সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

কেশবপুরে দুই যুগ ধরে বিনা ভাড়ায় ব্যবসা করছে ২৮ দোকানদার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে দুই যুগ ধরে বিনা ভাড়ায় ব্যবসা করছে ২৮ দোকানদার

এম আব্দুল করিম, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে প্রাণকেন্দ্র থানার মোড় সংলগ্ন আজাদ মার্কেটে দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় ধরে ২৮ জন ব্যবসায়ী দোকান পাতিয়ে ব্যবসা করলেও তাদের কাছ থেকে নেওয়া হয়নি কোন ভাড়া। যার ফলে অসচ্ছল ওই ব্যবসায়ী পরিবারগুলো আর্থিক ভাবে পাচ্ছে বাড়তি সুবিধা। আর এই মানবিক এবং মহৎ কাজটি করছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হোসেন আজাদ।

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, কেশবপুর আজাদ মার্কেটটি আনুমানিক ৪০ শতক জমির উপর প্রায় ২৫ বছর ধরে ২৮জন দোকানদার গড়ে তুলেছেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠন। আর এই জায়গার মালিক কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হোসেন আজাদ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জমিটি উন্মুক্ত রেখে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দোকান পরিচালনার সুযোগ দিয়েছেন।

মার্কেটটিতে মোট ২৮টি দোকান রয়েছে। এসব দোকানে পোশাক জামাকাপড়ের ব্যবসা পরিচালিত হলেও দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে দোকান ভাড়া নেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ফলে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী স্বল্প খরচে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছেন।

স্থানীয়দের মতে, সাধারণত বাণিজ্যিক মার্কেটে দোকান ভাড়া, অগ্রিম ও অন্যান্য খরচ ব্যবসায়ীদের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু আজাদ মার্কেটে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া না নেওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা তুলনামূলক স্বস্তিতে রয়েছেন। এ উদ্যোগকে অনেকে মানবিকতা ও সামাজিক কাজের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। ভাড়া না নেওয়ার কারণে ব্যবসা পরিচালনায় কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায় এবং নিজেদের পুঁজি ব্যবসার কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

ব্যবসায়ীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিনা ভাড়ায় ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়ার এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে। বর্তমান সময়ে এমন উদর মানসিকতার মানুষের খুব অভাব।

আমাদের কাছ থেকে জায়গা ভাড়া না নেওয়ায় কম লাভে মালামাল বিক্রি করতে পারছি। ফলে একদিকে যেমন আমারা উপকৃত হচ্ছি তেমনি ক্রেতারাও লাভবান হচ্ছে।

Ads small one

ডেঙ্গুতে একদিনে ৮ জনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে একদিনে ৮ জনের মৃত্যু

সারা দেশে একদিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় তাদের মৃত্যু হয়। এছাড়া এই সময়ের মধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রন্ত হয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৩৩ জন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৭০১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯১ জন, খুলনা বিভাগে ৩০২ জন, রংপুর বিভাগে ৮৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৪৫ জন, বরিশাল বিভাগের ১৯১ জন এবং সিলেট বিভাগে সাত জন আক্রান্ত হয়েছেন।

আরও জানানো হয়, চলতি বছরের শুরু থেকে আজকে পর্যন্ত সারা দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৩ হাজার ৫৭০ জন। এদের মধ্যে ৪৯ হাজার ৩৭৫ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। আর বর্তমানে হাসপাতালে ৪ হাজার ৩৮ জন চিকিৎসাধীন আছেন। এই সময়ের মধ্যে মোট মারা গিয়েছেন ১৫৭ জন।

সাত ধাপে হবে ইউপি নির্বাচন, কোন ধাপ কবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ
সাত ধাপে হবে ইউপি নির্বাচন, কোন ধাপ কবে

আগামী ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্রথম ধাপের নির্বাচন। স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সাতটি ধাপে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কমিশন বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘দেশের মোট ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে ৪ হাজার ৫৮০টি। এসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সাতটি ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর। চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি। পঞ্চম ধাপ আগামী বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল, সপ্তম ধাপ ২৭ মে।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম ধাপে ৮০টি উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে পারি আমারা। এগুলো আমরা প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা হবে। আমরা তৃতীয় ধাপে এ আলোচনা করবো।’

প্রাণ জুড়ানো সবুজ নিঃশ্বাস: বাংলাদেশের শীর্ষ ৫ অক্সিজেনদাতা গাছ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২৮ অপরাহ্ণ
প্রাণ জুড়ানো সবুজ নিঃশ্বাস: বাংলাদেশের শীর্ষ ৫ অক্সিজেনদাতা গাছ

তারিক ইসলাম

‎আজকের কংক্রিটের শহরে নিঃশ্বাস নেওয়া যেন এক কঠিন সংগ্রাম। মাত্রাতিরিক্ত নগরায়ণ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া আর অপরিকল্পিত শিল্পায়ন প্রতিনিয়ত আমাদের চারপাশের বাতাসকে বিষাক্ত করে তুলছে। এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে কেবল যেকোনো গাছ লাগালেই চলবে না, বরং প্রয়োজন এমন সব উদ্ভিদ নির্বাচন করা যা অধিক পরিমাণে অক্সিজেন উৎপাদন এবং বাতাস পরিশুদ্ধ করতে সবচেয়ে বেশি পারদর্শী। বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটিতে প্রাকৃতিকভাবেই এমন কিছু গাছ জন্মে, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর।
‎আমাদের পরিবেশ রক্ষায় সহায়ক এমন শীর্ষ ৫টি উচ্চ অক্সিজেন প্রদানকারী গাছের বিবরণ তুলে ধরা হলো:

‎১. অশ্বত্থ গাছ
‎তালিকার শীর্ষেই রয়েছে অশ্বত্থ গাছ। এর রয়েছে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণের অসামান্য ক্ষমতা। সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, বিশেষ মেটাবলিক প্রক্রিয়া বা ‘ক্যাম’ পাথওয়ের কারণে এটি রাতের বেলাতেও বায়ুমন্ডলে অক্সিজেন নির্গত করতে সক্ষম। এর সুবিশাল ক্যানোপি বা পাতার বিস্তার বাতাস থেকে প্রচুর ধূলিকণা দূর করে এবং শহুরে উষ্ণতা কমাতে দারুণ কার্যকরী।

‎‎২. বট গাছ
‎আমাদের গ্রামীণ জনপদের চিরচেনা বট গাছ তার বিশাল আকৃতি এবং সুবিশাল ডালপালার কল্যাণে এক একটি প্রাকৃতিক অক্সিজেন কারখানা। এর পাতার মোট উপরিভাগ বা সারফেস এরিয়া অনেক বেশি হওয়ায় সালোকসংশ্লেষণের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়। বিপুল পরিমাণ সবুজ পাতার প্রাচুর্য থাকায় এটি আশেপাশের পরিবেশকে সবসময় শীতল ও সতেজ রাখে।

‎‎৩. নিম গাছ
‎পরিবেশবান্ধব গাছের তালিকায় নিম গাছের নাম সর্বাগ্রে আসে। এটি কেবল দিনের বেলায় বিপুল পরিমাণ অক্সিজেনই তৈরি করে না, বরং বাতাসকে প্রাকৃতিক ফিল্টার হিসেবে পরিষ্কার রাখে। বায়ুমন্ডলের ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাস শোষণ করে পরিবেশ ঠান্ডা রাখতে এবং বাতাসকে বিষমুক্ত করতে নিম গাছের জুড়ি মেলা ভার।

‎‎৪. অর্জুন গাছ
‎রাস্তার ধার কিংবা মেঠোপথে পরম যতেœ বেড়ে ওঠা অর্জুন একটি ঘন পাতার চিরহরিৎ গাছ। এর চওড়া ক্যানোপি দ্রুতগতিতে বাতাস থেকে কার্বন সেকুয়েস্ট্রেশন (কার্বন আটকে রাখা) কাজটি নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করে। ফলস্বরূপ, এই গাছটি প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন বায়ুমন্ডলে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম।

‎৫. জাম গাছ
‎আমাদের চেনা পরিচিত জাম গাছ অত্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং এর পাতার ঘনত্ব বেশ বেশি। এটি বাতাস থেকে সালফার ডাই অক্সাইড ও নাইট্রোজেন অক্সাইডের মতো মারাত্মক দূষিত উপাদানগুলো শুষে নিয়ে বিশুদ্ধ অক্সিজেন ফিরিয়ে দিতে অত্যন্ত পারদর্শী। দূষণ রোধ ও পরিবেশ সুরক্ষায় এই ফল গাছের অবদান অনস্বীকার্য।

‎বায়ুদূষণের এই চরম সংকটময় সময়ে আমাদের বাড়ির আঙিনা, গ্রামীণ সড়ক, মহাসড়কের পাশ কিংবা কংক্রিটের শহুরে চত্বরে অশ্বত্থ, বট, নিম, অর্জুন ও জামের মতো উপকারী গাছগুলো সংরক্ষণ ও রোপণ করা অত্যন্ত জরুরি। একটি সবুজ, সুস্থ ও প্রাণবন্ত ভবিষ্যৎ গড়তে এখনই আমাদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

‎লেখক: তারিক ইসলাম, ‎সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।