কেশবপুরে মিড ডে মিল বিতরণ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ
এম আব্দুল করিম, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত মিড ডে মিল কর্মসূচীর খাবারে পঁচা ডিম-কলা ও বাসী রুটি সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। সরবরাহ ব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ও মানসম্মত খাবার পাচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিতকরণ, স্কুলে উপস্থিতি বাড়ানোসহ ঝরেপড়া রোধে চালু করা এ কর্মসূচীতে নিন্মমানের খাবার সরবরাহ করায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা।
জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত ও ঝরেপড়া রোধে সরকার মিড ডে মিল কর্মসূচী গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের এপ্রিল থেকে এ উপজেলার ১৫৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু করা হয়। এসব বিদ্যালয়ের ২৭ হাজার ৪৪১ জন শিক্ষার্থী প্রতি সপ্তাহে পাচ্ছে ৫১ লাখ ২৮ হাজার ৭২২ দশমিক ৯ টাকার খাদ্য সামগ্রী। সপ্তাহের ৫ দিন প্রতিজন শিক্ষার্থীর জন্যে বরাদ্দ ৯১ দশমিক ৩১ টাকার খাদ্য। প্রতি রবি, বুধ ও বৃহস্পতিবার ২৯ লাখ ৯৪ হাজার ৮৭ দশমিক ৫১ টাকা মূল্যের শিক্ষার্থী প্রতি একটি করে ডিম, ১২০ গ্রাম ওজনের দুটি করে বনরুটি দেয়ার কথা। সোম ও মঙ্গলবার ৫১ লাখ ২৮ হাজার ৭২২ দশমিক ৯ টাকা মূল্যের ১০০ গ্রাম ওজনের একটি করে কলা, এক প্যাকেট বিস্কুট ও ২০০ গ্রাম ওজনের এক প্যাকেট লিকুইড দুধ ও বনরুটি দেয়ার কথা। এর সরকারি ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয় প্রতিটি কলা ৯ দশমিক ৭৯ টাকা, দুটি বনরুটি ২২ দশমিক ৮৫ টাকা, ডিম ১৩ দশমিক ৫২ টাকা, বিস্কুট ১৬ দশমিক ২৫ টাকা ও দুধ ২৮ দশমিক ৯০টাকা। এর মধ্যে দুধ দেয় আকিজ কোম্পানী, বিস্কুট প্রাণ কোম্পানী এবং বনরুটি, কলা ও ডিম দেয় বেসরকারি সংগঠন সুশীলন।
অভিযোগ উঠেছে, নি¤œমানের খাবার ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ও মানসম্মত খাবার পাচ্ছে না। সরবরাহকৃত অধিকাংশ কলা আকারে অনেক ছোট ও পঁচা। যার দাম ৪ থেকে ৫ টাকার বেশি নয়। বনরুটির দাম ২২ দশমিক ৮৫ টাকা নির্ধারিত থাকলেও সরবরাহকৃত বনরুটি দাম সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১২ টাকা, দুধ পাতলা পানি মেশানো থাকে।
ব্রহ্মকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রমিলা দেবনাথ বলেন, প্রতিদিন শিক্ষার্থীর জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্য ১০% কম দেয়া হয়। এতে বিড়াম্বনায় পড়তে হয়। কলা ও ডিম আকারে ছোট ও মাঝেমধ্যে নষ্ট থাকে। এতে সরবরাহে বিঘœ ঘটে। এরপরও গত ২৮ জুলাই তার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত কোনো খাদ্যই সরবরাহ করা হয়নি।
বাগদহা মজিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুদেব কুমার দেবনাথ বলেন, কলা ও ডিম আকারে ছোট হওয়ায় মান বেশি ভালো না। আবার কিছু কিছু কলা, ডিম পঁচা থাকে। দুধ যা দেয়, তা একেবারে পাতলা। দুধে পানি মেশানো থাকে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম বলেন, অধিদপ্তর থেকে নিয়োগকৃত ঠিকাদার এসব খাদ্য সরবরাহ করছে। খাদ্যের মান নিয়ে প্রথম পর্যায়ে সমস্যা ছিল। পরবর্তীতে ঠিকাদার, কোম্পানী ও ঊদ্ধর্তন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে সমস্যা চিহ্নিত করলে আগের তুলনায় এখন অনেকটা ভালো খাবার দিচ্ছে। বিস্কুট সময়মত পৌঁছায় না। যার জন্যে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হয়।










