সম্পাদকীয়/উপকূলের পুষ্টিহীনতা: এক অন্তহীন দুষ্টচক্র
সাতক্ষীরার উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের নি¤œবিত্ত মানুষের কাছে লাল মাংস (গরু বা খাসির মাংস) খাওয়া এখন দূরহ বিলাসিতা। নিত্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি আর একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিঃস্ব এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বড় অংশই বছরে কেবল কোরবানির ঈদে সামান্য মাংসের মুখ দেখে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নের প্রায় ৯১ শতাংশ পরিবার কাঁচা ঘর বা ঝুপড়িতে বাস করে। এই চরম অর্থনৈতিক সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে তাদের খাদ্যতালিকায়, যা উপকূলের মানুষের স্বাস্থ্যকে ভয়াবহ ঝুঁকিতে ফেলছে।
চিকিৎসকেরা বলছেন, শরীরে আয়রনের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উৎস হলো লাল মাংস। দীর্ঘদিন এটি না পাওয়ায় উপকূলের মানুষের মধ্যে, বিশেষ করে নারীদের মাঝে তীব্র রক্তস্বল্পতা ও অপুষ্টি দেখা দিচ্ছে। স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিকের তথ্যমতে, গাবুরার প্রায় ৫০ শতাংশ গর্ভবতী মা মাঝারি থেকে তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছেন। মা অপুষ্টিতে ভুগলে অনাগত শিশুও জন্মগতভাবে দুর্বল ও কম ওজন নিয়ে জন্মায়, যা দরিদ্র পরিবারগুলোর ওপর চিকিৎসার বাড়তি আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। বাল্যবিবাহ, কর্মসংস্থানের অভাব এবং লবণাক্ততার কারণে শাকসবজি না জন্মানো—সব মিলিয়ে উপকূলের মানুষ পুষ্টিহীনতার এক দুষ্টচক্রে আটকে গেছেন।
যদিও বিকল্প হিসেবে মাছ বা হাঁস-মুরগির কথা বলা হয়, কিন্তু তা দিয়ে শরীরের প্রয়োজনীয় আয়রনের ঘাটতি পুরোপুরি মেটানো সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে উপকূলের দুস্থ ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য সরকারিভাবে বিশেষ ‘পুষ্টি কার্ড’ বা খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি। একই সাথে এই অঞ্চলের মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পুষ্টি সচেতনতা বাড়াতে সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবেÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।








