শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩

ইরান যুদ্ধের জেরে জাপানের তেল আমদানিতে ভাটা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ
ইরান যুদ্ধের জেরে জাপানের তেল আমদানিতে ভাটা

ইরান যুদ্ধের জেরে জাপানের ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেল আমদানিতে ভাটা পড়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির অপরিশোধিত তেল আমদানি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। জাপানি গণমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এমনই তথ্য। এই বিশ্লেষণ করতে ইউরোপভিত্তিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলার’র ট্যাংকার ট্র্যাকিং তথ্য ব্যবহার করেছে গণমাধ্যমটি।

প্রতিবেদনে নিক্কেই এশিয়া জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত সময়ে জাপানের তেল আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৭ শতাংশ কমেছে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেলের চালান মার্চ-মে সময়ে ৪৮ শতাংশ কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অথচ, বিশ্বব্যাপী মোট তেল রফতানি কমবে মাত্র ১০ শতাংশ।

উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরবের রফতানি ২৯ শতাংশ এবং আরব আমিরাতের ৩৩ শতাংশ কমতে পারে। কুয়েত ও ইরাকের রফতানি ৯০ শতাংশেরও বেশি কমার আশঙ্কা রয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কার্যত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া ইরানের রফতানি মার্চ-এপ্রিল সময়ে মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। তবে, মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে দেশটির রফতানি ৮৭ শতাংশ কমে যেতে পারে।

হরমুজে কড়াকড়ির কারণে বিকল্প পথ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে তেল রফতানি করছে সৌদি। কিন্তু, দেশটির যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় সামগ্রিক রফতানি সক্ষমতা কমে গেছে। লোহিত সাগর থেকে এশিয়ায় যেতে ইয়েমেনের বাব এল-মানদাব প্রণালি পাড়ি দিতে হয়। সেখানে ইরান সমর্থিত হুথির উপস্থিতি ওই জলপথেও জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি করছে।

নিক্কেই এশিয়া বলছে, তেল আমদানির পতন সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে জাপানে। ২০২৫ সালের মার্চ-মে সময়ে দেশটি বিশ্বে সপ্তম বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ছিল। কিন্তু, ২০২৬ সালের একই সময়ে জাপানের আমদানি কমার হার ছিল চতুর্থ সর্বোচ্চ। এই ঘাটতি পূরণে টোকিও এখন যুক্তরাষ্ট্রের তেলের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে।

যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারিতে জাপানের ৯০ শতাংশ তেল আসতো সৌদি ও ইউএই থেকে। মে মাসে তা নেমে এসেছে ৬০ শতাংশে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের তেলের অংশ দুই শতাংশ থেকে বেড়ে ২০ শতাংশের বেশি হয়েছে। তেল আমদানির এই পতন মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর জাপানের ঝুঁকিপূর্ণ নির্ভরশীলতাকে সামনে এনেছে। মার্চের শেষ দিকে টোকিও কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়তে শুরু করে। দেশটির হাতে এখনও ২০০ দিনের বেশি ব্যবহারের মতো তেল মজুত রয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে পূর্ণমাত্রায় নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা ফিরে আসবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত। অনেকের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ফলে জাপানের জন্য বিকল্প জ্বালানি উৎস বাড়ানো জরুরি হয়ে উঠেছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভিয়েতনামের তেল আমদানি সবচেয়ে বেশি কমেছে, ৫১ শতাংশ। মালয়েশিয়ার আমদানি কমেছে ৪৩ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্র ও আফ্রিকা থেকে বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিতের চেষ্টা চললেও তা পুরো ঘাটতি পূরণ করতে পারেনি।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক চীন গত বছর তাদের মোট কেনার ৩০ শতাংশ তেল কিনেছিল মধ্যপ্রাচ্য থেকে। তবে, মার্চ-মে সময়ে তাদের আমদানি ১৮ শতাংশ কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৫ সালে দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক ভারতের আমদানি মার্চ-মে সময়ে তিন শতাংশ কমেছে। দেশটি দ্রুত রাশিয়া ও ভেনিজুয়েলা থেকে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

এশিয়ার তুলনায় ইউরোপ তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে তেল সরবরাহ ধরে রাখতে পেরেছে। অঞ্চলটি নর্থ সি, যুক্তরাষ্ট্র, উত্তর আফ্রিকা ও কাসপিয়ান সাগর থেকে বহুমুখী সরবরাহ পেয়ে থাকে। মার্চ-মে সময়ে গ্রিসের তেল আমদানি ৩৪ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে যুক্তরাজ্যের ৯ শতাংশ এবং স্পেনের সাত শতাংশ তেল আমদানি বেড়েছে।

Ads small one

পাইকগাছায় স্ত্রী তামান্নাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে সাবেক স্বামী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৫:৫৩ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় স্ত্রী তামান্নাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে সাবেক স্বামী

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় নামাজরত অবস্থায় তামান্না সুলতানা (১৫) কে সাবেক স্বামী মোঃ সাহিন গাজী(২৫) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনা ঘটিয়েছে। ধারালো দায়ের কোপে তার ঘাড়, গলা, গালসহ বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছ। এ ঘটনায় তামান্নাকে উদ্ধার করতে গিয়ে তার নানীও আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়নের দক্ষিণ কাটিপাড়া গ্রামের গাজীপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। আহত তামান্নাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত হওয়ায় রাতে তাকে খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাটিপাড়া গ্রামের সাইদুর রহমানের কন্যা তামান্না সুলতানা (১৫) সাথে একই গ্রামের রজব আলী গাজীর পুত্র শাহিন গাজীর আনুমানিক ৮ মাস পূর্বে গোপনে বিবাহ হয়। তামান্নার পরিবার বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে তাকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দেয়। এ ঘটনায় সাবেক স্বামী শাহিন গাজী ক্ষোভে এ হামল ঘটাতে পারে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছে।

 

 

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের সামনে মাদক বিরোধী মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের সামনে মাদক বিরোধী মানববন্ধন

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁকাল ইসলামপুর এলাকায় মাদক, জুয়া, তাস, চুরি এবং সব ধরনের অসামাজিক ও অশ্লীল কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

বিক্ষোভ মিছিলটি এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মেডিকেল কলেজের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধনে মিলিত হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শরিফুল, মুনতাজ, হাফিজুল, রুম্মন, শাহাদাতসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা “মাদককে না বলুন, সুস্থ-সুন্দর জীবন গড়ুন”, “মাদকমুক্ত সমাজ চাই” সহ বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের সামনে কেউ মাদক বিক্রি করলে তার দোকান উচ্ছেদ করা হবে। কোনোভাবেই এই এলাকায় মাদক ব্যবসা চলতে দেওয়া হবে না।”

বক্তারা বলেন, মাদক, জুয়া, তাস, চুরি ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধ যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং সমাজের শান্তি-কৃঙ্খলা নষ্ট করছে। এসব অপরাধ নির্মূলে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

এ সময় তারা আইনকৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি এলাকায় মাদক ব্যবসা, জুয়া ও সব ধরনের অসামাজিক কর্মকান্ড বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি একটি মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে সামাজিক প্রতিরোধ আন্দোলন আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

কর্মসূচিতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, যুবসমাজ, ধর্মপ্রাণ মুসল্লি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

 

পেলের ১৯৫৮ বিশ্বকাপ ফাইনালের জার্সি ৪৮ লাখ ৮৮ হাজার ডলারে বিক্রি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৮ অপরাহ্ণ
পেলের ১৯৫৮ বিশ্বকাপ ফাইনালের জার্সি ৪৮ লাখ ৮৮ হাজার ডলারে বিক্রি

ছয় দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ফুটবল সম্রাট পেলের আবেদন এতটুকুও কমেনি। ১৯৫৮ বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্রাজিলকে প্রথম শিরোপা জেতানোর ম্যাচে তার পরা জার্সি নিলামে বিক্রি হয়েছে রেকর্ড ৪৮ লাখ ৮৮ হাজার ডলারে (প্রায় ৪.৯ মিলিয়ন ডলার)। এটি পেলের স্মারক সামগ্রীর মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রির নতুন রেকর্ড।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক নিলাম প্রতিষ্ঠান সোথেবিস-এর আয়োজিত নিলামে জার্সিটি বিক্রি হয়। এর মধ্য দিয়ে পেলের স্মারক সামগ্রীর মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রি হয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে পেলের ১৯৫৮ সালের রুকি কার্ড ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি হয়েছিল ১৩ লাখ ৩০ হাজার ডলারে। যা সে সময় ফুটবলের প্রথম ১০ লাখ ডলারের কার্ড হিসেবে রেকর্ড গড়েছিল।

১৯৫৮ সালের সেই ফাইনালে পেলের বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা ও গোল করা সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে এখনও তার রেকর্ড অক্ষুণ্ন রয়েছে। সুইডেনের বিপক্ষে ওই ম্যাচে তিনি ৫৫ ও ৯০ মিনিটে দুটি গোল করেছিলেন।

ফাইনালের পর পেলে জার্সিটি তার সতীর্থ দিদাকে উপহার দিয়েছিলেন। পরে দিদা সেটি রিও ডি জেনেইরোর একটি জাদুঘরে দান করেছিলেন। ২০০৪ সালে সেই জাদুঘর জার্সিটি ক্রিস্টিজ- এর নিলামে তোলে। যেখানে সেটি বিক্রি হয়েছিল ১ লাখ ৫ হাজার ৬০০ ডলারে। এবার সোথেবিসের নিলামে জার্সিটির সঙ্গে ছবির মাধ্যমে সত্যতা যাচাইয়ের আনুষ্ঠানিক নথিও যুক্ত ছিল।

ব্রাজিলের পাঁচটি বিশ্বকাপ শিরোপার প্রথমটির স্মারক এই জার্সিটি এখন ফুটবল ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হওয়া জার্সি। তালিকার শীর্ষে রয়েছে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ‘হ্যান্ড অব গড’ ম্যাচে পরা ডিয়েগো ম্যারাডোনার জার্সি। ২০২২ সালে ৯.২৮ মিলিয়ন ডলারে সেটি বিক্রি হয়েছিল।