লেখালেখি দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও খ্যাতি ছড়াচ্ছেন শাম্মী তুলতুল
পত্রদূত ডেস্ক: সমকালীন বাংলা সাহিত্যে বহুমাত্রিক পরিচয়ে পরিচিত মুখ কথাসাহিত্যিক ও শিশুসতিহ্যিক শাম্মী তুলতুল। চট্টগ্রাম থেকে উঠে আসা এই লেখকের সাহিত্যকর্ম এখন দুই বাংলার সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের পাঠকদের কাছেও সমাদৃত হচ্ছে।
শাম্মী তুলতুলের পারিবারিক ইতিহাস সাহিত্য ও সংস্কৃতির ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ। তাঁর দাদা আব্দুল কুদ্দুস মাস্টার ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেতা, লেখক এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বাল্যবন্ধু। তাঁর নানি কাজী লতিফা হক বেগমও ছিলেন সমাদৃত লেখক। পৈতৃক এই সাংস্কৃতিক আবহে বেড়ে ওঠার কারণে শৈশব থেকেই লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি।
দেশের প্রথম সারির বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় লেখার পাশাপাশি তাঁর রচনা এখন প্যারিস, কানাডা, নিউইর্য়ক, অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানির বাংলা ভাষার পত্রপত্রিকায় নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। সাহিত্যকর্মের পাশাপাশি তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক, রেডিওর অনুষ্ঠান পরিচালক, সংবাদ পাঠক, সাংবাদিক ও ভয়েস প্রেজেন্টার হিসেবে কাজ করছেন।
বাংলাদেশ ও ভারত মিলিয়ে এ পর্যন্ত শাম্মী তুলতুলের প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১৭টি। ২০২২ সালের কলকাতা বইমেলায় তাঁর গল্পগ্রন্থ ‘নরকে আলিঙ্গন’ বেশ পাঠকপ্রিয়তা পায়। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘চোরাবালির বাসিন্দা’, ‘পদ্মবু’, ‘মনজুয়াড়ি’, ‘একজন কুদ্দুস ও কবি নজরুল’ এবং শিশুতোষ গ্রন্থ ‘পিঁঁপড়ে ও হাতির যুদ্ধ’। তাঁর এই গল্পটি দীপ্ত টিভিতে নাট্যরূপে প্রচারিত হয়েছে।
সাহিত্য ও সমাজসেবায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি কবি রোকেয়া-সুফিয়া কামাল সম্মাননা, মাদার তেরেসা অ্যাওয়ার্ড, মহাত্মা গান্ধী পিস অ্যাওয়ার্ড, উইমেন পাওয়ার লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ এবং সম্প্রতি ‘রবীন্দ্র রতœ পুরস্কার-২০২৬’ লাভ করেছেন।
নিজের কাজ সম্পর্কে শাম্মী তুলতুল জানান, লেখালেখি তাঁর কাছে কেবল পেশা নয়, বরং একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা। সাহিত্যের মাধ্যমে মানুষের মনের অন্ধকার দূর করে ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই তাঁর মূল লক্ষ্য।









