সম্পাদকীয়/মরিচ্চাপের তীব্র ভাঙন: দ্রুত স্থায়ী পদক্ষেপ চাই
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী গোয়ালডাঙ্গা বাজারসংলগ্ন মরিচ্চাপ নদীর তীব্র ভাঙন চরম উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক ভাঙনে কেবল শত বছরের পুরোনো বাজারই নয়, স্থানীয় জামে মসজিদ, বিভিন্ন সামাজিক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং শত শত পরিবারের বসতভিটা ও ফসলি জমি চরম হুমকির মুখে পড়েছে। নদীভাঙনের কারণে ঘরবাড়ি ও ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ওই এলাকার নদীর পাড়ের বাসিন্দারা। এমন পরিস্থিতিতে নদীর ভাঙন রোধে অবিলম্বে কার্যকর ও স্থায়ী টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৩ সালের শুরুতে মরিচ্চাপ নদী খননকালে নদীর মুখ প্রায় ২০০ ফুট প্রসারিত করা হলেও গোয়ালডাঙ্গা বাজার এলাকায় নদী সংস্কার বা প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। খনন বাস্তবায়নের পরপরই নদীর নাব্যতা ও পানির প্রবাহ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তীব্র স্রোতের কারণে এই ভাঙন শুরু হয়। পূর্বে সমস্যাটি পরিদর্শনের পর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় প্রশাসন থেকে সাময়িকভাবে কিছু বালুর বস্তা (জিও ব্যাগ) ফেলা হয়েছিল। কিন্তু নদীতীরের দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এটি যে কোনো সমাধান ছিল না, তা নদীর তলদেশে জিও ব্যাগ দেবে গিয়ে পুনরায় ভাঙন দেখা দেওয়ার মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়েছে।
নদীভাঙন কেবল নদীর পারের মাটি গ্রাস করে না; তা স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনের স্বাভাবিক গতিকেও তছনছ করে দেয়। গোয়ালডাঙ্গা বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্য ভেস্তে গেলে শত শত পরিবার জীবিকা হারাবে। নদী এখন লোকালয় ও বসতঘরের একেবারেই কাছাকাছি চলে এসেছে। দ্রুত ও টেকসই জিও ব্যাগ ডাম্পিং এবং পরবর্তীতে স্থায়ী রিঅ্যাকশন ব্লক বা শক্ত বাঁধ নির্মাণ না করা হলে এ অঞ্চলে বড় ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংসদ সদস্য এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেনÑএটি আশাব্যঞ্জক। তবে আশ্বাস যেন শুধু আমলাতান্ত্রিক ও সাময়িক পদক্ষেপে সীমাবদ্ধ না থাকে। বর্ষা ও জোয়ারের রূপ আরও ভয়াবহ হওয়ার আগেই পানি উন্নয়ন বোর্ডকেজরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। উপকূলীয় মানুষের ভিটেমাটি ও সম্পদ রক্ষায় কালক্ষেপণ না করে দ্রুত টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়ন করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।









