সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

উৎসবে আমতলায় নতুন বছরকে বরণ: ডিবি গার্লস স্কুলে প্রাণের মেলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:১৯ অপরাহ্ণ
উৎসবে আমতলায় নতুন বছরকে বরণ: ডিবি গার্লস স্কুলে প্রাণের মেলা

oplus_0

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভোরের সূর্যের আবির মাখা আলোয় যখন প্রকৃতি সেজেছিল নতুনের সাজে, তখনই সাতক্ষীরা সদরের ধুলিহর-ব্রহ্মরাজপুর (ডি. বি) মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের আমতলায় বেজে ওঠে শাশ্বত সেই সুর— ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’। জরাজীর্ণকে ধুয়ে মুছে নতুনকে স্বাগত জানাতে মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বসেছিল প্রাণের মেলবন্ধন। ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে বরণ করে নিতে দিনভর বর্ণিল উৎসবে মেতেছিল শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সুধীজন।

​জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হওয়ার পর একে একে পরিবেশিত হয় বৈশাখের বন্দনা। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’ গানের সাথে নেচে ওঠে কিশোরী শিক্ষার্থীদের মন। শুধু গান নয়, লোকজ সংস্কৃতির শেকড় সন্ধানে আয়োজনে ছিল পুঁথিপাঠ, জারিগান, পল্লীগীতি আর ভাটিয়ালির সুর। দেশাত্মবোধক গান ও কবিতার পঙ্‌ক্তিতে পঙ্‌ক্তিতে ফুটে ওঠে আগামীর জয়গান।

​অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল আবহমান বাংলার হারানো ঐতিহ্য। মাটির কলস আর কুলোর ওপর নিপুণ আলপনা, গ্রামীণ হাটের সেই পুরোনো ‘হালখাতা’র দোকান আর হারিয়ে যাওয়া ‘বায়স্কোপ’ যেন মুহূর্তের জন্য সবাইকে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল শৈশবের সেই মেলায়। স্কুলের আমতলায় আয়োজিত পান্তা উৎসবে শামিল হয়ে সবাই উপভোগ করেন বাঙালিয়ানার আসল স্বাদ। এর সাথে ছিল বর্ণাঢ্য এক শোভাযাত্রা, যা পুরো এলাকাকে উৎসবের রঙে রাঙিয়ে দেয়।

​বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ এমাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় এক মিলনমেলা বসেছিল।

প্রধান শিক্ষক মোঃ এমাদুল ইসলাম সকলকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ​”নতুন প্রজন্মকে আমাদের শেকড় ও সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দিতেই এমন আয়োজন। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের মুগ্ধ করেছে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেন সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক অনুজিত কুমার মন্ডল, সাবেক অভিভাবক সদস্য রবীন্দ্রনাথ কর্মকার, মিয়ারাজ হোসেন,  বিডিএফ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আরশাদ আলী, সমাজ সেবক জাহাঙ্গীর কবির, গ্রাম ডাক্তার জিয়াউর রহমান, সাংবাদিক জিএম আমিনুল হক, মেহেদী হাসান শিমুল, সিনিয়র শিক্ষক মোঃ নজিবুল ইসলাম, এসএম শহীদুল ইসলাম, মোঃ হাফিজুল ইসলাম, শামীমা আক্তার, খালেদা খাতুন, গীতা রানী সাহা, কনক কুমার ঘোষ, অরুণ কুমার মন্ডল, আজহারুল ইসলাম, আসমাতারা জাহান,  ভৈরব চন্দ্র পাল, আব্দুল্লাহ আল মামুন, দেলোয়ার হোসেন, লুৎফর রহমান, লুৎফুন্নেছা প্রমুখ।

​সাংস্কৃতিক পর্বে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আয়ুশী মল্লিক ও ঝিলিক সরকারের সুরেলা কণ্ঠের গান উপস্থিত দর্শকদের বিমোহিত করে। হালখাতা মহরত অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহিরা আক্তার মিম, সাবরিন সুলতানা, মারিয়া আক্তার ও জান্নাতুল মাওয়া। শিক্ষক মৃনাল কুমার বিশ্বাসের সুনিপুণ সঞ্চালনায় পুরো অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও গোছানো।

​বিকেলের পড়ন্ত রোদে যখন উৎসবের সমাপ্তি ঘটল, তখন সবার মনে একটাই প্রার্থনা— নতুনের এই জয়গান যেন সারা বছর ছড়িয়ে পড়ে সবার জীবনে।

Ads small one

কেশবপুর থানা পুলিশের অভিযানে আওয়ামী লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
কেশবপুর থানা পুলিশের অভিযানে আওয়ামী লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান পৌর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদকসহ দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে। গত রবিবার (৭ জুন) রাতে উপজেলার ভিন্ন স্থান থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কেশবপুর পৌর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সালাউদ্দিন (৩৯) ও ৩ নং মজিদপুর ইউনিয়ন কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম (৪৫)।

থানা সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার রাতে কেশবপুর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে উপজেলার হাবাসপোল গ্রামের আনোয়ারুল ইসলামের ছেলে কেশবপুর পৌর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সালাউদ্দীন এবং শ্রীফলা গ্রামের মৃত শওকত আলী খানের ছেলে ৩ নং মজিদপুর ইউনিয়ন কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম (৪৫) কে গ্রেপ্তার করেছে।

এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রোকসানা খাতুন বলেন, দুই জনই সুফলাকাটি ইউনিয়নের কলাগাছি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের করা মামলা নং-৬, ১২.১২.২০২৪ এর অরেন্টভুক্ত আসামি পৌর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সালাউদ্দীন এবং মজিদপুর ইউনিয়ন কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের যশোর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

পাইকগাছায় কাঁঠালের ফলন ভাল; দামে খুশী চাষি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৩:০৫ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় কাঁঠালের ফলন ভাল; দামে খুশী চাষি

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): বৈরী আবহাওয়া ও অতিরিক্ত তাপমাত্রায় পরও পাইকগাছায় আশানুরূপ কাঁঠালের ফলন হয়েছে। মৌসুম শুরুতে বৃষ্টি না হওয়ায় কাঁঠাল বৃদ্ধি কম হওয়ায় আকার ছোট হয়েছে। অধিকাংশ গাছের কাঁঠাল এবড়ো-খেবড়ো ও ছোট। জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে কাঁঠাল পাঁকা শুরু হয়েছে। বর্তমানে কাঁঠালের ভরা মৌসুম চলছে এবং বাজারে চড়া দামে কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ৩০ হেক্টর জমিতে কাঁঠাল গাছ রয়েছে। উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে গদাইপুর, হরিঢালী, কপিলমুনি, রাড়ুলীতে কাঁঠালের বাগান আছে। এবছর প্রায় এক হাজার ৫০মেট্রিক টন কাঁঠাল উৎপাদন হবে বলে কৃষি অফিস ধারণা করছে। তাছাড়া চাঁদখালী ও পৌরসভার আংশিক এলাকায় কিছু কিছু কাঁঠাল গাছ রয়েছে। এলাকায় পরিকল্পিত ভাবে কাঁঠাল বাগান গড়ে ওঠেনি। তবে মিশ্র বাগানে কাঁঠাল বাগান রয়েছে। কাঁঠাল কাঁঠের ব্যাপক চাহিদা থাকায় এলাকার বড় বড় গাছগুলো বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

কাঁঠাল কাঁচা ও পাকা উভয় অবস্থাতেই খাওয়া যায়। কাঁঠাল সবজি হিসাবেও বাজারে বিক্রি হয়। একটি কাঁঠাল ৫০ টাকা থেকে ৩শ টাকার অধিক দামে বিক্রি হচ্ছে। আষাঢ়-শ্রাবণ মাস কাঁঠাল পাঁকার উৎকৃষ্ট সময় হলেও জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ কাঁঠাল বাজার বেঁচা-কেনা হচ্ছে। কাঁঠাল রসালো ও সু-স্বাদু একটি ফল। কাঁঠাল প্রোটিন ও ভিটামিন সমৃদ্ধ ফল। শহর ও গ্রাম অঞ্চলের উভয় মানুষের কাছে খুবই পছন্দের। মানুষের সুস্থ্য সবল স্বাস্থ্যের জন্য ভিটামিনের অভাব পূরণে কাঁঠাল খাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। কাঁঠালের একটি বড়গুণ এর কোন কিছু বাদ যায় না।

 

কাঁঠালের কোষ, খোসা ও বিচি সব কিছুই প্রয়োজনীয়। বিচি উৎকৃষ্টমানের সবজি হিসাবে তরকারি রান্না করে খাওয়া হয়। কাঁঠালের খোসা গরু-ছাগলের প্রিয় খাদ্য। তাছাড়া কাঁঠালের পাতা ছাগল-ভেড়া-গরুর প্রিয় খাবার হিসাবে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কাঁঠাল উৎপাদনে কোন খরচ না থাকায় চাষীরা লাভবান বেশি হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন জানান, উপজেলায় কাঁঠালের ফলন ভাল হয়েছে এবং বাজার মূল্য ভালো। কাঁঠাল গাছ লাগাতে তেমন কোন খরচ হয় না। শুধু বাগান পরিচর্যা করলে চলে। এতে করে কৃষকরা কাঁঠাল গাছ থেকে বেশি ফলন পাবে ও লাভবান হবে। এজন্য কাঁঠাল গাছ লাগাতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

 

 

কলারোয়ায় ‘শিষ্টাচার ও নৈতিকতায় সফল শিক্ষক’ মুজিবুর রহমান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৩:০০ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় ‘শিষ্টাচার ও নৈতিকতায় সফল শিক্ষক’ মুজিবুর রহমান

সংবাদদাতা: কর্মক্ষেত্রে অনন্য নৈতিকতা, সততা ও শিষ্টাচার প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘শিষ্টাচার ও নৈতিকতা প্রয়োগে সফল শিক্ষক’ হিসেবে বিশেষ সম্মাননা লাভ করেছেন সাতক্ষীরার কলারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মুজিবুর রহমান। কলারোয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কর্তৃক তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই গৌরবময় স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।

গত ৪ জুন ২০২৬ (২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ) কলারোয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সরকারি পত্রে এই অনন্য অর্জনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

দাপ্তরিক সূত্রে জানা যায়, কর্মক্ষেত্রে নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা এবং শিষ্টাচারের সর্বোত্তম ও সফল প্রয়োগের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে অনন্য অবদান রাখায় তাকে এই বিশেষ স্বীকৃতিতে ভূষিত করা হলো।

এ বিষয়ে কলারোয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মাসুদুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং কোমলমতি শিশুদের মাঝে নৈতিকতার বীজ বুনে দিতে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। মুজিবুর রহমান তার কর্মক্ষেত্রে সততা, আদর্শ এবং শিষ্টাচারের যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমাদের বিশ্বাস, এই স্বীকৃতি উপজেলার অন্য সকল শিক্ষককেও কর্মক্ষেত্রে আরও বেশি দায়িত্বশীল ও নৈতিক আচরণে উদ্বুদ্ধ করবে।”

এদিকে কলারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মুজিবুর রহমান এই গৌরবময় সম্মাননা লাভ করায় উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সহকর্মী শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ এবং অভিভাবক মহলের পক্ষ থেকে তাকে ঢালাও অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় সকলে তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

উক্ত আদেশের অনুলিপি ইতিমধ্যে সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভাগীয় উপ-পরিচালক (প্রাথমিক শিক্ষা, খুলনা বিভাগ), কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (সাতক্ষীরা) এবং সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।