কেশবপুরে ৮৬ শিক্ষকের পদ শূন্য, ৩৪ স্কুলে নেই প্রধান শিক্ষক
এম আব্দুল করিম, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকসংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষকের ৮৬টি পদ শূন্য পড়ে আছে। এর মধ্যে ৩৪টি বিদ্যালয়ে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই; চলছে ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে। এতে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কাজ স্থবির হওয়ার পাশাপাশি পাঠদানও চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুরে মোট ১৫৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে বরণডালী আদর্শ, গোপসানা, কালিয়ারই, লালপুর, পল্লী মঙ্গল, রামকৃষ্ণপুরসহ মোট ৩৪টি বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এসব প্রতিষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে কোনোমতে কাজ চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে, উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে আরও ৫২ জন সহকারী শিক্ষকের পদ খালি পড়ে আছে।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্তদের দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। আবার সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে হচ্ছে। ফলে পড়াশোনার মান যেমন কমছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকরা।
উপজেলার বরণডালী ও পাঁচবাকাবর্শী এলাকার কয়েকজন অভিভাবক জানান, ‘এমনিতেই গ্রাম এলাকায় শিক্ষকের অভাব, তার ওপর যদি বছরের পর বছর প্রধান শিক্ষক না থাকে, তবে স্কুল কীভাবে চলবে? দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ না দিলে ছেলেমেয়েরা পিছিয়ে পড়বে।’
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘অবসরজনিত কারণে পদগুলো শূন্য হয়েছে। দ্রুত শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়নের জন্য আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত তালিকা পাঠিয়েছি। আশা করছি, শিগগিরই এই সমস্যার সমাধান হবে।’ এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, কোমলমতি শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে এসব শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।








