বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

গণঅভ্যুত্থানের বিজয়ের প্রাক্কালে বুলেটে থেমে যায় ক্রিকেটার রিয়ানের স্বপ্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪০ অপরাহ্ণ
গণঅভ্যুত্থানের বিজয়ের প্রাক্কালে বুলেটে থেমে যায় ক্রিকেটার রিয়ানের স্বপ্ন

আরিফ মাহমুদ: নাসিব হাসান রিয়ান। প্রতিভাবান টগবগে যুবক। অনূর্ধ্ব-১৬ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক। রাজধানীর বিসিআইসি কলেজের একাদশ শ্রেণীর মেধাবী শিক্ষার্থী। মুহুর্তেই পুলিশের বুলেটের ঝাঁঝরা বুক-মুখ। একটি স্বপ্নের পরিসমাপ্তি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বিজয়ের প্রাক্কালে রাজধানী ঢাকায় শহীদ হন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব গোলাম রাজ্জাকের পুত্র নাসিফ হাসান রিয়ান। তাদের পৈত্রিক নিবাস সাতক্ষীরা শহরে।

 

পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় বোঝা হলো- পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ। সেই বোঝার করুণ কাহিনী শুনে যে কেউ মর্মাহত হবে, চোখ ভিজে যাবে। সচিবালয়ের নিজের অফিসে সেই দিনপুঞ্জের ঘটনার কাহিনী শোনালেন এমনি এক হতভাগা অথচ গর্বিত পিতা গোলাম রাজ্জাক। ৩ ছেলের মধ্যে রিয়ান ছিলেন দ্বিতীয়।

জুলাই শহীদ রিয়ানের পিতা গোলাম রাজ্জাক জানান, উদীয়মান ক্রিকেটার হলেও পাইলট হওয়ার স্বপ্ন ছিলো নাসিব হাসান রিয়ানের। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর শ্যামলীর রিং রোডে আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।

তিঁনি আরো জানান, নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ও দেশীয় ক্রিকেট খেলায় অংশ নিয়ে ২৭ লাখ টাকা উপার্জন করেছিলেন রিয়ান। সেই টাকা দিয়ে শখের একটি গাড়িও কিনেছিলো রিয়ান। সেই গাড়িতেই তার গুলিবিদ্ধ দেহ নিয়ে হাসপাতালে নেয়া হয়েছিলো। হাসপাতালেও ছিলো ভীতিকর অবস্থা।

গোলাম রাজ্জাক বলেন, দেখতে দেখতে দুটি বছর কেটে গেলো, তবু যেনো সে সবসময় আমাদের মাঝেই আছে, আছে আমাদের অস্তিত্বে। মৃত্যুর কয়েক মাস আগেও সুঠাম দেহ, ফর্সা আর মায়াবী চেহারার কারণে কাজী হায়াতের একটি চলচিত্রে রিয়ানের অভিনয়ের প্রস্তাবও ছিলো। তবে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া রিয়ানের স্বপ্ন ছিলো পাইলট হওয়া। টেলিভিশনে সে আগ্রহ নিয়ে উড্ডয়ন ও অবতরণের দৃশ্য দেখতো। পালন করতো পরিবারের বিভিন্ন দায়িত্বও। ছেলের মৃত্যুর পর পুরো পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। দুই বছর পরেও তাঁর পরিবার ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়।

স্বজনদের ভাষ্য, জুলাইয়ের আন্দোলনের পুরো সময়ই রিয়ান ঘটনাপ্রবাহের খোঁজখবর রাখতো। বিশেষ করে ১৮ জুলাই তার বন্ধু ফারহান ফাইয়াজ নিহত হওয়ার খবর তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। পরিবারের সদস্যদের সে জানিয়েছিলো, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা নিজের নৈতিক দায়িত্ব।

পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ৫ আগস্ট সরকার পতনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজধানীর শ্যামলী, মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকায় মানুষের সমাগম শুরু হয়। তবে হায়েনাদের বিভৎসতা তখনো চলমান। পরিবারের নিষেধ উপেক্ষা করে রিয়ানও একটি বিজয় মিছিলে যোগ দিতে বাসা থেকে বের হন। রিং রোড এলাকায় সংঘর্ষে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তার বুকে, মুখে ও কাঁধে গুলি লাগে। পরে উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর রিয়ান মারা যায়। সেদিন রাতেই শ্যামলী জামে মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে কেরানীগঞ্জের আমবাগিচা কবরস্থানে তার নানার কবরের পাশে দাফন করা হয়।

রিয়ানের মায়ের বর্তমান অবস্থার কথা তুলে ধরে গোলাম রাজ্জাক বলেন, ছেলেকে হারানোর পর থেকে তার স্ত্রী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মায়ের নিয়মিত ওষুধ ও ইনজেকশন গ্রহণের বিষয়টি দেখাশোনা করতেন রিয়ান। ছেলের মৃত্যুর পর তিনি স্বাভাবিক জীবনে আর ফিরতে পারেননি।

রিয়ানের পিতা গোলাম রাজ্জাকের করা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ৫৩ জনের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরিবারের কোনো আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন নেই; সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত বিচার চান রিয়ানের বাবা। একই সাথে পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানান।

 

Ads small one

সুন্দরবনে আত্মসমর্পণকারী বনদস্যুরা আবারও সক্রিয়? জেলেদের অভিযোগে নতুন আতঙ্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনে আত্মসমর্পণকারী বনদস্যুরা আবারও সক্রিয়? জেলেদের অভিযোগে নতুন আতঙ্ক

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সুন্দরবনে আত্মসমর্পণকারী কয়েকজন সাবেক বনদস্যু আবারও বিভিন্ন সক্রিয় ডাকাত দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ডাকাতি ও চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বনদস্যুদের কাছে জিম্মি থাকার পর সম্প্রতি ফিরে আসা কয়েকজন জেলে এমন অভিযোগ করেছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা বন বিভাগের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী এলাকার গনি সানার ছেলে ননে সানা, লোকমানের ছেলে বাবু এবং দাতিনাখালী এলাকার মনতেজ সরদারের ছেলে আসাদুল (ননি গোপাল) গত কয়েকদিন ধরে সুন্দরবনের বিভিন্ন ডাকাত দলের সঙ্গে মিশে পুনরায় বনদস্যু কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

বনদস্যুদের কাছ থেকে মুক্ত হয়ে ফেরা একাধিক জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সুন্দরবনের ভেতরে এখনও কয়েকটি সশস্ত্র ডাকাত দল সক্রিয় রয়েছে। তারা জেলেদের নৌকা থামিয়ে জিম্মি করছে এবং মুক্তিপণ আদায় করছে। এসব দলে আত্মসমর্পণকারী কয়েকজন সাবেক বনদস্যুকেও দেখা গেছে বলে তাদের দাবি।

স্থানীয় বনজীবীদের মধ্যে এ ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা সুন্দরবনে নিরাপদে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ নিশ্চিত করতে বন বিভাগ, কোস্টগার্ড ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সুন্দরবনে বনদস্যুদের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমেও উঠে এসেছে এবং সরকার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করলেও তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয় নাই।

শ্যামনগরে ফাইটার ক্যারাতে ক্লাবের বেল্ট প্রদান অনুষ্ঠান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে ফাইটার ক্যারাতে ক্লাবের বেল্ট প্রদান অনুষ্ঠান

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলায় বুধবার(৫ আগস্ট) বিকালে উপজেলা পরিষদ হল রুমে শ্যামনগর ফাইটার ক্যারাতে ক্লাবের আয়োজনে বেল্ট পরীক্ষার ফলাফল ও বেল্ট প্রদান অনুষ্ঠান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যসহ উত্তীর্ণদের মাঝে বেল্ট প্রদান করেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ রাশেদ হোসাইন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ জিয়াউর রহমান, উপজেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার এস এম দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন শ্যামনগর ফাইটার ক্যারাতে ক্লাবের প্রশিক্ষক জি এম রাজগুল বাহার রাজু। ফলাফল অনুযায়ী সাদা থেকে হলুদ বেল্ট প্রাপ্তদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন রাফিন, মাইনুল বুশরা, ২য় রাহাত, ৩য় তৈয়েব, ৪র্থ আজমাইন ও আফিফ, ৫ম মাইশা, ৬ষ্ঠ মেহেতাজ, ৭ম নিলয় ও ৮ম মাহির। হলুদ বেল্ট থেকে কমলা বেল্ট প্রাপ্তদের মধ্যে ১ম রাফিন ও ইমন,২য় তামিম।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক রনজিৎ বর্মন, শিক্ষক কওছারসহ অভিভাবকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে ফাইটার ক্যারাতে ক্লাবের পক্ষ থেকে অতিথিবৃন্দকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

ভারত পাচারকালে বেনাপোল ইমিগ্রেশনে স্বর্ণেবারসহ পাসপোর্টযাত্রী আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ণ
ভারত পাচারকালে বেনাপোল ইমিগ্রেশনে স্বর্ণেবারসহ পাসপোর্টযাত্রী আটক

Oplus_0

এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): বেনাপোল চেকপোষ্ট দিয়ে ভারতে পাচারকালে স্বর্নের চালানসহ পাসপোর্টধারী যাত্রীকে আটক করেছে কাষ্টম। আটক স্বর্ন পাচারকারী মোবারক হোসেন মুনসিগঞ্জ সদর এলাকার তাজুউদ্দীনের ছেলে।

বেনাপোল কাস্টমস গোয়েন্দা শাখার সহকারি কমিশনার সাজিদ মাহাদুদ কৌশিক জানান, বুধবার (৫ আগস্ট) বিকালে যাত্রী মোবারক হোসেন বেনাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে যাবার সময় ঐ যাত্রীর আচারন ও চলাফেরা সন্দেহ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা করা হয়। এসময় তার কাছে স্বর্ন থাকার কথা স্বীকার করে।

 

পরে তার প্যান্টের পকেট থেকে ১০০ গ্রাম ওজনের দুটি স্বর্নবার পাওয়া যায়। যার বাজার মুল্য আনুমানিক ২২ লাখ টাকা। পরে তার শরীরের ভেতর আরো স্বর্ন আছে সন্দেহে এক্সরে করে কিন্তু পাওয়া যায়নি। আটক পাসপোর্টধারীর বিরুদ্ধে স্বর্নপাচার আইনে মামলা করা হয়েছে। তাকে পোর্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান ইমিগ্রেশন পুলিশ।