দৈনিক দৃষ্টিপাত সম্পাদক জি এম নূর ইসলামের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল
কলারোয়া প্রতিনিধি: পানির তীব্র স্রোতে ভেঙে যাওয়ার ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও কলারোয়া পৌর শহরের কাঁচাবাজার সংলগ্ন বেত্রবতী নদীর কাঠের সাঁকোটি সচল করা হয়নি। ফলে নদীর দুই পাড়ের হাজারো মানুষকে এখন খেয়া নৌকায় পারাপার হতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থী, কর্মজীবী, ব্যবসায়ী ও রোগীসহ সাধারণ পথচারীরা।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, ভেঙে পড়া সাঁকোর অবশিষ্টাংশ নদীর দুই পাড়ে পড়ে আছে। নদীতে এখন আর আগের মতো তীব্র স্রোত বা পানির চাপ নেই, পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। তবুও সাঁকোটি অস্থায়ীভাবে সচল করার কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। বাধ্য হয়ে মানুষ নৌকায় পারাপার হচ্ছেন। সকাল ও বিকেলে পারাপারের সময় নৌকায় অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হচ্ছে। দুই পাড়ে কোনো সড়কবাতি না থাকায় সন্ধ্যার পর অন্ধকারে চরম ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে পারাপারকারীদের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই কাঠের সাঁকোটি কলারোয়া কাঁচাবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতারা জানান, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় বাজারে ক্রেতাদের যাতায়াত কমে গেছে, যার ফলে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরুতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রবল স্রোতের কারণে কাজ করা সম্ভব নয় বলে জানানো হলেও বর্তমানে নদী শান্ত রয়েছে। এরপরও মেরামতের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে। কলারোয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শওকত হোসেন বলেন, প্রতি বর্ষায় সাঁকোটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সরকারি অর্থ ব্যয় করে সংস্কার করা হয়, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয় না। এখন সাময়িক সংস্কার নয়, দ্রুত একটি স্থায়ী কংক্রিটের সেতু নির্মাণই সময়ের দাবি। ভোগান্তি লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা শহরের ঐতিহ্যবাহী বাঁধনডাঙ্গা মাঠে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল চারটায় অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতা দেখতে মাঠে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা রওশন আলম, ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক, দিদারুল ইসলাম খোকা, মো. হযরত আলী, মো. একরামুল কবির ও আতাউর রহমান (সজল)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন্ধন টেলিমিডিয়ার সহকারী পরিচালক মো. আসিফুল আলম (আসিফ)। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও পরিচালনা করেন আব্দুল্লাহ আল মামুন।
প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রায় ২০টি ঘোড়া অংশ নেয়। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই আয়োজনে প্রথম স্থান অর্জন করেন ‘সাতক্ষীরা এক্সপ্রেস’-এর স্বত্বাধিকারী মো. আসাদুল ইসলাম। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে মো. রবিউল ইসলামের ঘোড়া ‘ময়না’ এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন মো. রুহুল আমিন। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে আকর্ষণীয় পুরস্কার এবং অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের সান্ত¡না পুরস্কার দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ঘোড়দৌড় গ্রামবাংলার একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী খেলা। সময়ের পরিবর্তনে এই ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মকে নিজেদের সংস্কৃতি ও কৃষ্টির সঙ্গে পরিচিত করতে এ ধরনের গ্রামীণ খেলাধুলার নিয়মিত আয়োজন প্রয়োজন। এতে যুবসমাজ যেমন ইতিবাচক কর্মকা-ে সম্পৃক্ত হবে, তেমনি গ্রামীণ ঐতিহ্যও টিকে থাকবে।
কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর বহেরা ওয়ার্ড মাদক নির্মূল কমিটির আয়োজনে একটি বর্ণাঢ্য মাদকবিরোধী র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘মাদক মুক্ত দেশ গড়ি, সোনার বাংলা গড়তে চাই’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল পাঁচটায় ভাটা ফুটবল মাঠ থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এলাকাকে সম্পূর্ণ মাদক ও জুয়ামুক্ত করার প্রত্যয় নিয়ে আয়োজিত এই র্যালিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজসেবক ও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
র্যালিতে নেতৃত্ব দেন ও আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন কুলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মনি, বহেরা ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আজিজুল ইসলাম, ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মনিরুল ইসলাম, সেক্রেটারি হাফিজুর রহমান, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হোসেন আলি, উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সভাপতি গোলাম রসুল খোকন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, ইউনিয়ন টিম সদস্য আমিনুর রহমান, ওয়ার্ড যুব বিভাগের সেক্রেটারি মোস্তাফিজুর রহমান, প্রবাসী ওবায়দুল্লাহ আজমি এবং সাবেক ছাত্রনেতা ইউছুপ আলী।