কালিগঞ্জ কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-দখলবাজির অভিযোগ
পত্রদূত রিপোর্ট: কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মোঃ রোকনুজ্জামান রোকন এর দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকা-, ব্যাপক চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা, সাংবাদিক নির্যাতন, সংখ্যালঘু পরিবারকে উচ্ছেদ ও নানাবিধ অপকর্মের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির ভাবমূর্তি। জনপ্রিয় দল বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে বহুল বিতর্কিত রোকনুজ্জামান রোকনের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট লিখিত আবেদন জানিয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শামীম কবির সুমন।
শামীম কবির সুমন লিখিত অভিযোগে জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রোকনুজ্জামান রোকন কালিগঞ্জ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চাঁদাবাজি, মাছের ঘের, মার্কেট ও বাড়িঘর দখলসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। আর এসব বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রকাশ্যে হুমকি-ধামকি প্রদর্শন ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন রোকনুজ্জামান রোকন ও তার পোষা সন্ত্রাসী বাহিনী।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব কর্মকা-ের অভিযোগে ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় কৃষক দল তাঁর আহ্বায়ক পদ স্থগিত করেছিল। তবে পরবর্তীতে সাতক্ষীরা-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন এবং জেলা বিএনপির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আইয়ুব হোসেন মুকুলের সুপারিশে তাঁর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
পদ ফিরে পাওয়ার পর রোকনুজ্জামান রোকন আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তাঁর কর্মকা-ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয় এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। অভিযোগে জানানো হয়, ২০২৬ সালে ১৬ জুন বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের সনাতন ধর্মাবলম্বী জগদাস বন্ধুর বাড়িতে দলবল নিয়ে হামলা চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের মারধর, বাড়িঘর দখল এবং বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া ১৮ জুন জেলা বিএনপি ও জেলা কৃষক দলের পক্ষ থেকে রোকনুজ্জামান রোকনকে কারণ দর্শানোর জন্য ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে নোটিশ প্রদান করলেও অজ্ঞাত কারণে পরবর্তীতে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। এতে জেলা নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
লিখিত আবেদনে তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার, ভুক্তভোগী সংখ্যালঘু পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের সম্পত্তি পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ছাত্রশিবির থেকে অপকর্মের কারণে বিতাড়িত হয়ে কৃষকদলে যোগ দেওয়া রোকনুজ্জামান এখন বিএনপির জন্য বিষফোঁড়ায় পরিণত হয়েছে। চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও বিভিন্ন অপকর্মের জন্য সে গড়ে তুলেছে একটি বাহিনী। রোকনুজ্জামান রোকন এখন দলের সিনিয়র নেতাদের সম্পর্কে তুচ্ছতাচ্ছিল্যমূলক কথাবার্তা বলার পাশাপাশি চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করছেন। এর ফলে দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে উল্লেখ করে তারা বলেন, ছাত্রশিবির থেকে বিতাড়িত হয়ে বিএনপির আশ্রয়ে এসে রোকনুজ্জামান এখন আওয়ামী লীগের আলোচিত নেতা শামীম উসমান এর মতো ভয়ঙ্কর আচরণের মাধ্যমে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছেন। মামলাবাণিজ্য ও বিভিন্ন অপকর্ম করে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা যা সুষ্ঠু তদন্তে বেরিয়ে আসবে। দলের বৃহত্তর স্বার্থে বহুল বিতর্কিত রোকনুজ্জামান রোকন এর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য রোকনুজ্জামান রোকনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কল রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।









