বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

এইচএসসির ফল বিপর্যয়: আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার ঘাটতি কোথায়?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ণ
এইচএসসির ফল বিপর্যয়: আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার ঘাটতি কোথায়?

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় গড় পাসের হার গত বছরের ৫৮.৮৩ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৫২.১২ শতাংশে। সারা দেশে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। এই সংখ্যা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; বরং আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাদানের দুর্বলতাকে নতুন করে সামনে এনেছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে পাসের হারের পতনে। সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পাসের হার নেমে এসেছে ৫১.৬২ শতাংশে, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে শূন্য পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৯টিতে। এই ফলাফল মনে করিয়ে দেয়, নম্বর বাড়িয়ে ভালো ফল দেখানোর প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে আমরা এখন শিক্ষার প্রকৃত মান নিয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি।

এবারের ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে বাধ্যতামূলক বিষয়, বিশেষ করে ইংরেজি ও গণিতে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অকৃতকার্যতার বিষয়টি সামনে এসেছে। শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত পাঠদানের অভাব, দুর্বল পাঠ্যক্রম এবং প্রশ্নপদ্ধতির পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে।

পাশাপাশি, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় কোচিংনির্ভর মুখস্থবিদ্যার সংস্কৃতিও উদ্বেগজনক। প্রশ্ন সামান্য ঘুরিয়ে বা বিশ্লেষণধর্মী করে উপস্থাপন করা হলে মুখস্থবিদ্যার ওপর নির্ভরশীল শিক্ষার্থীরা অনেক সময় উত্তর দিতে পারে না। ফলে তাদের প্রকৃত দক্ষতা ও বোঝার সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা প্রকাশ পায়। এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে, শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার প্রস্তুতি নয়, বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ও অনুধাবনশক্তি বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

ফলাফলের এই বিপর্যয়ের পর শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ঘাটতির কথা স্বীকার করেছেন এবং অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এই পদক্ষেপকে পূর্ণাঙ্গ সমাধান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীরা দুই বছরে যে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি, তা মাত্র কয়েক সপ্তাহে কতটা আয়ত্ত করতে পারবে? যথাযথ প্রস্তুতি ও সহায়তা ছাড়া পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দিলে অনেকে হয়তো প্রশ্নব্যাংক মুখস্থ করার দিকে ঝুঁকবে। এতে শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সমস্যার সমাধান হবে না।

বর্তমানে আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাস্তবতার মধ্যে বাস করছি। এ সময়ে জটিল সমস্যা সমাধান, বিশ্লেষণী চিন্তা, সৃজনশীলতা ও বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা অর্জন অত্যন্ত জরুরি। অথচ আমাদের মূল্যায়নপদ্ধতির বড় একটি অংশ এখনো মুখস্থনির্ভর। ফলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিলেও বাস্তব জীবনে জ্ঞান প্রয়োগের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়তে পারে।

২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার খারাপ ফলাফলকে কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত মেধার ব্যর্থতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর পেছনে শিক্ষাদান পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা, শিক্ষকসংকট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বৈষম্য এবং শিক্ষার মান নিশ্চিত করার ঘাটতির মতো বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন শিক্ষাব্যবস্থার কার্যকর সংস্কার। শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা, ইংরেজি ও গণিতের ভিত্তি মজবুত করা, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রশ্নপদ্ধতিতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং মুখস্থবিদ্যার পরিবর্তে অনুধাবন ও দক্ষতাভিত্তিক মূল্যায়ন চালু করার উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি, যেসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য বা অত্যন্ত কম, সেসব প্রতিষ্ঠানের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

এইচএসসির ফল বিপর্যয়কে কেবল একটি খারাপ খবর হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং এটিকে শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার শুরুর একটি সতর্কবার্তা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ওপর দায় চাপিয়ে নয়, বরং শিক্ষার পরিবেশ, পাঠদান ও মূল্যায়নপদ্ধতির উন্নয়নের মধ্য দিয়েই এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে হবে।

(লেখকের নিজস্ব মতামত)।

Ads small one

টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গুলি বিনিময়ে সেনাসদস্য নিহত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ
টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গুলি বিনিময়ে সেনাসদস্য নিহত

কক্সবাজার টেকনাফে মানবকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রতিবাদে প্রশ্নে বাংলাদেশ পাচারের এক সদস্য যোগদান করেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকালে রঙ্গীখা ঘূর্ণিঝড় পাহাড়ে এ প্রচারণা।

চতুষ্পদসদস্যের নাম মো. তাতাস শেখ (২৭)। তিনি একপর্যায়ে বাম কাঁধে গুলিবিদ্ধ হন। নিখুঁত রক্তক্ষরণে কার্যকরী তাকে উদ্ধার করে পরীক্ষা প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সম্মিলিত প্রতিষ্ঠান (সিএমএইচ), রাতে নেওয়া হলে ধর্মীয় তাকে মর্যাদা দেন।

আন্তঃ বৃহৎ জনসংযোগ পরিদফের (আইএসপিআর) তথ্যের তথ্য অনুযায়ী, গো মানবা খবরে খবর পাওয়া যায়, রাণীখালী গভীর পাহাড়ে ১৫ থেকে ১৬ এর একটি সশস্ত্রী দল প্রায় ১২০ জন ও বাংলাকে জিম্মি করে তুলেছে। এ তথ্যের প্রকাশক বাংলাদেশভির ১০ পদাতিক ডিশন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিটী) ও স্থানীয় পুলিশ সদস্য গঠিত দল আভিযান বিজানা বিক্রেতা বিক্রেতা আকালানুক্রমিক প্রকাশ্য।

এ সময় পাওয়ার সদস্য সস্ত্রীক উপস্থিতি টেরটি মানবপাচারকারী এপাতাড়ি চালায়। ব্যাঙ্গ পার্টির মধ্যে ব্যবহার করা হয়।

যুদ্ধে সেনা বার থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় বন্দুক ও চার রাউন্ড গোলাকে উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া এ ছাড়া পাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যের দল এবং জিম্মিকে ৫৭ পরিস্থিতি উদ্ধার করা হয়।

ধর্মরত সেনাসদস্যের আত্মত্যাগের কথা বলা বাংলাদেশকে গভীর শ্রদ্ধা জানাতে। একই সাথে তার বিহীর আত্মার মাগফিরাত কামনা গভীর এবং শোকসন্তান সদস্যদের প্রতি সমবেদনা।

ট্রাম্প-ভ্যান্স দূরত্ব বাড়ছে, হারের পর রিপাবলিকানদের মধ্যে চরম কোন্দল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
ট্রাম্প-ভ্যান্স দূরত্ব বাড়ছে, হারের পর রিপাবলিকানদের মধ্যে চরম কোন্দল

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বিশাল পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ বিভেদ প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদ, সিনেট, গভর্নর ও অঙ্গরাজ্য আইনসভাগুলোতে শোচনীয় হারের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে এই দুই শীর্ষ নেতা পরোক্ষভাবে একে অপরকে দোষারোপ করছেন।

সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ দেওয়া এক দীর্ঘ ও সতর্ক বার্তায় জেডি ভ্যান্স মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের হারের পেছনে ইরান যুদ্ধ, জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়, আমেরিকা ফার্স্ট নীতির অনুপস্থিতি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ট্রাম্প যেখানে টানা কয়েক মাস ধরে ইরান যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন, সেখানে ভ্যান্সের প্রকাশ্যে এই স্বীকারোক্তি মার্কিন সামরিক অভিযানের দেশীয় নেতিবাচক প্রভাবকেই স্পষ্ট করে তুলেছে।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে ইরান যুদ্ধ নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে, তবে এ নিয়ে কোনও আক্ষেপ নেই জানিয়ে বলেন, সুযোগ পেলে তিনি আবারও একই কাজ করবেন।

ভ্যান্সের বিশ্লেষণ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প অস্পষ্ট উত্তর দিয়ে বলেন, আমি জানি ও কীভাবে দেখে। আমার মনে হয় এটি ঠিকই ছিল। আমরা জানতাম পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ওদের থামানো গেছে এবং তারা আর কখনও তা পারবে না।

এর পরেই তিনি মন্তব্য করেন, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভ্যান্স ‘হয়তো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না।’ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, হয়তো সে লড়বে না, আমি জানি না কে লড়বে। তবে যুদ্ধের বিষয়ে আমি বলতে পারি, আমি আলাদা কিছু করতাম না।

ভ্যান্সের এই বক্তব্যকে ট্রাম্পের নীতি থেকে নিজেকে খানিকটা আলাদা করার চেষ্টা হিসেবে দেখা হলেও প্রশাসন থেকে তিনি পুরোপুরি মুক্ত হতে পারছেন না। অপর দিকে ভ্যান্স ২০২৮ সালে ট্রাম্পের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হতে পারেন বলে যে গুঞ্জন ছিল, ট্রাম্পের এই মন্তব্য তাতে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

এদিকে কেবল শীর্ষ দুই নেতার মধ্যে নয়, নির্বাচনের এই ভরাডুবির পর পুরো রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেই নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা নিয়ে তীব্র তর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডেসান্টিস সতর্ক করে বলেছেন, দল যদি তার দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্মূল্যায়ন না করে তবে দীর্ঘমেয়াদি নির্বাচনি ধাক্কার মুখোমুখি হতে হবে। টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ এক পডকাস্টে শ্রমজীবী মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যা শোনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের শুনতে হবে এবং সাড়া দিতে হবে। টেক্সাস এখন নীল হয়ে যাচ্ছে। শুল্কনীতি, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ এবং ডাটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনার মধ্যেও ক্রুজ সুর মিলিয়েছেন।

সাবেক রিপাবলিকান সিনেটর মিট রমনি এক্স-এ ট্রাম্পের শুল্কনীতি, ‘আবেগপ্রবণ’ যুদ্ধ এবং দৃশ্যমান দুর্নীতির সমালোচনা করে লিখেছেন, বাজে নীতি এবং বাজে চরিত্র কখনও ভালো রাজনীতি তৈরি করে না। দেশ এবং আমার দলের সঠিক পথে ফেরার আশায় রইলাম।

সব মিলিয়ে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর রিপাবলিকান পার্টি এখন বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশলেই দল সামনে এগোবে, নাকি নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে, সেই লড়াই ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে এখনই শুরু হয়ে গেছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

দালাল স্ট্রিটে উৎসব, এক ঘণ্টায় লাভ ৭ লাখ কোটি রুপি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
দালাল স্ট্রিটে উৎসব, এক ঘণ্টায় লাভ ৭ লাখ কোটি রুপি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট ইতিবাচক পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে ভারতের শেয়ারবাজারে। অপরিশোধিত তেলের তীব্র দরপতন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কেনাকাটার জোয়ার এবং মার্কিন শেয়ারবাজার ওয়াল স্ট্রিটের চাঙ্গা ভাবের ওপর ভর করে বৃহস্পতিবার ভারতীয় শেয়ারবাজারে বিশাল উত্থান ঘটেছে। লেনদেন শুরুর মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই দালাল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সম্পদ প্রায় ৭ লাখ কোটি রুপি বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক সেনসেক্স ১,৩০০ পয়েন্টের বেশি বেড়ে ৭৮,৬৩০ পয়েন্টে এবং নিফটি ৫০ সূচক ২৪,৩৫০ পয়েন্ট অতিক্রম করে। এটি ভারতের শেয়ারবাজারে টানা ষষ্ঠ কার্যদিবসের মতো দরবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখলো। সকাল ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ সেনসেক্স ১,৪০০ পয়েন্ট বেড়ে ৭৮,৭৩৫.৭৯ এবং নিফটি ৪৩১ পয়েন্ট বেড়ে ২৪,৩৮৯.৫৫ পয়েন্টে পৌঁছায়।

লেনদেন শুরুর সময় সেনসেক্স তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মোট বাজারমূল্য ছিল ৪৯৩.৪৪ লাখ কোটি রুপি, যা এক ঘণ্টার মধ্যেই বেড়ে দাঁড়ায় ৫০০.৯১ লাখ কোটি রুপি, অর্থাৎ প্রায় ৭ লাখ কোটি রুপির নিট বৃদ্ধি। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ওভারনাইট লেনদেনে মার্কিন শেয়ারবাজার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর পর এই প্রভাব দেখা গেলো।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে শেয়ারবাজার বাড়ার প্রধান ৩ কারণ তুলে ধরা হয়েছে।

তেলের দামে ৮ শতাংশ ধস: ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরান সংঘাত কমানোর দিকে হাঁটবে, বিনিয়োগকারীদের এমন প্রত্যাশায় ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৮.৭ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৯৪ ডলারে নেমে আসে। তেল আমদানিনির্ভর ভারতের জন্য তেলের এই মূল্যহ্রাস আমদানি খরচ ও মূল্যস্ফীতি কমাবে এবং রুপিকে শক্তিশালী করবে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাবর্তন: বুধবার বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতে ৭,২৮৪ কোটি রুপির শেয়ার কেনেন, যা বিগত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে প্রায় ৯০,০০০ কোটি রুপির শেয়ার বিক্রির পর নভেম্বরে এ পর্যন্ত তারা ১৭,০০০ কোটি রুপির বেশি বিনিয়োগ করেছেন।

ওয়াল স্ট্রিটের চাঙ্গা ভাব: রাজনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা কমার পর এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ১.৬ শতাংশ এবং ডাউ জোন্স প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে ঝুঁকির মাত্রা কমে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

আয়নিক অ্যাসেটের গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট প্রধান অঙ্কিতা পাঠক বলেন, নির্বাচনি ফলাফলে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি কিছুটা কমবে। তবে জানুয়ারিতে নতুন আইনপ্রণেতারা শপথ নেওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট হবে।

তিনি উল্লেখ করেন যে, মার্কিন বন্ডের সুদ ও ডলার দুর্বল হলে উদীয়মান বাজার ও স্বর্ণ উপকৃত হতে পারে। তা সত্ত্বেও তিনি সতর্ক করে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের ডেটা সেন্টার ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর নতুন কংগ্রেসে নজরদারি বাড়তে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি