বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

দেবহাটায় অর্ধকোটি টাকার খাল খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, শুকিয়ে মরছে গাছ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় অর্ধকোটি টাকার খাল খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, শুকিয়ে মরছে গাছ

নিজস্ব প্রতিনিধি: দেবহাটা ইউনিয়নের বোয়ালমারী খাল পুনঃখনন এবং অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতাধীন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পানি নিষ্কাশন ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের গৃহীত এই প্রকল্পের শুরু থেকেই নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে অর্থ লোপাট করা হচ্ছে বলে স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা সদরের বোয়ালমারী খালটি পুনঃখননের জন্য প্রায় ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকার একটি প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় ১৩ হাজার ২৬৯ দশমিক ৪৪০ ঘনমিটার মাটি অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এতে ১১৯ জন উপকারভোগী শ্রমিকের দৈনিক ৫০০ টাকা হারে কাজ করার কথা। এর বাইরে স্লোপ স্ট্যাবিলাইজেশন ও বৃক্ষরোপণের জন্য পৃথকভাবে ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৪৬০ টাকা এবং শুধু বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের জন্য ৬ লাখ ৬৬ হাজার ৬০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে নামমাত্র কাজ করে বিল তুলে নেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। প্রকল্পে লাগানো গাছের চারাগুলো এতটাই নি¤œমানের যে বেশির ভাগই শুকিয়ে মরতে বসেছে।
নকশা অনুযায়ী খালটি যতটুকু গভীর ও প্রশস্ত করার কথা ছিল, তা করা হয়নি। উল্টো ওপরের স্তরের মাটি কেটে পাড়ে স্তূপ করে রাখায় খালটি আগের চেয়ে আরও সরু হয়ে গেছে। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই পাড়ের মাটি ধসে আবার খালে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোর কথা থাকলেও এক্সেভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে দায়সারাভাবে মাটি কাটা হয়েছে। এ ছাড়া শ্রমিক নিয়োগের ভুয়া তালিকা (মাস্টাররোল) তৈরি করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির বিরুদ্ধে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষায় পানি নিষ্কাশন ও শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য এই খালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু খননের নামে কেবল ‘আইওয়াশ’ করা হয়েছে। খালের মাঝখানের মাটি না কেটে শুধু দুই পাশ থেকে একটু মাটি তুলে পাড়ে রাখা হয়েছে।
প্রকল্পের সভাপতি ও দেবহাটা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বকুল বলেন, আগে লাগানো গাছগুলো সরকারি লোকজন লাগিয়েছিল। সেগুলো ভালো না হওয়ায় আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে নতুন করে আবার গাছ লাগানো হবে। যোগাযোগ করা হলে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুর রহমান অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কাজটি এখনও চলমান। কোনো স্থানে নকশা অনুযায়ী কাজ না হয়ে থাকলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিল দেওয়া হবে না এবং পুনরায় সঠিক নিয়মে কাজ করিয়ে নেওয়া হবে। দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলন সাহা জানান, খালের কাজে অনিয়মের লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

Ads small one

কেশবপুর প্রেস ক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন: জয়দেব সভাপতি, কুদ্দুস সম্পাদক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ
কেশবপুর প্রেস ক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন: জয়দেব সভাপতি, কুদ্দুস সম্পাদক

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কেশবপুর প্রেস ক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে সভাপতি পদে জয়দেব চক্রবর্তী (লোকসমাজ) এবং সাধারণ সম্পাদক পদে রুহুল কুদ্দুস (ইনকিলাব) নির্বাচিত হয়েছেন।
এ ছাড়া সহসভাপতি পদে আব্দুল হাই সিদ্দিকী (নয়া দিগন্ত ও পূর্বাঞ্চল) ও মোতাহার হোসাইন (সমকাল ও গ্রামের কাগজ), যুগ্ম সম্পাদক পদে মশিয়ার রহমান (আলোকিত বাংলাদেশ) ও মেহেদী হাসান জাহিদ (সময়ের খবর), কোষাধ্যক্ষ পদে সিদ্দিকুর রহমান (খোলা কাগজ), দপ্তর সম্পাদক পদে আলমগীর হোসেন (দৈনিক খুলনাঞ্চল), ক্রীড়া ও সাহিত্য সম্পাদক পদে মাসুম বিল্লাহ (প্রতিদিনের কথা), এবং গ্রন্থাগার সম্পাদক পদে মতিয়ার রহমান (অনির্বাণ) নির্বাচিত হয়েছেন। কার্যনির্বাহী পাঁচ সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন আজিজুর রহমান (যুগান্তর), নুরুল ইসলাম খান (কালের কণ্ঠ), আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ (দৈনিক কল্যাণ), উৎপল দে (কালবেলা) ও শেখ শাহীনুর ইসলাম (করতোয়া)।
নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রেস ক্লাবের সদস্য ও ভোটারদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সাংবাদিকতার মান উন্নয়নে তাঁদের ভূমিকা অব্যাহত থাকবে। সংবাদ পরিবেশনে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে লেখনী ধারণ এবং সমাজের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরার মাধ্যমে তাঁরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করবেন। প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আশরাফুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ নবনির্বাচিত কমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আগামী দিনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

শ্যামনগরে গ্রামীণ নারী কৃষি মেলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে গ্রামীণ নারী কৃষি মেলা

‘জলবায়ু অভিঘাত পেরিয়ে গ্রামীণ নারী ক্ষমতায়ন ও সমৃদ্ধির পথে’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বুড়িগোয়ালিনী ও গাবুরা ইউনিয়নের নারী দলের সদস্যদের আয়োজনে শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনীর দাতিনাখালি বালুর মাঠে গ্রামীণ নারী কৃষি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। লিডার্স, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও অ্যাম্বাসি অব সুইডেনের সহযোগিতায় কমিউনিটি ভিত্তিক জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন কর্মসূচি–সিআরইএ প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উপলক্ষে এ মেলার আয়োজন করা হয়। ৯ নম্বর বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জিএম আব্দুর রউফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার ওয়ালিউল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন, উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সম্পাদক ও সাংবাদিক হুদা মালী, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের সমাজসেবক জি এম রুস্তম আলী, ফেইথ ইন অ্যাকশনের জেন্ডার অফিসার নয়মী বিশ্বাস, পিসিআরসিবি প্রকল্প সিসিডিবির সহসভাপতি মিনতি রানী মল্লিক, মেঘনা নারী দলের সভাপতি নার্গিস সুলতানা, দোলন চাঁপা নারী দলের সহসভাপতি জেবুন্নেছা খাতুন এবং লিডার্সের সিআরইএ প্রকল্প সমন্বয়কারী সুব্রত অধিকারীসহ প্রকল্পের অন্যান্য কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রকল্প কর্মকর্তা সুলতা রানী সাহা। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

আলো ঝলমলে রাতের গুড়পুকুর মেলা, বাড়ছে দর্শনার্থীদের আনাগোনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ
আলো ঝলমলে রাতের গুড়পুকুর মেলা, বাড়ছে দর্শনার্থীদের আনাগোনা

0-0x0-0-0#

মিলন বিশ্বাস: সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলায় দুপুরের পর থেকেই বাড়তে শুরু করে দর্শনার্থীদের ভিড়। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই আলো ঝলমলে মেলা প্রাঙ্গণ পরিণত হয় মানুষের মিলনমেলায়। কেনাকাটা, ঘোরাঘুরি ও বিনোদনের আনন্দে মেতে ওঠেন নানা বয়সী মানুষ। মেলা শেষের দিকে চলে আসায় ব্যবসায়ীদের বেচাকেনাও জমে উঠেছে। অন্যদিকে, মেলার সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন করেছেন পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মেলার ১৫তম দিনে সাতক্ষীরা শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে এমন উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়। গত ১ অক্টোবর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ঐতিহ্যবাহী এ মেলা ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও দর্শনার্থীরা আসছেন। মেলায় রয়েছে প্রসাধনী, পোশাক, শিশুদের খেলনা, গৃহস্থালির সামগ্রী ও খাবারের নানা দোকান। রঙিন আলোকসজ্জা আর মানুষের পদচারণায় সন্ধ্যার পর মেলা প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত।

মেলার শেষ পর্যায়ে এসে বেচাকেনা ভালো হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, মেলার বাকি দিনগুলোতে ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি আরও বাড়বে এবং বিক্রিও ভালো হবে।

ঢাকা থেকে আসা কসমেটিকস ব্যবসায়ী মাসুদ বলেন, “মেলার শেষ দিকে এসে বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। দুপুরের পর থেকেই ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। এভাবে ক্রেতা আসতে থাকলে সামনের দিনগুলোতে বেচাকেনা আরও ভালো হবে বলে আশা করছি।”

বরিশাল থেকে শিশুদের খেলনা নিয়ে আসা ব্যবসায়ী আকবর বলেন, “মেলার শেষ সপ্তাহে এসে ক্রেতাদের আনাগোনা ভালো। শিশুদের খেলনার প্রতি ছোটদের আগ্রহ রয়েছে। এখন বেচাকেনা ভালো হওয়ায় আমরা আশাবাদী। মেলার শেষ দিনগুলোতে আরও ভালো বিক্রির প্রত্যাশা করছি।”
মাদারীপুর থেকে আসা ব্যবসায়ী নাজমুল হোসেন বলেন, “মেলা শেষের দিকে হওয়ায় এখন বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। বিভিন্ন বয়সী মানুষ মেলায় আসছেন, পছন্দের জিনিস কিনছেন। সামনে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি আরও বাড়লে আমাদের ব্যবসাও ভালো হবে বলে আশা করছি।”

এদিকে, বৃহস্পতিবার গুড়পুকুর মেলার সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন করেন পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম। মেলায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশের দায়িত্ব পালন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেলায় নিরাপত্তাব্যবস্থা সন্তোষজনক রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

শতাব্দীর ঐতিহ্য বহনকারী গুড়পুকুর মেলা সাতক্ষীরার মানুষের কাছে শুধু কেনাকাটার জায়গা নয়, বরং সামাজিক মিলন ও বিনোদনেরও অন্যতম উপলক্ষ। মেলা শেষের দিকে এসে দর্শনার্থীদের আনাগোনা এবং ব্যবসায়ীদের বেচাকেনায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসায় আয়োজক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।