মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩

জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস: বিভিন্ন উপজেলায় নানা কর্মসূচি পালন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস: বিভিন্ন উপজেলায় নানা কর্মসূচি পালন

পত্রদূত ডেস্ক: জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বিভিন্ন উপজেলায় নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ‘উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশÑসবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সোমবার (৬ জুলাই) এসব এলাকায় বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা, ঋণের চেক, পুরস্কার ও গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
কলারোয়া: কলারোয়ায় উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) যৌথ আয়োজনে বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও আমগাছের চারা বিতরণ করা হয়। কলারোয়া উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদস্যসচিব ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা এস এম এ সোহেল। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মোল্লা, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কামরুজ্জামান, পৌর আমির সহকারী অধ্যাপক ইউনুছ আলি বাবু, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম এনামুল ইসলাম, ইউসিসিএ লিমিটেডের সভাপতি সাইফুল্লাহ আজাদ, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা অনিমেশ দাশ, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নুরুন নাহার আক্তার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফ হোসেন প্রমুখ।


শ্যামনগর: সাতক্ষীরার উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগরে দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। র‌্যালিটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। ইউএনও শামসুজ্জামান কনকের সভাপতিত্বে ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা তানজিয়ারা খাতুনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাশেদ হোসাইন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এস এম দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আব্দুল ওয়াহেদ, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সোলায়মান কবীর ও শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল আযম মনির।

 


আশাশুনি: আশাশুনিতে সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বিআরডিবি ও প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরে বিআরডিবি মিলনায়তনে ইউএনও শ্যামানন্দ কু-ুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমদ খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক স ম হেদায়েতুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম এবং ইউসিসিএ লিমিটেডের সভাপতি আব্দুল মান্নান। অনুষ্ঠানে সফল চাষি ও শ্রেষ্ঠ সমবায়ীদের মাঝে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
দেবহাটা: দেবহাটায় বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা, উদ্যোক্তা ঋণ, গাছের চারা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দেবহাটা ইউএনও মিলন সাহার সভাপতিত্বে এবং উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সন্দীপ কুমারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আব্দুর বারী মোল্লা, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শেখ সিরাজুল ইসলাম, সাবেক সদস্যসচিব মহিউদ্দিন সিদ্দিকী এবং উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ওলিউল্লাহ।

 


তালা: তালায় উপজেলা প্রশাসন ও বিআরডিবির যৌথ উদ্যোগে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা, পুরস্কার ও ঋণ বিতরণ এবং বৃক্ষচারা রোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। তালা ইউসিসিএ লিমিটেডের সভাপতি আলহাজ্ব মো. আবুল কালাম বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউএনও জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা নারায়ণ চন্দ্র সরকার। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা সিনিয়র কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তারেক ইমাম ও সমবায় কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে একটি সমিতির ৭ জন সদস্যের মাঝে ৩ লাখ ২০ টাকা ঋণ এবং সমবায়ীদের মধ্যে ২০০টি বৃক্ষচারা বিতরণ করা হয়।


কয়রা: খুলনার কয়রায় বিআরডিবির চেয়ারম্যান এফ এম মনিরুজ্জামান মনির সভাপতিত্বে এবং পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা (ইরেসপো) মো. আল মামুনের পরিচালনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসন ও বিআরডিবির আয়োজনে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সমীর কুমার সরকার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব নুরুল আমিন বাবুল, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নিশাত ইসলাম এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ। অনুষ্ঠান শেষে সমবায়ীদের মাঝে ঋণের চেক ও গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
পাইকগাছা: খুলনার পাইকগাছায় উপজেলা প্রশাসন ও বিআরডিবির যৌথ উদ্যোগে র‌্যালি, আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হয়। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ইউএনও ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ওয়াহিদ মুরাদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একরামুল হোসেন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক, উপজেলা প্রকৌশলী মো. শোয়েব শাফিন এবং উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির। আলোচনা শেষে সমবায়ীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

 

Ads small one

ভারী বৃষ্টিপাতে পাইকগাছায় শিক্ষার্থীদের জনদুর্ভোগ চরমে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
ভারী বৃষ্টিপাতে পাইকগাছায় শিক্ষার্থীদের জনদুর্ভোগ চরমে

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে একটানা ভারী বৃষ্টিপাতে খুলনার পাইকগাছায় শিক্ষার্থীদের জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। নিচু এলাকা ও কাঁচা রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়ায় এবং শ্রেণিকক্ষে জলাবদ্ধতা ও কাদার কারণে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।

পাইকগাছায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের মূল কারণগুলো হলো জলমগ্ন রাস্তা ও কাদা। টানা বর্ষণের ফলে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ কাঁচা রাস্তা ও সড়ক তলিয়ে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে গেছে। ফলে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

জলাবদ্ধতার কারণে সাধারণ যানবাহন চলাচল করতে না পারায় অনেক শিক্ষার্থী পায়ে হেঁটে বা বিকল্প উপায়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাতায়াত করছে। উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক পুরোনো ও নিচু স্কুল ভবনে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, যার ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান। বৃষ্টিতে ভিজে বিদ্যালয়ে পৌঁছানো এবং স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ক্লাস করার কারণে শিক্ষার্থীদের ঠান্ডা-জ্বরসহ নানা শারীরিক অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ছে।

উপজেলার মটবাড়ী গ্রামের অভিভাবক রহিমা বেগম বলেন, আমার ছেলে দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ে। বৃস্টির কারণে আসা যাওয়ার পথে বৃস্টিতে ভিজে তার জ্বরও সর্দি হয়েছে। দমকা বাতাস আর বৃষ্টিতে ছাতা মাথায় দিয়েও রক্ষা হচ্ছে না।

বৃষ্টির কারণে উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকা ও সড়ক জলমগ্ন হয়ে পড়েছে, যার ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পানি ও কাদা মাড়িয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে। এই বর্ষায় শিক্ষার্থীদের সর্দি-কাশি ও পানিবাহিত রোগের পাশাপাশি পিচ্ছিল রাস্তায় পা পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা পড়েছে বৃষ্টির বিড়াম্বনায়।

কলারোয়ার আমেনা হত্যা মামলার আপিলে স্বামী ও শ^শুরের ফাঁসির পরিবর্তে যাবজ্জীবন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
কলারোয়ার আমেনা হত্যা মামলার আপিলে স্বামী ও শ^শুরের ফাঁসির পরিবর্তে যাবজ্জীবন

পত্রদূত রিপোর্ট: ২০১৭ সালে সাতক্ষীরার কলারোয়ার চাঁন্দুড়িয়া গ্রামে গৃহবধু আমেনা খাতুনকে কুলবাগানে নিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ^াসরোধ করে হত্যার পর ইছামতী নদীতে ফেলে লাশ গুম করার চেষ্টার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত স্বামী ওমর আলী ও শ^শুর দ্বীন মোহাম্মদ গাজীর ফাঁসির আদেশ বাতিল করে যাবজ্জীবন কারাদ-াদেশ প্রদান করা হয়েছে। মহামান্য হাইকোর্টের বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের ও বিচারপতি সাথিকা হোসেন গত বছরের ৯ ডিসেম্বর আসামীপক্ষের আপিল শুনানী শেষে এ আদেশ দেন। সম্প্রতি ওই আদেশ সাতক্ষীরা কারাগার ও জজ আদালতে পৌঁছায়।

সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন, কলারোয়া উপজেলার চাঁন্দুড়িয়া গ্রামের দ্বীন মোহাম্মদ গাজী ও তার ছেলে ওমর আলী।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে কলারোয়া উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের আব্বাসউদ্দিনের মেয়ে আমেনা খাতুনের সাথে একই উপজেলার চাঁন্দুড়িয়া গ্রামের দ্বীন মোহাম্মদ গাজীর ছেলে ওমর আলীর পারিবারিকভাকে বিয়ে হয়। বিয়ের পর বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনতে বলায় আমেনা ও তার শ^শুরের সাথে বিরোধ হতো।

 

একপর্যায়ে বাবা দ্বীন মোহাম্মদের পরামর্শে ২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল আমেনাকে পাশর্^বর্তী ইছামতী নদীর ধারে আজিজুল ইসলামের কুলবাগানে ডেকে নিয়ে ওমর আলী ও তার বাবা দ্বীন মোহাম্মদ গাজী আমেনার শরীর থেকে ওড়না খুলে তার গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ^াসরোধ করে হত্যা করে। পরে ইছামতী নদীতে ফেলে লাশ গুম করার চেষ্টা করা হয়। ১০ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে ইছামতী নদী থেকে আমেনার গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিনই আমেনার বাবা মোঃ আব্বাস উদ্দিন বাদি হয়ে জামাতা ওমর আলী, তার বাবা দ্বীন মাহাম্মদ গাজী, মা আনোয়ারা বিবি’র নাম উল্লেখ করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

১২ এপ্রিল ওমর আলীকে মনিরামপুর থেকে গ্রেপ্তার করেন তদন্তকারি কর্মকর্তা কলারোয়া থানার উপপরিদর্শক ইয়াছিন আলম চৌধুরী। পরদিন ওমর আলী নিজেকে ও বাবাকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বিচারিক হাকিম রাজীব কুমার রায় এর কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা এজাহারে উল্লেখিত তিন জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৮ সালের ৭ আগষ্ট তৎকালিন জেলা ও দায়রা জজ ওমর আলী ও তার বাবা দ্বীন মোহাম্মদ গাজীকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে তাদের মৃত্যুদ- কার্যকর করার নির্দেশ দেন।

এ আদেশের বিরুদ্ধে ওমর আলী ও দ্বীন মোহাম্মদ গাজী মহামান্য হাইকোর্টে ২৪৯/১৮ ও ২৫০/১৮ নং জেল আপিল করেন। গত বছরের ৯ ডিসেম্বর ওই আপিল শুনানী শেষে বিচারপতিদ্বয় তাদের মৃত্যুদ-াদেশ প্রত্যাহার করে যাবজ্জীবন কারাদ-াদেশ দেন। এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের আদেশ গত ২ জুলাই সাতক্ষীরা আদালত ও জেলা কারাগারে পৌঁছায়।
সাতক্ষীরা জজ কোর্টের অতিরিক্ত পিপি অ্যাড. মোস্তফাজামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় নির্বাচনের বিধিমালা দ্রুত চূড়ান্ত করার নির্দেশ সিইসির

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
স্থানীয় নির্বাচনের বিধিমালা দ্রুত চূড়ান্ত করার নির্দেশ সিইসির

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়কে দ্রুত নির্বাচনি আচরণবিধি ও নির্বাচন বিধিমালা চূড়ান্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন এক নির্বাচন কমিশনার।

তিনি বলেন, ‘সিইসি স্যার আমাদের দ্রুত বিদ্যমান বিধিমালাগুলো চূড়ান্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন।’

এর আগে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছিলেন, আগামী অক্টোবর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ অথবা পৌরসভা নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করা যৌক্তিক হবে। সে ক্ষেত্রে ভোটের অন্তত ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করতে হবে। তাই এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচনি আচরণবিধি ও নির্বাচন বিধিমালা চূড়ান্ত করা বাধ্যতামূলক। নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে বিধিমালা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নির্বাচনি আচরণবিধির খসড়া ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে মতামত আহ্বান করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোকেও মতামত দেওয়ার জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। কয়েকটি দল ইতোমধ্যে মতামত দিয়েছে। সেগুলো পর্যালোচনা করে আচরণবিধি চূড়ান্ত করা হবে। পাশাপাশি নির্বাচন বিধিমালার কাজও চলছে। সেটিও জুলাইয়ের মধ্যেই চূড়ান্ত হতে পারে।

ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অক্টোবর থেকে ধারাবাহিকভাবে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বর্তমানে দেশে মোট ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরে ৩ হাজার ৯৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপযোগী। বাকি ইউনিয়ন পরিষদগুলো ২০২৭ ও ২০২৮ সালে নির্বাচন উপযোগী হবে।

 

এ ছাড়া দেশের ৩৩০টি পৌরসভার মধ্যে ৩২০টি নির্বাচন উপযোগী। আইনি জটিলতার কারণে ১০টি পৌরসভায় নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না।

নতুন পাঁচটি উপজেলাসহ বর্তমানে দেশে মোট উপজেলার সংখ্যা ৫০০। সবগুলোই নির্বাচন উপযোগী। নতুন উপজেলাগুলো হলো—বগুড়ার মোকামতলা, কক্সবাজারের মাতামুহুরী, ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া ও ভুল্লী এবং লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ।

অপরদিকে, নতুন বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ দেশে বর্তমানে সিটি করপোরেশনের সংখ্যা ১৩। সবগুলোই নির্বাচন উপযোগী। তবে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া অধিকাংশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বর্তমানে প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।