আশাশুনিতে ভারতীয় অবৈধ বাগদার ডিম জব্দ, চালককে জরিমানা
Oplus_16908288
আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে অবৈধভাবে নিয়ে আসা আট পলিথিন ভারতীয় বাগদা চিংড়ির ফুটানো ডিম (নকলি) জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত হ্যাচারি মালিককে না পেয়ে বহনকারী প্রাইভেট কারের চালককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে জব্দ করা ডিমগুলো মরিচ্চাপ নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে।
রোববার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শ্যামানন্দ কুন্ডু এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। দ-প্রাপ্ত চালকের নাম সাইদুল ইসলাম। তিনি দেবহাটা উপজেলার বালিয়াঘাটা গ্রামের আলম বারীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকা থেকে একটি প্রাইভেট কারে করে আট পলিথিন বাগদা চিংড়ির ডিম নিয়ে আশাশুনির মানিকখালি বিসমিল্লাহ হ্যাচারির উদ্দেশ্যে আসছিলেন সাইদুল। হ্যাচারির গেটে প্রবেশের মুখে গাড়িটির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় জনতা তা আটকে পুলিশে খবর দেয়। গভীর রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে চালকসহ গাড়ি ও মালামাল থানা হেফাজতে নেয়।
রোববার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত মৎস্য সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০-এর ধারায় চালক সাইদুল ইসলামকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জিজ্ঞাসাবাদে চালক স্বীকার করেছেন, বাগদার ডিমগুলো অবৈধভাবে ভারত থেকে এনে বিসমিল্লাহ হ্যাচারিতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য গাড়িটি ভাড়া করা হয়েছিল।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু নিশ্চিত করেছেন, অবৈধ আমদানির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় এবং হ্যাচারি কর্তৃপক্ষকে ঘটনাস্থলে না পাওয়ায় সাময়িকভাবে চালককে জরিমানা করা হয়েছে। তবে বিসমিল্লাহ হ্যাচারির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছরের ১৫ এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত গভীর সমুদ্র থেকে মা-বাগদাসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। এই সুযোগে অধিক লাভের আশায় কিছু অসাধু হ্যাচারি ব্যবসায়ী ভারত বা থাইল্যান্ড থেকে অবৈধভাবে রাসায়নিক মিশ্রিত নকলি ডিম এনে হ্যাচারিতে ফুটিয়ে বাজারজাত করে। এতে মৎস্য চাষিরা চরম লোকসানের মুখে পড়ছেন বলে স্থানীয় চাষিরা অভিযোগ করেছেন।












