শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

নববর্ষের পুনর্জাগরণে সংস্কৃতি ও পর্যটনের নতুন দিগন্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ
নববর্ষের পুনর্জাগরণে সংস্কৃতি ও পর্যটনের নতুন দিগন্ত

মো. মামুন হাসান
বাংলা নববর্ষ শুধু একটি তারিখের পরিবর্তন নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয়ের গভীরতম অনুষঙ্গ, একটি সাংস্কৃতিক পুনর্জন্মের প্রতীক, যেখানে সময় নতুন করে শ্বাস নেয়, আর মানুষ ফিরে যায় তার শিকড়ে। অথচ প্রশ্ন রয়ে যায়, আমরা কি এই ঐতিহ্যকে কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখছি, নাকি এটিকে অর্থনীতি ও পর্যটনের শক্তিশালী উপাদানে রূপ দিতে পারছি।
একসময় পহেলা বৈশাখ মানেই ছিল গ্রামীণ মেলা, হালখাতা, পালাগান, বাউল সুর আর লোকজ উৎসবের সহজ সরল আবহ। নদীর ঘাটে নৌকাবাইচ, গ্রামের মাঠে লাঠিখেলা, কিংবা মাটির খেলনার দোকান, সবকিছু মিলিয়ে নববর্ষ ছিল মানুষের সঙ্গে মাটির সম্পর্কের এক জীবন্ত উদযাপন। কিন্তু নগরায়ন আর ডিজিটাল জীবনের চাপে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। এখনকার উদযাপন অনেক বেশি নগরকেন্দ্রিক, সীমাবদ্ধ এবং আড়ম্বরপূর্ণ।
এই পরিবর্তনের ভেতরেই লুকিয়ে আছে সম্ভাবনার নতুন দরজা। পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলা নববর্ষকে একটি জাতীয় পর্যটন উৎসবে রূপ দেওয়া গেলে এটি হতে পারে অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। বিশেষ করে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে পারে নববর্ষভিত্তিক ইকো কালচারাল ট্যুরিজম। সুন্দরবনের নৈসর্গিক সৌন্দর্য, উপকূলীয় জীবনের বাস্তবতা এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্য মিলিয়ে পর্যটকদের জন্য তৈরি হতে পারে এক ভিন্নতর অভিজ্ঞতা।
সংস্কৃতির পূর্ণজাগরণের জন্য পর্যটন শিল্পকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করা জরুরি। প্রথমত, স্থানীয় লোকসংস্কৃতিকে পর্যটন পণ্যে রূপ দিতে হবে। বাউল গান, পালাগান, পিঠা উৎসব, হস্তশিল্প মেলা এগুলোকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা যেতে পারে আঞ্চলিক উৎসব, যেখানে পর্যটকরা শুধু দর্শক নয়, অংশগ্রহণকারী হবে। দ্বিতীয়ত, গ্রামীণ হোমস্টে চালু করে পর্যটকদের স্থানীয় জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা যেতে পারে, যা সংস্কৃতির জীবন্ত অভিজ্ঞতা তৈরি করবে। তৃতীয়ত, নববর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক রুট বা কালচারাল সার্কিট তৈরি করা যেতে পারে, যেখানে পর্যটকরা নির্দিষ্ট অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জীবনধারা পর্যায়ক্রমে উপভোগ করতে পারবে।
এছাড়া তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক আয়োজন, স্থানীয় ইতিহাসচর্চা, এবং ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে নববর্ষকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা যেতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিত প্রচারণা চালিয়ে বাংলা নববর্ষকে একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
বিশ্বের অন্যান্য দেশ তাদের সংস্কৃতিকে উৎসবে রূপ দিয়ে পর্যটন শিল্পে বিপ্লব ঘটিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশও নববর্ষকে একটি গ্লোবাল কালচারাল ফেস্টিভ্যাল হিসেবে তুলে ধরতে পারে। এজন্য প্রয়োজন সরকারি বেসরকারি সমন্বয়, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সৃজনশীল পরিকল্পনা।
বাংলা নববর্ষ আমাদের শেকড়ের গল্প বলে, আর পর্যটন সেই গল্পকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিতে পারে। এই দুইয়ের সমন্বয়ই হতে পারে বাংলাদেশের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত, যেখানে সংস্কৃতি শুধু অতীতের স্মৃতি নয়, বরং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক শক্তি।
সময় এসেছে নববর্ষকে শুধু উদযাপন নয়, বরং বিনির্মাণের হাতিয়ার হিসেবে দেখার। কারণ প্রতিটি নতুন বছরই শুধু ক্যালেন্ডার বদলায় না, বদলে দিতে পারে একটি দেশের সম্ভাবনার মানচিত্র। লেখক: বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ,সাতক্ষীরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট

 

Ads small one

কেশবপুর প্রেস ক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন: জয়দেব সভাপতি, কুদ্দুস সম্পাদক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ
কেশবপুর প্রেস ক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন: জয়দেব সভাপতি, কুদ্দুস সম্পাদক

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কেশবপুর প্রেস ক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে সভাপতি পদে জয়দেব চক্রবর্তী (লোকসমাজ) এবং সাধারণ সম্পাদক পদে রুহুল কুদ্দুস (ইনকিলাব) নির্বাচিত হয়েছেন।
এ ছাড়া সহসভাপতি পদে আব্দুল হাই সিদ্দিকী (নয়া দিগন্ত ও পূর্বাঞ্চল) ও মোতাহার হোসাইন (সমকাল ও গ্রামের কাগজ), যুগ্ম সম্পাদক পদে মশিয়ার রহমান (আলোকিত বাংলাদেশ) ও মেহেদী হাসান জাহিদ (সময়ের খবর), কোষাধ্যক্ষ পদে সিদ্দিকুর রহমান (খোলা কাগজ), দপ্তর সম্পাদক পদে আলমগীর হোসেন (দৈনিক খুলনাঞ্চল), ক্রীড়া ও সাহিত্য সম্পাদক পদে মাসুম বিল্লাহ (প্রতিদিনের কথা), এবং গ্রন্থাগার সম্পাদক পদে মতিয়ার রহমান (অনির্বাণ) নির্বাচিত হয়েছেন। কার্যনির্বাহী পাঁচ সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন আজিজুর রহমান (যুগান্তর), নুরুল ইসলাম খান (কালের কণ্ঠ), আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ (দৈনিক কল্যাণ), উৎপল দে (কালবেলা) ও শেখ শাহীনুর ইসলাম (করতোয়া)।
নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রেস ক্লাবের সদস্য ও ভোটারদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সাংবাদিকতার মান উন্নয়নে তাঁদের ভূমিকা অব্যাহত থাকবে। সংবাদ পরিবেশনে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে লেখনী ধারণ এবং সমাজের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরার মাধ্যমে তাঁরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করবেন। প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আশরাফুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ নবনির্বাচিত কমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আগামী দিনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

শ্যামনগরে গ্রামীণ নারী কৃষি মেলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে গ্রামীণ নারী কৃষি মেলা

‘জলবায়ু অভিঘাত পেরিয়ে গ্রামীণ নারী ক্ষমতায়ন ও সমৃদ্ধির পথে’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বুড়িগোয়ালিনী ও গাবুরা ইউনিয়নের নারী দলের সদস্যদের আয়োজনে শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনীর দাতিনাখালি বালুর মাঠে গ্রামীণ নারী কৃষি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। লিডার্স, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও অ্যাম্বাসি অব সুইডেনের সহযোগিতায় কমিউনিটি ভিত্তিক জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন কর্মসূচি–সিআরইএ প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উপলক্ষে এ মেলার আয়োজন করা হয়। ৯ নম্বর বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জিএম আব্দুর রউফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার ওয়ালিউল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন, উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সম্পাদক ও সাংবাদিক হুদা মালী, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের সমাজসেবক জি এম রুস্তম আলী, ফেইথ ইন অ্যাকশনের জেন্ডার অফিসার নয়মী বিশ্বাস, পিসিআরসিবি প্রকল্প সিসিডিবির সহসভাপতি মিনতি রানী মল্লিক, মেঘনা নারী দলের সভাপতি নার্গিস সুলতানা, দোলন চাঁপা নারী দলের সহসভাপতি জেবুন্নেছা খাতুন এবং লিডার্সের সিআরইএ প্রকল্প সমন্বয়কারী সুব্রত অধিকারীসহ প্রকল্পের অন্যান্য কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রকল্প কর্মকর্তা সুলতা রানী সাহা। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

আলো ঝলমলে রাতের গুড়পুকুর মেলা, বাড়ছে দর্শনার্থীদের আনাগোনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ
আলো ঝলমলে রাতের গুড়পুকুর মেলা, বাড়ছে দর্শনার্থীদের আনাগোনা

0-0x0-0-0#

মিলন বিশ্বাস: সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলায় দুপুরের পর থেকেই বাড়তে শুরু করে দর্শনার্থীদের ভিড়। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই আলো ঝলমলে মেলা প্রাঙ্গণ পরিণত হয় মানুষের মিলনমেলায়। কেনাকাটা, ঘোরাঘুরি ও বিনোদনের আনন্দে মেতে ওঠেন নানা বয়সী মানুষ। মেলা শেষের দিকে চলে আসায় ব্যবসায়ীদের বেচাকেনাও জমে উঠেছে। অন্যদিকে, মেলার সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন করেছেন পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মেলার ১৫তম দিনে সাতক্ষীরা শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে এমন উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়। গত ১ অক্টোবর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ঐতিহ্যবাহী এ মেলা ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও দর্শনার্থীরা আসছেন। মেলায় রয়েছে প্রসাধনী, পোশাক, শিশুদের খেলনা, গৃহস্থালির সামগ্রী ও খাবারের নানা দোকান। রঙিন আলোকসজ্জা আর মানুষের পদচারণায় সন্ধ্যার পর মেলা প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত।

মেলার শেষ পর্যায়ে এসে বেচাকেনা ভালো হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, মেলার বাকি দিনগুলোতে ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি আরও বাড়বে এবং বিক্রিও ভালো হবে।

ঢাকা থেকে আসা কসমেটিকস ব্যবসায়ী মাসুদ বলেন, “মেলার শেষ দিকে এসে বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। দুপুরের পর থেকেই ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। এভাবে ক্রেতা আসতে থাকলে সামনের দিনগুলোতে বেচাকেনা আরও ভালো হবে বলে আশা করছি।”

বরিশাল থেকে শিশুদের খেলনা নিয়ে আসা ব্যবসায়ী আকবর বলেন, “মেলার শেষ সপ্তাহে এসে ক্রেতাদের আনাগোনা ভালো। শিশুদের খেলনার প্রতি ছোটদের আগ্রহ রয়েছে। এখন বেচাকেনা ভালো হওয়ায় আমরা আশাবাদী। মেলার শেষ দিনগুলোতে আরও ভালো বিক্রির প্রত্যাশা করছি।”
মাদারীপুর থেকে আসা ব্যবসায়ী নাজমুল হোসেন বলেন, “মেলা শেষের দিকে হওয়ায় এখন বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। বিভিন্ন বয়সী মানুষ মেলায় আসছেন, পছন্দের জিনিস কিনছেন। সামনে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি আরও বাড়লে আমাদের ব্যবসাও ভালো হবে বলে আশা করছি।”

এদিকে, বৃহস্পতিবার গুড়পুকুর মেলার সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন করেন পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম। মেলায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশের দায়িত্ব পালন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেলায় নিরাপত্তাব্যবস্থা সন্তোষজনক রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

শতাব্দীর ঐতিহ্য বহনকারী গুড়পুকুর মেলা সাতক্ষীরার মানুষের কাছে শুধু কেনাকাটার জায়গা নয়, বরং সামাজিক মিলন ও বিনোদনেরও অন্যতম উপলক্ষ। মেলা শেষের দিকে এসে দর্শনার্থীদের আনাগোনা এবং ব্যবসায়ীদের বেচাকেনায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসায় আয়োজক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।