রনজিৎ বর্মন, সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর): শ্যামনগর উপজেলায় ৭১টি মন্ডপে শারদীয়া দুর্গোৎসবের প্রস্ততি চলছে। মন্ডপে মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরী শিল্পীদের ব্যস্ততা। বর্তমানে প্রতিমার গায়ে তুলির মাধ্যমে খড়ি মাটির কাজ চলমান রয়েছে। শিল্পীদের ভাষ্য অনুযায়ী আরও দু’একদিন পরই রং দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে।
বাংলাদেশ পুজা উদ্যাপন পরিষদ শ্যামনগর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এড.কৃষ্ণ পদ মন্ডল জানান, চলতি বছরে উপজেলার বারটি ইউনিয়নে ৭১টি মন্ডপে শারদীয়া দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের চেয়ে এবার দুর্গা পুজার মন্ডপ সংখ্যা বেড়েছে। গতবার মন্ডপ সংখ্যা ছিল ৭০টি। এবার নতুনভাবে পূজা হচ্ছে ৪টি মন্ডপে। আর গতবারে অনুষ্টিত পূজা মন্ডপ থেকে ৩টি কমে গেছে বলে জানান সাধারণ সম্পাদক ।
শারদীয়া দুর্গোৎসব উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন মন্ডপে আকর্ষণীয় করার লক্ষে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে মন্ডপ গুলোতে। যেমন উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া রাস মন্দির প্রাঙ্গনে কর্নফুলী ট্যানেলের অনুরুপ ট্যানেলের মধ্য দিয়ে শিবদূতী মহামায়া দেবী দুর্গা প্রতিমা দর্শন, হরিনগর বাজার সার্বজনীন দুর্গা মন্ডপে আকর্ষণ ডিজিটাল লাইটিং ও ইলেকট্রনিক্স প্রযুক্তি দ্বারা সমৃদ্ধ সজ্জা, সোনাখালী ভৈরবনগর সার্বজনীন দুর্গাপূজা মন্ডপে থাকছে আধুনিক আলোকসজ্জা সহ চলন্ত প্রতিমা। এছাড়া বিভিন্ন মন্ডপে ধর্মীয় আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সম্পাদক আরও বলেন, উপজেলার বৃহৎ মন্ডপগুলি হল নকিপুর হরিতলা সার্বজনীন দুর্গা পূজা মন্ডপ, আড়পাঙ্গাশিয়া রাস মন্দির দুর্গা পূজা মন্ডপ, হরিনগর বাজার দুর্গা পূজা মন্ডপ, মধ্য কুলতলী দুর্গা পূজা মন্ডপ, নওয়াবেঁকী দুর্গা পূজা মন্ডপ, কুপট বৈদ্য বাড়ী ও মন্দিরঘাট দুর্গা পূজা মন্ডপ, ধূমঘাট শীলতলা দুর্গা পূজা মন্ডপ, ভেটখালী দক্ষিণপাড়া দুর্গা পূজা মন্ডপ।
এদিকে দুর্গা পূজা মন্ডপগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কথা বলা হয়েছে এখন থেকেই। প্রত্যেক মন্ডপ গুলিতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, বিকল্প বিদ্যুৎ জেনারেটর ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক রাখাসহ অন্যান্য ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে।
জানা যায় এবার দুর্গা পূজার সময়সূচী অনুযায়ী আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার দুর্গা দেবীর বোধন, পূজা আরম্ভ এবং ২১ অক্টোবর বুধবার দশমী পূজা ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয়া দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে বিশেষ করে হিন্দুধর্মালম্বীদের পরিবারে সাজ সাজ রব পড়ে গেছে। বাজারে পোষাকের দোকানগুলোতে নতুন পোষাক ক্রয় বিক্রয়ের ভীড়ও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে চলছে দুর্গোৎসবের প্রস্ততি।