বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

আশাশুনিতে প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহ থেকে মানুষকে বাঁচাতে অভিযোজন দুর্গ উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহ থেকে মানুষকে বাঁচাতে অভিযোজন দুর্গ উদ্বোধন

বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় অঞ্চলের জনগণকে প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহ থেকে সুরক্ষা দিতে আশাশুনিতে অভিযোজন দুর্গ উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলা ১১ টায় উপজেলার বড়দল আফতাব উদ্দিন কলেজিয়েট স্কুলে কলেজিয়েট স্কুল এবং ব্র্যাক এর জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচির যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এই অভিযোজন দুর্গের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

প্রকল্পের মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রচলিত ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আধুনিক মূল্যায়ন ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যুক্ত করে সেগুলোকে তীব্র তাপদাহের সময় জীবন রক্ষাকারী নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে রূপান্তর করার একটি নতুন পথ উন্মোচন করা হলো। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, ব্র্যাক এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহের যৌথ উদ্যোগ ‘জামিল অবজারভেটরি ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম নেটওয়ার্ক এর জলবায়ু পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাংলাদেশে আগামী দশকগুলোতে তাপপ্রবাহের হার এবং তীব্রতা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে।

 

অতীতে যে মারাত্মক তাপপ্রবাহ প্রতি ১০০ বছরে একবার ঘটত, তা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে প্রতি ৪ থেকে ৮ বছর পর পর ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আর্দ্র ও তাপপ্রবাহের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের জন্য এটি একটি সময়োপযোগী ও কার্যকর অভিযোজন সমাধান। অভিযোজন দুর্গটি মূলত পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ ও শক্তিশালী ব্যাটারি ব্যাকআপ দ্বারা পরিচালিত হবে, যা তীব্র গরমের সময় বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটলেও আশ্রয়কেন্দ্রটিকে সচল ও শীতল রাখবে।

 

এর পাশাপাশি এখানে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ এবং উন্নত শৌচাগারের সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের সমন্বয়ে এটি পরিচালিত হবে এবং স্বাস্থ্য ও পেশাগত দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিরা এখানে অগ্রাধিকার পাবেন। এছাড়া, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র যখন ব্যবহৃত হবে না, তখন উৎপাদিত অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ স্থানীয় গ্রিডে ও কমিউনিটির প্রয়োজনে সরবরাহ করা হবে।

ইতিমধ্যেই যশোর জেলার কেশবপুরের সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের বেগমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় অভিযোজন দুর্গ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে এমন ৫,০০০টি অভিযোজন দুর্গ তৈরি করা সম্ভব হলে প্রায় ১০ লাখ ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জীবন রক্ষা করা যাবে।

কলেজের অধ্যক্ষ মো: বাবলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু। বিশেষ অতিথি ছিলেন, ব্র্যাকের জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচি প্রধান আবু সাদাত মনিরুজ্জামান খান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সিঃ প্রোগ্রাম ম্যানেজার তাপস রঞ্জন চক্রবর্তী।

 

ডেপুটি ম্যানেজার সাহারা তাসিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নিতিশ চন্দ্র গোলদার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি প্রধান খন্দকার গোলাম তৌহিদ, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার বর্মন, বড়দল ইউপি প্রশাসক আখতার ফারুক বিল্লাল,মহিলা অধিদপ্তরের প্রশিক্ষক বিল্লাল হোসেন, হাফেজ রুহুল আমিন ও স্কুলের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী রেহেনা খাতুন। আলোচনা সভা শেষে অতিথিবৃন্দ কলেজিয়েট স্কুলের ৫টি শ্রেণি কক্ষে গিয়ে প্লান্টের শুভ উদ্বোধন করেন।

 

Ads small one

প্লাস্টিক দূষণের বৈশ্বিক সংকট ও বাংলাদেশের করণীয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৬ অপরাহ্ণ
প্লাস্টিক দূষণের বৈশ্বিক সংকট ও বাংলাদেশের করণীয়

আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস

সাকিবুর রহমান বাবলা

প্রতিবছর ৩ জুলাই বিশ্বব্যাপী পালিত হয় আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করাই এ দিবসের লক্ষ্য। জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর ক্রমবর্ধমান হুমকির প্রেক্ষাপটে দিবসটির গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।
প্লাস্টিক আধুনিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলেও এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বিশ্বব্যাপী পরিবেশগত সংকট সৃষ্টি করছে। ২০০৮ সালে স্পেনভিত্তিক পরিবেশবাদী সংগঠন ‘রেজেরো’ প্রথম এ দিবস পালন শুরু করে। পরে ‘ব্যাগ ফ্রি ওয়ার্ল্ড’ ও ‘ব্রেক ফ্রি ফ্রম প্লাস্টিক’ আন্দোলনের মাধ্যমে এটি আন্তর্জাতিক সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে পরিণত হয়।

জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৪০০ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক উৎপাদিত হয়, যার প্রায় অর্ধেকই একবার ব্যবহারযোগ্য। বছরে ৫ ট্রিলিয়নেরও বেশি প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহৃত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি প্লাস্টিক ব্যাগ সম্পূর্ণভাবে পচতে শত শত বছর সময় লাগে, এ সময়ে তা ভেঙে মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়, যা এখন সমুদ্র, নদী, মাটি, এমনকি মানুষের রক্ত, ফুসফুস ও মাতৃদুগ্ধেও পাওয়া যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এটিকে মানবস্বাস্থ্যের জন্য নতুন বৈশ্বিক হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছেন।

প্লাস্টিক দূষণের সবচেয়ে বড় শিকার সামুদ্রিক পরিবেশ। প্রতিবছর আনুমানিক ৮ থেকে ১১ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্রে প্রবেশ করে। এর ফলে মাছ, কচ্ছপ, ডলফিন, তিমি ও সামুদ্রিক পাখিসহ অসংখ্য প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ সামুদ্রিক পাখি এবং এক লক্ষের বেশি সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী প্লাস্টিক দূষণের কারণে মারা যায়। ফলে সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খল ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

এছাড়া বর্জ্যের একটি বড় অংশ ভূমিতে জমা হয়ে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। মানবস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব উদ্বেগজনক। খাদ্য, পানি ও বাতাসের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। গবেষণায় এর সঙ্গে হৃদরোগ, শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা, হরমোনজনিত সমস্যা, প্রজনন সমস্যা এবং ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশে প্লাস্টিক দূষণের প্রভাব আরও স্পষ্ট। জনসংখ্যার ঘনত্ব, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সচেতনতার অভাবে প্লাস্টিক বর্জ্য দ্রুত পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে। ড্রেন, খাল ও নদীতে জমে থাকা প্লাস্টিক নগর জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। একই সঙ্গে নদীনির্ভর জীববৈচিত্র্য, কৃষি ও মৎস্যসম্পদও ক্ষতির মুখে পড়ছে। প্লাস্টিক পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট বায়ুদূষণ মানুষের শ্বাসতন্ত্রের রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আইন প্রনয়ন করে পাতলা পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করে, আইনে পলিথিন উৎপাদনের জন্য সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদ- বা ২ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দ-ের বিধান রয়েছে। এছাড়া, পলিথিন বিক্রি, প্রদর্শন ও বিতরণের জন্য সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদ- বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা রাখা হয়েছে। তবে আইন থাকা সত্ত্বেও এর কার্যকর বাস্তবায়নে এখনও ঘাটতি। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কাপড়, পাট ও অন্যান্য পরিবেশবান্ধব ব্যাগের ব্যবহার বাড়ানো এবং জনসচেতনতা জোরদার করা জরুরি।

 

আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস আমাদের মনে রাখতে হবে যে পরিবেশ রক্ষা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকেরও কর্তব্য। একটি প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তই হতে পারে পরিবেশ রক্ষার বড় পদক্ষেপ। সচেতনতা, দায়িত্বশীল আচরণ এবং পরিবেশবান্ধব অভ্যাসের মাধ্যমেই আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও টেকসই পৃথিবী গড়ে তুলতে পারি।

মুক্তমত: পতন মানেই শেষ নয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩০ অপরাহ্ণ
মুক্তমত: পতন মানেই শেষ নয়

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎রাজনীতির ইতিহাস আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয় এখানে উত্থান যেমন স্থায়ী নয়, তেমনি পতনও চিরস্থায়ী নয়। যে রাজনৈতিক শক্তি আজ প্রভাবশালী, কাল সে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে; আবার যে শক্তি আজ সংকটের মুখোমুখি, সময়, নেতৃত্ব ও জনমতের পরিবর্তনে সে পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এটাই রাজনীতির স্বাভাবিক বাস্তবতা এবং ইতিহাসের পুনরাবৃত্ত সত্য।

‎গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে জনগণই শেষ কথা। জনগণের আস্থা, নেতৃত্বের দূরদর্শিতা, সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং সময়ের চাহিদার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতাই একটি রাজনৈতিক শক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। তাই কোনো দলের উত্থানে অতি উল্লাস কিংবা কোনো দলের পতনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় নয়। কারণ রাজনীতিতে সময়ের চাকা কখন কোন দিকে ঘুরবে, তা আগেভাগে নির্ধারণ করা যায় না।

‎ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, অনেক রাজনৈতিক শক্তিকে একসময় অপ্রাসঙ্গিক মনে করা হলেও তারা পরবর্তীতে নতুন নেতৃত্ব, নতুন কৌশল ও নতুন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে আবারও জনগণের সমর্থন অর্জন করেছে। আবার ক্ষমতার শীর্ষে থাকা অনেক শক্তিও জনবিচ্ছিন্নতা, ভুল সিদ্ধান্ত বা সময়ের পরিবর্তনের কারণে দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়েছে। সুতরাং রাজনীতিকে কখনোই স্থির বা চূড়ান্ত কোনো অবস্থান থেকে বিচার করা উচিত নয়।

‎প্রকৃতপক্ষে রাজনীতি হলো পরিবর্তনের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এখানে চিরস্থায়ী বন্ধু যেমন নেই, তেমনি চিরস্থায়ী প্রতিপক্ষও নেই; চিরস্থায়ী ক্ষমতা নেই, নেই চিরস্থায়ী পতনও। জনগণের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রের প্রয়োজন এবং সময়ের বাস্তবতাই রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করে।

‎তাই আজকের বাস্তবতাকে চূড়ান্ত সত্য বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো রাজনৈতিক শক্তিকে স্থায়ীভাবে বিজয়ী বা স্থায়ীভাবে পরাজিত মনে করা ইতিহাসের শিক্ষা থেকে দূরে সরে যাওয়ার নামান্তর। রাজনীতির সবচেয়ে বড় সত্য হলো পরিবর্তন। আর সেই পরিবর্তনের সম্ভাবনাই রাজনীতিকে জীবন্ত, গতিশীল এবং প্রাসঙ্গিক করে রাখে। লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্তা

ইতিহাস গড়ার বাসনায় ফের ‘বরবাদ’ নির্মাতার ফ্রেমে শাকিব খান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৮:১১ অপরাহ্ণ
ইতিহাস গড়ার বাসনায় ফের ‘বরবাদ’ নির্মাতার ফ্রেমে শাকিব খান

দেশীয় চলচ্চিত্রে ব্যাপক আলোড়ন তোলা ‘বরবাদ’-এর সাফল্যের পর আবারও এক হচ্ছেন সেই ছবির পরিচালক ও নায়ক। পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয়ের নতুন সিনেমায় আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন শাকিব খান।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে নতুন প্রজেক্টটির আনুষ্ঠানিক সাইনিং সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ‘বরবাদ’ মুক্তির পর ছবিটি বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি দর্শকদের প্রশংসাও কুড়ায়। ছবিটি শাকিব খানের ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক সাফল্যে পরিণত হয়।

ঈদে মুক্তির পর প্রথম সাত দিনেই প্রায় ২৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকার টিকিট বিক্রির দাবি করে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে দেশ-বিদেশে ব্যাপক সাড়া ফেলে সিনেমাটি এবং বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের অন্যতম সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমাগুলোর তালিকায় জায়গা করে নেয়।

একই টিমের নতুন সিনেমার খবর প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহ।

 

যদিও নতুন সিনেমাটির নাম কিংবা গল্প এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রিয়েল এনার্জি প্রডাকশন জানিয়েছে, খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে ছবিটির ঘোষণা দেওয়া হবে।

পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয় জানিয়েছেন, এটি একটি অ্যাকশন থ্রিলার ঘরানার সিনেমা। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবারই শাকিব খানকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এদিকে, শাকিব খানও তার ফেসবুক পেজে সাইনিংয়ের মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করে লিখেছেন, “বরবার টিম আবারও ফিরছে। চলো ফের নতুন ইতিহাস গড়ি।”

নির্মাতাদের দাবি, ‘বরবাদ’-এর মতো এবারও দর্শকদের জন্য বড় পরিসরের একটি চমক নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ঈদুল ফিতরে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।