শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

তালায় প্রকল্পের অগ্রগতিবিষয়ক কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ণ
তালায় প্রকল্পের অগ্রগতিবিষয়ক কর্মশালা

 

তালা প্রতিনিধি: বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড কনসার্ন বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় বাস্তবায়িত ‘আলো’ প্রকল্পের অগ্রগতি অবহিতকরণ ও পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার সকালে তালা উপজেলা পরিষদের হলরুমে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। প্রকল্পের ব্যবস্থাপক প্রদোষ মানখিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাজিরা খাতুন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাসুম বিল্লাহ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আশুতোষ বিশ্বাস ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার প্রভাষ কুমার দাস।

Ads small one

সমুদ্রপথের নিরাপত্তায় সৌদির জোটে বাংলাদেশসহ ১৪ দেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ২:৩৫ অপরাহ্ণ
সমুদ্রপথের নিরাপত্তায় সৌদির জোটে বাংলাদেশসহ ১৪ দেশ

লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও গালফ অব এডেন অঞ্চলে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশকে নিয়ে নতুন একটি বহুজাতিক সমুদ্র প্রতিরক্ষা জোট গঠন করেছে সৌদি আরব। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করাই নতুন এই জোটের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছে রিয়াদ।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার কারণে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এই নৌপথ ব্যবহারকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো হামলা ও নিরাপত্তাঝুঁকির মুখে পড়ায় বিশ্বব্যাপী পণ্য পরিবহন, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং জ্বালানি বাণিজ্যের ওপরও এর প্রভাব পড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন এই জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।

জোটে বাংলাদেশসহ ১৪ দেশ

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ নামে নতুন এই জোটে বাংলাদেশসহ মোট ১৪টি দেশ যুক্ত হয়েছে। সদস্য দেশগুলো হলো—বাংলাদেশ, সৌদি আরব, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিসর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সুদান ও কোমোরোস।

ভৌগোলিক অবস্থান ও কৌশলগত গুরুত্বের দিক থেকে এসব দেশের অনেকগুলোই লোহিত সাগর, আরব সাগর, গালফ অব এডেন এবং বাব আল-মান্দেব অঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। ফলে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব দেশের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
সৌদি আরবের নেতৃত্বে গঠিত এই জোটের মাধ্যমে সদস্য দেশগুলো নিজেদের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি সমুদ্রপথে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।

নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন এই জোটের প্রধান লক্ষ্য হলো বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং গালফ অব এডেন এলাকায় নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করতেও সদস্য দেশগুলো একসঙ্গে কাজ করবে।

এ লক্ষ্যে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যৌথ কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

জোটের আওতায় যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনার পাশাপাশি সমুদ্রপথে কোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকি দেখা দিলে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দ্রুত সমন্বয় করে পরিস্থিতি মোকাবিলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে এ জোটের সামরিক কাঠামো, নেতৃত্বের ধরন এবং সদস্য দেশগুলোর নির্দিষ্ট দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

‘কোনো দেশকে লক্ষ্য করে নয়’

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, নতুন এই বহুজাতিক সমুদ্র প্রতিরক্ষা জোট সম্পূর্ণরূপে প্রতিরক্ষামূলক। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে গঠন করা হয়নি।

সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অন্য দেশগুলোও চাইলে এই জোটে যোগ দিতে পারবে।

এতে ধারণা করা হচ্ছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জোটটির সদস্য সংখ্যা আরও বাড়তে পারে এবং লোহিত সাগর ও আশপাশের সমুদ্রপথের নিরাপত্তায় এটি একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতা কাঠামো হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

হুথি হামলায় বেড়েছে নিরাপত্তা উদ্বেগ

লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নিরাপত্তা উদ্বেগের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা। গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হুথিরা ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করে আসছে।

এসব হামলার কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচলকারী অনেক জাহাজকে বিকল্প দীর্ঘ সমুদ্রপথ ব্যবহার করতে হয়েছে। এতে জাহাজ চলাচলের সময় ও ব্যয় বেড়েছে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, এর প্রভাব ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার বাণিজ্য ব্যবস্থাতেও পড়তে পারে।

বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ

লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহনে এই নৌপথের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

সুয়েজ খাল হয়ে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে চলাচলকারী বহু বাণিজ্যিক জাহাজকে বাব আল-মান্দেব প্রণালি অতিক্রম করতে হয়। ফলে এ অঞ্চলে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও জ্বালানি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিবহনের ক্ষেত্রেও লোহিত সাগর ও আশপাশের নৌপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে এই রুটে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।

সদর দপ্তর হবে সৌদি আরবে

সৌদি আরব জানিয়েছে, নতুন এই বহুজাতিক সমুদ্র প্রতিরক্ষা জোটের সদর দপ্তর সৌদি আরবেই স্থাপন করা হবে। তবে সদর দপ্তরের নির্দিষ্ট অবস্থান এবং জোটের প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এ ছাড়া সদস্য দেশগুলো কী ধরনের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে এই জোটে অংশ নেবে, কতসংখ্যক যুদ্ধজাহাজ বা বিমান মোতায়েন করা হবে কিংবা যৌথ অভিযানে কোন দেশের কী ধরনের ভূমিকা থাকবে—এসব বিষয়েও এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, জোটটি কার্যকরভাবে পরিচালিত হলে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার হতে পারে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি কমাতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন সমীকরণ

সৌদি আরবের নেতৃত্বে ১৪ দেশের এই নতুন সমুদ্র প্রতিরক্ষা জোট মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোয় নতুন একটি সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষ করে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেবের মতো কৌশলগত নৌপথে নিরাপত্তা জোরদারে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে জোটটির বাস্তব কার্যক্রম, সামরিক সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ ভূমিকা কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করবে সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা ও বাস্তবসম্মত সমন্বয়ের ওপর।

এদিকে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশের অংশগ্রহণ নতুন এই উদ্যোগকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো সমুদ্রনির্ভর বাণিজ্যিক দেশের জন্য আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই জোটের কার্যক্রম ভবিষ্যতে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সামুদ্রিক নিরাপত্তায় কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেদিকে নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।

টেকনাফে রাখাইন থেকে আসা রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, উদ্ধার ১৮

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
টেকনাফে রাখাইন থেকে আসা রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, উদ্ধার ১৮

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার সময় কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ উপকূলে একটি রোহিঙ্গাবাহী নৌকা ডুবে গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জেলেরা ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। নৌকাটিতে থাকা মাঝিমাল্লাসহ আরও ১৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।

আজ শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া নৌকাঘাটসংলগ্ন সাগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের কারণে একদল রোহিঙ্গা নৌকাযোগে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। পথে শাহপরীরদ্বীপ উপকূলের কাছে পৌঁছালে প্রবল স্রোত ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে নৌকাটি ডুবে যায়।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মন্নান বলেন, সীমান্তের ওপারের সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে তারা বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করছিল। নৌকাডুবির খবর পেয়ে স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়ে ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন। পরে তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়ার জেলে মো. ইসমাইল জানান, নৌকাটিতে ৩১ জন আরোহী ছিলেন। নৌকাডুবির পর স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন। তবে এখনও ১৩ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে নারী ও শিশু নেই বলেও জানান তিনি।

টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, শাহপরীরদ্বীপ এলাকায় নৌকাডুবির ঘটনায় ১৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে বিজিবির হেফাজতে রয়েছেন। তাদের পরিচয় এবং বাংলাদেশে আসার কারণ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

উল্লেখ্য, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা ও সামরিক অভিযানের মুখে কয়েক মাসের ব্যবধানে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

ইসরাইলি সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার না হলে নিরস্ত্রীকরণে যাবে না হামাস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ২:৩০ অপরাহ্ণ
ইসরাইলি সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার না হলে নিরস্ত্রীকরণে যাবে না হামাস

গাজা উপত্যকা থেকে ইসরাইলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামাসের আলোচক দলের সদস্য গাজি হামাদ এ কথা জানান।

তিনি বলেন, হামাসের নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি গাজা থেকে ইসরাইলি বাহিনীর প্রত্যাহার এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকাটির পুনর্গঠনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। চুক্তিতে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী ইসরাইল আগে তার দায়িত্ব পালন না করলে হামাসও নিরস্ত্রীকরণ-সংক্রান্ত কোনো পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করবে না।

গাজি হামাদ আরও বলেন, নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় ইসরাইলের কোনো ভূমিকা থাকবে না। এ প্রক্রিয়া একটি ফিলিস্তিনি জাতীয় কমিটির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।

চলমান আলোচনা সম্পর্কে তিনি বলেন, সমঝোতার পথ অত্যন্ত কঠিন ও জটিল। তবে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার সুরক্ষিত রেখে সর্বোত্তম ফল অর্জনের জন্য হামাস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ সময় আলোচনায় মধ্যস্থতার ভূমিকার জন্য মিসর, কাতার ও তুরস্কের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান হামাসের এই নেতা।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, গাজায় হামাসসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধাপে ধাপে গাজা থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে।

ট্রাম্প আরও জানান, মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় এই ‘ঐতিহাসিক অগ্রগতি’ সম্ভব হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে চুক্তি বাস্তবায়নের পাশাপাশি গাজার নিরাপত্তার দায়িত্ব একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী এবং নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর হাতে দেওয়ার কথা রয়েছে।

তবে হামাসের পক্ষ থেকে দেওয়া সর্বশেষ বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং গাজার পুনর্গঠনসহ অন্যান্য শর্ত পূরণের আগে নিরস্ত্রীকরণে সম্মত নয় সংগঠনটি। ফলে গাজায় যুদ্ধবিরতি ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চলমান আলোচনায় নতুন করে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক লাখ ৭৪ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহত ও আহতদের বড় অংশই নারী ও শিশু। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা গাজা পরিকল্পনার আওতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া ওই যুদ্ধবিরতির পরও গাজাজুড়ে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। এতে আরও ১ হাজার ২১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩ হাজার ৯৭৭ জন আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।