শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

জিএম নূর ইসলাম-দৃঢ়চেতা এক সফল মানুষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ণ
জিএম নূর ইসলাম-দৃঢ়চেতা এক সফল মানুষ

আবুল কাসেম

কোথা থেকে শুরু করব, বুঝতে পারছিনা। হতবিহবল মানুষের কাছ থেকে স্বভাবজাত লেখা বা বক্তব্য আশা করাটা দুস্কর হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে দৃষ্টিপাত সম্পাদক জিএম নূর ইসলামের মৃত্যু সংবাদ পাই। মুহূর্তের মধ্যে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ি। সামেক হাসপাতালে তাঁর শারীরিক অবস্থা দেখে আগেই আশঙ্কা করা হয়েছিল, সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবন-যাপনে ফেরার সম্ভাবনা কম।

জিএম নূর ইসলাম। সাতক্ষীরায় পত্রিকাজগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ব্যক্তিজগতে তিনি ছিলেন একজন সফল মানুষ। তবে তাঁর এই সফলতার পেছনে ছিল নিরবিচ্ছিন্ন সংগ্রামের ইতিহাস। প্রায় ৪০ বছর আগে যশোরের নাভারণ থেকে আব্দুল খালেক তার মেজ ভাই গোলাম মোস্তফা ও ছোট ভাই নূর ইসলামসহ তাদের সন্তানদের নিয়ে সাতক্ষীরার সুলতানপুরে বসতি গড়েন।

সেনাবাহিনীতে কর্মরত আব্দুল খালেকের সহায়তায় জিএম নূর ইসলাম সঙ্গীতা মোড় এলাকায় একটি মনোহরী দোকান করেন। মেয়েদের আলতা, স্নো, পাউডার আর রঙবেরঙের ভিউকার্ড বিক্রির মাধ্যমে তিনি কিছুটা স্বচ্ছল হলেন। কিন্তু প্রকৃতি যাকে ডাকে আরও বৃহ সরোবরে ঝাপ দেওয়ার জন্য ,তিনি কি কুযোর মধ্যে সাতার কাটতে পছন্দ করবেন! মনোহরী ব্যবসাটা ঠিক মনোপুত হলোনা তাঁর। বাস টার্মিনাল এলাকায় দোকান নিয়ে পত্রিকা বেঁচা শুরু করলেন তিনি।

 

আজকের সোশ্যাল মিডিয়ার ডিজিটাল প্লাটফর্মের তরুণ-তরুণীরা ভাবতেই পারবেননা, ২ দশক আগে প্রিন্ট পত্রিকার দাপটের কথা। দেশের যত নামী-দামি পত্রিকা রয়েছে, সাতক্ষীরায় তার প্রধান এজেন্ট জিএম নূর ইসলাম। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই, তিনি ব্যবসাসহ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা দেখিয়েছেন। পত্রিকার হকাররাও তাঁর বেঁধে দেওয়া শৃঙ্খলার বাইরে যেতে পারতেননা। পুরো সাতক্ষীরা জেলায় তিনি হয়ে উঠলেন পত্রিকার এজেন্সির ক্ষেত্রে এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নাম। ঢাকা থেকে প্রকাশিত কোনো পত্রিকা বের হলে সার্কুলেশন ম্যানেজারদের মনে যার নামটাই প্রথমে আসত,তিনি হলেন জিএম নূর ইসলাম।

দৈনিক দৃষ্টিপাত। নূর ইসলামকে সুপরিচিত করেছে এই পত্রিকাটি। ২০০১ সালের শেষের দিকে এই পত্রিকাটি তাঁর সম্পাদনায় বের হয়। সার্কুলেশন ক্যাপাসিটির কারণে পত্রিকাটির প্রচার সংখ্যা ছিল ব্যাপক। জানা যায়,সারা রাত প্রেসে কাজ করার পর পত্রিকা ব্যান্ডেল করে গাড়ীতে তুলে দিয়ে বাসায় তিনি যখন যেতেন, তখন পূব আকাশে সূর্যের লাল আভা ফুটে উঠত। একদিন-দুইদিন নয়, বছরের পর বছর তিনি পত্রিকাটিকে এভাবে সন্তানসম লালন-পালন করে হৃষ্টপুষ্ট করে তারুণ্যে পৌঁছে দিয়েছেন। পত্রিকার নামে নামকরণকৃত তাঁর কাশেমপুরস্থ (মেহেদীবাগ) বাড়িতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে প্রস্তুতকৃত দৃষ্টি পিউর ড্রিংকিং ওয়াটারও বেশ সফলতা দেখিয়েছিল।

মসজিদে কুবা। মেহেদীবাগে অবস্থিত এই মসজিদটি শুধু জেলার মধ্যে নয়,সারা দেশের মধ্যে অনন্য একটি মসজিদ। যথার্থই এর নাম-ইসলামি সংস্কৃতি ও সেবা কেন্দ্র। ইসলামিক বিভিন্ন ইভেন্টে প্রতিযোগীতা, মেডিকেল ও ডেন্টাল ক্যাম্পসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে মসজিদটি। এ প্রসঙ্গে বলে রাখা দরকার-মসজিদ শুধু নামাজ পড়ার জন্য নয়, সামাজিক ও মানবিক কর্মকান্ড পরিচালিত হওয়াও দরকার এখান থেকে।

আন্তর্জাতিক ফিফা রেফারি তৈয়ব হাসান বাবুর সঞ্চয়কৃত অর্থ দিয়ে মেহেদীবাগে মসজিদটির জায়গা কেনা হয়। পরে মসজিদটি প্রতিষ্ঠায় যাদের অবদান অনস্বীকারয, জিএম নূর ইসলাম তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি আমৃত্যু মসজিদটির সভাপতি ছিলেন। এছাড়া জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন কমিটির মাধ্যমে তিনি বিশিষ্ট নাগরিকদের একই প্লাটফর্মে এনে সাতক্ষীরার উন্নয়নে সচেষ্ট ছিলেন।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সৃষ্ট অনাকাঙ্খিত ঘটনার আগে-পরে ইসলাম ভাই আমাদের সাথে ছিলেন। এর আগে তাঁর সাথে অতটা নিবিড় সম্পর্ক আমার ছিলনা। মাত্র ২ বছরে আমি তাঁর দৃড়তা দেখেছি। কথা ও কাজে তিনি এক কথার লোক-এমন নমুনা বহুবার দেখেছি। সাংবাদিকতার নামে অসদুপায় অবলম্বন-এমন নজির ইসলাম ভাইয়ের মধ্যে কখনো কেউ দেখেনি। অনেকে বলতেন-ইসলাম ভাই একগুয়ে মানুষ। আমার মনে হয়েছে-একগুয়েমিতার মধ্যে যদি সততা ও আদর্শ থাকে,তবে তা বহুরুপী মানুষের চেয়ে হাজারগুন ভালো।

স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তাঁর মধ্যে খুবই অসহায়ত্ব দেখা যেত। মানষিক ও শারীরিকভাবে তিনি ভেঙে পড়েছিলেন। স্ত্রী সম্পর্কে তিনি প্রায়ই বলতেন-জীবীত থাকাকালে তাঁদের মধ্যে কোনদিন মনোমালিন্য হয়নি। কিছুদিন বেঁচে থাকলে তিনি হয়ত সাতক্ষীরার উন্নয়নে আরও অবদান রাখতে পারতেন। কিন্তু সেটা আর হলোনা। নিজ বাসভবনে পাচিলের পাশে প্রিয়তমা স্ত্রীর পাশে চিরদিনের জন্য সমাহিত হলেন তিনি।

Ads small one

সাতক্ষীরায় নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

সেলিম হোসেন: সাতক্ষীরায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন নি¤œ ও মধ্যম আয়ের মানুষ। বাজারে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, রসুন, চিনি, আটা, সবজি ও মসলাজাতীয় পণ্যের বাড়তি দামে সংসারের ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন বাজারে নিত্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বিশেষ করে কাঁচা সবজি ও মসলাজাতীয় পণ্যের দাম অল্প সময়ের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গত জুলাইয়ে টানা বৃষ্টির কারণে সাতক্ষীরার বাজারে কাঁচা মরিচসহ বিভিন্ন সবজির দাম দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।
এদিকে পেঁয়াজ ও রসুনের দামও কয়েক দিনের ব্যবধানে বেড়েছে। জুলাইয়ে সাতক্ষীরার বিভিন্ন বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা এবং রসুন ৭০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা যায়।
সুলতানপুর বড়বাজারের ক্রেতারা জানান, আয় বাড়ছে না, অথচ প্রতিদিনই বাড়ছে বাজার খরচ। আগে যে পরিমাণ পণ্য কিনতে নির্দিষ্ট বাজেট যথেষ্ট ছিল, এখন একই পণ্য কিনতে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। ফলে অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় কেনাকাটায় কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকায় সবজি উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটের কারণে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।
অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে নিয়মিত তদারকি না থাকায় কোনো কোনো ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করছেন। তারা নিত্যপণ্যের বাজারে কঠোর নজরদারি ও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, প্রশাসনের নিয়মিত বাজার মনিটরিং, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে দ্রুত বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।

 

লাবণ্যবর্তী-কাটাখালী সংযোগস্থলে জলকপাটের দাবিতে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
লাবণ্যবর্তী-কাটাখালী সংযোগস্থলে জলকপাটের দাবিতে মানববন্ধন

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: দেবহাটার কুলিয়া-শ্রীরামপুর এলাকার লাবণ্যবর্তী নদী ও কাটাখালী খালের সংযোগস্থলে দ্রুত একটি স্লুইস গেট নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৭ আগস্ট বিকেলে কুলিয়া বাজার চাররাস্তা মোড়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ফেয়ার মিশন’ এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।

 

মানববন্ধনে বক্তারা জানান, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে কুলিয়া-শ্রীরামপুর খালের ওই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে স্লুইস গেট নির্মাণের দাবিটি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ফেয়ার মিশনের পরিচালক কাদের মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন দেবহাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ও জেলা বিএনপির সদস্য মহিউদ্দিন সিদ্দিকী, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মেহেদী হাসান সবুজ, উপজেলা শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মাওলানা রুহুল আমিন, কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা সাদিকুল ইসলাম, সাবেক সেক্রেটারি মাওলানা আনোয়ারুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ ইয়াকুব আলী, অধ্যাপক রাজু আহমেদ, জামায়াত নেতা মাছুম খান চৌধুরী ও বিএনপি নেতা গোলাম রসুল খোকনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

 

শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা প্রধান: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ণ
শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা প্রধান: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

যশোর প্রতিনিধি: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাব্যবস্থাকে আনন্দময় করে তুলতে হবে। শিক্ষকেরা যথাসময়ে ক্লাসে উপস্থিত হলে শিক্ষার্থীরাও উৎসাহিত হবে।

২৭ আগস্ট যশোর পিটিআই মিলনায়তনে মানসম্মত ও নৈতিক শিক্ষার উন্নয়ন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ বিষয়ে শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি মানসিক বিকাশে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ সংস্কার করা হবে। সরকার শিক্ষা খাতের উন্নয়নে নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে, যেখানে শিক্ষকদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।

যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন, বিএএফ শাহীন কলেজের অধ্যক্ষ গ্রুপ ক্যাপ্টেন মো. মেজবাহ উদ্দিনসহ শিক্ষা কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। পরে প্রতিমন্ত্রী পিটিআই প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন এবং অপরাহ্ণে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল, শিক্ষাবৃত্তি ও খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করেন।