বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা: যুবদল নেতা ভদুর তিন দিনের রিমান্ড 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২:৫৬ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা: যুবদল নেতা ভদুর তিন দিনের রিমান্ড 

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের বড় শান্তা গ্রামের শামছুর রহমান সানার ছেলে ওয়াহেদুজ্জামান সানা ওরফে শামীমকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় আদালতে আত্মসমর্পণকারী যুবদল নেতা সাদিকুল ইসলাম ভদুর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিনের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরার আমলি তৃতীয় আদালতের বিচারক নুসরাত জাহান এ আদেশ দেন।

সাদিকুল ইসলাম ভদু দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া শেখপাড়ার শওকত আলীর ছেলে। তিনি পারুলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আল আমিন জানান, ওয়াহেদুজ্জামানকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ২ নম্বর আসামি সাদিকুল ইসলাম ভদু গত ২৮ অক্টোবর আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১ নভেম্বর আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতের আদেশ পাওয়ার পর তাঁকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আগামী ৮ নভেম্বর দুপুর ১২টার মধ্যে তাঁকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন সাতক্ষীরা জজ কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আসাদুজ্জামান দিলু। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন উপপরিদর্শক (সিএসআই) বিশ্বনাথ রায় ও আইনজীবী আবু সাঈদ।

বৃহস্পতিবার আদালত চত্বরে সাদিকুল ইসলাম ভদু সাংবাদিকদের জানান, তিনি মিছিলকারীদের সঙ্গে থাকলেও শামীমকে মারধর করেননি। তিনি যুবদলের নেতা বলেও নিশ্চিত করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী আবুল কাশেমের মেয়ে মোসলেমা, ছেলে হোসেন আলী ও একই এলাকার মাসুদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা কল রেকর্ডের সূত্র ধরে ওয়াহেদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত ১২ অক্টোবর সন্ধ্যায় স্থানীয় জামায়াত কার্যালয়ের সামনে থেকে একদল লোক তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়। পরদিন ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় কুলিয়ার ডা. এমএ সবুরের ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর ওপর হামলা করা হয়। একই দিন পারুলিয়া থেকে মিছিল নিয়ে একদল লোক সখীপুর হাসপাতালের পেছনের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পুলিশ, আনসার ও কর্তব্যরত চিকিৎসকের উপস্থিতিতে চিকিৎসাধীন ওয়াহেদুজ্জামানের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই আব্দুল জলিল বাদী হয়ে ১৫ অক্টোবর ফজলুল হক আমিনী, যুবদল নেতা সাদিকুল ইসলাম ভদু, মোক্তার খান ও আসাদুল মোল্লাসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ২৫০ জনকে আসামি করে দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় ১৫ অক্টোবর রাতে মোক্তার খান, ১৬ অক্টোবর সকালে আসাদুল মোল্লা এবং ১৭ অক্টোবর ফজলুল হক আমিনী গ্রেপ্তার হন।

Ads small one

সরুলিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী মামুনুর রহমানের গণসংযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৯ অপরাহ্ণ
সরুলিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী মামুনুর রহমানের গণসংযোগ

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার সরুলিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ শুরু করেছেন সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসাধারণ সম্পাদক চিকিৎসক মো. মামুনুর রহমান।

তিনি পাটকেলঘাটা বাজারের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং সরুলিয়া ইউনিয়নের কাশিপুর, পুটিয়াখালী, খোর্দ ও বড়বিলাসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। এ সময় তিনি এলাকার মানুষের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শুনছেন।

মামুনুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে রয়েছেন। নির্বাচিত হলে প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে চান। একটি দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তোলাই তাঁর লক্ষ্য।

পাইকগাছায় বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিবর্তন, ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিবর্তন, ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (পাইকগাছা): খুলনার পাইকগাছায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার দীর্ঘদিনের পরিচিত কেন্দ্র ২৩ নম্বর পাইকগাছা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলের অনেকে। তাঁদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মেয়ে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ায় কেন্দ্রটি পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে নীতিমালায় এ ধরনের পরিস্থিতিতে কেন্দ্র পরিবর্তনের পরিবর্তে কেন্দ্র সচিব পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে বলে দাবি তাঁদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাইকগাছা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আসন্ন পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মেয়ে অংশ নেওয়ায় কেন্দ্রটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কেন্দ্রটি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিভাবকদের দাবি, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, যে প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, সাধারণত সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। তবে তাঁর সন্তান বা পোষ্য পরীক্ষার্থী হলে তাঁকে কেন্দ্র সচিব করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে অন্য উপযুক্ত কাউকে কেন্দ্র সচিব নিয়োগের বিধান রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, নীতিমালায় বিকল্প কেন্দ্র সচিব নিয়োগের সুযোগ থাকার পরও কেন পুরো কেন্দ্র পরিবর্তন করা হলো, তা বোধগম্য নয়। প্রধান শিক্ষককে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে অন্য কাউকে দায়িত্ব দিলেই নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা সম্ভব ছিল।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মেয়ে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে। তাই পরীক্ষার নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে বিদ্যালয়টি থেকে কেন্দ্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে কেন্দ্র সচিব পরিবর্তনের বিধান থাকা সত্ত্বেও কেন পুরো কেন্দ্র পরিবর্তন করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।

অভিভাবকদের মতে, কোনো বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সন্তান পরীক্ষার্থী হলেই সেখানে পরীক্ষা গ্রহণের পরিবেশ অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে না। নীতিমালা অনুসরণ করে বিকল্প কেন্দ্র সচিব নিয়োগের মাধ্যমেই পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা সম্ভব। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিনের পরিচিত কেন্দ্র পরিবর্তনের ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাই সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

পাইকগাছায় নাশকতা, জুয়াসহ বিভিন্ন মামলায় আটক ১৪

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় নাশকতা, জুয়াসহ বিভিন্ন মামলায় আটক ১৪

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে নাশকতা, জুয়া ও অন্যান্য মামলায় মোট ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার ও বুধবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের গড়েরআবাদ এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এসআই নুরে আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল টাকার বিনিময়ে তাস খেলার সময় ছয়জনকে আটক করে। এ সময় জুয়ার টাকা ও খেলার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন মৃত আবতাপ গাজীর ছেলে রশিদ গাজী (৫৫), আবুল কাসেমের ছেলে আমিরুল (৩৮), মৃত সামাদের ছেলে সফিকুল (৬০), জব্বার গাজীর ছেলে আব্দুর রহমান, জনাব মোল্লার ছেলে খানজাহান মোল্লা (৬২) এবং জামান মোল্লার ছেলে সাইফুল (৩৫)। এ ঘটনায় পাইকগাছা থানায় জুয়া আইনে মামলা হয়েছে। মামলার নম্বর ৪/২৬।

এদিকে, মঙ্গলবার রাতে নগরশ্রীরামপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ হাজরার ছেলে হরিঢালী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মুজাহিদুল হাজরা (৪৮) এবং বুধবার সকাল ১১টার দিকে গদাইপুর ইউনিয়নের রফিকুল ইসলামের ছেলে ছাত্রলীগের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. ফারজাহান পারভেজ ওরফে রুমি (২৫) কে নাশকতার মামলায় আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ও অন্যান্য মামলায় আরও ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।

পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আব্দুল আউয়াল কবির আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।