বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

আমে ভরেছে সাতক্ষীরার বাজার: বাগানে হাসি, দামে ব্যবধান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
আমে ভরেছে সাতক্ষীরার বাজার: বাগানে হাসি, দামে ব্যবধান

জি এম আমিনুল হক: সাতক্ষীরার আম্রকাননগুলো যেন ডালভাঙা ফলের ভারে নুয়ে পড়ার উপক্রম। জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত সূচি মেনে গাছ থেকে আম নামানোর বৃহস্পতিবার ছিল চতুর্থ দিন। সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বড় বাজার থেকে শুরু করে মফস্বলের ইটাগাছা বা ব্রহ্মরাজপুরÑসবখানেই এখন কেবল আমের জয়গান। আমের এই বিপুল সমারোহে একদিকে যেমন বাম্পার ফলনের আনন্দ, অন্যদিকে পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের বিস্তর ফারাক নিয়ে রয়েছে দীর্ঘশ্বাস।

বাজারে এখন গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ আর গোলাপখাসÑএই তিন জাতের আমের রাজত্ব। সঙ্গে আছে বাহারি সব স্থানীয় জাত। ঝুড়িভর্তি রঙিন আম সাতক্ষীরা থেকে ট্রাক ও কুরিয়ার সার্ভিসে চড়ে ছুটে যাচ্ছে রাজধানীসহ দেশের নানা প্রান্তে। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেনের মুখেও তৃপ্তির হাসি। তিনি বলেন, ‘এবার আমের ফলন হয়েছে প্রত্যাশার চেয়েও ভালো। ৫ মে থেকে গোপালভোগ ও গোবিন্দভোগ নামানো শুরু হয়েছে। তবে আমের আসল উৎসব শুরু হবে ১৫ মে, যখন বাজারে আসবে সাতক্ষীরার পৃথিবীবিখ্যাত হিমসাগর।’

ফলনের প্রাচুর্যে বাজারের থলে দ্রুত ভরলেও হিসাবের খাতায় গরমিল দেখছেন অনেকে। সুলতানপুর বাজারের পাইকারি আড়তগুলোতে গোবিন্দভোগ আম বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। অথচ সেই আমই শহরের খুচরা বাজারে সাধারণ ভোক্তাকে কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায়।
এদিকে অনলাইন বাজারে চিত্রটা আরও চড়া। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অনলাইন উদ্যোক্তারা কুরিয়ার ও প্যাকিং খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি আম বিক্রি করছেন ১২৫ টাকায়। সেই হিসাবে অনলাইনে প্রতি মণ আমের দাম দাঁড়াচ্ছে ৫ হাজার টাকা। সরবরাহ আরও বাড়লে পাইকারি দাম আরও পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কপালে ভাঁজ পড়েছে প্রান্তিক চাষিদের। লোকসানের ঘ্রাণ পাচ্ছেন অনেক বাগান মালিক।

সাতক্ষীরার আমের যে সুনাম বিশ্বজুড়ে, তাতে যেন কোনো আঁচ না লাগে, সে বিষয়ে সতর্ক জেলা প্রশাসন। এবার এই জেলায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যাতে আমে ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশাতে না পারে, সে জন্য মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম ভোক্তার পাতে পৌঁছে দিতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।

বিকেলের দিকে সুলতানপুর বাজারে দেখা গেল আমের ঝুড়ি সাজাতে ব্যস্ত এক ব্যবসায়ীকে। তিনি হাসিমুখে বললেন, ‘আমের এবার যেমন রূপ, তেমন গুণ। দামটা যদি চাষি আর ভোক্তাÑউভয় পক্ষের নাগালে থাকত, তবেই সার্থক হতো এই মধুমাসের অপেক্ষা।’

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Ads small one

সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি ও বেসরকারি সমমনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুন দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিসিডিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন। সিসিডিবি’র রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং ম্যানেজার সামিউল আলিম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও শামসুজ্জামান কনক। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদ বিন শফিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাছপালা কেটে ফেলা এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বসন্তপুর গ্রামের বৈদ্যনাথ দাস বাদী হয়ে শংকর দাস ও দিপঙ্কর দাসসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা (নং-৪০৬/২০২৬) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বসন্তপুর মৌজার ৫৮ শতক পৈতৃক সম্পত্তির একটি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, যা নিয়ে আগেও একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। বাদীর অভিযোগ, চলমান মামলার তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক তাঁর জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন গাছগাছালি কেটে সাবাড় করেছে এবং জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। বিবাদীদের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে তাঁর পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আলিপুর থেকে কুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে সরকারি খাস জমিতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। সড়কের ‘অপ্রয়োজনীয় অংশ’ উচ্ছেদ না করে কেবল মূল কাজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু জমি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে গত ২৪ জুন জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। আগামী ৮ ও ৯ জুলাই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে আবেদনপত্রটি তুলে দেন।
এ সময় কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা এবং সমাজসেবক মোজাম্মেল হোসেনসহ (মিনু ডাক্তার) এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এলাকার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়কের উন্নয়ন কাজকে স্থানীয়রা স্বাগত জানান। তবে সওজ-এর নকশা অনুযায়ী ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা হলে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁদের দোকান, পুঁজি ও জীবিকা হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। গ্রামীণ অর্থনীতি, মাছের শেড ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বহু ভূমিহীন পরিবার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়নে যতটুকু জমি অপরিহার্য, ঠিক ততটুকু রেখে বাকি অংশ উচ্ছেদ না করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।