শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

নোটারি পাবলিক দিবস: স্বচ্ছতা ও জালিয়াতি রোধে সচেতনতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
নোটারি পাবলিক দিবস: স্বচ্ছতা ও জালিয়াতি রোধে সচেতনতা

সাকিবুর রহমান বাবলা

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, নাগরিক অধিকার সুরক্ষা এবং ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস বজায় রাখতে নির্ভরযোগ্য দলিলপত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। ব্যক্তিগত ঘোষণা, চুক্তি, হলফনামা কিংবা আন্তর্জাতিক প্রয়োজনে ব্যবহৃত বিভিন্ন নথির সত্যতা ও যথার্থতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নোটারি পাবলিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁদের দায়িত্ব কেবল কোনো কাগজে সিল ও স্বাক্ষর দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং পরিচয় যাচাই, স্বাক্ষরের সত্যতা নিশ্চিত করা, শপথ গ্রহণ করানো এবং আইনি লেনদেনে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও জড়িত। আইন পেশা ও জনজীবনে নোটারি পাবলিকদের এই অবদানকে সম্মান জানাতে প্রতিবছর ৭ নভেম্বর পালিত হয় নোটারি পাবলিক দিবস।

দিবসটির প্রচলন ঘটে যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯৭৪ সালে আমেরিকান সোসাইটি অব নোটারিজ ৭ নভেম্বরকে নোটারি পাবলিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। যুক্তরাষ্ট্রে দিবসটির বিশেষ গুরুত্ব থাকলেও নোটারি পেশার দায়িত্ব ও অবদান বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। দিবসটির তারিখের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেশটির নোটারি ব্যবস্থার একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নোটারি পাবলিক হিসেবে পরিচিত টমাস ফুগিলকে ১৬৩৯ সালের ২৫ অক্টোবর তৎকালীন জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে নিউ হ্যাভেন কলোনিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী তারিখটি ৭ নভেম্বরের সঙ্গে মিলে যায়। এই ঐতিহাসিক স্মৃতিই দিবসটির তারিখ নির্বাচনের ভিত্তি।

নোটারি ব্যবস্থার শিকড় প্রাচীন মিসর ও রোমান সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বিস্তৃত। সে সময় গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি, রাজকীয় নির্দেশ, সম্পত্তি ও লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লিপিকার নিয়োগ করা হতো। সময়ের পরিবর্তনে সেই দায়িত্ব প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় নোটারি পাবলিক একটি স্বীকৃত আইনি পেশায় পরিণত হন।

নোটারি পাবলিকের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো প্রতারণা ও জালিয়াতি প্রতিরোধে সহায়তা করা। কোনো গুরুত্বপূর্ণ দলিলে স্বাক্ষরকারীর পরিচয় যাচাই, তাঁর স্বেচ্ছায় স্বাক্ষর করার বিষয়টি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শপথ বা ঘোষণা গ্রহণের মাধ্যমে নথির বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানো তাঁদের কাজ। হলফনামা, চুক্তিপত্র, সম্পত্তিসংক্রান্ত নথি, শিক্ষাগত সনদ ও বিভিন্ন অনুবাদিত দলিলের সত্যায়নে তাঁদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে নোটারি করা মানেই কোনো দলিলের প্রতিটি বক্তব্য সত্য প্রমাণিত হওয়া কিংবা সেটি সব ক্ষেত্রে আদালতে গ্রহণযোগ্য হয়ে যাওয়া নয়। নোটারির ক্ষমতা ও দায়িত্ব আইন দ্বারা নির্ধারিত।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসেও নোটারি পেশার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা রয়েছে। ১৯২৩ সালে দেশটির ৩০তম রাষ্ট্রপতি ক্যালভিন কুলিজ দায়িত্ব গ্রহণের সময় তাঁর বাবা জন কুলিজ তাঁকে রাষ্ট্রপতির শপথ পাঠ করান। তিনি একজন নোটারি পাবলিক ছিলেন। বিখ্যাত লেখক মার্ক টোয়েন, যাঁর প্রকৃত নাম স্যামুয়েল ক্লেমেন্স, এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের শেষ স্বাক্ষরকারী থমাস ম্যাককিনও জীবনের একপর্যায়ে নোটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব ঘটনা পেশাটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে।

আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশে নোটারি ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন এসেছে। আগে কাগজ, কালি, সিল ও স্বাক্ষরনির্ভর এই কার্যক্রম এখন অনেক দেশে দূরবর্তী অনলাইন নোটারাইজেশন পদ্ধতিতে সম্পন্ন হচ্ছে। ভিডিও কনফারেন্স, ডিজিটাল স্বাক্ষর ও ইলেকট্রনিক সিলের মাধ্যমে দূরবর্তী স্থান থেকেও নথি সত্যায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশেও ইলেকট্রনিক নোটারাইজেশনের উদ্যোগ রয়েছে। ‘নোটারি বিডি’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম অনলাইন সেবা দেওয়ার দাবি করে। তবে এ ধরনের সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নোটারির সরকারি নিয়োগ, কার্যকর সনদ এবং ইলেকট্রনিক দলিলটি যে প্রতিষ্ঠানে জমা দেওয়া হবে, সেখানে তার গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।

বাংলাদেশে নোটারি পাবলিক নিয়োগ ও পেশা পরিচালিত হয় আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে। এ ক্ষেত্রে প্রধান আইন হলো ‘দ্য নোটারিজ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬১’ এবং ‘নোটারিজ রুলস, ১৯৬৪’। আইন অনুযায়ী, যে কেউ ইচ্ছা করলেই নোটারি হতে পারেন না। সাধারণত অন্তত সাত বছর পেশাগত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আইনজীবী, পাঁচ বছর বিচার বিভাগে কর্মরত ব্যক্তি এবং সরকারি আইন প্রণয়ন ও আইনের খসড়া তৈরির কাজে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা নির্ধারিত শর্তে নিয়োগের যোগ্য বিবেচিত হন। নোটারির সনদ তিন বছর মেয়াদি এবং নির্ধারিত নিয়মে নবায়নযোগ্য। সরকার প্রতিবছর কার্যরত নোটারিদের তালিকা সরকারি গেজেটে প্রকাশ করে।

সাধারণ মানুষ জেলা জজ আদালত, সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ কিংবা লাইসেন্সপ্রাপ্ত আইনজীবীদের চেম্বারে নোটারি সেবা নিতে পারেন। তবে সেবা গ্রহণের আগে নোটারির নিয়োগ ও সনদের বৈধতা যাচাই করা প্রয়োজন। তাঁর সরকারি নোটারি সিল, নিবন্ধনসংক্রান্ত পরিচিতি, স্বাক্ষর, নোটারি রেজিস্টার এবং দলিলের তারিখ ও ক্রমিক নম্বর সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া উচিত। কেউ নিজেকে নোটারি পরিচয় দিলেই তাঁকে বিশ্বাস করা নিরাপদ নয়। কারণ বৈধ সনদ ছাড়া নোটারি কার্যক্রম পরিচালনা আইনত দণ্ডনীয়।

নোটারি করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও দলিলের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হয়। নতুন কোনো ঘোষণা, অঙ্গীকারনামা বা চুক্তি তৈরির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প পেপার ব্যবহার করতে হয়। নাম বা বয়স সংশোধনসংক্রান্ত হলফনামায় প্রচলিতভাবে ২০০ বা ৩০০ টাকার স্ট্যাম্প ব্যবহারের কথা বলা হলেও প্রকৃত মূল্য নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দলিলের ধরন ও সরকারি স্ট্যাম্প শুল্কের বিধান অনুসরণ করতে হবে। চুক্তিপত্রের ক্ষেত্রেও ৫০, ১০০ বা ৩০০ টাকার স্ট্যাম্প ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষাগত সনদ, নম্বরপত্র, জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের ফটোকপি সত্যায়নে সাধারণ এ৪ বা লিগ্যাল সাইজের কাগজ ব্যবহার করা যায়। অনুবাদিত দলিলও সাধারণ সাদা কাগজে প্রস্তুত করা সম্ভব। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সরকারি ফি ও রাজস্ব স্ট্যাম্পের নিয়মও মানতে হবে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নোটারি করা আর বিবাহ নিবন্ধন এক বিষয় নয়। নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে শুধু হলফনামা বা ঘোষণাপত্র তৈরি করলেই আইনগতভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয় না। একইভাবে বিবাহবিচ্ছেদ বা অন্য কোনো আইনি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট আইনের নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। নোটারি সেবার প্রকৃতি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় ও সম্মতি যাচাই করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতারণা এড়াতে দালালের পরিবর্তে সরাসরি অনুমোদিত নোটারি পাবলিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা, মূল কাগজপত্র প্রদর্শন করা এবং নোটারি করা দলিলের গ্রহণযোগ্যতা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে নিশ্চিত করা উচিত। বিশেষ করে বিদেশে ব্যবহারের জন্য দলিল সত্যায়নের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রত্যয়ন বা অ্যাপোস্টিলের প্রয়োজন হতে পারে।

নোটারি পাবলিকরা নেপথ্যে থেকে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক লেনদেনে বিশ্বাসযোগ্যতার ভিত্তি শক্তিশালী করেন। তাঁদের দায়িত্বশীলতা আইনি জটিলতা কমাতে, প্রতারণার ঝুঁকি প্রতিরোধ করতে এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় সহায়তা করে। তাই ৭ নভেম্বরের নোটারি পাবলিক দিবস কেবল একটি পেশাজীবী গোষ্ঠীকে সম্মান জানানোর দিন নয়; এটি আইনি সচেতনতা, স্বচ্ছতা, সততা ও জনআস্থার গুরুত্ব স্মরণ করারও উপলক্ষ। যথাযথ প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং আইনের কঠোর অনুসরণের মাধ্যমে নোটারি পেশা আরও জনবান্ধব ও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠুক—দিবসটির প্রত্যাশা হোক সেটিই।

Ads small one

তারিকুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকীতে সাতক্ষীরায় দোয়া

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
তারিকুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকীতে সাতক্ষীরায় দোয়া

module: a; hw-remosaic: 0; touch: (0.54907405, 0.54907405); modeInfo: ; sceneMode: Night; cct_value: 4726; AI_Scene: (-1, -1); aec_lux: 305.237; hist255: 0.0; hist252~255: 0.0; hist0~25: 0.0;

পত্রদূত ডেস্ক: বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তারিকুল ইসলামের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সাতক্ষীরায় দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সাতক্ষীরা সদর উপজেলা ও পৌর বিএনপির সম্মিলিত উদ্যোগে এবং পৌরসভার সাবেক মেয়র তাসকিন আহমেদ চিশতীর আয়োজনে পাবলিক লাইব্রেরিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র তাসকিন আহমেদ চিশতী।

এ সময় বক্তব্য দেন জেলা ওলামা দলের সদস্যসচিব সাইফুল্লাহ আল কাফি, সদর উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আনারুল ইসলাম, ফিংড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরনবী খান মিঠু, বাঁশদহ ইউনিয়ন বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এইচ এম কামরুজ্জামান, কুশখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান লিটু, সাবেক ছাত্রনেতা ওমর ফারুক, সাতক্ষীরা পৌরসভার সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অজিয়ার রহমান ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক পলাশ আহমেদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা তারিকুল ইসলামের রাজনৈতিক জীবন এবং দেশ ও দলের প্রতি তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন। পরে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেন ডা. বলরাম বিশ্বাস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেন ডা. বলরাম বিশ্বাস

জি এম আমিনুল হক: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শ্বেতপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া চিকিৎসক ডা. বলরাম বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। নিজের খরচে ওষুধ সরবরাহসহ বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে তিনি এলাকায় মানবিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তাঁর দাবি, এ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ দিয়েছেন।

ডা. বলরাম বিশ্বাস জানান, তিনি সাধারণ রোগীদের কাছ থেকে প্রথমে ৩০০ টাকা এবং পরে ২০০ টাকা ফি নেন। তবে ৭০ বছরের বেশি বয়সী, হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের কাছ থেকে কোনো ফি নেন না। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে যেসব রোগী চেম্বারে আসতে পারেন না, তাঁদের জন্য প্রতি রোববার বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিৎসাসেবা দেন। তাঁর চেম্বারে রোগী দেখার সময় সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা এবং বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা।

বিধবা, দরিদ্র, বয়স্ক ও এতিম ব্যক্তিদের পাশাপাশি এলাকার দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদেরও বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেন তিনি। প্রায় ২০ বছর ধরে দ্বিতীয় থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং জন্মগত প্রতিবন্ধী শিশুদের বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। জরুরি রোগীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্সে বিনা মূল্যে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থাও করেন।

চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি এলাকার তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে প্রায় ১৮ থেকে ২০ বছর ধরে প্রতিবছর ফুটবল ও ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজন করে আসছেন। এসব আয়োজনে বড় অঙ্কের অর্থও ব্যয় করেন তিনি।

২০০২ সালে ঢাকায় চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন ডা. বলরাম বিশ্বাস। ২০০৫ সাল থেকে সাত বছর গণস্বাস্থ্য সেবা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সাল থেকে প্রতি ইংরেজি মাসের প্রথম সপ্তাহে নিজ এলাকায় রোগী দেখতেন। পরে মায়ের অসুস্থতার কারণে চাকরি ছেড়ে বাড়িতে অবস্থান শুরু করেন। বর্তমানে প্রতি মাসের শেষ পাঁচ দিন ঢাকায় নিজের চেম্বারে রোগী দেখেন।

চিকিৎসাসেবার বাইরেও সামাজিক সচেতনতামূলক কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৯৮-৯৯ সালে ঢাকার সিটিং সার্ভিস বাসের পেছনে ‘একটি ভুল সারা জীবনের কান্না’—এই স্লোগানটি প্রায় এক হাজার বাসে নিজ হাতে লিখে দেন। গাবতলী, সায়েদাবাদ, ডেমরা, গুলিস্তান, মতিঝিল ও ফার্মগেটসহ বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসগুলোতে লেখাটি দেখা যেত।

ছাত্রজীবনে সাংবাদিকতার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন ডা. বলরাম বিশ্বাস। তিনি আশাশুনি ও বুধহাটা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। চিকিৎসাসেবা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি।

পাইকগাছায় ওয়ারিশ সনদ নিয়ে ভোগান্তির অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় ওয়ারিশ সনদ নিয়ে ভোগান্তির অভিযোগ

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় ওয়ারিশ সনদ পেতে ভোগান্তির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন গদাইপুর ইউনিয়নের পুরাইকাটি গ্রামের এক ব্যক্তি। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের দুই ইউপি সদস্য সুপারিশ করার পরও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সনদ দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ আবেদনকারী নবজান সরদারের।

নবজান সরদারের দাবি, তাঁর বাবা চাঁদ আলী সরদারের মৃত্যুর পর ওয়ারিশ হিসেবে পাঁচ ছেলে, তিন মেয়ে ও এক স্ত্রী রয়েছেন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি গদাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর ওয়ারিশ সনদের জন্য আবেদন করেন। অন্যদিকে, তাঁর বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী সখিনা বেগমের আগের পক্ষের ছেলে আয়ুব আলীও গত ১২ জুন একই বিষয়ে আবেদন করেন।

নবজানের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম ও খুকুমণি তাঁর আবেদনের পক্ষে প্রতিবেদন দিয়েছেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও তাঁর পক্ষে সুপারিশ করেছেন। এরপরও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সনদ না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে হয়রানি করছেন। এ বিষয়ে গত ১৫ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর কাছে আবেদন করলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন বলে জানান নবজান।

নবজান আরও অভিযোগ করেন, আয়ুব আলীর পিতার নাম মুনতাজ মোড়ল। আয়ুবের বয়স যখন সাত বছর, তখন তাঁর মা সখিনা বেগমকে চাঁদ আলী সরদার বিয়ে করেন। বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তির অংশ পেতে আয়ুব মিথ্যা তথ্য দিয়ে ওয়ারিশ সনদ নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে, গত মঙ্গলবার ফজরের নামাজের আগে কে বা কারা আয়ুব আলীর রান্নাঘরের চালে আগুন দিয়েছে। এ ঘটনায় তাঁদের ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন নবজান। তবে এ বিষয়ে আয়ুব আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান শেখ খোরশেদুজ্জামান বলেন, ওয়ারিশ সনদের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে সনদ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।