছে।

 

শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ও নন-এসি কেবিন, সার্বক্ষণিক লিফট, জেনারেটর এবং দূরপাল্লার রোগীদের জন্য ২৪ ঘণ্টা উন্নত অ্যাম্বুলেন্স সেবার পাশাপাশি হৃদরোগ, নিউরো, মেডিসিন, চর্ম, শিশু, ইউরোলজি ও অর্থোপেডিকসহ প্রায় সব বিভাগের অভিজ্ঞ চিকিৎসকেরা নিয়মিত রোগী দেখছেন।

 

 

 

 

 

সাতক্ষীরায় জমি বিরোধের জেরে গৃহবধূকে পিটিয়ে জখম, থানায় মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জমি বিরোধের জেরে গৃহবধূকে পিটিয়ে জখম, থানায় মামলা

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আগরদাঁড়ি গ্রামে জমি-জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রুমা পারভিন (৩২) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। আহত গৃহবধূ বর্তমানে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নারী সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি আগরদাঁড়ি গ্রামের আব্দুর জলিলের স্ত্রী।

আহত গৃহবধূর পরিবার জানায়, গ্রামের আব্দুল গফুর নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের ওয়ারেশসূত্র পাওয়া জমির একাংশ অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। গত ১ জুন ওই জমিতে প্রাচীর নির্মাণের জন্য ইট আনা হলে পরদিন ২ জুন বিকেলে প্রতিপক্ষ আব্দুল গফুরের নেতৃত্বে লুৎফর রহমান, আমেনা খাতুন ও মমেনাসহ ৫-৬ জন তাঁদের বাড়িতে এসে অতর্কিত হামলা চালায়।

 

এ সময় রুমা পারভিনকে লাঠিসোঁটা ও ইট দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন ও তাঁর স্বামী তাঁকে উদ্ধার করে রাতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় আহত গৃহবধূর স্বামী আব্দুর জলিল বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি মামলা করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবারটি বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করে ঘটনার সঠিক তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।

 

 

 

 

 

 

সম্পাদকীয়/ বাঁশদাহার কয়ারবিল ব্রিজ কি সংস্কার হবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ বাঁশদাহার কয়ারবিল ব্রিজ কি সংস্কার হবে

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁশদাহা ইউনিয়নের কয়ারবিল এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটির বর্তমান বেহাল দশা কেবল স্থানীয় সড়ক যোগাযোগের অব্যবস্থাপনাই ফুটিয়ে তোলে না, বরং তা জননিরাপত্তার জন্য এক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর অনুযায়ী, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্রিজটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অথচ অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া চরম উদ্বেগজনক।

কয়ারবিলের এই সড়কটি মূলত কলারোয়া উপজেলার সঙ্গে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে শত শত মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, ভ্যান ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। বর্তমানে ব্রিজের ভেঙে যাওয়া অংশে বাঁশ, কাঠ, ইটের রাবিশ আর মাটির বস্তা দিয়ে কোনো রকমে জোড়াতালি দিয়ে যাতায়াত সচল রাখা হয়েছে। একটি ব্যস্ততম গ্রামীণ সড়কের প্রধান ব্রিজে এমন ঝুঁকিপূর্ণ ও আদিম উপায়ে চলাচল সচল রাখা যেমন বিপজ্জনক, তেমনি তা স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতারও বহিঃপ্রকাশ। এই নড়বড়ে সেতুটি যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানি কিংবা মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে।

এই অচলাবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ। কয়ারবিল অঞ্চল থেকে ধান, সবজি ও মাছের মতো পচনশীল পণ্য জেলা শহরের বাজারে নেওয়ার একমাত্র পথ এটি। ব্রিজের এই জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে কৃষকদের বাধ্য হয়ে দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা তাঁদের পরিবহন খরচ ও সময় দুই-ই বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ ছাড়া স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও জরুরি চিকিৎসাপ্রার্থী রোগীদের দুর্ভোগের তো কোনো সীমাই নেই।

সামনে বর্ষা মৌসুম। ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হলে পানির তোড়ে এবং অতিরিক্ত চাপে জরাজীর্ণ এই ব্রিজের বাকি অংশটুকুও ধসে পড়ার আশঙ্কা শতভাগ। তেমনটি ঘটলে আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেবে।

আমরা মনে করি, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সচলতা বজায় রাখা যেকোনো স্থানীয় সরকারের প্রথম কাজ। কয়ারবিল ব্রিজের ক্ষেত্রে এই দীর্ঘসূত্রতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটার পর টনক নড়ার সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। বর্ষা পুরোদমে শুরু হওয়ার আগেই অতি দ্রুত এই স্থানে একটি নতুন ও স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জরুরি ও সর্বোচ্চ হস্তক্ষেপ কামনা করছি।