জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় ‘সূচকভিত্তিক বীমা’ ও ‘সিঙ্গেল উইন্ডো ফান্ড’ চালুর দাবি
বিএম জুলফিকার রায়হান, তালা: বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, অর্থায়ন ও বীমা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবিতে খুলনায় বিভাগীয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে খুলনার একটি অভিজাত হোটেলের সম্মেলনকক্ষে ‘মাল্টি এক্টর প্ল্যাটফর্ম (ম্যাপ)’ এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। ‘জার্মানওয়াচ ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স ২০২৬’ অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদে দুর্যোগের ঝুঁকিতে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম। বিশেষ করে ৭১০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলীয় ১৯টি জেলায় ঘূর্ণিঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লবণাক্ততার কারণে জীবন-জীবিকা এবং খাদ্য নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদিরের সঞ্চালনায় কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যাওসেডের লার্নিং অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি অফিসার বাহলুল আলম। বক্তারা স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু অর্থায়ন কার্যকর করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেন। জলবায়ু অর্থায়নকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত করতে একমুখী অর্থায়ন ব্যবস্থা চালু করা। কৃষি ও মৎস্য খাতের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে আধুনিক বীমা ব্যবস্থা প্রবর্তন। ইউনিয়নভিত্তিক ‘ক্লাইমেট ভালনারেবিলিটি ইনডেক্স’ বা জলবায়ু ঝুঁকি সূচক তৈরি করা। টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) ও নদী খনন কার্যক্রম জোরদার করা।
অ্যাওসেডের নেতৃত্বে সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে ‘ম্যাপ’ প্রকল্পের আওতায় গত তিন বছরে ৬৬টি প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হয়েছে। এতে ১ হাজার ৫১৩ জন অংশীজন সক্রিয়ভাবে যুক্ত। ২৪টি নীতি সংলাপের মাধ্যমে উঠে আসা সুপারিশগুলো ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন ‘কপ’ (ঈঙচ)-এ উপস্থাপিত হয়েছে। প্রকল্পটি বিএমজেড-এর অর্থায়নে ও কেয়ার বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
কর্মশালায় বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মজিবুর রহমান, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মীর রিফাত জাহান উষা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নাজরুল ইসলাম, মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিপুল কুমার বাছক এবং স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ আবদুল্লাহ আহমেদ ইমন বিন রেজা। এছাড়াও সাতক্ষীরার তালার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সাংবাদিক ও উন্নয়ন কর্মীরা উপকূলীয় মানুষের সংকট ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। বক্তারা ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ তহবিলের স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও বিশেষ জোর দেন।









