শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক রেঞ্জার দিবস: প্রকৃতি সংরক্ষণের অগ্রসৈনিক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪২ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক রেঞ্জার দিবস: প্রকৃতি সংরক্ষণের অগ্রসৈনিক

সাকিবুর রহমান বাবলা

প্রকৃতি মানবসভ্যতার অস্তিত্বের মৌলিক ভিত্তি। বন, নদী, পাহাড়, জলাভূমি, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য শুধু পরিবেশের ভারসাম্যই রক্ষা করে না, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং সংস্কৃতিরও ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড়, অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য, দূষণ, ভূমি দখল এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কারণে পৃথিবীর পরিবেশ আজ এক বহুমাত্রিক সংকটের মুখোমুখি। এই সংকটময় সময়ে প্রকৃতি ও মানুষের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে কাজ করছেন রেঞ্জাররা।

প্রতি বছর ৩১ জুলাই বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক রেঞ্জার দিবস পালিত হয়। পৃথিবীর প্রাকৃতিক সম্পদ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় রেঞ্জারদের অনন্য অবদানকে সম্মান জানাতে এবং কর্তব্যরত অবস্থায় আহত বা নিহত রেঞ্জারদের স্মরণে আন্তর্জাতিক রেঞ্জার ফেডারেশন (আইআরএফ)-এর উদ্যোগে এবং দ্য থিন গ্রিন লাইন ফাউন্ডেশন’ সহযোগিতায় এই দিবসটি উদযাপিত হয়। ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইআরএফ-এর প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০০৭ সালের ৩১ জুলাই প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক রেঞ্জার দিবস পালিত হয়, যার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে রেঞ্জারদের কার্যক্রম ও আত্মত্যাগকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বর্তমানে আইআরএফ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রেঞ্জার সংগঠনগুলোকে একত্রিত করে একটি শক্তিশালী বৈশ্বিক পেশাগত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।

আন্তর্জাতিক রেঞ্জার ফেডারেশনের সংজ্ঞা অনুযায়ী রেঞ্জার কেবল বন পাহারা দেওয়া কর্মী নন; বরং তাঁরা হলেন এমন পেশাদার ব্যক্তি, যিনি প্রকৃতি, বন্যপ্রাণী, সংরক্ষিত এলাকা, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কল্যাণ রক্ষায় সরকারি, বেসরকারি, আদিবাসী, সম্প্রদায়ভিত্তিক কিংবা স্বেচ্ছাসেবী ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করেন। আন্তর্জাতিক সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য ও সংরক্ষিত এলাকা কার্যকরভাবে রক্ষার জন্য ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রায় ১৫ লাখ অতিরিক্ত রেঞ্জারের প্রয়োজন হতে পারে।

রেঞ্জারদের কাজ বহুমাত্রিক ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ। তাঁরা বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষা, অবৈধ শিকার ও বন উজাড় প্রতিরোধ, পরিবেশগত তথ্য সংগ্রহ, গবেষণায় সহায়তা, বন অগ্নিকান্ড মোকাবিলা এবং দুর্যোগকালীন উদ্ধার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আধুনিক যুগে জিপিএস, ড্রোন, স্যাটেলাইট তথ্য ও স্মার্ট প্যাট্রোলিং প্রযুক্তি তাঁদের কাজকে আরও কার্যকর করেছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, অবৈধ কাঠ ও বন্যপ্রাণী পাচারসহ নানা চ্যালেঞ্জ তাঁদের দায়িত্বকে আরও কঠিন করে তুলেছে। বিশ্বের অনেক দেশে রেঞ্জাররা জাতীয় উদ্যানের পাশাপাশি প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন, ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং আদিবাসী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

রেঞ্জারদের অবদান শুধু পরিবেশগত নয়, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন যে সুস্থ বন ও প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র বায়ু বিশুদ্ধ রাখে, পানির উৎস সংরক্ষণ করে, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং রোগের বিস্তার কমাতে ভূমিকা রাখে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ নতুন ওষুধ আবিষ্কারের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীতে ব্যবহৃত বহু আধুনিক ওষুধের উৎস উদ্ভিদ, অণুজীব ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ। ফলে বন্যপ্রাণী, আবাসস্থল এবং সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন বৈশিষ্ট্যসমূহ পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা এবং প্রকৃতি রক্ষার মাধ্যমে রেঞ্জাররা পরোক্ষভাবে মানবস্বাস্থ্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রেঞ্জারদের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। সুন্দরবন, পার্বত্য ও উপকূলীয় বনাঞ্চল, জাতীয় উদ্যান, বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির সাফল্যের পেছনে বন বিভাগের রেঞ্জার, ফরেস্টার ও বনপ্রহরীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দেশের শত শত প্রশাসনিক রেঞ্জ এলাকায় তাঁরা বনভূমি, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দিনরাত কাজ করছেন। বিশেষ করে সুন্দরবনের মতো বিশ্ব ঐতিহ্য এলাকায় কর্মরত রেঞ্জারদের দায়িত্ব অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র, লজিস্টিক সহায়তা এবং ওয়্যারলেস যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও তাঁরা দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্গম পরিবেশ, বন্যপ্রাণীর ঝুঁকি ও সীমিত অবকাঠামোর মধ্যেও তাঁরা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করছেন। রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, কুমির, ডলফিনসহ অসংখ্য বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল সংরক্ষণে তাঁদের অবদান অনস্বীকার্য।

বিশ্ব রেঞ্জার দিবস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য “রেঞ্জাররা: পরিবর্তনশীল পৃথিবীর অভিভাবক” বর্তমান সময়ের বাস্তবতাকে গভীরভাবে প্রতিফলিত করে। বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের পাশাপাশি জলবায়ু সংকট মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে রেঞ্জাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নানা ঝুঁকি, প্রতিকূলতা ও আত্মত্যাগের মধ্যেও তাঁরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। তাই রেঞ্জারদের নিরাপত্তা, দক্ষতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা মানে প্রকৃতি ও মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করা। আন্তর্জাতিক রেঞ্জার দিবসে এই নীরব প্রহরীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

Ads small one

জুলাইয়ে মবে নিহত ৩১, কারা হেফাজতে মৃত্যু ৯ , অজ্ঞাতনামা ৫৬ লাশ, সাংবাদিক নির্যাতন বেড়েছে দ্বিগুণ: এমএসএফ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
জুলাইয়ে মবে নিহত ৩১, কারা হেফাজতে মৃত্যু ৯ , অজ্ঞাতনামা ৫৬ লাশ, সাংবাদিক নির্যাতন বেড়েছে দ্বিগুণ: এমএসএফ

অনলাইন ডেস্ক: দেশে গত জুন মাসের তুলনায় জুলাইয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। জুনে দেশের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ছিল ১৮টি। জুলাইয়ে এই সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়ে হয়েছে ৩৬টি। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) মাসিক মানবাধিকার পরিস্থিতি মনিটরিং প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।

সংস্থাটি বলছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনার দ্বিগুণ বৃদ্ধি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য গুরুতর হুমকি। পাশাপাশি জুলাই মাসে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় মামলা ও গ্রেপ্তারও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অনলাইন মতপ্রকাশের ওপর চাপ বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।

আজ শুক্রবার এমএসএফ সভাপতি সুলতানা কামালের সই করা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি জাতীয় দৈনিক ও স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে মব সহিংসতায় নিহত হয়েছে ৩১ জন। জুনে এই সংখ্যা ছিল ৩২। এ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছে ৭ জন। সংস্থাটি বলছে, রাজনৈতিক ও আইনগত পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে। সরকার পতন-পরবর্তী মামলায় জুলাই মাসে নতুন করে ৬০০ জনকে আসামি করা হয়েছে, যদিও গ্রেপ্তারের সংখ্যা কমে ১২৬-এ দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতায় আহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও (৩০৩ থেকে ৯৫), নিহতের সংখ্যা সামান্য বেড়েছে। যা সংঘর্ষের ভয়াবহতা অব্যাহত থাকার প্রমাণ।

এমএসএফ বলছে, জুলাই মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে ২ জনের এবং কারাগারে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে গোলাগুলিসংক্রান্ত ঘটনায় নিহত না থাকলেও আহতের সংখ্যা এক মাসের ব্যবধানে ২ জন থেকে বেড়ে ২১ জনে পৌঁছেছে। যা নিরাপত্তা পরিস্থিতির অস্থিরতা নির্দেশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অজ্ঞাতনামা ও পরিচয় শনাক্ত হওয়া লাশ উদ্ধার বড় উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। জুলাই মাসে মোট ৮৯টি লাশ উদ্ধার হয়েছে (অজ্ঞাত ৫৬, পরিচয় শনাক্ত ৩৩। যা আগের মাসের তুলনায় বেশি। অধিকাংশ লাশের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় বিচারপ্রক্রিয়া ও মানবাধিকার সুরক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। পুশ-ইন, আটক এবং বিচ্ছিন্ন হত্যার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ধর্মীয় সহিংসতার ঘটনাও বিচ্ছিন্নভাবে ঘটেছে, যা সামাজিক সম্প্রীতির জন্য উদ্বেগজনক। অন্যদিকে, বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জুনে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ছিল ২ হাজার ৮৯৭ জন। জুলাইয়ে এই সংখ্যা বেড়ে ৫ হাজার ১৯৬ জনে পৌঁছেছে। এই বৃদ্ধি আইন প্রয়োগের তৎপরতা বাড়ার ইঙ্গিত দিলেও এর স্বচ্ছতা ও মানবাধিকার মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে বলে মনে করে এমএসএফ।

এমএসএফের জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুন মাসে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের মোট ৩২০টি ঘটনা পেয়েছিল তারা। জুলাই মাসে পেয়েছে ৩০৬টি। সার্বিক ঘটনা প্রায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কমলেও পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলছে সংস্থাটি। তাদের পর্যবেক্ষণ হলো, মোট অপরাধ কমলেও নির্যাতনের ধরন এখন আরও বেশি নৃশংস ও জটিল রূপ নিয়েছে। এমএসএফের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, জুলাই মাসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৯০টি। জুনে এই সংখ্যা ছিল ৬৮টি। অর্থাৎ এক মাসে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে প্রায় ৩৩ শতাংশ। জুনে যৌন নিপীড়ন বা হয়রানির ঘটনা ছিল ২১টি। জুলাইয়ে তা বেড়ে হয়েছে ২২টি। অন্যদিকে জুনে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছিল ১৭টি। জুলাইয়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ টিতে। এক মাসে আত্মহত্যা বেড়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ। এমএসএফ মনে করে, ধর্ষণের মতো ঘটনা বৃদ্ধি নারী ও শিশুদের চরম নিরাপত্তাহীনতার ইঙ্গিত দেয়। আর আত্মহত্যার উচ্চ হার সামাজিক নিপীড়ন ও বিচারহীনতার মানসিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১১টি নবজাতক উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮টি ছিল মৃত, আর ৩টি জীবিত। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাধারণত এসব ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে পুলিশ কার্যকর কোনো তদন্ত করে না। ফলে অপরাধীরা আইনের আওতার বাইরেই থেকে যায়। মৃত নবজাতকের ক্ষেত্রে পুলিশ সাধারণত অপমৃত্যুর মামলা করে। আর জীবিত নবজাতকদের সমাজসেবা অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এমএসএফের মতে, বেআইনি সালিস ও নবজাতক পরিত্যাগের ঘটনাগুলো সমাজে দায়মুক্তির সংস্কৃতিকে আরও দৃঢ় করছে।

 

আশাশুনিতে ডা. নুরুল আমিন স্মৃতি পাঠাগারের উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে ডা. নুরুল আমিন স্মৃতি পাঠাগারের উদ্বোধন

আশাশুনি প্রতিনিধি: জ্ঞানচর্চা ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশের লক্ষ্যে সাতক্ষীরার আশাশুনিতে ‘ডা. নুরুল আমিন স্মৃতি পাঠাগার’-এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে শুক্রবার সকালে পাঠাগার প্রাঙ্গণে প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রফেসর আব্দুস সবুরের সভাপতিত্বে সভায় আশাশুনির গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শিক্ষাবিদেরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে পাঠাগারটি পরিচালনার জন্য ১০১ সদস্যবিশিষ্ট একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়।
নবগঠিত কমিটিতে প্রফেসর আব্দুস সবুরকে সভাপতি এবং এবিএম আলমগীর পিন্টুকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়েছে। সামাজিক পাঠঅভ্যাস বৃদ্ধি, সাহিত্যচর্চা ও বইভিত্তিক বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করাই এই পাঠাগারের মূল উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়।

সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে প্রায় ১৩ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ণ
সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে প্রায় ১৩ লাখ টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্তে বিজিবি সদস্যরা বিশেষ চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণের ভারতীয় ওষুধ ও মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করেছেন। ৩১ জুলাই সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের (৩৩ বিজিবি) অধীনস্থ তলুইগাছা, কাকডাঙ্গা ও মাদরা বিওপির একাধিক টহল দল এসব অভিযান পরিচালনা করে।

বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্ত পেরিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে আনা ১২ লাখ ৭৭ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় ওষুধ ও মোবাইল পার্টস আটক করা হয়। এসব চোরাচালানি মালামাল অবৈধভাবে দেশে আসায় দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। সীমান্ত এলাকায় এই চোরাচালানবিরোধী নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।