নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা শহরের বসুন্ধরা মার্কেট মালিকদের নামে জমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদান স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। দক্ষিণ পলাশপোলের বাসিন্দা মো. আলিফ হোসেনের পক্ষে আইনজীবী মো. ইয়ারুল ইসলাম এ রিট (পিটিশন নম্বর-১২৭৭৮/২০২৬) দায়ের করেন।
এর আগে গত ২ আগস্ট একই বিষয়ে আলিফ হোসেনসহ ১২ জন বাদী হয়ে মার্কেট মালিকপক্ষের এমদাদুল হকসহ ২১ জনকে বিবাদী করে সাতক্ষীরার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা (নম্বর-১৮০/২০২৬) করেন।
নথি সূত্রে জানা গেছে, ‘সাতক্ষীরা-সখিপুর-কালিগঞ্জ এবং কালিগঞ্জ-শ্যামনগর-ভেটখালী মহাসড়ক সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের আওতায় পলাশপোল মৌজার বিআরএস ১৭০২৮ দাগের জমি অধিগ্রহণ করা হয় (এলএ কেস নম্বর-০৬/২০২৪-২৫)। এতে অধিগ্রহণকৃত ০.০৫৯০ একর জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ ১ কোটি ২৪ লাখ ৬৬৬ টাকা এবং অবকাঠামো বাবদ ১২ কোটি ২৩ লাখ ৮১ হাজার ৯০৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, অধিগ্রহণ করা জমির মধ্যে তাঁদের ০.০৩৮৬ একর জমি রয়েছে। বিবাদীপক্ষ জমির ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হলেও সেখানে থাকা তাঁদের তিনটি পাকা দোকানঘর ও অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণের টাকা ভাগ করে দিতে চাচ্ছে না।
রিটকারী আলিফ হোসেন বলেন, বসুন্ধরা মার্কেট ভবন নির্মাণে নকশা ও বিল্ডিং কোড লঙ্ঘন করা হয়েছে। পৌরসভার মাপেও বিষয়টি প্রমাণিত হলেও নকশা বাতিল বা মামলা করা হয়নি। তা ছাড়া তাঁদের এজমালি জমি একতরফা দখল দেখিয়ে বিবাদীপক্ষ পুরো ক্ষতিপূরণ তোলার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে বিবাদী দিদারুল হক বলেন, ১৭০২৮ দাগে মোট ০.৩৭৫০ একর জমি তাঁদের আট শরিকের মধ্যে সমভাবে বন্টিত। সবাই নিজ নিজ অংশে দখলদার হয়ে দোকানপাট করেছেন। সরকারি মূল্যায়নে সবার ক্ষতিপূরণ আলাদা করা আছে। কিন্তু যৌথ নোটিশ হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
রিটকারীর আইনজীবী মো. ইয়ারুল ইসলাম জানান, মক্কেলদের জমির ক্ষতিপূরণ বিবাদীপক্ষ জোরপূর্বক নেওয়ার চেষ্টা করায় তাঁরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। আদালত যে রায় দেবেন, তা মেনে নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আলী হায়দার জানান, তিনি নতুন যোগ দেওয়ায় বিষয়টি বিস্তারিত জেনে মন্তব্য করবেন।