পত্রদূত রিপোর্ট: ১৯৪৭ সাল থেকে ২০২৬ সালের বর্তমান সময় পর্যন্ত সংখালঘু নির্যাতনের ধারাবাহিকতা ও মানবাধিকার লংঘনের প্রেক্ষাপটে “সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন” প্রণয়নের আবেদন এবং ৮ দফা দাবি আন্দোলনে মিথ্যা মামলায় কারাগারে থাকা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ সকল কারাবন্দির মুক্তির দাবিতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সনাতন পার্টির সাতক্ষীরা জেলা শাখার পক্ষ থেকে বৃহষ্পতিবার বেলা ১১টায় ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণুৃপদ পাল এর কাছে এ স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
স্মারকলিপি পেশ করার সময় উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার কর্মী রঘুনাথ খাঁ, বাংলাদেশ সনাতন পার্টির সাতক্ষীরা জেলা শাখার সদস্য সচীব মনোদ্বীপ কুমার ম-ল, যুগ্ম আহবায়ক সুজন কুমার সানা, প্রতিমা রানী হালদার, মিহির কুমার ম-ল, সদস্য সমীর দাস, সমীরণ চক্রবর্তী, মোহন বিশ^াস ও প্রশান্ত কুমার পাল প্রমুখ।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তানে বিশেষতঃ হিন্দুদের উপর ধারাবাহিক নির্যাতন, সম্পত্তি দখল ও দেশত্যাগের প্রবণতা শুরু হয়। ১৯৬৪ সালের দাঙ্গা ও পরবর্তীতে শত্রু সম্পত্তি আইন সংখ্যালঘুদের ভূমি ও সম্পত্তি হারানোর একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে সংখ্যালঘু জনগোষ্টি বিশেষভাবে টার্গেটেড নির্যাতনের শিকার হয়। যাহা আন্তজার্তিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি গুরুতর অধ্যায়। স্বাধীনতার পর সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমতার ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধ হয়নি। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা ও সামাজিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা অব্যহত রয়েছে। এর ফলে ১৯৬৪ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এক কোটিরও বেশি সংখ্যালঘু দেশ ত্যাগ করেছে। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ হিন্দু দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।
বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, বিদ্যমান আইন সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় যথেষ্ট কার্যকর নয় এবং একটি বিশেষায়িত আইনের অভাব রয়েছে। ফলে সংখ্যালঘুরা এখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সাংগঠণিকভাবে হামলা ও সম্পত্তি দখলের ঘটনা ঘটছে। অনেকক্ষেত্রে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বিদ্যমান থাকায় ভুক্তভোগীরা ন্যয় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে ২০০৫ সাল থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে সম্প্রতিকালে গত ১৯ এপ্রিল কক্সবাজারে নয়ন সাধু হত্যা, ২৪ এপ্রিল কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা, ৩ জানুয়ারি খোকন চন্দ্র দাস হত্যা, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিং এর ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাসকে নির্যাতনের পর পুড়িয়ে হত্যা, গত ২৭ এপ্রিল সাতক্ষীরায় বীথিকা রানী সাধু হত্যা, গত ২ মে সাতক্ষীরার পশু চিকিৎসক ডাঃ অনিমেষ পরমান্য অপহরণ, ২০১২ সাল থেকে ধারাবাহিক নির্যাতন ও জমি জবরদখল এর পর সর্বশেষ অলিখিত স্টাম্পে সাক্ষর না করায় গত ১৫ এপ্রিল সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের চম্পাফুলে মাধবী ম-ল ও তার ছেলে শঙ্কর ম-লকে প্রতিপক্ষ সামাদ গাজী ও তার ছেলে আলমগীর কবীরের নেতৃত্বে লোহার রড দিয়ে অমানুষিক নির্যাতন, গত ২৬ এপ্রিল ফরিদপুরে রঞ্জিত সরকার হত্যা, টাঙ্গাইলে এক গর্ভবতী মাকে ধর্ষণের পর হত্যা, কক্সবাজারে গণেশ পাল হত্যা, খুলনায় পুলিশ কর্মকর্তার মা ভারতী রানীকে গলা কেটে হত্যা ছাড়াও প্রতিনিয়ত সংখ্যালঘুদের বাড়ি দখল, মঠ ও মন্দির ভাংচুর, চাঁদাবাজি, অপহরণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, গুম ও হত্যার কথা তুলে ধরা হয়।
সর্বোপরি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠির সুরক্ষায় একটি পৃথক ও কার্যকর ”সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন” দ্রুত প্রণয়ন এবং সংখ্যালঘু নির্যাতনের মামলাসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠণের দাবি জানানো হয়।