দেবহাটায় অফসিজন তরমুজ চাষে বেকারত্ব দূর, মহিলাসহ কৃষকরা হচ্ছেন স্বাবলম্বী
Oplus_131072
কে এম রেজাউল করিম, দেবহাটা: দেবহাটায় অফসিজন তরমুজ চাষ করে অনেক বেকার যুবক, মহিলা, শিক্ষার্থী ও কৃষক স্বাবলম্বী হচ্ছেন। দেবহাটা উপজেলায় এই অফসিজন তরমুজের চাষ করে একদিকে যেমন বেকার ও কৃষকরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন, অন্যদিকে নতুন এই কৃষিপণ্য চাষে মহিলারাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। ঘেরের জমির পাড়ে মাচা তৈরি করে এই তরমুজের চাষ করা হচ্ছে, যার কারণে বাড়তি কোনো জমিরও প্রয়োজন পড়ছে না।
দেবহাটা উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দেবহাটা উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উদ্যোগে গত ৪-৫ বছর ধরে এই অফসিজন তরমুজ ও সবজির চাষ হচ্ছে। গত ২ মাস পূর্বে কৃষক ও বেকার যুবকদের বিনামূল্যে অফসিজন তরমুজের বীজ ও সার সরবরাহ করা হয়। এছাড়া তরমুজের মাচা তৈরি ও প্রশিক্ষণ প্রদানসহ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়। কৃষি অধিদপ্তরের মাধ্যমে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ বছর মোট ৩৭ হেক্টর জমিতে এই অফসিজন তরমুজ চাষ করা হচ্ছে, যা গত বছর ছিল ৩০ হেক্টর। মোট চারটি জাতের বীজÑতৃপ্তি, ব্ল্যাক বেবি, সুগারকুইন ও বাংলালিংক নামের বীজ প্রদান করা হয়।
প্রতি বিঘা জমিতে ১০০ গ্রাম থেকে ১২০ গ্রাম বীজ রোপণ করা যায়। এই অফসিজন তরমুজ প্রতি কেজি ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় করা হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের ঘেরের নিজস্ব জমিতে এই তরমুজের চাষে ঝুঁকছে। এ বছর আশানুরূপ ফলন ও লাভজনক হওয়ায় আগামীতে বেশি করে এই তরমুজ চাষে কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন বলে কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল টিকিট গ্রামের কৃষক কৃঞ্চ চন্দ্র জানান, সে বেকার থাকায় ঘেরের পাশাপাশি দেবহাটা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ তাকে এই অফসিজন তরমুজ চাষে উদ্বুদ্ধ করে। মোস্তাক আহমেদের পরামর্শে সে তার নিজস্ব জমিতে অফসিজন তরমুজের চাষ করেছে। এখানে পানি লোনা হওয়ার কারণে কোনো সবজি হতো না, কিন্তু তরমুজ চাষ করে ইতোমধ্যে লক্ষাধিক টাকা মুনাফা করেছে এবং আরও ৫০ হাজার টাকার মতো বিক্রি হবে বলে কৃঞ্চ জানান।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ জানান, দেবহাটা কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে তিনি সার্বক্ষণিক কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছেন। এই অফসিজন তরমুজ চাষের পদ্ধতি ও বিভিন্ন নিয়ম সম্পর্কে কৃষকদের অবহিত করেছেন।
দেবহাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শওকত ওসমান দেবহাটা উপজেলায় এই তরমুজের আশানুরূপ ফলন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, এই চাষে মহিলারা উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। আগামীতে আরও বড় আকারে এই তরমুজ চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হবে। তিনি বলেন, চলতি বছরে ৩৭ হেক্টর জমিতে এই অফসিজন তরমুজ চাষ করা হচ্ছে, যা থেকে কৃষকরা বাড়তি মুনাফা অর্জন করতে পারছেন।
দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলন সাহা বলেন, এই মৌসুমে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৃষকদেরকে বিনামূল্যে অফসিজন তরমুজের বীজ, সার ও সকল প্রকার সহযোগিতা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন এবং দেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে।









