রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

তালা উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলতাফ হোসেনের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ণ
তালা উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলতাফ হোসেনের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালা উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবিএম আলতাফ হোসেনের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। ২০০৪ সালের ৪ মে সন্ধ্যায় পাটকেলঘাটা সদরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে এক সন্ত্রাসী বোমা হামলায় তিনি নিহত হয়েছিলেন।

২০০৪ সালের ওই দিনে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পাটকেলঘাটা পাঁচ রাস্তার মোড়ে সন্ত্রাসীরা আলতাফ হোসেনকে লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালায়। হামলায় তাঁর সঙ্গে থাকা স্থানীয় বড়বিলা গ্রামের যুবদল কর্মী হাবিবুর রহমানও গুরুতর আহত হন। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁদের দুজনেরই মৃত্যু হয়।

এবিএম আলতাফ হোসেন দীর্ঘ সময় তালা উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি সমাজসেবা ও শিক্ষা বিস্তারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি পাটকেলঘাটা আদর্শ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক ছিলেন। একবার তালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাটকেলঘাটা থানা সদরের সরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছিলেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র জানায়, জনপ্রিয় এই নেতার মৃত্যুবার্ষিকীতে এবার দলীয়ভাবে কোনো স্মরণসভা বা বড় কোনো কর্মসূচির খবর পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে নিজস্ব বাসভবনে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। নিবেদিতপ্রাণ এই নেতার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ব্যক্তিগতভাবে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন।

Ads small one

সাতক্ষীরার তলুইগাছা সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির গুলি, পালাল দুই ভারতীয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৩:১৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার তলুইগাছা সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির গুলি, পালাল দুই ভারতীয়

ফাইল ছবি

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরা সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে টহল চলাকালে দুই ভারতীয় চোরাকারবারিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হননি বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

আজ রোববার (১২ জুলাই) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের (৩৩ বিজিবি) তলুইগাছা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বিজিবি জানায়, নিয়মিত টহলের সময় সীমান্তের মেইন পিলার-১৩-সংলগ্ন বাংলাদেশের প্রায় ৫০ গজ অভ্যন্তরে চারাবাড়ি এলাকায় দুই ব্যক্তির সন্দেহজনক চলাচল দেখতে পান টহল সদস্যরা। তাদের থামতে, পরিচয় দিতে এবং আত্মসমর্পণ করতে একাধিকবার নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা তা অমান্য করে ভারতের দিকে পালানোর চেষ্টা করেন।

এ সময় বিজিবি সদস্যরা তাদের ধাওয়া করেন এবং নিরাপত্তার স্বার্থে ও গতিরোধের উদ্দেশে গুলি ছোড়েন। পরে ওই দুই ব্যক্তি সীমান্তবর্তী ঝোপঝাড়ের মধ্য দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যান।

ঘটনার পর বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালালেও কাউকে আটক করা যায়নি। বাহিনীটির দাবি, গুলির ঘটনায় কেউ আহত হননি।

সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের (৩৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান উক্ত তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

দেবহাটায় প্রবাসী নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় প্রবাসী নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার চক মোহাম্মাদালীপুর গ্রামে সাহানারা বেগম (৩৮) নামের এক নারী ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দেবহাটা থানায় ইউডি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলা নাম্বার ১৪।

নিহত ওই নারী সখিপুর ইউনিয়নের চক মোহাম্মাদালীপুর গ্রামের মৃত জাহিদ হোসেনের স্ত্রী।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রবিবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় ওই নারী নিজ বাড়ির একটি কক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে সোমবার দেবহাটা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে তাঁর স্বামী মরহুম জাহিদ আলম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে তিনি বিদেশে যান। সম্প্রতি দেশে ফিরে আসেন ওই নারী। তবে কী কারণে এই মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিতভাবে কোনো কারণ জানাতে পারেননি।

এ বিষয়ে দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আলীম জানান, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।”

সুন্দরবনে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ঠিকাদারের ট্রলারে বরফ ও মাছ পরিবহনের দাবি এলাকাবাসীর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ঠিকাদারের ট্রলারে বরফ ও মাছ পরিবহনের দাবি এলাকাবাসীর

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সুন্দরবনে সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলাকালে বনবিভাগের একটি প্রকল্পের ঠিকাদারের ট্রলার ব্যবহার করে অবৈধভাবে মাছ শিকার ও পরিবহনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বনবিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে এসব কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় বাঘের জন্য টিলা (উঁচু স্থান) নির্মাণকাজ চলছে। ওই প্রকল্পের ঠিকাদার এর মালামাল পরিবহনকারী ট্রলারে নিয়মিত বরফ বহন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই বরফ ব্যবহার করে সুন্দরবনের বিভিন্ন খাল ও নদীতে জাল পেতে ধরা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ করা হয় এবং পরে একই ট্রলারে বন থেকে বাইরে আনা হয়।

অভিযোগকারীরা আরও বলেন, সুন্দরবনে তিন মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞার সময় সাধারণ জেলে ও বনজীবীরা বনে প্রবেশ করতে না পারলেও ঠিকাদারের ট্রলার অবাধে চলাচল করছে। ফলে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অবৈধভাবে মাছ শিকার ও পরিবহনের ঘটনা ঘটছে বলে তাদের সন্দেহ। বিষয়টি বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একাধিকবার জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট ট্রলারে কোনো ধরনের তল্লাশি বা নজরদারি করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন বিভাগের এক কর্মচারী বলেন, “গত বছর একবার আলম ঠিকাদারের ট্রলারে বরফ দেখতে পাই। তখন তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, অল্প কিছু মাছ পেলে খাওয়ার জন্য বরফে রাখি।”

স্থানীয়দের দাবি, সুন্দরবন রক্ষায় আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ট্রলারে নিয়মিত তল্লাশি ও নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানান তারা।

রবিবার (১২জুলাই) সকালে ঠিকাদার আলমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, “আমি এক তারিখে বরফ নিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু কোনো মাছ ধরিনি।”

অভিযোগের বিষয়ে বন বিভাগের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তার ইরফান উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে জানতে পশ্চিম সুন্দরবনের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমানের নাম্বারে ফোন করলে নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।