খুলনায় গ্রাম আদালত বিষয়ক মতবিনিময় সভা
বিভাগীয় পর্যায়ে জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের সাথে গ্রাম আদালত বিষয়ক মতবিনিময় সভা আজ (শনিবার) খুলনা দ্যা গ্র্যান্ড প্লাসিড হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-তৃতীয় পর্যায়ের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক সুরাইয়া আখতার জাহান।
সভায় প্রধান অতিথি বলেন, সমাজের তৃণমূল জনগণকে বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে গ্রাম আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, আইনি কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হওয়ায় গ্রাম আদালতের সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়। সম্মিলিত উদ্যোগে গ্রামের সাধারণ ও নিরীহ মানুষকে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে আইনি সেবা প্রদান করা গেলে তারা সহজেই আর্থিক ও মানসিক হয়রানি থেকে রক্ষা পাবে।
তিনি আরও বলেন, প্রতারণা, ঝগড়া-বিবাদ, হুমকি, নারীর প্রতি অসম্মানজনক আচরণ, বাল্যবিবাহ, তালাক, অভিভাবকত্বসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধের নিষ্পত্তি গ্রাম আদালতের মাধ্যমে করা সম্ভব। এসব বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে গণযোগাযোগ অধিদপ্তর তাদের প্রচার কৌশল ও কার্যক্রমের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। এ সময় তিনি জানান, গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে ভবিষ্যতে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে।
সভাপতির বক্তৃতায় গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: আব্দুল জলিল বলেন, মানুষের অধিকার এবং সরকারের বিভিন্ন সেবা ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে তথ্য কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, গ্রাম আদালত স্বল্প খরচে জনগণের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি আরও বলেন, গ্রাম আদালতের উপকারিতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে জেলা তথ্য অফিস এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে এবং এর সেবা সম্পর্কে জনগণের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-তৃতীয় পর্যায় প্রকল্পের জাতীয় সমন্বয়কারী বিভাষ চক্রবর্তী, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের পরিচালক (কারিগরি ও প্রশিক্ষণ) মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন ও পিরোজপুর জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক পরীক্ষিৎ চৌধুরী বক্তৃতা করেন। গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-তৃতীয় পর্যায় প্রকল্প এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
সভায় জানানো হয়, অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে হলে গ্রাম আদালতের বিকল্প নেই। গ্রাম আদালত অনধিক তিন লক্ষ টাকা মূল্যমানের ফৌজদারী ও দেওয়ানি বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারে। এখানে আইনজীবী নিয়োগের বিধান নেই। গ্রাম আদালতে সমঝোতার ভিত্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়। এক বিরোধ থেকে অন্য বিরোধ সৃষ্টির সম্ভাবনা কম থাকে। দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগণ বিশেষ করে নারী, প্রতিবন্ধী এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ সকলেই খুব সহজে বিরোধ নিষ্পত্তি সুযোগ পায়।
সভায় খুলনা ও বরিশাল বিভাগের জেলা তথ্য কর্মকর্তারা অংশ নেন। তথ্যবিবরণী





