শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা: যুবদল নেতা ভদুর তিন দিনের রিমান্ড 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২:৫৬ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা: যুবদল নেতা ভদুর তিন দিনের রিমান্ড 

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের বড় শান্তা গ্রামের শামছুর রহমান সানার ছেলে ওয়াহেদুজ্জামান সানা ওরফে শামীমকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় আদালতে আত্মসমর্পণকারী যুবদল নেতা সাদিকুল ইসলাম ভদুর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিনের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরার আমলি তৃতীয় আদালতের বিচারক নুসরাত জাহান এ আদেশ দেন।

সাদিকুল ইসলাম ভদু দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া শেখপাড়ার শওকত আলীর ছেলে। তিনি পারুলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আল আমিন জানান, ওয়াহেদুজ্জামানকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ২ নম্বর আসামি সাদিকুল ইসলাম ভদু গত ২৮ অক্টোবর আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১ নভেম্বর আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতের আদেশ পাওয়ার পর তাঁকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আগামী ৮ নভেম্বর দুপুর ১২টার মধ্যে তাঁকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন সাতক্ষীরা জজ কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আসাদুজ্জামান দিলু। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন উপপরিদর্শক (সিএসআই) বিশ্বনাথ রায় ও আইনজীবী আবু সাঈদ।

বৃহস্পতিবার আদালত চত্বরে সাদিকুল ইসলাম ভদু সাংবাদিকদের জানান, তিনি মিছিলকারীদের সঙ্গে থাকলেও শামীমকে মারধর করেননি। তিনি যুবদলের নেতা বলেও নিশ্চিত করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী আবুল কাশেমের মেয়ে মোসলেমা, ছেলে হোসেন আলী ও একই এলাকার মাসুদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা কল রেকর্ডের সূত্র ধরে ওয়াহেদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত ১২ অক্টোবর সন্ধ্যায় স্থানীয় জামায়াত কার্যালয়ের সামনে থেকে একদল লোক তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়। পরদিন ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় কুলিয়ার ডা. এমএ সবুরের ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর ওপর হামলা করা হয়। একই দিন পারুলিয়া থেকে মিছিল নিয়ে একদল লোক সখীপুর হাসপাতালের পেছনের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পুলিশ, আনসার ও কর্তব্যরত চিকিৎসকের উপস্থিতিতে চিকিৎসাধীন ওয়াহেদুজ্জামানের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই আব্দুল জলিল বাদী হয়ে ১৫ অক্টোবর ফজলুল হক আমিনী, যুবদল নেতা সাদিকুল ইসলাম ভদু, মোক্তার খান ও আসাদুল মোল্লাসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ২৫০ জনকে আসামি করে দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় ১৫ অক্টোবর রাতে মোক্তার খান, ১৬ অক্টোবর সকালে আসাদুল মোল্লা এবং ১৭ অক্টোবর ফজলুল হক আমিনী গ্রেপ্তার হন।

Ads small one

তারিকুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকীতে সাতক্ষীরায় দোয়া

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
তারিকুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকীতে সাতক্ষীরায় দোয়া

module: a; hw-remosaic: 0; touch: (0.54907405, 0.54907405); modeInfo: ; sceneMode: Night; cct_value: 4726; AI_Scene: (-1, -1); aec_lux: 305.237; hist255: 0.0; hist252~255: 0.0; hist0~25: 0.0;

পত্রদূত ডেস্ক: বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তারিকুল ইসলামের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সাতক্ষীরায় দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সাতক্ষীরা সদর উপজেলা ও পৌর বিএনপির সম্মিলিত উদ্যোগে এবং পৌরসভার সাবেক মেয়র তাসকিন আহমেদ চিশতীর আয়োজনে পাবলিক লাইব্রেরিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র তাসকিন আহমেদ চিশতী।

এ সময় বক্তব্য দেন জেলা ওলামা দলের সদস্যসচিব সাইফুল্লাহ আল কাফি, সদর উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আনারুল ইসলাম, ফিংড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরনবী খান মিঠু, বাঁশদহ ইউনিয়ন বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এইচ এম কামরুজ্জামান, কুশখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান লিটু, সাবেক ছাত্রনেতা ওমর ফারুক, সাতক্ষীরা পৌরসভার সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অজিয়ার রহমান ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক পলাশ আহমেদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা তারিকুল ইসলামের রাজনৈতিক জীবন এবং দেশ ও দলের প্রতি তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন। পরে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেন ডা. বলরাম বিশ্বাস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেন ডা. বলরাম বিশ্বাস

জি এম আমিনুল হক: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শ্বেতপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া চিকিৎসক ডা. বলরাম বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। নিজের খরচে ওষুধ সরবরাহসহ বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে তিনি এলাকায় মানবিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তাঁর দাবি, এ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ দিয়েছেন।

ডা. বলরাম বিশ্বাস জানান, তিনি সাধারণ রোগীদের কাছ থেকে প্রথমে ৩০০ টাকা এবং পরে ২০০ টাকা ফি নেন। তবে ৭০ বছরের বেশি বয়সী, হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের কাছ থেকে কোনো ফি নেন না। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে যেসব রোগী চেম্বারে আসতে পারেন না, তাঁদের জন্য প্রতি রোববার বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিৎসাসেবা দেন। তাঁর চেম্বারে রোগী দেখার সময় সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা এবং বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা।

বিধবা, দরিদ্র, বয়স্ক ও এতিম ব্যক্তিদের পাশাপাশি এলাকার দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদেরও বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেন তিনি। প্রায় ২০ বছর ধরে দ্বিতীয় থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং জন্মগত প্রতিবন্ধী শিশুদের বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। জরুরি রোগীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্সে বিনা মূল্যে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থাও করেন।

চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি এলাকার তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে প্রায় ১৮ থেকে ২০ বছর ধরে প্রতিবছর ফুটবল ও ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজন করে আসছেন। এসব আয়োজনে বড় অঙ্কের অর্থও ব্যয় করেন তিনি।

২০০২ সালে ঢাকায় চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন ডা. বলরাম বিশ্বাস। ২০০৫ সাল থেকে সাত বছর গণস্বাস্থ্য সেবা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সাল থেকে প্রতি ইংরেজি মাসের প্রথম সপ্তাহে নিজ এলাকায় রোগী দেখতেন। পরে মায়ের অসুস্থতার কারণে চাকরি ছেড়ে বাড়িতে অবস্থান শুরু করেন। বর্তমানে প্রতি মাসের শেষ পাঁচ দিন ঢাকায় নিজের চেম্বারে রোগী দেখেন।

চিকিৎসাসেবার বাইরেও সামাজিক সচেতনতামূলক কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৯৮-৯৯ সালে ঢাকার সিটিং সার্ভিস বাসের পেছনে ‘একটি ভুল সারা জীবনের কান্না’—এই স্লোগানটি প্রায় এক হাজার বাসে নিজ হাতে লিখে দেন। গাবতলী, সায়েদাবাদ, ডেমরা, গুলিস্তান, মতিঝিল ও ফার্মগেটসহ বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসগুলোতে লেখাটি দেখা যেত।

ছাত্রজীবনে সাংবাদিকতার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন ডা. বলরাম বিশ্বাস। তিনি আশাশুনি ও বুধহাটা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। চিকিৎসাসেবা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি।

পাইকগাছায় ওয়ারিশ সনদ নিয়ে ভোগান্তির অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় ওয়ারিশ সনদ নিয়ে ভোগান্তির অভিযোগ

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় ওয়ারিশ সনদ পেতে ভোগান্তির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন গদাইপুর ইউনিয়নের পুরাইকাটি গ্রামের এক ব্যক্তি। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের দুই ইউপি সদস্য সুপারিশ করার পরও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সনদ দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ আবেদনকারী নবজান সরদারের।

নবজান সরদারের দাবি, তাঁর বাবা চাঁদ আলী সরদারের মৃত্যুর পর ওয়ারিশ হিসেবে পাঁচ ছেলে, তিন মেয়ে ও এক স্ত্রী রয়েছেন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি গদাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর ওয়ারিশ সনদের জন্য আবেদন করেন। অন্যদিকে, তাঁর বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী সখিনা বেগমের আগের পক্ষের ছেলে আয়ুব আলীও গত ১২ জুন একই বিষয়ে আবেদন করেন।

নবজানের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম ও খুকুমণি তাঁর আবেদনের পক্ষে প্রতিবেদন দিয়েছেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও তাঁর পক্ষে সুপারিশ করেছেন। এরপরও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সনদ না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে হয়রানি করছেন। এ বিষয়ে গত ১৫ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর কাছে আবেদন করলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন বলে জানান নবজান।

নবজান আরও অভিযোগ করেন, আয়ুব আলীর পিতার নাম মুনতাজ মোড়ল। আয়ুবের বয়স যখন সাত বছর, তখন তাঁর মা সখিনা বেগমকে চাঁদ আলী সরদার বিয়ে করেন। বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তির অংশ পেতে আয়ুব মিথ্যা তথ্য দিয়ে ওয়ারিশ সনদ নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে, গত মঙ্গলবার ফজরের নামাজের আগে কে বা কারা আয়ুব আলীর রান্নাঘরের চালে আগুন দিয়েছে। এ ঘটনায় তাঁদের ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন নবজান। তবে এ বিষয়ে আয়ুব আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান শেখ খোরশেদুজ্জামান বলেন, ওয়ারিশ সনদের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে সনদ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।