কাকার ইটের আঘাতে দপ্তরি ভাইপো গুরুতর আহত, হাসপাতালে ভর্তি
নিজস্ব প্রতিনিধি: তালা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের মাদরা গ্রামে পারিবারিক ও কর্মক্ষেত্রের বিরোধের জেরে কাকার পরিবারের হামলায় সুমন রায় (৩২) নামের এক স্কুল দপ্তরি গুরুতর আহত হয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত সুমন রায় মাদরা গ্রামের শ্যামল রায়ের ছেলে। তিনি স্থানীয় ৪১ নম্বর মাদরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি পদে কর্মরত আছেন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ৪১ নম্বর মাদরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অমল রায় সম্পর্কে সুমনের আপন কাকা। প্রধান শিক্ষক হওয়ার সুবাদে অমল রায় দীর্ঘদিন ধরে সুমনকে বিদ্যালয়ের কাজের বাইরেও তাঁর ব্যক্তিগত নানা কাজ করতে বাধ্য করতেন। ব্যক্তিগত কাজে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন সময় সুমনকে মারধর ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। রোববার বিদ্যালয়ের টিফিনের বিরতিতে সুমন রায় দুপুরের খাবার খেতে বাড়িতে আসেন। এ সময় মন্দিরে বালু ফেলাকে কেন্দ্র করে কাকা অমল রায়ের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বিরোধ চরম আকার ধারণ করলে অমল রায় ও তাঁর স্ত্রী মুন্নি রায় সুমনকে জাপটে ধরেন। পরে অমল রায়ের দুই ছেলে অনুপম রায় ও দীপন রায় লোহার রড ও ইট দিয়ে সুমনকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় ও শরীরে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। হামলায় ছোট ছেলে সুমনের গলা চেপে ধরলে তিনি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরে সুমনের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাঁকে রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী সুমনের পরিবারের সদস্যরা জানান, কর্মক্ষেত্র ও পারিবারিক সম্পর্কের প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই নির্যাতন চালানো হচ্ছিল। এই হামলার সুষ্ঠু বিচার এবং জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।









