শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

অন্যের প্রতি জুলুমকারীর পরিণতি ভয়াবহ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৩ অপরাহ্ণ
অন্যের প্রতি জুলুমকারীর পরিণতি ভয়াবহ

আজহারুল ইসলাম সাদী

আল্লাহতালার যত সৃষ্টি রয়েছে তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো মানুষ, যাদের জন্য আল্লাহ তাআলা সুনির্দিষ্ট নীতিমালা সম্বলিত গ্রন্থ ‘কুরআনুল কারিম’ নাজিল করেছেন। তাদের প্রতিটি কাজের জন্য জবাবদিহিতার বিষয়টিও সুনিশ্চিত করেছেন। পরকালীন জীবনে কোনো আদম সন্তানই জবাবদিহিতা ছাড়া এক কদমও নাড়াতে পারবে না বলে বিশ্বনবি (সা.) ঘোষণা করেছেন।
রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, তিন ব্যক্তির দোয়া আল্লাহর কাছ থেকে ফেরত আসে না।

১. ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া।
২. ন্যায়পরায়ণ শাসকের দোয়া ও.
৩.মজলুমের দোয়া।

আল্লাহ তাআলা তাদের দোয়া মেঘমালার ওপরে তুলে নেন এবং তার জন্য আসমানের দরজাগুলো খুলে দেন।

আমাদেরকে সার্বক্ষণিক স্মরণ রাখতে হবে যে, কোনো মানুষের সঙ্গে, কারণে হোক আর অকারণে, কোনোভাবেই অন্যায় আচরণ, জুলুম-অত্যাচার করা যাবে না। মানুষের প্রতি জুলুম-অত্যাচার সবচেয়ে মারাত্মক অপরাধ। এ কারণেই অত্যাচারের স্বীকার ব্যক্তির আবেদন-নিবেদন আল্লাহ তাআলার দরবারে সরাসরি পৌঁছে যায়। মহান আল্লাহ তাআলা মাজলুমের চাওয়া-পাওয়া খুবই দ্রুততার সঙ্গে কবুল করে থাকেন। সুতরাং প্রত্যেক মানুষের উচিত, দুনিয়ার কোনো সৃষ্টির প্রতিই জুলুম অত্যাচার না করা।

জুলুম কাকে বলে:
যার যা প্রাপ্য তাকে সেই প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার নাম জুলুম। সে হিসেবে কারো অধিকার হরণ, বিনা অপরাধে নির্যাতন, আর্থিক, দৈহিক ও মর্যাদার ক্ষতিসাধন, মানহানিকর অপবাদ দেওয়া, দুর্বলের ওপর নৃশংসতা চালানো, অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ হরণ, অশ্লীল ভাষায় গালাগাল, উৎপীড়ন বা যন্ত্রণা ইত্যাদি কাজ জুলুমের পর্যায়ভুক্ত।

জুলুমের ভয়াবহতা : শান্তি ও মানবতার ধর্ম ইসলামে সব ধরনের জুলুম বা অত্যাচার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ও হারাম। শুধু জুলুম নয়, জুলুমের সহযোগিতা করা এবং জালেমদের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও ঘনিষ্ঠতা রক্ষা করাও হারাম। আর এ বিধান শুধু মুসলমান নয়, কোনো অমুসলিমের ওপর জুলুম করলেও তার জন্য এ হুকুম।

ইসলাম মতে, মানুষের ওপর জুলুম এক ভয়াবহ গোনাহ। এ কারণে পরকালে দোজখে প্রবেশ করতে হবে।

জুলুম থেকে বাঁচার উপায় :
জুলুম থেকে বাঁচার উৎকৃষ্ট উপায় হচ্ছে লালসা, ক্ষমতার লোভ, হিংসা, ধর্মীয় বিদ্বেষ, ক্রোধ থেকে আত্মসংবরণ করা এবং জনসেবা, ধর্মীয় সেবা ও পরোপকারমূলক কাজে আত্মনিয়োগ করা আর হালাল ও বৈধ পন্থায় উপার্জিত অর্থে, হালাল টাকা-পয়সার মাধ্যমে পানাহারে, পোশাক-আশাকে সন্তুষ্ট থাকা।

সমাজের অনেকেই ধর্মপ্রাণ হিসেবে ধর্মকর্মে অগ্রগামী হলেও অন্যের ওপর জুলুম-অত্যাচারে পিছিয়ে নেই।

বিশেষ করে সমাজের সহজ-সরল ও নিম্ন শ্রেণির মানুষের ওপর।

অবাক করার বিষয় হলো, এই দুর্বল শ্রেণির লোকদের ওপর জুলুমবাজরা জুলুম করলে
সেই জুলুম কে অনেকেই অপরাধ মনে করেন না বা অন্যায়কে আমলে নেননা এক কথায় শক্তের ভক্ত প্রায় সকলেই।

উল্টো কোনো কোনো ক্ষেত্রে আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা যায় এবং শক্তিশালী জুলুমবাজের পক্ষ অবলম্বন করতে দেখা যায়।

জুলুমের শাস্তি : আমাদের মনে রাখা দরকার, জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতন, নিপীড়ন এমন এক অপরাধ যা সাধারণত আল্লাহ মাফ করেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত ওই মজলুম ব্যক্তি (যার প্রতি অত্যাচার করা হয়েছে) জালেমকে (অত্যাচারী ব্যক্তিকে) মাফ না করেন। সূরা আশ শোয়ারার শেষ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘জুলুমবাজরা তাদের জুলুমের পরিণতি অচিরেই জানতে পারবে, তাদের গন্তব্যস্থল কেমন?’

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহ তায়ালা জালেমকে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত অবকাশ দিয়ে থাকেন। অবশেষে যখন পাকড়াও করেন তখন তাকে আর রেহাই দেন না। অতঃপর তিনি এই আয়াত পাঠ করেন, তোমার প্রভুর পাকড়াও এ রকমই হয়ে থাকে, যখন তিনি জুলুমরত জনপদগুলোকে পাকড়াও করেন। তার পাকড়াও অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক, অপতিরোধ্য। (বোখারি ও মুসলিম)
জুলুম সম্পর্কে কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা জালেমদের প্রতি ঝুঁকে পড়বে না, জালেমদের সহযোগী হবে না, তাহলে আগুন (জাহান্নামের) তোমাদেরও স্পর্শ করবে।’ (সূরা হূদ : ১১৩)

আল্লাহ তাআলা সবাইকে ন্যায়পন্থার নির্দেশ দিয়েছেন। কল্যাণ ও ন্যায়পন্থা হলো মানবজীবনের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘আল্লাহ তাআলা তোমাদের ন্যায়পন্থা, অনুগ্রহ ও নিকটাত্মীয়দের হক প্রদানের নির্দেশ দেন এবং অশ্লীল ও নিষিদ্ধ কার্যাবলি থেকে নিষেধ করেন।’ (সুরা আন নাহল : ৯০)

পবিত্র কোরআনে কারিমে এ বিষয়ে ইরশাদ হয়েছে, ‘জালেমদের কর্মকান্ড সম্পর্কে আল্লাহকে কখনো উদাসীন মনে কর না। তবে তিনি তাদের শুধু একটি নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত অবকাশ দেন, যেদিন চক্ষুগুলো বিস্ফোরিত হবে, তারা মাথা ঊর্ধ্বমুখী করে উঠিপড়ি করে দৌড়াতে থাকবে, তাদের চোখ তাদের নিজেদের দিকে ফিরবে না এবং তাদের হৃদয়গুলো দিশেহারা হয়ে যাবে।

মানুষকে আজাব সমাগত হওয়ার দিন সম্পর্কে সাবধান করে দাও, যেদিন তাদের কাছে আজাব আসবে। সেদিন জুলুমবাজরা বলবে, হে আমাদের প্রভু! অল্প সময়ের জন্য আমাদের অবকাশ দিন, তাহলে আমরা আপনার ডাকে সাড়া দেব (অন্যের ওপর জুলুম করব না) এবং রাসূলদের অনুসরণ করব।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

 

Ads small one

প্রেমের আগে আত্মগঠন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৭ অপরাহ্ণ
প্রেমের আগে আত্মগঠন

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

প্রেম মানুষের জীবনের স্বাভাবিক ও সুন্দর একটি অনুভূতি। প্রেম মানুষকে কোমল করে, অন্যের প্রতি যতœশীল হতে শেখায়, জীবনে আনন্দ যোগ করে। কিন্তু প্রশ্ন হলোÑজীবনের কোন সময়ে, কোন মানসিক প্রস্তুতিতে এবং কী উদ্দেশ্যে আমরা প্রেমকে গ্রহণ করছি? কারণ প্রেম নিজে সমস্যা নয়; সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন প্রেম জীবনের লক্ষ্যকে সরিয়ে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে ওঠে। বিশেষ করে কৈশোর ও তারুণ্যের সময়ে এই প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। এই বয়সে আবেগ তীব্র, কল্পনা প্রবল, অথচ জীবনের বাস্তবতা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা সীমিত। ফলে সাময়িক আকর্ষণকে অনেক সময় স্থায়ী ভালোবাসা বলে মনে হয়। একজন মানুষকে ঘিরে তখন ভবিষ্যতের সব স্বপ্ন তৈরি হয়। পড়াশোনা, ক্যারিয়ার, পরিবার, আত্মনির্ভরতাÑসবকিছু যেন দ্বিতীয় হয়ে যায়। অথচ এই সময়টিই একজন মানুষের ভবিষ্যৎ ব্যক্তিত্বের ভিত গড়ে দেওয়ার সময়। তাই প্রশ্নটি হওয়া উচিতÑপ্রেম করব কি না, তা নয়; বরং প্রেমের আগে নিজেকে কতটা তৈরি করেছি? নিজেকে তৈরি করা বলতে শুধু ভালো ফলাফল বা অর্থ উপার্জনের যোগ্যতা বোঝায় না।

 

আত্মগঠন অনেক বিস্তৃত একটি বিষয়। নিজের চরিত্র, বিবেক, চিন্তাশক্তি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, দায়িত্ববোধ, আত্মসম্মান, ধৈর্য এবং অন্য মানুষের প্রতি সম্মানÑসবকিছুর সমন্বয়েই একজন পরিণত মানুষ তৈরি হয়। একজন তরুণ যদি নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না রাখে, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা না করে, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না শেখে, তাহলে শুধু প্রেমের সম্পর্ক তাকে পরিণত করে তুলবেÑএমন নিশ্চয়তা নেই। বরং অপরিপক্বতার কারণে সম্পর্কটি তার জন্য মানসিক চাপ ও হতাশার কারণ হয়ে উঠতে পারে। আমাদের সমাজে প্রেম নিয়ে দুটি বিপরীত প্রবণতা দেখা যায়। একদিকে কেউ কেউ প্রেমকে এমনভাবে উপস্থাপন করেন যেন প্রেম ছাড়া জীবন অসম্পূর্ণ। অন্যদিকে অনেকে প্রেমকে সম্পূর্ণ নেতিবাচক হিসেবে দেখেন। দুটো অবস্থানই একপেশে। সুস্থ প্রেম জীবনের সৌন্দর্য বাড়াতে পারে, কিন্তু অসুস্থ সম্পর্ক জীবনকে বিপর্যস্তও করতে পারে। সুতরাং প্রয়োজন নিষেধ নয়, প্রয়োজন সচেতনতা।

 

একটি সম্পর্ক তখনই সুন্দর হয়, যখন সেখানে দুজন মানুষের ব্যক্তিসত্তার বিকাশের সুযোগ থাকে। ভালোবাসা কাউকে তার পড়াশোনা থেকে দূরে সরিয়ে দেবে না, স্বপ্ন ত্যাগ করতে বাধ্য করবে না, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করবে না কিংবা আত্মসম্মান নষ্ট করবে না। বরং সত্যিকারের ভালোবাসা মানুষকে আরও দায়িত্বশীল, আরও মানবিক এবং আরও ভালো মানুষ হওয়ার অনুপ্রেরণা দেবে। কিন্তু বাস্তবে আমরা অনেক সময় এর বিপরীত চিত্র দেখি। প্রেমের নামে অতিরিক্ত নির্ভরতা, সারাক্ষণ যোগাযোগের চাপ, সন্দেহ, অধিকারবোধ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি, বিচ্ছেদের ভয়Ñএসব ধীরে ধীরে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও আত্মবিশ্বাসকে ক্ষয় করতে পারে। তখন সম্পর্ক ভালোবাসার জায়গা থেকে সরে গিয়ে মানসিক নির্ভরতার জায়গায় দাঁড়ায়। বিশেষ করে তরুণদের মনে রাখা দরকার, কাউকে ভালোবাসা আর নিজের অস্তিত্ব কাউকে দিয়ে দেওয়া এক বিষয় নয়। নিজের স্বপ্নের মালিক নিজেকেই থাকতে হবে। সম্পর্ক থাকবে, কিন্তু নিজের পরিচয়ও থাকবে। ভালোবাসা থাকবে, কিন্তু আত্মসম্মানও থাকবে। সঙ্গী থাকবে, কিন্তু নিজের লক্ষ্যও থাকবে। কারণ জীবন দীর্ঘ।

 

তারুণ্যের একটি সম্পর্কই জীবনের শেষ সত্য নয়। মানুষের জীবন বদলায়, মানুষ বদলায়, পরিস্থিতি বদলায়। যে সম্পর্ক আজ অবিচ্ছেদ্য মনে হচ্ছে, কয়েক বছর পর সেটিই হয়তো জীবনের একটি অধ্যায় হয়ে থাকবে। কিন্তু সেই সময়ের মধ্যে অর্জিত শিক্ষা, দক্ষতা, চরিত্র ও আত্মবিশ্বাস সারা জীবন সঙ্গে থাকবে। এই জায়গাতেই আত্মগঠনের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি।

 

একজন তরুণ যদি নিজের শিক্ষা শেষ করে, কোনো পেশাগত দক্ষতা অর্জন করে, অর্থনৈতিকভাবে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে এবং মানসিকভাবে পরিণত হয়, তাহলে তার সম্পর্কের সিদ্ধান্তও সাধারণত বেশি বাস্তবসম্মত হয়। তখন সে শুধু আবেগ দিয়ে নয়, বিবেচনা দিয়ে মানুষকে মূল্যায়ন করতে শেখে। সে বুঝতে পারেÑশুধু চেহারা, কথার মাধুর্য কিংবা মুহূর্তের আকর্ষণ দিয়ে জীবনসঙ্গী নির্বাচন করা যায় না। মানুষের চরিত্র, দায়িত্ববোধ, মূল্যবোধ, আচরণ ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গিও গুরুত্বপূর্ণ।

 

অন্যদিকে আত্মগঠনহীন আবেগ অনেক সময় মানুষকে ভুল সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয়। শুধু ‘সে আমাকে ভালোবাসে’Ñএই একটি কারণ দিয়ে কোনো সম্পর্ককে নিরাপদ বা উপযুক্ত ধরে নেওয়া যায় না। একজন মানুষ কেমন জীবনযাপন করে, তার মূল্যবোধ কী, সে দায়িত্ব নিতে পারে কি না, অন্যকে সম্মান করে কি নাÑএসব প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। এখানে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকাও রয়েছে।

 

তরুণদের প্রেমের বিষয়ে শুধু ভয় দেখানো বা শাসন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণভাবে কথা বলতে হবে। আবেগ কী, আকর্ষণ কী, দায়িত্ব কী, সুস্থ সম্পর্ক কাকে বলেÑএসব বোঝাতে হবে। একই সঙ্গে তাদের সামনে এমন একটি ভবিষ্যৎ তৈরি করতে হবে, যেখানে শিক্ষা, দক্ষতা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকবে। কারণ শূন্যতা থেকেই অনেক সময় অতিরিক্ত আবেগের জন্ম হয়। যার নিজের কোনো লক্ষ্য নেই, সে অন্য একজন মানুষকেই হয়তো নিজের পুরো পৃথিবী বানিয়ে ফেলে। তাই তরুণদের বলা দরকারÑনিজেকে ব্যস্ত রাখো, কিন্তু শুধু ব্যস্ত থাকার জন্য নয়; নিজেকে উন্নত করার জন্য।

 

বই পড়ো, নতুন কিছু শেখো, শরীরচর্চা করো, পরিবারকে সময় দাও, সমাজকে বোঝো, নিজের দক্ষতা বাড়াও। নিজের এমন একটি পরিচয় তৈরি করো, যাতে তোমাকে চিনতে অন্য কারও পরিচয়ের প্রয়োজন না হয়। আত্মগঠন মানুষকে প্রেম থেকে দূরে সরিয়ে দেয় না; বরং প্রেমকে আরও সুস্থ ও সুন্দর করে। কারণ পরিণত মানুষ জানে, ভালোবাসা মানে শুধু কাছে পাওয়া নয়Ñপ্রয়োজনে সম্মান দিয়ে দূরত্বও মেনে নেওয়া।

 

ভালোবাসা মানে শুধু অধিকার নয়Ñস্বাধীনতার প্রতিও শ্রদ্ধা। ভালোবাসা মানে শুধু আবেগ নয়Ñদায়িত্বও। আমাদের তরুণদের সামনে তাই একটি নতুন জীবনদর্শন তুলে ধরা প্রয়োজনÑ‘আগে নিজেকে গড়ো, তারপর সম্পর্ককে জায়গা দাও।’ আজ যে বয়সে নিজের ভবিষ্যৎ তৈরি করার কথা, সে বয়সে যদি আমরা শুধু সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চিন্তায় ডুবে থাকি, তাহলে ভবিষ্যতের অনেক দরজা নিজেরাই বন্ধ করে দিতে পারি। আবার নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে নেওয়ার পর যে ভালোবাসা জীবনে আসে, সেটি অনেক বেশি সচেতন, দায়িত্বশীল ও স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।

 

জীবনে প্রেম আসবেই। কখনো তা থাকবে, কখনো থাকবে না। কেউ হয়তো পাশে থাকবে সারাজীবন, কেউ হয়তো মাঝপথে চলে যাবে। কিন্তু নিজের শিক্ষা, দক্ষতা, চরিত্র, আত্মমর্যাদা ও আত্মবিশ্বাসÑএসবই শেষ পর্যন্ত মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ।তাই প্রেমকে ভয় নয়, প্রেমকে বোঝার শিক্ষা দরকার। প্রেমকে অস্বীকার নয়, প্রেমের আগে নিজের ভিত শক্ত করার শিক্ষা দরকার। কারণ যে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে, সে শুধু ভালোবাসতে শেখে নাÑসে ভালোবাসার যোগ্য একজন মানুষও হয়ে ওঠে। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সম্পর্কের জন্য তাই তাড়াহুড়ো নয়। আগে নিজের ভিত তৈরি হোক। নিজের স্বপ্নের সঙ্গে নিজের পরিচয় তৈরি হোক। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর শক্তি তৈরি হোক। তারপর প্রেম আসুকÑজীবনকে পূর্ণ করতে, জীবনকে গ্রাস করতে নয়। প্রেমের আগে আত্মগঠনÑএই হোক তারুণ্যের নতুন অঙ্গীকার।

লেখক: সংবাদকর্মী

পাইকগাছায় শকুন সচেতনতা দিবস পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০৫ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় শকুন সচেতনতা দিবস পালিত

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: পাইকগাছায় আন্তর্জাতিক শকুন সচেতনতা দিবস পালিত হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টম্বর) বেলা ১১ টায় পাইকগাছার নতুন বাজার সংগঠনের কার্যালয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন বনবিবির উদ্যোগে শকুন সচেতনতা দিবসের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বনবিবির সভাপতি সাংবাদিক ও কলামিস্ট প্রকাশ ঘোষ বিধান।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, নতুন বাজার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি অশোক কুমার ঘোষ। বিশেষ অতিথি ছিলেন, সপ্তদ্বীপা সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাধুরী রানি সাধু, প্রেসক্লাব পাইকগাছার নির্বাহী সদস্য আহম্মেদ আলী বাঁচা।

 

বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক ফারুক হোসেন, সাংবাদিক প্রীতিশ মন্ডল, রাবেয়া বেগম, লিনজা আক্তার মিথিলা, অর্পিতা সাধু, দিঘী, মিম, আফরোজা, ফাওদিয়া, সাদিয়া, পরিবেশ কর্মি শাহিনুর রহমান, গনেশ দাশ, গাজী আলম হোসেন প্রমুখ।

 

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শকুন আমাদের অতি পরিচিত পাখি। এক সময় বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জে গরু, মহিষসহ গবাদি পশুর মৃতুদেহ যখানে ফেলা হতো সেখানে দলে দলে শকুন হাজির হতো। কিন্তু এখন আর আগের মত শকুন দেখা যায় না। নির্মল পরিবেশ ও সুস্থ্য প্রকৃতির জন্য মহাবিপন্ন শকুন রক্ষা করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। শকুনের গুরুত্ব সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিতে সচেতনতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ ও উদ্বুদ্ধ করতে পারলে শকুন সুরক্ষা পদক্ষেপ সার্থক হবে।

সাতক্ষীরায় কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বিষয়ক শাখা ব্যবস্থাপক ও কর্মকর্তাদের নিয়ে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃষি ব্যাংক সাতক্ষীরার মুখ্য আঞ্চলিক কার্যালয়ের আয়োজনে শনিবার দুপুরে মোজাফফার গার্ডেন এন্ড রিসোর্টে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

 

সাতক্ষীরার মুখ্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক এস এম এ কাইয়ুমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগীয় মহা ব্যবস্থাপক মোঃ আবু হাশেম মিয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা বিভাগীয় নিরীক্ষা কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সাহা, উপব্যবস্থাপক শাহনেওয়াজ মোহাম্মদ মোস্তফা ফয়সাল, আঞ্চলিক নিরীক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিহাদুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, কর্মকর্তা ও শাখা ব্যবস্থাপকদের সাধারণ মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে। সরকার যে সুযোগ দিয়েছে সেটা যেন মানুষের কল্যাণে কাজ হয়। একজন কৃষকও গ্রাহক ব্যাংকে এসে কষ্ট পেয়ে ফিরে না যায়।

সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কৃষি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কাজী মাসুদুল হক ও মৃত্যুঞ্জয় কুমার বিশ্বাস।