পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (পাইকগাছা): খুলনার পাইকগাছা উপজেলার অতিগুরুত্বপূর্ণ গদাইপুরে বোয়ালিয়া মোড় থেকে বোয়ালিয়া ব্রিজ পর্যন্ত ২.৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে চরম অবহেলা ও সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পিচ ও সুড়কি উঠে গিয়ে সড়ক জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ। বেশ কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি জমে সড়কটি এখন রীতিমতো ভোগান্তির ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজার হাজার পথচারী ও যানবাহনের চালকেরা।
জানা যায়, সড়কটি পাইকগাছা সদর থেকে রাড়–লী, দরগাহপুর এবং পার্শ্ববর্তী সাতক্ষীরা জেলায় যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। তাছাড়া রাড়ুলী ও আশাশুনি এলাকার মানুষের খুলনা বিভাগীয় শহরের সাথে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও এ সড়কটির ওপর নির্ভর করতে হয়। সড়কটির কোল ঘেঁষেই অবস্থিত বিএডিসি বোয়ালিয়া বীজ উৎপাদন খামার। যার ফলে কৃষক, কৃষি কর্মকর্তা, স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীদের প্রতিনিয়ত এই ভাঙা সড়ক দিয়েই যাতায়াত করতে হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন এই সড়কে ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ বহু যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় পথচারী রবিউল ইসলাম মল্লিক বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে হাঁটাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তে জমে থাকা কাঁদা-পানিতে জামাকাপড় নষ্ট হয়ে যায়।” মাদ্রাসা শিক্ষার্থী অলি গাজী জানান, “আমাদের প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে স্কুলে যেতে হয়। খানাখন্দের কারণে ভ্যান উল্টে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে, অনেকে আহত হন।
পরীক্ষার দিনেও ভয়ে ভয়ে এই পথ পাড়ি দিতে হয়।” অন্যদিকে একাধিক ভ্যান চালক আক্ষেপ করে জানান, রাস্তার ঝাঁকুনিতে গাড়ির পার্টস ভেঙে প্রতিদিনের আয় করা টাকা মেকানিকের পেছনেই চলে যায়। এমনকি আশঙ্কাজনক কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াও এখন চরম চ্যালেঞ্জের বিষয়।
সড়কের এই কঙ্কালসার অবস্থার কারণে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। জনস্বার্থে অতি দ্রুত সড়কটির টেকসই সংস্কার ও পুনঃনির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে পাইকগাছা উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শাফিন শোয়েব জানান, “সড়কটির বর্তমান পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। জনভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক ব্যবস্থা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।” স্থানীয়দের আকুল আকুতি কাগজে-কলমে নয়, দ্রুততম সময়ে বাস্তবে যেন সংস্কার কাজ শুরু করে সড়কটিকে যাতায়াতের উপযোগী করে তোলেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।