মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

টাকার মলিন ময়লা চেহারা আর ভিন্ন দেশের মুদ্রা!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১২ অপরাহ্ণ
টাকার মলিন ময়লা চেহারা আর ভিন্ন দেশের মুদ্রা!

আল মুতাসিম বিল্লাহ সুমন

সেদিন সকালে সাতক্ষীরা শহরের লাবনী মোড় যাওয়ার জন্য ইজিবাইক থেকে নামার পর ইজিবাইক চালককে একটি পঞ্চাশ টাকার নোট দিলাম। তিনি ভাড়া কেটে আমাকে যে বিশ টাকার নোটটি ফেরত দিলেন, সেটি হাতে নিয়েই আমার মনটা বেশ খারাপ হয়ে গেল। নোটটির মাঝ বরাবর একটি বড় ছিদ্র, কিনারায় স্বচ্ছ কসটেপ লাগানো, আর সারা গায়ে ময়লার কালচে আস্তরণ। নোটটি থেকে এক ধরনের ভ্যাপসা গন্ধও আসছিল। আমি রিকশাচালককে বললাম, “এই ছেঁড়া টাকাটা তো কেউ নিতে চাইবে না, অন্য একটা নোট দেন।” তিনি মলিন হেসে বললেন, “আমার কাছেও তো কেউ একজন এই টাকাটাই দিছে। আমি গরিব মানুষ, এই ছেঁড়া টাকা নিয়ে কই যাব?”

তার কথা শুনে আমি আর কিছু বলতে পারলাম না। টাকাটা পকেটে রেখে দিলাম। কিন্তু সারা রাস্তা একটা বিষয়ই আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল, কেন আমাদের দেশের টাকার এমন করুণ অবস্থা? বাংলাদেশের কাগুজে মুদ্রা, বিশেষ করে ছোট মানের নোটগুলোর (যেমন: ২, ৫, ১০, ২০ এবং ৫০ টাকা) দিকে তাকালে মাঝে মাঝে খুব হতাশা কাজ করে। এই টাকাগুলো এত বেশি ময়লা, ছেঁড়া আর ফাটা থাকে যে, অনেক সময় এগুলো ব্যবহার করাই মুশকিল হয়ে পড়ে।

আজ আমি আপনাদের সাথে এই বিষয়টি নিয়েই বিস্তারিত কিছু কথা বলতে চাই। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমার মনে হয়েছে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এই পরিচিত সমস্যাটি নিয়ে আলোচনা হওয়া খুব প্রয়োজন।

আমাদের দেশের টাকার এই জরাজীর্ণ অবস্থার পেছনে কোনও একটি নির্দিষ্ট কারণ নেই, বরং আমাদের বেশ কিছু বদভ্যাস এবং অসচেতনতাই এর জন্য প্রধানত দায়ী। আমি যদি কারণগুলো একটু গুছিয়ে বলি, তবে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে মানিব্যাগ বা ওয়ালেট ব্যবহারের প্রবণতা তুলনামূলক ভাবে কম। অনেকেই টাকা ভাঁজ করে শার্টের বুক পকেটে, প্যান্টের পকেটে বা লুঙ্গির গিঁটে রাখেন। বারবার এভাবে মুড়িয়ে বা কুঁচকে রাখার ফলে কাগুজে নোটের ফাইবার বা তন্তু খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। একটা নতুন নোট বাজারে আসার কয়েক মাসের মধ্যেই মাঝখান থেকে ছিঁড়তে শুরু করে স্্েরফ এই বারবার ভাঁজ করার কারণে।

কাঁচাবাজার, মাছের বাজার বা মাংসের দোকানগুলোতে গেলে একটি সাধারণ দৃশ্য চোখে পড়ে। বিক্রেতারা মাছ বা মাংস কাটছেন, হাত রক্ত বা কাদায় মাখামাখি, আর সেই অবস্থাতেই তারা ক্রেতার কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন বা ভাংতি দিচ্ছেন। এই রক্ত, পানি এবং কাদা টাকার গায়ে লেগে যায়। এরপর সেই টাকা যখন অন্যের হাতে যায়, তখন সেটিতে আরও ধুলাবালি জমতে থাকে। ধীরে ধীরে নোটটি তার আসল রঙ হারিয়ে কালচে ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে যায়।

এটি আমাদের দেশের আরেকটি অদ্ভুত এবং ক্ষতিকর বদভ্যাস। অনেক সময় দেখা যায় টাকার গায়ে কেউ নিজের নাম লিখে রেখেছেন, কেউ ফোন নম্বর লিখেছেন, আবার কেউবা কলম ঠিকমতো কালি দিচ্ছে কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য টাকার ওপর হিজিবিজি দাগ কেটেছেন। ব্যাংকগুলোতেও অনেক সময় হিসাব মেলানোর সুবিধার জন্য টাকার বান্ডিলের ওপর সিল মারা হয় বা পেনসিল দিয়ে লেখা হয়। এই লেখালেখির কারণে নোটটি দ্রুত তার মান হারায়।

আগে ব্যাংক থেকে টাকার বান্ডিল দেওয়ার সময় মাঝখানে এমনভাবে স্টেপলারের পিন মারা হতো যে, পিন খুলতে গেলেই টাকা ছিঁড়ে যেত। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে টাকায় পিন মারার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তবুও এর রেশ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। অনেক সময় পিনের ছিদ্র থাকা টাকাগুলো হাতবদল হতে হতে সেই ছিদ্র বড় হয়ে টাকা দুই টুকরো হয়ে যায়।

টাকা একটু ছিঁড়ে গেলেই আমরা তার ওপর আঠালো কসটেপ লাগিয়ে দিই। কিছুদিন পর কসটেপের নিচের আঠা কালো হয়ে যায় এবং পুরো নোটটি শক্ত হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

আমাদের টাকার এই বেহাল দশার কথা ভাবতে গিয়ে আমার মনে হলো, উন্নত দেশগুলোর মুদ্রার অবস্থা কেমন সেটি জানা দরকার। আমরা যদি মার্কিন ডলার, ব্রিটিশ পাউন্ড বা ইউরোপের ইউরোর দিকে তাকাই, তাহলে আকাশ-পাতাল পার্থক্য দেখতে পাবো।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডলার মূলত সাধারণ কাগজ দিয়ে তৈরি হয় না। এটি ৭৫ শতাংশ তুলা এবং ২৫ শতাংশ লিনেন-এর মিশ্রণে তৈরি। ফলে এটি সাধারণ কাগজের চেয়ে অনেক বেশি টেকসই হয়। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, একটি এক ডলারের নোট ছিঁড়ে যাওয়ার আগে প্রায় ৪,০০০ বার ভাঁজ করা যায়। এছাড়া আমেরিকানদের মধ্যে মানিব্যাগ ব্যবহারের হার প্রায় শতভাগ। তারা নোটগুলো ভাঁজ না করে সোজা অবস্থায় মানিব্যাগে রাখেন। ফলে একটি নোট বছরের পর বছর নতুনের মতো থাকে।

বিশ্বের অনেক দেশ এখন কাগুজে নোটের বদলে পলিমার বা প্লাস্টিকের নোট ব্যবহার করছে। ১৯৮৮ সালে অস্ট্রেলিয়া প্রথম তাদের দেশে পলিমার নোট চালু করে। এরপর যুক্তরাজ্য, কানাডা, নিউজিল্যান্ডসহ বহু দেশ এই পথে হেঁটেছে। পলিমার নোটের সুবিধা হলো এটি পানিতে ভেজে না, সহজে ছেঁড়ে না এবং ময়লা হলে মুছে ফেলা যায়। যুক্তরাজ্যের ব্যাংক অব ইংল্যান্ড যখন পলিমার নোট চালু করে, তখন তারা দেখিয়েছিল যে এই নোটগুলো সাধারণ কাগজের নোটের চেয়ে অন্তত আড়াই গুণ বেশি টেকসই। আমাদের দেশেও ২০০০ সালের দিকে একবার ১০ টাকার পলিমার নোট চালু করা হয়েছিল, কিন্তু অজানা কারণে সেটি বেশিদিন টেকেনি এবং বাজার থেকে তুলে নেওয়া হয়।

জানলে অবাক হবেন, বিশ্বের অনেক দেশে তাদের মুদ্রার যতœ নেওয়া শুধু নাগরিক দায়িত্বই নয়, বরং এটি আইনের অংশ। আপনি চাইলেই অন্য কোনও দেশের মুদ্রার সাথে যথেচ্ছ আচরণ করতে পারবেন না।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, সে দেশের মুদ্রাকে ইচ্ছাকৃত ভাবে কাটা, ছিঁড়ে ফেলা, লেখালেখি করা, ময়লা করা, বা যে কোনোভাবে বিকৃত করা সম্পূর্ণ বেআইনি। যদি কেউ এই আইন ভঙ্গ করে, তবে তাকে মোটা অঙ্কের জরিমানা এমনকি ৬ মাস পর্যন্ত কারাদন্ড ভোগ করতে হতে পারে।

তুরস্কেও তাদের মুদ্রা ‘লিরা’র অবমাননা বা ইচ্ছাকৃত ভাবে নষ্ট করাকে রাষ্ট্রীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়, কারণ মুদ্রার গায়ে তাদের জাতির পিতা মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের ছবি থাকে। ভারতেও রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) “ক্লিন নোট পলিসি” বা পরিচ্ছন্ন নোট নীতি গ্রহণ করেছে, যার অধীনে টাকার ওপর কিছু লেখা সম্পূর্ণ বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে।
দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে এই ধরনের কড়া আইন বা তার সঠিক প্রয়োগ নেই। মুদ্রা যে একটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতীক, এই বোধটুকু আমাদের অনেকের মাঝেই অনুপস্থিত।
অনেকেই হয়তো ভাবছেন, টাকা একটু ময়লা হলে সমস্যা কী? এটি তো আর আমরা খাচ্ছি না! কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা।

ময়লা, স্যাঁতসেঁতে এবং ফাটা টাকা জীবাণুর এক বিশাল আস্তানা। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পুরনো কাগুজে নোটে প্রায় ৩,০০০ ধরণের ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে, যার মধ্যে ই. কোলাই এবং সালমোনেলার মতো মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াও রয়েছে, যা ডায়রিয়া এবং ফুড পয়জনিংয়ের কারণ হতে পারে। আমাদের দেশে যক্ষ্মা বা চর্মরোগে আক্রান্ত কোনও ব্যক্তি যদি তার ব্যবহৃত ময়লা টাকা আরেকজনকে দেন, তবে সেই জীবাণু খুব সহজেই সুস্থ মানুষের দেহে প্রবেশ করতে পারে। বিশেষ করে শিশুরা অনেক সময় না বুঝে টাকা মুখে দিয়ে ফেলে, যা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ।

এছাড়া এর একটি বড় অর্থনৈতিক দিকও রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রতি বছর শত শত কোটি টাকা খরচ করে পুরনো, ছেঁড়া নোট পুড়িয়ে ফেলে নতুন নোট ছাপাতে হয়। এটি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় অপচয়। আমরা যদি একটু যতœশীল হয়ে আমাদের নোটগুলো ব্যবহার করি, তাহলে এই বিশাল অংকের সরকারি অর্থ বেঁচে যায়, যা দেশের অন্য কোনও উন্নয়নমূলক কাজে লাগানো সম্ভব।

এই সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় কী? আমি মনে করি, সরকার এবং জনগণ উভয়কেই এখানে সমান দায়িত্ব পালন করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংককে “ক্লিন নোট পলিসি” আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। টাকার গায়ে লেখা বা পিন মারা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া, ছোট মানের নোটগুলো (যেমন ১০, ২০, ৫০ টাকা) যা সবচেয়ে বেশি হাতবদল হয় এবং দ্রুত নষ্ট হয়, সেগুলোর জন্য উন্নতমানের কাগজ বা পুনরায় পলিমার নোট চালু করার কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিত।

আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন। টাকা শুধু বিনিময়ের মাধ্যম নয়, এটি আমাদের স্বাধীন দেশের একটি প্রতীক। টাকার ওপর আমাদের জাতির পিতার ছবি থাকে, জাতীয় স্মৃতিসৌধ বা শহীদ মিনারের ছবি থাকে। একটি ছেঁড়া বা ময়লা টাকা দেশের ভাবমূর্তির সাথেও বেমানান। আমাদের উচিত ছোটবেলা থেকেই সন্তানদের শেখানো যে টাকাকে কীভাবে সম্মান করতে হয়।

সবাইকে মানিব্যাগ ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। টাকা ভাঁজ করে বা দুমড়ে-মুচড়ে পকেটে রাখার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। যারা কাঁচাবাজারে কাজ করেন, তাদের উচিত একটি শুকনো কাপড় বা তোয়ালে রাখা, যাতে ভেজা বা ময়লা হাতে সরাসরি টাকা ধরতে না হয়।
বর্তমানে আমাদের দেশে বিকাশ, নগদ, রকেট-এর মতো মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারও বাড়ছে। আমরা যদি ছোটখাটো কেনাকাটায় কাগুজে নোটের পরিবর্তে ডিজিটাল পেমেন্টের অভ্যাস গড়ে তুলি, তবে কাগুজে নোটের ওপর চাপ অনেক কমে যাবে এবং টাকা দীর্ঘদিন পরিষ্কার থাকবে।

একটি দেশের মুদ্রা সে দেশের সভ্যতার আয়না। বিদেশ থেকে আসা কোনও পর্যটক যখন তার হাতে একটি পরিষ্কার, ঝকঝকে টাকা পান, তখন দেশের প্রতি তার এক ধরনের ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। বিপরীতভাবে, কসটেপ লাগানো, দুর্গন্ধযুক্ত একটি ছেঁড়া টাকা আমাদের সম্পর্কে একটি নেতিবাচক বার্তাই দেয়।

আমি আশা করি, আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। আমরা শিখব কীভাবে নিজের দেশের সম্পদের যতœ নিতে হয়। প্রতিদিন সকালে রিকশা ভাড়া বা চায়ের বিল দেওয়ার সময় যেন আমাদের কোনও ছেঁড়া বা ময়লা নোট নিয়ে বিতর্কে জড়াতে না হয়, সেই সুদিনের অপেক্ষায় রইলাম। আসুন, আজ থেকেই আমরা নিজের পকেটের টাকাটার যতœ নিতে শুরু করি। কারণ, পরিবর্তনটা শুরু হতে হবে আমার এবং আপনার হাত ধরেই।

লেখক: আল মুতাসিম বিল্লাহ সুমন, রাজার বাগান, সাতক্ষীরা।

Ads small one

কয়রায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০০ অপরাহ্ণ
কয়রায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রায় নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য রেলি বের হয়। সেটি উপজেলার সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদর্শন করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

এসময় উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মৃন্ময় কুমারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল বাকি। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নির্বাচন অফিসার মোঃ আকবর হোসেন, ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ, মদিনাবাদ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক শহিদ সারোয়ার স্বর্ণকলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নুরুল আমিন প্রমুখ।

৩০ বছর পর সরকারি জমি উদ্ধারে নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
৩০ বছর পর সরকারি জমি উদ্ধারে নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তি

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের মনিরামপুর পৌরসভা ভবন সংলগ্ন পাবলিক লাইব্রেরির পাশে প্রায় সাত শতক সরকারি জমি দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর পর দখলমুক্ত করেছে উপজেলা ও পৌর প্রশাসন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা থেকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে ওই জমি উদ্ধার করা হয়।দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমিটি বিভিন্ন দোকানপাট নির্মাণ করে ব্যবহারের অভিযোগ ছিল। প্রশাসনের অভিযানের পর জমিটি দখলমুক্ত হওয়ায় স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

স্থানীয় নাগরিক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পৌর ভবন সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, পাবলিক লাইব্রেরি ও সরকারি প্রভাতি বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়। গুরুত্বপূর্ণ এ এলাকায় সরকারি জমি দখল করে দোকান নির্মাণ করায় দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের দিকে প্রভাবশালী একটি মহল নামমাত্র ডিসিআর নিয়ে প্রায় সাত শতক সরকারি জমি দখল করে সেখানে মুরগি, মুদি, মিষ্টি ও কসমেটিকসসহ বিভিন্ন দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা করে আসছিল। পরবর্তীতে নাগরিকদের অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট ডিসিআর বাতিল করে সরকার জমিটি উদ্ধারের উদ্যোগ নেয়।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ওই জমির একটি অংশ পুনরায় দখল করে পাঁচটি টিনশেড দোকান নির্মাণ করা হয়। তৎকালীন পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে কয়েকজনকে এসব দোকান ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মুরগির দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকায় দুর্গন্ধ ছড়ানো এবং পাশেই অবস্থিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাচ্চা ও পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। সরকারি জমি দখলমুক্ত করার জন্য নাগরিকরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

সুতারং দখলমুক্ত হওয়ায় স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং উপজেলা প্রশাসন প্রশাংসায় ভাষছে ।

কয়রায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫ রোগী হাসপাতালে ভর্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
কয়রায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫ রোগী হাসপাতালে ভর্তি

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত পাঁচ রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আক্রান্তদের মধ্যে নারী ও পুরুষ রয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে পাঁচজনের শারীরিক অবস্থা ভালো।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া রোগীরা হলেন-সোনালী (২০), শুহিনা (২২), ইকবাল (৩৫), জাহাঙ্গীর (২৬) ও রিয়াজ মোল্ল্যা (২৩)।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা যায়, জ্বর নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসার পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে ওই পাঁচজনের রক্তে ডেঙ্গুর সংক্রমণ শনাক্ত হয়। বর্তমানে তাদের হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, “জ্বর নিয়ে পাঁচজন চিকিৎসা নিতে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাদের রক্তে ডেঙ্গুর সংক্রমণ শনাক্ত হয়। বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা ভালো রয়েছে। কারও অবস্থার অবনতি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হবে।”